লালন শাহ নয় লালন সাঁই; বাউল ধর্ম আধ্যাত্ম নয়, দেহতত্ত্ব আর সৃষ্টিকর্তা বলতে তারা বোঝায় অন্য কিছুকে।


লালন শাহ নয় লালন সাঁই; বাউল ধর্ম আধ্যাত্ম নয়, দেহতত্ত্ব আর সৃষ্টিকর্তা বলতে তারা বোঝায় অন্য কিছুকে।
▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪
সাঁই শব্দটি স্বামী শব্দের অপভ্রংশ। যেমন হিন্দুরা তাদের একটি উপাধি গোস্বামীকে গোসাঁই বলে ডাকে। স্বামী শব্দের অর্থ গুরু, প্রভু ইত্যাদি। অশিক্ষিত এবং ইতর জীবনাচরণে অভ্যস্ত বাউলরা লালনকে সাঁই বলে ডাকে। কিন্তু লালনকে ভদ্রসমাজে সুফী দরবেশ হিসেবে পরিচিত করার চেষ্টায় রয়েছে একটি গোষ্ঠী। তারা লালনের নামের শেষে ‘শাহ’ লাগিয়ে দিয়েছে, যে শব্দ মুবারক মুসলিমরা হক্কানী পীর সাহেব উনাকে সম্বোধন করতে ব্যবহার করে।

বাউল মতবাদ সহজিয়া বৈষ্ণব মতবাদ থেকে এসেছে। হিন্দুদেবতা কৃষ্ণের ন্যায় অবাধ ব্যভিচার ও পরকীয়া দ্বারা পূণ্য অর্জিত হয় বলে এই মতবাদে উল্লেখ রয়েছে। বাউলরা এরকম জীবনযাপন করেও। লালন যে কাজটা করেছিল, তা হলো ছূফী কবিতায় ইশারা করার যে বিষয়টি, সেটি সে তার গান লেখায় ব্যবহার করে। সে ইসলামী শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করে দেহতত্ত্বের বিষয়গুলো ইশারা করেছে। ইসলামী ভাবধারায় সে সহজিয়া বৈষ্ণব মতকে উপস্থাপন করেছে। ফলে ‘সময় গেলে সাধন হবে না’ কথাটি দ্বারা মুসলমানরা বিভ্রান্ত হয়, কারণ গানের বিষয়টি আদৌ আখিরাত সম্পর্কিত নয়। এই বিভ্রান্ত হওয়াটা থেকে মুসলমানদের দূরে থাকতে হবে।

তার গানে যে ‘আল্লাহ’ ‘রাসূল’ শব্দের উল্লেখ রয়েছে, তা সে খুব কদর্য্য অর্থে ব্যবহার করেছে। কারণ সহজিয়া বা দেহতত্ত্বে দেহই সবকিছু। এটাকে খুশি রাখতে পরকীয়া তো কিছুই নয়। এবং এই দেহের সৃষ্টি হলো পুরুষের স্খলিত তরলের উসীলায়। ওটাকেই তারা বলে সৃষ্টিকর্তা। তারা বলে থাকে, বীজমে আল্লাহ (নাউযুবিল্লাহ)। বাউল গবেষক ডক্টর উপেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য্য বাউলধর্ম সম্পর্কে বলেছে, “বাউলগণ পুরুষদের বীজরূপী সত্ত্বাকে ঈশ্বর বলে। বাউলদের মতে এই বীজসত্ত্বা বা ঈশ্বররস ভোক্তা, লীলাময় ও কাম ক্রীড়াশীল।”

পশুরা তাদের প্রবৃত্তি অনুযায়ী চালিত হয়ে থাকে। আর দেহতত্ত্বে বিশ্বাস স্থাপনকারী বাউলরা, কতগুলো সমাজচ্যুত পশু ব্যতীত কিছু নয়। কিন্তু সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় দেহতত্ত্বকে তাসাউফ বা আধ্যাত্ম, এবং বাউলদের সূফী হিসেবে তুলে ধরার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। মুসলমানদে কে এদের থেকে সাবধান থাকা উচিত।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে