লা-মাযহাবীদের তাবিজ-কবজ ব্যবহারের বিপক্ষে বক্তব্যের সঠিক জবাব জানতে চাই


লা-মাযহাবীদের এক কিতাবে পেলাম তাবিজ-কবজ ব্যবহার নাকি শিরক। তাদের বক্তব্য নিম্নে উপস্থিাপন করা হল। আশা করি তাদের উপস্থাপিত হাদীছ শরীফ এর সঠিক জবাব জানিয়ে দিবেন।

[

ইসলামের দৃষ্টিতে তাবিজ-কবচের বিধান

আমাদের দেশে কতক পীর-ফকির, আলেম-জাহেল, কি শিক্ষিত, কি অশিক্ষিত অনেকেই তাবিজ-কবচ, তাগা, কড়ি, সামুক, ঝিনুক ও গাছ-গাছালির শিকর-বাকর ইত্যাদি দিয়ে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা করেন এবং ইহা বৈধ ও জায়েজ মনে করেন। এ সম্পর্কে বাজারে কিছু বই পুস্তক পাওয়া যায়, সে সব বইয়ে নির্ধারিত বিষয়ে গ্রহণ যোগ্য কোন দলিল নেই, আছে কিছু মনগড়া কিচ্ছা-কাহিনী, অসংখ্য তদবিরের বর্ণনা ও তার বানোয়াট ফাজায়েল। এ সব বই পড়ে কেউ কেউ   বিপদাপদ, দুঃখ-কষ্ট, অভাব-অনটন, রোগ, যন্ত্রণা থেকে মুক্তি লাভের আশায় বিভিন্ন তদবির ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ হয় ও তা গ্রহণ করে। তারা এ ধরণের চিকিৎসার মূল্যায়ন ও তার বৈধতা-অবৈধতা সম্পর্কে পুরোপুরি অজ্ঞ। আমি অত্র নিবন্ধের মাধ্যমে এ বিষয়টির তত্ত্ব ও স্বরূপ উদ্ঘাটন এবং ইসলামের দৃষ্টিতে তার হুকুম বর্ণনার প্রয়াস পেয়েছি।
এক. সাহাবি ইমরান বিন হুসাইন রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত :

أن النبي صلى الله عليه وسلم رأى رجلا في يده حلقة من صفر فقال ما هذه قال من الواهنة قال انزعها فإنها لا تزيدك إلا وهنا فإنك لو مت وهي عليك ما أفلحت أبدا  (أحمد ابن ماجة و حاكم)

একদা নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তির হাতে তামার চুড়ি দেখে বললেন, এটা কি? সে বলল: এটা অহেনার অংশ। {অহেনার অর্থ এক প্রকার হাড়, যা থেকে কেটে ছোট ছোট তাবিজ আকারে দেয়া হয়।} তিনি বললেন: এটা খুলে ফেল, কারণ এটা তোমার দূর্বলতা বাড়ানো ভিন্ন কিছুই করবে না। যদি এটা বাঁধা অবস্থায় তোমার মৃত্যু হয়, তবে কখনও তুমি সফল হবে না।’ (মুসনাদে আহমদ, হাকেম ও ইবনে মাজাহ) হাদিসটি সহিহ্।
দুই. উকবা বিন আমের রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূলকে বলতে শুনেছি:

من تعلق تميمة فلا أتم الله له ومن تعلق ودعة فلا ودع الله له. (أحمد وحاكم)

‘যে ব্যক্তি তাবিজ লটকালো, আল্লাহ তাকে পূর্ণতা দেবেন না, আর যে কড়ি ব্যবহার করবে, আল্লাহ তাকে মঙ্গল দান করবেন না।’ আহমদ, হাকেম।
তিন. উকবা বিন আমের আল-জোহানি রাদিআল্লাহু আনহু বলেন :

أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أقبل إليه رهط فبايع تسعة وأمسك عن واحد فقالوا يا رسول الله بايعت تسعة وتركت هذا قال: إن عليه تميمة فادخل يده فقطعها فبايعه وقال من علق تميمة فقد أشرك. (أحمد وحاكم)

‘একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে একদল লোক উপস্থিত হল। তিনি দলটির নয়জনকে বায়আত করলেন একজনকে করলেন না। তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! নয়জনকে বায়আত করলেন একজনকে করলেন না? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তার সাথে তাবিজ রয়েছে। অতঃপর তিনি স্বহস্তে তা ছিড়ে ফেললেন এবং তাকে বায়আত করলেন, আর বললেন, যে ব্যক্তি তাবিজ ব্যবহার করল সে শিরক করল।’ সহিহ মুসনাদে আহমদ, হাকেম।
চার. একদা হুজায়ফা রাদিআল্লাহু আনহু এক ব্যক্তির হাতে জ্বরের একটি তাগা দেখতে পেয়ে তা কেটে ফেলেন। অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করেন :

وَمَا يُؤْمِنُ أَكْثَرُهُمْ بِاللَّهِ إِلَّا وَهُمْ مُشْرِكُونَ ﴿106﴾يوسف: ١٠٦

তাদের অধিকাংশ আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, তবে শিরক করা অবস্থায়।’ {ইউসুফ : ১০৬} তাফসিরে ইবনে কাসির। এ থেকে প্রমাণিত হয়, সাহাবি হুজায়ফার মতে তাগা ব্যবহার করা শিরক।
পাঁচ. বুখারি ও মুসলিমে বর্ণিত, আবু বশির আনসারি রাদিআল্লাহু আনহু কোন এক সফরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গী ছিলেন। সে সফরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক ব্যক্তিকে এ নিদের্শ দিয়ে পাঠালেন, ‘কোনও উটের গলায় ধনুকের ছিলা অথবা বেল্ট রাখবে না, সব কেটে ফেলবে।’
ছয়. আবু ওয়াহহাব রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

وارتبطوا  الخيل وامسحوا بنواصيها وأكفالها وقلدوها ولا تقلدوها الأوتار. (النسائ )

ঘোড়া বেঁধে রাখ, তার মাথায় ও ঘাড়ে হাত বুলিয়ে দাও এবং লাগাম পরিয়ে দাও। তবে ধনুকের ছিলা ঝুলিয়ো না। সুনানে নাসায়ী।
সাত. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিআল্লাহর স্ত্রী জয়নব রাদিআল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদিন আব্দুল্লাহ বাড়িতে এসে আমার গলায় তাগা দেখতে পান। তিনি বললেন, এটা কী? আমি বললাম, এটা পড়া তাগা। এতে আমার জন্য ঝাঁড়-ফুঁক দেয়া হয়েছে। তা নিয়ে তিনি কেটে ফেললেন এবং বললেন, আব্দুল্লাহর পরিবার শিরক থেকে মুক্ত। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি :

إن الرقى والتمائم والتولة شرك (أحمد ابن ماجة وحاكم)

ঝাড়-ফুঁক, সাধারণ তাবিজ ও ভালোবাসা সৃষ্টির তাবিজ ব্যবহার করা নিঃসন্দেহে শিরক। আহমদ, হাকেম, ইবনে মাজাহ।
আট. তাবেয়ি আব্দুল্লাহ বিন উকাইম সরাসরি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

من تعلق شيئا وكل إليه  (أحمد ابن ماجة وحاكم)

যে ব্যক্তি কোন কিছু ধারণ করবে, তাকে ঐ জিনিসের কাছেই সোপর্দ করা হবে।’ আহমদ, তিরমিজি। এ সব দলিলের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, তাবিজ ব্যবহার করা হারাম ও শিরক।
তাবিজ ইত্যাদি ব্যবহার করা ছোট শিরক না বড় শিরক?
কেউ যদি তাবিজ-কবচ, মাদুলি-কড়ি, সামুক-ঝিনুক, গিড়া, হাঁড়, তাগা-তামা-লোহা বা অনুরূপ কোন ধাতব বস্তু গলায় বা শরীরের কোথায়ও ধারণ করে এবং এ ধারণা পোষণ করে যে, ঐ গুলো বালা-মুসিবত দূর করার ক্ষেত্রে পরিপূর্ণ ক্ষমতা রাখে, তবে তা বড় শিরক। আর যদি এ ধরনের ধারণা না হয়, তবে তা ছোট শিরক।
শায়খ সুলাইমান বিন আব্দুল্লাহ বলেছেন, বালা-মুসিবত দূর করার উদ্দেশ্যে গিড়া, তাগা পরিধান করা ছোট শিরক। অর্থাৎ যদি তা মাধ্যম বা উসিলা মনে করে ব্যবহার করা হয়।
শায়খ আব্দুল আজিজ বিন বাজ বলেছেন, শয়তানের নাম, হাড়, পূঁতি, পেরেক অথবা তিলিস্মা অর্থাৎ অর্থবিহীন বিদঘুটে  শব্দ বা অক্ষর প্রভৃতি বস্তু দিয়ে তাবিজ বানানো ছোট শিরকের অন্তর্ভুক্ত। ফাতহুল মাজিদ গ্রন্থের টীকায় তিনি আরো বলেছেন : তাবিজ ব্যবহার করা জাহেলি যুগের আমল।
ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় তাবিজ-কবচ অনেক ধর্মের প্রতিকি চিহ্ন ছিল। যেমন হিন্দু পুরোহিতদের মাদুলী ধারণ করা, বিশেষ করে কালী শিবের পূজায়। উয়ারী সম্প্রদায়ের আকীদার অন্যতম প্রতিক ছিল বিভিন্ন ধরণের তাবিজ।
শায়খ হাফেজ হেকমি বলেন: ‌’কুরআন ও হাদিস ব্যতীত, ইহুদিদের তিলিসমাতি, মূর্তি পূজারী, নক্ষত্র পূজারী, ফেরেশতা পূজারী এবং জিনের খিদমত গ্রহণকারী বাতিল পন্থীদের তাবিজ ব্যবহার; অনুরূপভাবে পূঁতি, ধনুকের ছিলা, তাগা এবং লোহার ধাতব চুড়ি ইত্যাদি ব্যবহার করা নিঃসন্দেহে শিরক। কারণ, এগুলো সমস্যা সমাধানের বৈধ উপায় কিংবা বিজ্ঞান সম্মত ঔষধ নয়।
এ হল সেসব তাবিজ কবচের হুকুম যাতে কুরাআনের আয়াত, হাদিসের দোয়া দরুদ ইত্যাদি ব্যবহার করা হয় না তার।
কুরআন-হাদিসের তাবিজ :
হ্যাঁ, যে সব তাবিজ-কবচে কুরআন হাদিস ব্যবহার করা হয় সে ব্যাপারে আলেমদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। এক শ্রেণীর আলেম কুরআন-হাদিসে বর্ণিত দুআ সমূহের তাবিজ ব্যবহার করা বৈধ মনে করেন। যেমন, সাঈদ বিন মুসাইয়িব, আতা আবু জাফর আল-বাকের, ইমাম মালেক। এক বর্ণনা মতে ইমাম আহমদ, ইবনে আব্দুল বার, বাইহাকি, কুরতুবি, ইবনে তাইমিয়া, ইবনে কাইয়িম এবং ইবনে হাজারও রয়েছেন। তাদের দলিল, আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآَنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ وَلَا يَزِيدُ الظَّالِمِينَ إِلَّا خَسَارًا ﴿82﴾ الإسراء: ٨٢

আর আমি কুরআনে এমন বিষয় নাযিল করেছি যা রোগের সু-চিকিৎসা এবং মুমিনদের জন্য রহমত।’ {ইসরা:৮২}

كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ إِلَيْكَ مُبَارَكٌ (ص 29)

এক কল্যাণময় কিতাব, ইহা আমি তোমার প্রতি অবতীর্ণ করেছি। {সাদ:২৯}
সাহাবি আব্দুল্লাহ বিন আমরের ব্যক্তিগত আমল সম্পর্কে বর্ণিত আছে, তিনি নিজ ছোট বাচ্চা, যারা দোয়া মুখস্থ করতে অক্ষম, তাদেরকে অনিষ্ট থেকে রক্ষার জন্য গায়ে দোয়ার তাবিজ ঝুলিয়ে দিতেন। দোয়াটি এই:

بسم الله أعوذ بكلمات الله التامات من غضبه وعقابه وشر عباده ومن همزات الشياطين وأن يحضرون (أحمد والترمذي وأبوداود)

‘আল্লাহর নামে তাঁর পরিপূর্ণ বাণী সমূহের মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। তাঁর গজব ও শাস্তি থেকে, তাঁর বান্দাদের অনিষ্টতা থেকে এবং শয়তানদের কুমন্ত্রণা ও তাদের উপস্থিতি থেকে।’ (আহমদ, তিরমিজি, আবু দাউদ) হাদিসটি হাসান।
পক্ষান্তরে অধিকাংশ সাহাবি ও তাদের অনুসারীদের মতে কুরআন ও হাদিসের তাবিজ ব্যবহার করাও নাজায়েজ। তাদের মধ্যে রয়েছেন: আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ, ইবনে আব্বাস, হুযাইফা, উকবা বিন আমের, ইবনে উকাইম, ইব্রাহিম নখয়ি, একটি বর্ণনা অনুযায়ী ইমাম আহমদ, ইবনুল আরাবি, শায়খ আব্দুর রহমান বিন হাসান, শায়খ সুলাইমান বিন আব্দুল ওয়াহহাব, শায়খ আব্দুর রহমান বিন সাদি, হাফেজ আল-হেকমি এবং মুহাম্মদ হামিদ আলফাকি। আর সমসাময়ীক মনীষীদের মধ্যে আছেন শায়খ আলবানি ও শায়খ আব্দুল আজিজ বিন বাজ।

]

 

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

৮টি মন্তব্য

  1. তুষারতুষার says:

    আমিও এমন শুনেছিলাম যে তাবিজ ব্যাবহার করা উচিৎ নয় । এমনিতে হাড় , শামুক তাগা ইত্যাদি ব্যাবহার করা শিরক হতে পারে কিন্তু আল্লাহ্‌র কালাম লেখা তাবিজ বা কোরআনের আয়াত লেখা তাবিজ ব্যাবহার করা কি আসলে যায়েয আছে ?
    কেননা আমি ওজিফা বই এবং নামাজ শিক্ষা বইয়ে এরকম কিছু তাবিজ দেবার নিয়মাবলী পেয়েছিলাম ।
    যারা এই বই লিখেছেন তারা নিশ্চয় শিক্ষিত

  2. তাবিজ ব্যবহার করা খাছ সুন্নত। দেখুন মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ-এর ৫১ তম সংখ্যার ৫ পৃষ্ঠায়।

  3. ইহুদীদের যাদুর কারণে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মধ্যে কোন ক্রিয়া না হওয়ারই কথা। অথচ তিনি প্রায় ছয়মাস যাবত অসুস্থ ছিলেন। এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয় যে, মহান আল্লাহ্ পাক বলেন, “অবশ্যই আমি তোমাদেরকে ভয়-ভীতি ক্ষুধা-তৃষ্ণা, মাল-জানের ক্ষতি, ফল ও ফসলের বিনষ্টের মাধ্যমে পরীক্ষা করে থাকি। তবে যারা(উক্ত মুছীবতের সময়) ধৈর্য্যধারণ করবে তাদের জন্য সুসংবাদ রয়েছে।” (সূরা বাক্বারা/১৫৫) আলোচ্য আয়াত শরীফের ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়েছে মানুষের প্রতি বালা-মুছীবত হয় তিন কারণে- (১) শাস্তি স্বরূপ, (২) গুণাহ্ মাফের জন্য, (৩) মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য।মহান আল্লাহ্ পাক হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তাঁর বুলন্দ মর্যাদাকে আরো বুলন্দ করণার্থে মাঝে মধ্যে তাঁকে রোগ-শোক ও বিপদাপদ দান করতেন। ঝাঁড়-ফুঁক ও তাবিজের আহ্কাম আলোচ্য আয়াত শরীফ ও তার প্রাসঙ্গিক আলোচনা দ্বারা এটাও স্পষ্ট হয়ে যায় যে, স্বয়ং হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেই ঝাঁড়-ফুঁক দিতেন এবং তা মহান আল্লাহ্ পাক-এর পক্ষ থেকেই নির্দেশিত বিধান। এ সম্পর্কে হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে, “হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রাঃ) বলেন, নিশ্চয়ই হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সূরা ফালাক্ব ও নাস পাঠ করে স্বীয় হস্ত মোবারকে ফুৎকার করে উহা দ্বারা তাঁর মাথা মোবারক, চেহারা মোবারক ও শরীর মোবারকের সম্মুখভাগ মসেহ্ করতেন। (তাফসীরে ইবনে কাসীর-৮/৯৬৪) বোখারী শরীফে বর্ণিত হয়েছে, ইন্তেকালের পূর্বে হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অসুস্থতা যখন কঠিন আকার ধারণ করল তখন হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রাঃ) সূরা ফালাক্ব ও সূরা নাস পাঠ করে হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাত মোবারকে ফুঁ দিয়ে উহা দ্বারা তাঁর শরীর মোবারক মসেহ্ করেন। (বোখারী, ইবনে কাসীর)আর তাবিজ সম্পর্কে হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে, “হযরত সাইব ইবনে ইয়াযীদ (রাঃ) বলেন, আমার দুর্গন্ধযুক্ত রোগ থাকার কারণে হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে সূরা ফাতিহা দ্বারা তাবিজ করে দিয়েছেন।” (তাফসীরে মাযহারী-১/১২, তিবরাণী শরীফ) এ প্রসঙ্গে হাদীস শরীফে আরো বর্ণিত হয়েছে, “হযরত আবু সাঈদ খুদুরী (রাঃ) বলেন, আমরা কোন এক সফরে কোন এক জায়গায় অবস্থান করছিলাম। অতঃপর একটি দাসী এসে বলল- আমাদের ক্বওমের সর্দারকে সাপে কামড় দিয়েছে। আপনাদের মধ্যে কেউ ঝাঁড়-ফুঁক দিতে পারেন কি? তখন তার সাথে আমাদের এক সাথী গেলেন। অতঃপর উক্ত সাপে দংশিত ব্যক্তিকে সূরা ফাতিহা দ্বারা ঝাঁড়-ফুঁক দিলেন। অতঃপর উক্ত ব্যক্তি সুস্থতা লাভ করল। এই সংবাদ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জানানো হলে তিনি বলেন, তাতে (সূরা ফাতিহার মধ্যে) যা রয়েছে তা আরোগ্য দানকারী। হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে- অর্থঃ-“হযরত আব্দুর রহ্মান ইবনে আউফ (রাঃ) বর্ণনা করেন- আমরা জাহেলী যুগে মন্ত্র পাঠ করতাম। অতঃপর এ বিষয় হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম- হে আল্লাহ্র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এ বিষয়ে আপনার অভিমত কি? তখন হুজুর পাক সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তোমাদের মন্ত্রগুলি আমার কাছে পেশ কর। যদি তাতে কুফরী, শেরেকী বাক্য না থাকে তবে তাতে কোন ক্ষতি নেই।” (মুসলিম, মেশকাত) ।
    উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, ঝাঁড়-ফুঁক দেয়া ও তাবিজ ব্যবহার করা জায়েয কিন্তু সব ধরণের ঝাঁড়-ফুঁক ও তাবিজ ব্যবহার জায়েয নেই। এ সম্পর্কে হাশিয়ায়ে তাহ্তাবী ও হাশিয়ায়ে মেশকাতে উল্লেখ করা হয়েছে- তাবিজ ব্যবহার করা জায়েয।
    আর তাবিজ হচ্ছে তিন প্রকার- (১) আল্লাহ্ পাক-এর কালাম ও আল্লাহ্ পাক-এর নাম মোবারকের দ্বারা লিখিত তাবিজ। যা ব্যবহার করা জায়েয ও মোস্তাহাব। (২) ফেরেশ্তাদের নাম, আরশ-কুরসী ও আল্লাহ্ওয়ালাগণের নাম মোবারক দ্বারা লিখিত তাবিজ। ইহা বরকত লাভের জন্য নিয়ত বিশুদ্ধ রেখে ব্যবহার করা জায়েয।(৩) আল্লাহ্ পাক-এর কালাম ব্যতীত শরীয়ত বিরোধী কোন কিছুর দ্বারা তাবিজ করা, আর ঝাঁড়-ফুঁক দেয়া নাজায়েয, হারাম, শেরেকীর অন্তর্ভূক্ত।
    আল্লাহ্ পাক আমাদের সকলকে সর্ব প্রকার হারাম, নাজায়েয, কুফরী, শেরেকী ইত্যাদি কার্যাবলী থেকে হিফাযত করুন। (আমীন)

  4. তাবীজ ব্যবহার করা সুন্নত

  5. @ ধন্যবাদ নূরুল ‍হুদা ভাইকে।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে