শবে বরাত আপনি কেন ঢাকা রাজারবাগ দরবার শরীফে পালন করবেন?


সম্মানিত শা’বান শরীফ মাস উনার ১৪ তারিখ দিবাগত রাতটি হচ্ছেন সম্মানিত শবে বরাত উনার রাত। সম্মানিত শবে বরাত উনার ফযীলত সম্পর্কে সম্মানিত কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, নিশ্চয় আমি বরকতময় রজনীতে (শবে বরাতে) পবিত্র কুরআন শরীফ নাযিল করেছি অর্থাৎ নাযিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আর আমিই ভয় প্রদর্শনকারী। উক্ত রাত্রিতে আমার পক্ষ হতে সমস্ত প্রজ্ঞাময় কাজগুলো ফায়সালা করা হয়। আর নিশ্চয়ই আমিই প্রেরণকারী। (পবিত্র সূরা দুখান শরীফ ঃ পবিত্র আয়াত শরীফ ৩,৪,৫)

আর সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, নিশ্চয় পাঁচ রাত্রিতে দোয়া নিশ্চতভাবে কবুল হয়ে থাকে, (১) রজব মাসের প্রথম রাতে (২) শবে বরাতের রাতে (৩) ক্বদরের রাতে (৪) ঈদুল ফিতরের রাতে (৫) ঈদুল আযহার রাতে। এছাড়া সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরও বর্ণিত রয়েছে, বরাতের রাত্রিতে ফায়ছালা করা হয় কতজন সন্তান আগামী এক বৎসর জন্মগ্রহণ করবে এবং কতজন মৃত্যুবরণ করবে। এ রাত্রিতে বান্দাদের আমলগুলো উপরে উঠানো হয় অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার দরবার শরীফ-এ পেশ করা হয় এবং এ রাত্রিতে বান্দাদের রিযিকের ফায়ছালা করা হয়। (মিশকাত শরীফ)

সম্মানিত হাদীছ উনার মধ্যে আরও বর্ণিত রয়েছে, হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যখন শা’বান মাসের ১৫ তারিখ রাত্রি অর্থাৎ বরাতের রাত্রি উপস্থিত হবে তখন তোমরা উক্ত রাত্রিতে নামায আদায় করবে এবং দিনে রোযা রাখবে। কেননা নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি উক্ত রাত্রিতে পৃথিবীর আকাশে আসেন অর্থাৎ রহমতে খাছ নাযিল করেন। অতঃপর ঘোষণা করেন, কোনো ক্ষমা প্রার্থনাকারী আছো কি? আমি তাকে ক্ষমা করে দিবো। কোনো রিযিক প্রার্থনাকারী আছো কি ? আমি তাকে রিযিক দান করবো। কোন মুছিবতগ্রস্ত ব্যক্তি আছো কি? আমি তার মুছিবত দূর করে দিবো। এভাবে ফজর পর্যন্ত ঘোষণা করতে থাকেন । (ইবনে মাজাহ শরীফ)

দেখা যাচ্ছে, এই সম্মানিত রাতটি অত্যন্ত বরকতপূর্ণ।

সুতরাং সম্মানিত শবে বরাত উনার ইবাদত-বন্দেগী এমনভাবে করা উচিত যেভাবে ইবাদত-বন্দেগী করলে মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা সন্তুষ্ট হবেন। আর এই সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের জন্যেই রাজারবাগ দরবার শরীফ উনার সম্মানিত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি উনার ভক্ত-মুরীদানদের নিয়ে নিম্নবর্ণিতভাবে সম্মানিত শবে বরাত উনার রাতে ইবাদত-বন্দেগী করে থাকেন-

১) প্রথমে সম্মানিত ইশা উনার নামায মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত ইমামতিতে আদায় করা হয়।

২) এরপর সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠ করা হয়। সম্মানিত মীলাদ শরীফ উনার ফযীলত সম্পর্কে সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে- যে ব্যক্তি সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠ করবে তার জন্য নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শাফায়াত মুবারক ওয়াজিব হয়ে যাবে।

৩)এরপর সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি দীর্ঘ সময়ব্যাপী সম্মানিত মুনাজাত শরীফ পরিচালনা করেন। এই সম্মানিত মুনাজাত শরীফে মানুষের দুনিয়া, কবর, হাশর, নশর, মিযান, পুলছিরাত, জান্নাত অর্থাৎ মানুষের ইহকাল-পরকালে প্রয়োজনীয় সমস্ত বিষয় মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত দরবার শরীফে প্রার্থনা করা হয় এবং একই সাথে মুসলমানদের উপর যুলুম-নির্যাতন করার কারণে কাফির-মুশরিকদের ধ্বংসের জন্য বদদোয়া করা হয়।

৪) অতঃপর সম্মানিত শবে বরাত উনার নামায পড়া হয়।

৫) এরপর ছলাতুত তাসবীহ উনার নামায পড়া হয়- যার দ্বারা মানুষের সমস্ত গুনাহখতা ক্ষমা হয়।

৬) অতঃপর তাহাজ্জুদ নামাযের জন্য সময় দেওয়া হয়-যার দ্বারা মহান আল্লাহ পাক উনার নৈকট্য হাছিল হয়।

৭) এরপর পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করা হয়- যা নফল ইবাদতের মধ্যে সর্বোত্তম ইবাদত।

৮) অতঃপর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মুবারক পরিচালনায় কিছুক্ষণ সম্মানিত যিকির-আযকার করা হয়-যার দ্বারা দিল ইতমিনান ও ইছলাহ হওয়ার কারণ।

৯) এরপর পুনুরায় সম্মানিত মীলাদ শরীফ পড়া হয়।

১০) অতঃপর তওবা-ইস্তিগফার করানো হয়।

১১) এরপর পুনুরায় দীর্ঘ সময়ব্যাপী আখিরী মুনাজাত উনার মধ্য দিয়ে সম্মানিত শবে বরাত উনার রাতের ইবাদত-বন্দেগীর আনুষ্ঠানিকতা সুসম্পন্ন হয়।

১২) এরপর শবে বরাত উনার রোযা রাখার উদ্দেশ্যে সাহারী খাওয়ানো হয়।

 

মূলত সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি এমনভাবে সম্মানিত শবে বরাত উনার ইবাদত-বন্দেগী ধারাবাহিকভাবে সাজিয়েছেন যে, এক মুহূর্তের জন্যেও গাফেল থাকার সুযোগ নেই। একসাথে একরাত্রে এতগুলো ইবাদত-বন্দেগী করার পর একজন বান্দা-বান্দী-উম্মত আশা করতেই পারেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যাবেন অর্থাৎ সম্মানিত শবে বরাত উনার নিয়ামত সে লাভ করতে পারবে তথা আগামী এক বৎসর তার ভালোই ফায়সালা হবে। আপনি নিজেই চিন্তা করে দেখুন, এত সুশৃঙ্খলভাবে পৃথিবীর আর কোথাও সম্মানিত শবে বরাত পালন করা হয় না। মূলত, যামানার সম্মানিত মুজাদ্দিদ উনার উপস্থিতির কারণেই এমন আযীমুশ শানভাবে সম্মানিত শবে বরাত পালন করা সম্ভব হচ্ছে। এখন আপনি যদি নিজের জন্য ভাল ফায়ছালা চান, তাহলে আপনি অবশ্যই রাজারবাগ শরীফে উপস্থিত হয়ে যামানার সম্মানিত ইমাম ও মুজতাহিদ উনার মুবারক তত্ত্বাবধানে সম্মানিত শবে বরাত পালন করবেন। ইনশাআল্লাহ!

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে