শরীয়ত উনার বিরোধিতা করে আধুনিক সাজতে গিয়ে অবৈধ সন্তানের বাবা হতে হলো!!


খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি সবচাইতে বড়। কোনো সৃষ্টি জীবকে সন্তুষ্ট করার জন্য মহান আল্লাহ পাক উনার আদেশ মুবারকের খিলাফ করা জায়িয নেই। বরং তা সম্পূর্ণরূপে হারাম ও নাজায়িয। বেশ কিছুদিন আগে একটা ঘটনা ঘটলো, যা থেকে মুসলমানগণ উনাদের শিক্ষা নেয়া দরকার যে- কাফিরদের কথিত আধুনিকতা মুসলমানগণ উনাদের কী পরিমাণ ক্ষতি করে।

লন্ডন প্রবাসী বাংলাদেশী এক ব্যবসায়ী সে বংলাদেশে আসলো বিয়ে করার জন্য এবং এক ধর্মভীরু মধ্যবিত্ত এক মেয়েকে বিয়ে করলো এবং বিয়ে করার কিছুদিন পরে তার সাথে লন্ডন নিয়ে গেলো। নিয়ে যাওয়ার পরে ছোট্ট পরিবার শুধু স্বামী-স্ত্রী তারা নিজেরা একটা ফ্লাটে থাকতো প্রতিদিন সকালে স্বামী অফিসে যেতো, বিকালে ফিরতো। তাদের সংসার সুখেই চলছিল; কিন্তু তার স্ত্রী সে ছিল বাঙালি মেয়ে, তাই বাংলাদেশে যে পোশাক পরিধান করতো সেলোয়ার-কামিজ সেটাই সে পরতো। কিন্তু তার স্বামী এই সাদাসিধে সেলোয়ার-কামিজ শাড়ি পছন্দ করতো না এবং তার লম্বা চুল পছন্দ করতো না। স্বামী বললো- এই আধুনিক যুগে এই সমস্ত গ্রাম্য কালচার এই সমস্ত আধুনিক দেশে চলবে না। মানুষ ইনসাল্ট করে, আনইজি লাগে; তাই তোমাকে এখানের কালচার মেনে চলতে হবে। তোমার চুল কাটতে হবে, জিন্স প্যান্ট ও শার্ট পরতে হবে। তাদের মতো স্মার্টভাবে চলতে হবে এবং আমার সাথে বিভিন্ন পার্টিতে যেতে হবে এবং আমার বিজনেস প্রোগ্রাম হয়ে থাকে; অনেক পার্টনার আমার কাছে এসে থাকে; তাদেরকে তোমাকে আপ্যায়ন করতে হবে স্মার্ট হয়ে। তার স্বামীর এই সমস্ত কথা মোটেও স্ত্রীর পছন্দ হতো না। কিন্তু অবশেষে স্বামীর কথা মানতে বাধ্য হলো। তার স্বামী যা করতে বলছে সবই করছে। জিন্স প্যান্ট ও শার্ট পরছে, চুল ছোট করে বব-কাটিং করেছে। একদিন ব্যবসায়িক কাজে তাদের বাসায় স্বামীর কয়েকজন বন্ধু আসে। সে অন্য পুরুষদের সামনে যাইতে লজ্জা পেতো; সে যেতেও চায়নি, কিন্তু তার স্বামী জোর করে স্মার্ট সেজে তাদেরকে আপ্যায়ান করতে বললো। নিজে সে যখন নাস্তা নিয়ে তাদের সামনে গেছে তাদের মধ্যে একজন ছিল আফ্রিকান নিগ্রো লোক। ওই নিগ্রো তার দিকে তাকিয়ে রইলো অনেকক্ষণ। ওই নিগ্রোর তার স্ত্রীর প্রতি কুনজর পড়লো এবং সেইদিন খেয়ে-দেয়ে সবাই চলে গেলো। তার কয়েকদিন পরে সেই নিগ্রো তো জানে তার পার্টনার যে সেই লোক সকালে অফিসে চলে যায়, আসে রাতে। তার স্ত্রী বাসায় একা থাকে সারাদিন। তাই সে দুপুরে এক মিথ্যা অজুহাত দিয়ে বললো- আমাকে আপনার স্বামী এক জরুরী কাজে পাঠিয়েছে ব্যবসায়িক কিছু কাগজ আছে বাসায়; তাই একটু দরজা খুলেন। সে তো সরল মনে খুলে দিলো। কিন্তু নিগ্রো বাসায় ঢুকে ভিতর থেকে দরজা বন্ধ করে দিলো এবং সে যা করার করলো অর্থাৎ সেই মহিলার সম্মানহানি করলো। রাতে স্বামী বাসায় এসে দেখলো- অন্য একরুমে তার স্ত্রী কান্না করছে অঝরে; কিছুই বলে না মুখে। কোনো কথা নেই, শুধু কাঁদছে আর কাঁদছে। স্বামী তো আর কিছু বুঝে নাই কি কারণ; সে মনে করছে যে- দেশে থেকে কেউ মনে হয় কোনো ফোন-টোন করেছে তাই কাঁদছে। কিন্তু এই যে তার মন খারাপ হয়েছে তার মনে আর কোনো শান্তি নেই। সবসময় শুধু কাঁদে আর কাঁদে। এভাবে প্রায় ৫-৬ মাস হয়ে গেলে তার শরীরও খারাপ হলো। অনেক ডাক্তারও দেখিয়েছে, কোনো উন্নতি নেই; তাই চিন্তা করলো- দেশের বাড়িতে কিছু দিন ঘুরে আসবে। তাই তারা সবকিছু ঠিক করে দেশে আসলো। দেশে এসেও অনেক চিকিৎসা করালো। তার কয়েক মাস পরে হাসপাতালে তার ডেলিভারি হয়- এক নিগ্রো কালো কুচকুচে ছেলে। সবাই দেখে তো হতবাক! কীভাবে এমন সন্তান হলো!!!
এই হলো তথাকথিত আধুনিকতার ফল। মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশ- ফরয পর্দার হুকুমের খিলাফ করার বিষময় ফল। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে যে বলা হয়েছে- ‘তোমরা কাফির-মুশরিকদেরকে অনুসরণ করো না’ তা না মানার ও অমান্য করার কুফল।
মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলকে কাফিরদের সকল প্রকার কৃষ্টি-কালচার থেকে বাঁচার তাওফীক দান করুন। আমীন।

Views All Time
2
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+