শানে উম্মুল উমাম “সাইয়্যিদাতুন নিসা, মুতহ্হিরাহ্, মুতহ্হারাহ, উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি রহমত-বরকত লাভের এক সুমহান উজ্জল দৃষ্টান্ত মুবারক”


মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ উনার ৩নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,
اَلْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا
অর্থ মুবারক: “আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম এবং তোমাদের জন্য আমার নেয়ামতসমূহ পরিপূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্য সম্মানিত ইসলাম উনাকে দ্বীন হিসাবে মনোনীত করে সন্তুষ্ট হয়ে গেলাম।” অর্থাৎ সন্তুষ্টচিত্তে মনোনিত করলাম। সুবহানাল্লাহ!
এই মহাসম্মানিত আয়াত শরীফ উনার মাধ্যমে প্রমাণিত হচ্ছে, সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনাকে হাক্বীক্বীভাবে পালন করার মাধ্যমেই মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের হাক্বীক্বী রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক হাসিল করা সম্ভব হবে।
প্রসঙ্গত বলতে হয়, মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত সূরা বাকারাহ শরীফ উনার ১০৫নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,
وَاللَّـهُ يَخْتَصُّ بِرَحْمَتِهِ مَن يَشَاءُ
অর্থ মুবারক: “মহান আল্লাহ পাক তিনি যাকে চান তাঁকে রহমত মুবারক দ্বারা খাছ করে নেন।”
এই মহাসম্মানিত আয়াত শরীফ উনার হাক্বীক্বী ও পরিপূর্ণ মিছদাক হচ্ছেন সাইয়্যিদাতুন নিসা, মুত্বহহিরাহ, মুত্বহহারাহ, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি। কেননা মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাকে আখাছছুল খাছ মহাসম্মানিত আহলু বাইত শরীফ হিসেবে মনোনীত করেই সৃষ্টি মুবারক করেছেন। যার কারণে স্বাভাবিকভাবে তিনি খাছ রহমত মুবারক উনার অধিকারী।
কিভাবে সম্মানিত দ্বীন-ইসলাম উনার মাঝে পরিপূর্ণভাবে দাখিল হয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের রেযামন্দি-সন্তুষ্টি হাছিল করে রহমত-বরকত হাছিল করা যায়, সেই বিষয়গুলিই মুসলিম উম্মাহকে হাতে-কলমে শিক্ষা দিচ্ছেন; সাইয়্যিদাতুন নিসা, সাইয়্যিদাতুন নিসায়ী আহলিল জান্নাহ, ক্বায়িম-মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি।
এছাড়া মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,
اَللَّـهُ وَلِيُّ الَّذِينَ آمَنُوا يُخْرِجُهُم مِّنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ
অর্থ মুবারক: “মহান আল্লাহ পাক তিনি মু’মিনগণ উনাদের অভিভাবক, উনাদেরকে গোমরাহী থেকে বের করে হিদায়েত উনার দিকে নিয়ে আসেন।”
উল্লেখ্য, যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে উত্তম অভিভাবক হিসাবে মেনে নেয়, মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারাই তাঁকে সমস্ত হারাম, গুনাহ থেকে হেফাজত করেন।
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকেই উত্তম অভিভাবক হিসাবে গ্রহন করেছেন, যার ফলে উনার সমস্ত বিষয় মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা উত্তমভাবে হিফাজত করেন।
অনুরূপভাবে যাঁরা সাইয়্যিদাতুন নিসা, মুত্বহহিরাহ, মুত্বহহারাহ, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাকে উত্তম অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করবে মহান আল্লাহ পাক তিনি তাঁদেরকেও গোমরাহী থেকে বের করে হিদায়েত উনার দিকে নিয়ে আসবেন। (সুবহানা উম্মিল উমাম আলাইহাস সালাম!)
সাইয়্যিদাতুন নিসা, মুত্বহহিরাহ, মুত্বহহারাহ, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি গোটা মহিলা জাতিকে পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করার সুমহান শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছেন, যার হাজার-লক্ষ দৃষ্টান্ত থেকে সামান্য কিছু দৃষ্টান্ত এখানে তুলে ধরার কোশেশ করা হল:-
মহাসম্মানিত ছহীহ হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে,
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
عَنْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنه قَالَ: سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُوْلُ كُلُّ مُصَوِّرٍ فِي النَّارِ.
অর্থ মুবারক:- হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত,তিনি বলেন, আমি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলতে শুনেছি- “প্রত্যেক ছবি তোলনে ওয়ালা এবং তোলানেওয়ালা জাহান্নামী।” (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ)
আরোও ইরশাদ মুবারক করেন,
عَنْ عَبْدُ اللهِ بْنِ مَسْعُوْدٍ رضي الله عنه قَالَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهِ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ إِنَّ أَشَدَّ النَّاسِ عَذَابًا عِندَ اللهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ اَلْمُصَوِّرُوْنَ.(متفق عليه)
অর্থ মুবারক:- হযরত ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত,তিনি বলেন, আমি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলতে শুনেছি- “কিয়ামতের দিন সবচেয়ে কঠিন শাস্তি হবে ঐ ব্যক্তির, যে ছবি তুলবে, আঁকবে, রাখবে।” (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ)
অর্থাৎ যারা মহান আল্লাহ পাক উনার এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের আদেশ অমান্য করে ছবি তুলবে, তারা প্রত্যেকেই জাহান্নামী। নাউযুবিল্লাহ!
অথচ আজ অধিকাংশ মানুষ মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন উনার আদেশ মুবারক অমান্য করে সরকারের বরাত দিয়ে চাকুরীর অযুহাতে অহরহ ছবি তুলে যাচ্ছে। নাঊযুবিল্লাহ!
সাইয়্যিদাতুন নিসা, মুত্বহহিরাহ, মুত্বহহারাহ, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনাকে উত্তম অভিভাবক হিসাবে গ্রহণ করে মহাসম্মানিত আয়াত শরীফ, হাদীছ শরীফ উনাদের উপর পরিপূর্ণ আমল করে আমাদেরকে শিক্ষা দিচ্ছেন- কিভাবে ছবি না তুলে, বেপর্দা না হয়ে পরিপূর্ণ দ্বীন-ইসলাম পালন করার পাশাপাশি সমসাময়িক বিষয়ে সর্বোচ্চ জ্ঞান অর্জন করা যায় এবং হালাল উপায়ে রিযিকেরও ব্যবস্থা করা যায়। সুবহানাল্লাহ!
আরো উল্লেখ্য যে, মহিলারা কিভাবে অন্যের উপর নির্ভরশীল না হয়ে পর্দার সহিত ঘরে অবস্থান করে হাতের কাজ করে অর্থ উপার্জন করবে এবং সেই উপার্জিত অর্থ পরকালে বালাখানা তৈরির জন্য মহান আল্লাহ পাক উনার পথে খরচ করতে পারবে, সেই মহান শিক্ষা মুবারকও সাইয়্যিদাতুন নিসা, মুত্বহহিরাহ, মুত্বহহারাহ, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি আমাদেরকে দিয়ে যাচ্ছেন। (সুবহানা উম্মিল উমাম আলাইহাস সালাম!)
মহিলারা যেন সাইয়্যিদাতুন নিসা, মুত্বহহিরাহ, মুত্বহহারাহ, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাকে উত্তম আদর্শ মুবারক হিসেবে গ্রহণ করতে পারে সেই লক্ষ্যে উনার বরকতময় আয়ের কিছু বিষয় সম্পর্কে আলোকপাত করা হলো-
মহাসম্মানিত বালিকা মাদ্রাসার ক্যান্টিন শরীফ হলো উনার ছূরতান আয়ের একটা উৎস মুবারক। কিন্তু হাক্বীক্বতান তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে উত্তম অভিভাবক হিসাবে গ্রহন করার ফলে মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সাথেই হচ্ছে উনার উত্তম ব্যবসা। যার কারণে মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার প্রতিটি বিষয়ে কুদরতীভাবে বরকত ঢেলে দেন এবং উনাকে সন্তুষ্ট করেন। (সুবহানা উম্মিল উমাম আলাইহাস সালাম)
সাইয়্যিদাতুন নিসা, মুত্বহহিরাহ, মুত্বহহারাহ, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম উনার একটি ওয়াকিয়া বলেনÑ হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম তিনি কাপড়ের ব্যাগ সেলাই করে তা বাজারে বিক্রি করতেন। একদিন তিনি ভাবছিলেন, আমি পরিশ্রম করে কাপড়ের ব্যাগ বিক্রি করে রোজগার করে থাকি। তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, আপনি আকাশের দিকে লক্ষ্য করুন। তিনি উপরের দিকে তাকিয়ে দেখলেন অসংখ্য-অগণিত ব্যাগ ঝুলে আছে। তিনি অবাক হয়ে বললেন, আসমানে এত ব্যাগ! মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, আপনি যে বাজারে ব্যাগ বিক্রি করেন, সবাই কি তা নেয়? আপনার এই ব্যাগ আমি হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের মাধ্যমে কিনিয়ে আপনার রিযিকের ফায়সালা করি। যেহেতু আমি সমস্ত প্রাণীর রিযিকের জিম্মাদার।
মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,
وَمَا مِن دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ إِلَّا عَلَى اللَّـهِ رِزْقُهَا
অর্থ মুবারক:- “যমীনে যত প্রাণী রয়েছে সকলের রিযিকের জিম্মাদার একমাত্র মহান আল্লাহ পাক তিনি।” (পবিত্র সূরা হুদ শরীফ -৬ নং আয়াত শরীফ)
মূলত: মানুষ কখনো মানুষের রিযিকের ব্যবস্থা করতে পারে না। মহান আল্লাহ পাক তিনিই রিযিকের ব্যবস্থা করে থাকেন। সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মুবারক ক্যান্টিন শরীফেও মহান আল্লাহ পাক সম্মানিত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের মাধ্যমে বরকত দিয়ে থাকেন।
মূলত, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি কুল-কায়িনাতের উম্মাহর জন্য উত্তম আদর্শ মুবারক। তাই সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাকে যারা উত্তম আদর্শ মুবারক হিসাবে গ্রহন করবে মহান আল্লাহ পাক তাকেও গাইবী মদদ করবেন, কুদরতি রিযিকের ব্যবস্থা করে দিবেন।
একদিন তিনি উনার পবিত্র নূরুস সালাম (জবান) মুবারকে বলেন, “ আমি (সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম) সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনাকে বললাম, মাস শেষে আমি আপনাকে যে হাদিয়া মুবারক দিয়ে থাকি কোন পুরুষ কি সেই পরিমাণ অর্থ মুবারক হাদিয়া দিয়ে থাকে? সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি (নূরুত তাবাস্সুম) মুচকি হাসি মুবারক দিয়ে বলেন, না.. দিতে পারেনা। (সুবহানা উম্মিল উমাম আলাইহাস সালাম!)
শুধু তাই নয়, উল্লেখ্য যে, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র নূরুস সালাম মুবারকে প্রায় সময় একটা কথা বলে থাকেন, আর্থিকভাবে খিদমত মুবারক উনার আঞ্জাম দিয়ে যে নিয়ামত মুবারক হাছিল করা যায় তা অন্য কোনভাবে সেই নিয়ামত মুবারক হাছিল করা যায় না। আর যিনি কুল কায়িনাতের মহাসম্মানিত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনাকে সর্বোচ্চ সন্তুষ্ট করে আর্থিক খিদমত মুবারক উনার আঞ্জাম দিয়ে নিয়ামত মুবারক হাছিল করে থাকেন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি।
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার শান-মান, ফজিলত মুবারক দৃশ্যমান যতটুকু উপলব্ধি করা যায় তার চাইতে অদৃশ্যমান লক্ষ-কোটি গুন বেশী শান-মান, ফজিলত, বুযূর্গি-সম্মান মুবারক উনার অধিকারী। (সুবহানা উম্মিল উমাম আলাইহাস সালাম)
বলাবাহুল্য, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি এক বিশেষ ছোহবত মুবারকে উনার মহাপবিত্র নুরুস সালাম মুবারকে বলেন, “মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের তরফ থেকে আমি রহমত-বরকতসহ যমিনে প্রেরিত হয়েছি।” (সুবহানা উম্মিল উমাম আলাইহাস সালাম)
বলার অপেক্ষা রাখে না যে, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি যে মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে রহমত ও বরকত নিয়ে যমীনে প্রেরিত হয়েছেন সেই বিষয়টিই দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট যে, সাইয়্যিদাতুন নিসা সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনি যে মাস শেষে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনাকে বেমেছালভাবে সন্তুষ্ট করে মুবারক আর্থিক খিদমত উনার আঞ্জাম দিয়ে থাকেন এ বিষয়টির ক্ষেত্রে কোন পুরুষও উনার সমকক্ষ নয়। (সুবহানা উম্মিল উমাম আলাইহাস সালাম) বিষয়টি যদি একটু ফিকির করা হয়, তাহলে বুঝতে সহজ হয়, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি কুল-কায়িনাতে মুজাদ্দিদগনেরও মুজাদ্দিদ। অর্থাৎ মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম।
এক কথায় বলতে গেলে মহিলাদের মধ্যে মুজাদ্দিদ উনার ধারা জারী নেই। যদি থাকত তাহলে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনিও হতেন মুজাদ্দিদ গণের মুজাদ্দিদ। তবে যমীনের বুকে ছুরতান না হলেও হাক্বীক্বতান মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের কাছে মুজাদ্দিদে আ’যম উনার যত ফযিলত, বুযূর্গি-সম্মান রয়েছে, সমস্ত ফজিলত মুবারক উনার অধিকারীনী তিনি। (সুবহানা উম্মিল উমাম আলাইহাস সালাম)
মূলত: সাইয়্যিদাতুন নিসা উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি ক্বায়িম-মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম। তাই উনার ছানা-ছিফত মুবারক বিন্দু থেকে বিন্দুতম শুরু করা যাবে কিন্তু কস্মিনকালেও কারো পক্ষে শেষ করা সম্ভব হবে না। বরং আমাদেরকে উনার রেযামন্দি-সন্তুষ্টি, নিসবত-কুরবত হাছিলের জন্যই কোশেশ করে যেতে হবে।
তাই বলার অপেক্ষা রাখে না যে, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাকেও যারা উত্তম অভিভাবক হিসাবে গ্রহন করবে এবং মেনে নিবে তিনিও তাদেরকে দুনিয়াতে ও পরকালে উত্তমভাবে হিফাজত করবেন এবং সে ব্যক্তির জন্য রহমত ও বরকতময় জীবন লাভ করা সহজ ও সম্ভব হবে। (সুবহানা উম্মিল উমাম আলাইহাস সালাম!)
তাই মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন আমাদের সকলকে আমাদের যিনি মাথার তাজ, হৃদয়ের মণি, মহাসম্মানিত প্রাণপ্রিয়া শায়খ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মুবারক নুরুদ দারাজাত মুবারকে দায়িমীভাবে মৃত্যু পর্যন্ত উনার সন্তুষ্টি মুতাবেক ইস্তেকামত থাকতে পারি, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মুবারক উসিলায় ও মহাসম্মানিত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুবারক উসিলায় আমাদেরকে সেই তৌফিক দান করেন। (আমীন)

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে