শানে লখতে জিগারে মুজাদ্দিদে আ’যম, ক্বায়িম-মাক্বামে যাহরা আলাইহাস সালাম, সাইয়্যিদাতুন নিসা, আওলাদে রসূল শাহযাদী ছানী হযরত নিবরাসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম ১৫


মানছুরা, গালিবা, আফীফা, ছহিবে নূর, উম্মুল খইরা, মুনিরা, হযরত শাহযাদীয়ে ছানী আলাইহাস সালাম তিনি নারী জাতির মুক্তির আরশী দিশারী :

শামসী চৌদ্দ শতাব্দী। পুরো মহিলা জাতিটাই যেন এখন ভোগবাদী একটা গোষ্ঠীর চাতুর্যের ফাঁদে আটকা পড়েছে। চারদিকে পুঁজিবাদী ও ভোগবাদী গোষ্ঠীর অর্থ কামায় ও সম্ভোগের ঘুঁটি নারী সমাজ। পুঁজিবাদী ও ভোগবাদী গোষ্ঠীর কথিত ‘নারী স্বাধীনতা’ ও ‘নারী উন্নয়ন’-এর আপ্ত বুলি বুর্যোয়া-ভাড়াটে মিডিয়ার মাধ্যমে দশদিগন্তে ছড়িয়ে দিয়ে নির্লজ্জতা, বেহায়াপনা, অশ্লীলতায় ভাসিয়ে দিয়েছে। ‘নারী স্বাধীনতা’র নামে বৈষয়িক উন্নতির অলীক স্বপ্নে বিভোর করেছে নারীদেরকে। আর দিবাস্বপ্ন দেখতে দেখতে নারীরা তার ব্যক্তিত্ব, সম্ভ্রম, সম্মান সবকিছু বিসর্জন দিতেও কুণ্ঠাবোধ করছে না। ফলে নারীদের ঘিরে পুঁজিবাদী ও ভোগবাদী গোষ্ঠীর ব্যবসা জমজমাট।
আর স্বাধীনাতা অর্জনের বাসনায় নারীদের নিত্যদিনের আচরণ হচ্ছে বেপর্দা হওয়া, মান-সম্ভ্রম বিলানো, পরকীয়া করা, অবৈধ প্রেম করা, নাচ-গান করা শুনা, মদ পানে বেহুঁশ হয়ে পড়ে থাকা, টিভি, নাটক, সিনেমায় মত্ত থেকে ভোগবাদীদের তুষ্ট করা, রাজনীতির নামে বেহায়াপনা, বেলেল্লাপনায় মত্ত থেকে নিজস্ব স্বকীয়তাকে বিসর্জন দেয়া এবং রাজপথে মিছিল মিটিং করে নিজেদের মান-সম্মান হারানো, নির্যাতিতা হওয়া, বেশরা-বিদয়াতে লিপ্ত থাকা, বাজারে বাজারে ঘুরা, নষ্টামীতে ও লোকপ্রদর্শনীতে মত্ত থাকা, অফিসে পুরুষ সহকর্মীর ছলনার পুতুল হওয়া। অর্থাৎ যত বদ এবং নিকৃষ্ট কাজের আড্ডার মাধ্যম এখন নারী।
দেহপ্রদর্শনীতে ক্ষুধার্ত বাঘের ন্যায় ঝাঁপিয়ে পড়েছে। পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার আদর্শ তাদের মাঝে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। হারাম কাজে গর্জন করছে সিংহের ন্যায়। নারীরা যদি এভাবেই তাদের মান-সম্মান-ইজ্জত-আবরুকে নাক ছিটকানী দিয়ে আইয়ামে জাহিলায়াতের ন্যায় আচরণ জারি রাখায় তারা ইহজগতে বর্ণনাতীত লাঞ্ছিত, পদদলিত হচ্ছে। তবুও তাদের হুঁশ ফিরছে না পুঁজিবাদী ও ভোগবাদীদের রঙ মাখানো চাতুর্যপূর্ণ প্রলোভনের কারণে। পুঁজিবাদী ও ভোগবাদীদের রঙ মাখানো চাতুর্যপূর্ণ প্রচারণার ফলে সমাজে নারী মানেই ‘ভোগ্যপণ্য’ হিসেবে তাদের নোংরা পরিচিতি প্রতিষ্ঠিত। তবুও ক্ষণিকের দুনিয়ার অর্থ-সম্পদের মোহে আচ্ছন্ন হয়ে থাকায় নারীরা তা বুঝতে পারে না। তাই লা’নতের অগ্নি ছেয়ে গেছে সর্বত্র।
অথচ পবিত্র দ্বীন ইসলাম নারী জাতিকে যে সীমাহীন শ্রেষ্ঠত্ব-মর্যাদা দিয়েছে তা কল্পনাতীত ব্যাপার। মূলত এই বেহায়া, পথহারা নারী জাতিকে সঠিক সম্মানিত গন্তব্যে পৌঁছে দিতে কায়িনাত মাঝে নারী জাতির সম্মান শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে, লা’নত ও অশান্তির করুণ পরিণতি থেকে হিফাযত করতে এবং দুনোজাহানে তাদেরকে মুক্তি দান করতে ধরার বুকে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা বিশেষ নিয়ামত হিসেবে মানছুরা, গালিবা, আফীফা, ছহিবে নূর, উম্মুল খইরা, মুনিরা হযরত নিবরাসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাকে হাদিয়া করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
এ ফিতনা-ফাসাদের যামানায় হযরত নিবরাসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি নারীকুলকে সঠিক পথ দেখানেওয়ালী এবং নারী জাতির মুক্তির আরশী দিশারী। উনার মুবারক ছোহবতেই সর্বপ্রকার রহমত, বরকত, সাকীনাসহ নারীদের প্রকৃত মর্যদা লাভ করা সম্ভব, যেমন হতো হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার ও উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মুবারক ছোহবতে। হযরত নিবরাসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি সারা জাহান থেকে কুফরী-শিরকী, বিদয়াত, বেশরার মূল উৎপাটন করে নববী যুগের পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাকে পথহারা নারীদের মাঝে বেগবান করে তুলছেন। যুলুম-নির্যাতন, বেপর্দা, বেহায়াপনাসহ নারী জাতির সমস্ত দুর্দিন উনার নূরী পরশে বিদূরিত হচ্ছে। উনার ফায়েজ ও রোবে দিন দিন নারী জগৎ সুদৃঢ় ও মজবুত হচ্ছে। ছড়িয়ে পড়ছে রাব্বী হুকুম এই বসুধায়।
(চলবে ১৯ ই রবিউছ ছানী শরীফ উনার সম্মানার্থে ১৯ পর্যন্ত)

একসাথে পেতে ক্লিক করুন

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+