শানে হযরত নিবরাসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম লখতে জিগারে মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদীয়ে ছানী ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার আগমনের প্রেক্ষাপট এবং প্রয়োজনীয়তা:


সমস্ত ছানা-ছিফত এবং অবারিত প্রশংসার একচ্ছত্র অধিকারী খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি। আর অফুরন্ত পবিত্র দুরূদ শরীফ ও পবিত্র সালাম মুবারক বর্ষিত হোক সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি। অসংখ্য-অগণিত পবিত্র ছলাত-সালাম মুবারক মহাপরাক্রমশালী, মহাপ্রতাপশালী খলীফা, আস সাফফাহ, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার প্রতি এবং উনার হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি।
যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “মহান আল্লাহ পাক তিনি (উনার খাছ ওলী হিসেবে) যাঁকে ইচ্ছা উনাকেই মনোনীত করেন।” (পবিত্র সূরা শূরা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১৩)
বলাবাহুল্য, আজ পৃথিবীতে সর্বোচ্চ ভয়ঙ্কর ফিতনা ‘নারী ঘটিত’ ফিতনা। সম্মানিত ইসলামিক আদর্শ উনার লেশমাত্র অবশিষ্ট নেই বর্তমান নারী সমাজে। চারদিকে বাতিলের জয়জয়কার আর নারী নিয়ে নোংরামীর উল্লাস। নারী স্বাধীনতার আপ্ত শ্লোগানের আড়ালে নারীরা ভোগ্যপণ্যের নিম্নস্তরে পদার্পণ করেছে। আজ নারী সমাজ বাতিলের খপ্পরে পড়ে ভোগবাদী নেশায় বুঁদ হয়ে বহুরূপী দুনিয়ার কঠিন আগুনে ঝাঁপ দিয়েছে। তারা পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার সুমহান আদর্শকে ছেড়ে কথিত ‘স্বাধীনতা’ অর্জনের দিবাস্বপ্নে বিভোর হয়ে নষ্ট করে দিচ্ছে তাদের ইজ্জত-আবরুকে। ফলতঃ নিষিদ্ধপল্লীর মেয়ে আর ভদ্র পরিবারের মেয়ে পার্থক্য করা বড়ই কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। পবিত্র দ্বীন ইসলাম নারী জাতিকে যে সীমাহীন শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা দিয়েছে, তারা সেই মর্যাদাকে ধরে রাখতে পারছে না। বরং তারা সেখানে কুঠারাঘাত করছে নিজের অজান্তেই।
শুধু কি অমুসলিম নারীদের এই করুণ পরিণতি? না; খোদ মুসলিম নারীরাও পর্দাহীনতা, নগ্নতা, অশ্লীলতা, বেহায়াপনা, নির্লজ্জতা, হারাম খেলাধুলা, গান-বাজনা, নাচ-অভিনয়, বিজ্ঞাপনী মডেল, অবৈধ ভালোবাসা, উল্কি আঁকা, নষ্টামী, বিশ্ব সুন্দরী প্রতিযোগিতা থেকে শুরু করে বিবিধ শরীয়তবিরোধী কাজে নিজেকে নোংরামীর শেষস্তরে পৌঁছে দিয়েছে। পবিত্র দ্বীন ইসলাম পালনে চরম হীনম্মন্যতা দেখিয়ে নিশ্চুপ থাকলেও দেহপ্রদর্শনীতে ক্ষুধার্ত বাঘের ন্যায় ঝাঁপিয়ে পড়ছে। পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার আদর্শ মুবারক তাদের মাঝে খুঁজে পাওয়া দুঃসাধ্য ব্যাপার। আজকের নারীরা এভাবেই তাদের মান-সম্মান-ইজ্জত-আবরুকে নাক ছিটকানী দিয়ে ছুঁড়ে ফেলে আইয়ামে জাহিলিয়াতের ন্যায় আচরণ জারি রাখায় তারা ইহজগতে বর্ণনাতীত লাঞ্ছিত, পদদলিত হচ্ছে এবং হতেই থাকবে। আর তাই সমাজে ‘নারী’ মানেই ‘ভোগ্যপণ্য’ হিসেবে তাদের নোংরা পরিচিতির বিস্তার ঘটছে। লা’নতের অগ্নি ছেয়ে যাচ্ছে সর্বত্র। আর পরকালে জাহান্নামের ভয়ানক আযাব-গযবে পাকড়াও হওয়া ছাড়া বাঁচার উপায় থাকছে না কারোই।
মূলত, এই বেহায়া, পথহারা, নারী জাতিকে সঠিক সম্মানিত গন্তব্যে পৌঁছে দিতে, কায়িনাত মাঝে নারী জাতির সম্মান ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে, লা’নত ও অশান্তির করুণ পরিণতি থেকে হিফাযত করতে এবং দুনো-জাহানে তাদেরকে মুক্তি দান করতে ধরার বুকে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি বিশেষ নিয়ামত মুবারক হাদিয়া করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
শামসী চৌদ্দ শতাব্দীর নারী জাতির মুক্তির সেই আরশী নূর মুবারক হচ্ছেন- বেমেছাল মহিমান্বিত নিয়ামত, রহমত, বরকত, ফযীলতপূর্ণ, সাকীনাযুক্ত এবং লখতে জিগারে মুজাদ্দিদে আ’যম, ক্বায়িম-মাক্বামে যাহরা আলাইহাস সালাম, ত্বাহিরা, ত্বইয়িবা, সাইয়্যিদাতুন নিসা, আওলাদে রসূল হযরত শাহযাদী ছানী হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম। যিনি কুল-কায়িনাতে নিবরাসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম মুবারক লক্ববে মশহূর। সুবহানাল্লাহ!
যিনি উম্মুল মু’মিমীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের পরিপূর্ণ ক্বায়িম-মাক্বাম। সুন্নতের রঙে বেমেছাল সৌরভী ফুল। জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতিটা শাখায় ব্যাপক ব্যুৎপত্তির অধিকারিণী। ইলম, আমল, ইখলাছ এবং কামালতে প্রস্ফুটিত কুদরতী ফোয়ারা। মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার পেয়ারা হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সর্বশ্রেষ্ঠা মুরাদ ত্ববকার হাবীবা। জাহিরী-বাতিনী, জিসমানী-রূহানী সর্বদিক থেকে মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সাথে রয়েছে উনার বেমেছাল নিগূঢ় তায়াল্লুক-নিসবত। উনার চলাফেরা উঠাবসা মুবারক উনাদের দেখে দেখেই হয়। সুবহানাল্লাহ!
সেই কামিলা, আরিফা, আলিমা, হাবীবা উনার তাছিরে পাথরসম কুফরী হৃদয় বিগলিত হয়। থরথর করে কেঁপে উঠে যালিম শক্তি। মাথা নুয়াতে বাধ্য হয় সমস্ত জাহিলিয়াতের দেহপ্রদর্শনীর নোংরামী অপশক্তি। লজ্জায় মস্তক অবনত করে বেহায়া নারী সমাজ। উনার মুবারক ছোহবত পথহারা নারীদেরকে পৌঁছে দেন এক মাশূকা বন্ধনে ইলাহী উনার এবং উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের ইশ্কী নহরধারায়। সুবহানাল্লাহ!

শাহিদা, মুবাশশিরা, আশ শাবীহাতু বিল মুজাদ্দিদে আ’যম, আয্যাহরা, মালিকায়ে নিয়াম হযরত শাহযাদীয়ে ছানী আলাইহাস সালাম উনার মুবারক নসবনামা:

খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমাদেরকে গোত্রে গোত্রে, সম্প্রদায়ে সম্প্রদায়ে বিভক্ত করেছি। যাতে তোমরা একে অপরের পরিচয় লাভ করতে পার।”
আওলাদে রসূল হযরত নিবরাসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মুবারক বংশ হচ্ছেন- ‘সাইয়্যিদ’। উনার মুবারক ধমনীতে প্রবাহিত হচ্ছেন নববী নূরুন নাজাত মুবারক (রক্ত মুবারক) উনার ঝর্ণাধারা। মুবারক নসবনামা পরম্পরায় সম্মানিত পিতা-মাতা আলাইহিমাস সালাম উনাদের দিক থেকে তিনি হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম এবং হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাদের সাথে সম্পর্কযুক্ত। নববী নূরুন নাজাত মুবারক উনার ধারাবাহিকতায় সঙ্গতকারণেই তিনি আল হাসানী ওয়াল হুসাইনী ওয়াল কুরাইশী। অর্থাৎ তিনি সম্মানিতা ‘সাইয়্যিদা’।
এক কথায় তিনি আওলাদে রসূল তথা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিতা নাতনী। পবিত্র মদীনা শরীফ থেকে মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, গরীবে নেওয়াজ হযরত সাইয়্যিদ মুঈনুদ্দীন হাসান চিশতী আজমিরী সানজেরী (খাজা ছাহেব) রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার একান্ত মাহবুব ছফরসঙ্গী হিসেবে ওলীয়ে মাদারজাদ আওলাদে রসূল সাইয়্যিদ মুহম্মদ আবূ বকর মুজাদ্দিদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি আজমীর শরীফ আগমন করেন। দ্বীনি হিদায়েত খিদমতের আনজাম দিয়ে তিনি সেখানেই শায়িত রয়েছেন। উনার অধঃস্তন সম্মানিত সন্তান আওলাদে রসূল হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ আলাউদ্দিন আলাইহিস সালাম তিনি মানুষদেরকে হিদায়েতের নিমিত্তে বাংলাদেশে আসেন। উনার সম্মানিত ছাহেবযাদা হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ মালাউদ্দিন আলাইহিস সালাম। উনার সম্মানিত ছাহেবযাদা হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ ইলাহী বখ্শ আলাইহিস সালাম। উনার সম্মানিত ছাহেবযাদা হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ ওয়ালী বখ্শ আলাইহিস সালাম। উনার সম্মানিত ছাহেবযাদা ওলীয়ে মাদারযাদ, কুতুবুল আলম, ছুফীয়ে বাতিন হযরতুল আল্লামা সাইয়্যিদ মুহম্মদ মুখলিছুর রহমান আলাইহিস সালাম। উনার নূরী শাহযাদা ওলীয়ে মাদারযাদ, মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম- যিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরিপূর্ণ ক্বায়িম-মাক্বাম, বর্তমান পনের হিজরী শতকের মহান মুজাদ্দিদ ঢাকা রাজারবাগ শরীফ উনার সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম। আর উনারই পূত-পবিত্রা সম্মানিতা দ্বিতীয়া আওলাদ হচ্ছেন শাহযাদীয়ে ছানী হযরত নিবরাসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!

ফারীহা, নূরে হাবীবা, হাদীয়াতুল মাদানী, হাদীয়ে মাদারযাদ, ওলীয়ে মাদারযাদ হযরত শাহযাদীয়ে ছানী আলাইহাস সালাম তিনি কায়িনাত মাঝে শ্রেষ্ঠা আল্লাহওয়ালী :

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “মহান আল্লাহ পাক তিনি (উনার খাছ ওলী হিসেবে) যাঁকে ইচ্ছা উনাকেই মনোনীত করেন।” (পবিত্র সূরা শূরা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১৩)
মুজাদ্দিদে আ’যম, গাউছুল আ’যম, দস্তগীর, কুতুবুল আলম, কাইয়্যুমুয যামান, আওলাদে রসূল মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি উনার সম্মানিত পিতা হিসেবে উনার সাথে রয়েছে বেমেছাল জাতি তায়াল্লুক-নিসবত। সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মুবারক কোলে লালিত-পালিত হওয়ার পাশাপাশি হযরত উম্মুল ওয়ারা, উম্মুল খায়ের, নাক্বীবাতুল উমাম হযরত শাহযাদী ঊলা আলাইহাস সালাম উনার স্নেহ-মমতায় গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত। দায়িমী সুন্নতের ইত্তেবা, যিকির-ফিকির, রিয়াজত-মুশাক্কাত, ইলমের প্রখরতা, ইবাদতে একাগ্রতা এবং তাক্বওয়া-পরহেজগারীতে ফারীহা, নূরে হাবীবা, হাদীয়াতুল মাদানী, হাদীয়ে মাদারযাদ, ওলীয়ে মাদারযাদ হযরত নিবরাসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি সুমহান ব্যক্তিত্বা হিসেবে ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত (সুবহানাল্লাহ!)।
জাহিরী-বাতিনীভাবে খুব কম সময়ে ইলমে শরীয়ত, মা’রিফাত, হাক্বীক্বত উনার স্বর্ণশিখরে পদাচরণ ঘটে উনার। কামালতের শ্রেষ্ঠস্তরে নিরবিচ্ছিন্ন বিচরণ উনার। দুনিয়াবী বয়স মুবারক যখন অল্প তখন থেকেই ফরয, ওয়াজিব, সুন্নতে মুয়াক্বাদা, সুন্নতে যায়িদা এমনকি মুস্তাহাব বিষয়গুলোও গুরুত্বসহকারে পালন করেন। ফলে কুল-কায়িনাতে মহান আল্লাহ পাক উনার বেমেছাল আল্লাহওয়ালী হিসেবে উনার আনুষ্ঠানিক প্রকাশ ঘটে যায়। যদিও তিনি আগমনগত দিক থেকেই বেমেছাল আল্লাহওয়ালী। এজন্য উনার মুবারক শানে কিতাবে উল্লেখ করা হয়, ‘ওলী তো ওলী, যদিও তিনি শিশু হন না কেন’। সুবহানাল্লাহ!
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সাথে সৃষ্টিগতভাবেই উনার বেমেছাল জাহিরী-বাতিনী তায়াল্লুক-নিসবত। এজন্য তিনি সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, রোগ-শোক, আহার-অনাহার, আমল-আখলাক, রীতি-নীতি, নিদ্রা-জাগরণ, শয়নে-স্বপনে সর্ব অবস্থায় দায়িমীভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের ধ্যানে-খেয়ালে মশগুল থাকেন। মুবারক এই ধ্যান-খেয়ালের নিবিষ্টতা এত গভীর যে, মুবারক দীদারের জন্য নিদ্রার প্রয়োজন হয় না। নিদ্রা ও জাগরণ উভয় অবস্থায় অনুক্ষণ দীদার মুবারক সংঘটিত হয়। প্রতিনিয়ত খোদায়ী মদদ, ইলহাম-ইলকা আর মিল্লাদুন্নকা ইলমা উনার জন্য অত্যন্ত সহজাত বিষয় হয়ে যায়। এককথায় হুবহু নকশা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার। উপরন্তু উনার মুবারক ধমনীতে প্রবাহমান নববী রক্তের নহরধারা। তাইতো মুবারক আচরণ, নূরানী ব্যক্তিত্ব মুবারক, প্রজ্ঞাপূর্ণ নছীহত মুবারক, ইলমে জাহির-বাতিনের তা’লীম-তালক্বীনে নববী ধারার আরশী নূর মুবারক প্রকাশ পেয়ে যায়। কুল-কায়িনাতের সর্বত্র প্রতিধ্বনি হতে থাকে শ্রেষ্ঠা আল্লাহওয়ালী ফারীহা, নূরে হাবীবা, হাদিয়াতুল মাদানী, হাদীয়ে মাদারযাদ, ওলীয়ে মাদারযাদ হযরত নিবরাসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম হিসেবে। সুবহানাল্লাহ!

বাশীরা, নাজীরা হযরত শাহযাদীয়ে ছানী আলাইহাস সালাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত এবং হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়া সাল্লাম উনার মুজিযা শরীফ উনাদের বহিঃপ্রকাশ:

যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার বেমেছাল কুদরত মুবারক এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছোল মুজিযা শরীফ উনাদের অনুপম বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে ক্বায়িম-মক্বামে হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম, ক্বায়িম-মাক্বামে সাইয়্যিদাতুন নিসা ফিল জান্নাহ, সাইয়্যিদাতুন নিসা, আওলাদে রসূল, নিবরাসাতুল উমাম হযরত শাহযাদী ছানী হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার মাধ্যমে। উনার সীরত মুবারক, ছূরত মুবারক, চলাফেরা মুবারক, কথাবার্তা মুবারক, জ্ঞান-গরীমা মুবারক, সুন্নত মুবারক পালনের দৃঢ়তা ইত্যাদির ন্যূনতম আলোচনা করলেই তা বুঝা যাবে। সাধারণ কোনোও ব্যক্তিত্বের দ্বারা এভাবে জীবনযাপন করা সম্ভব নয়। একমাত্র নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক জাহিরী উপস্থিতে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা যেভাবে জীবনযাপন করেন; তিনিও উনাদের অনুসরণে জীবনযাপন করেন। তাহলে এখন মহান আল্লাহ পাক উনার বেমেছাল কুদরত মুবারক এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছোল মুজিযা শরীফ ব্যতীত কী করে সম্ভব!
কেননা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, হযরত ছাহাবায়ে ক্বিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা একমুদ বা অর্ধমুদ দান করে যে ফযীলত-বরকত পেয়েছেন; এখন উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণ দান করলেও তেমন ফযীলত-বরকত হাছিল করতে পারবে না। মূলত, হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের ক্বায়িম-মাক্বাম তথা হুবহু নকশা হওয়া মহান আল্লাহ পাক উনার বেমেছাল কুদরত মুবারক এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছোল মু’জিযা শরীফ উনাদের বহিঃপ্রকাশ ছাড়া সম্ভব নয়।
মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার কুদরতী অবস্থান বিষয়ে পবিত্র হাদীছে কুদসী শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “নিশ্চয়ই হযরত আউলিয়ায়ে কিরামগণ উনারা আমার কুদরতী জুব্বা মুবারক-এ আবৃত।”
অর্থাৎ কুদরত মুবারকেই উনারা (নিবরাসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম) সার্বক্ষণিক অবস্থান করেন। মহান আল্লাহ পাক উনার পথহারা বান্দিদেরকে হিদায়েতের লক্ষ্যে কায়িনাতে নির্দিষ্ট কিছু সময়ের জন্য ক্বায়িম-মাক্বামে ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম, ক্বায়িম-মাক্বামে সাইয়্যিদাতুন নিসা ফিল জান্নাহ, বাশীরা, নাজীরা হযরত নিবরাসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাকে নিয়ামতস্বরূপ পাঠিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!

আলিমা, জামিলা, কামিলা, আরিফা, আবিদা হযরত শাহযাদীয়ে ছানী আলাইহাস সালাম উনার মুবারক ইলম:

খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আয় মহান আল্লাহ পাক! আপনি আমাদের ইলম বৃদ্ধি করে দিন।”
অর্থাৎ যারা সাধারণ উম্মত তাদেরকে বারবার আরজি করতে বলা হয়েছে। বান্দারা উম্মতরা ঠিকমতো আরজি করলে এবং ইলম হাছিলের কোশেশ করলে মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা বান্দাকে কিছু ইলম দান করেন। মূলত, ইলম মহান আল্লাহ পাক উনার এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের তরফ থেকে বিশেষ নিয়ামত। ইচ্ছা করলেই বান্দা ছহীহ ইলম হাছিল করতে পারবে না। ইলম হাছিল করতে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়া সাল্লাম উনাদের রহমত, বরকত, দয়া-দান, ইহসান লাগবে।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “মহান আল্লাহ পাক তিনি যার ভালাই চান তাকে দ্বীনের ছহীহ সমঝ হাদিয়া করেন।”
অর্থাৎ যিনি খাছ ব্যক্তিত্ব হন উনাকে যিনি মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়া সাল্লাম উনারা বেমেছাল কুদরতীভাবে ইলম হাদিয়া করে থাকেন।
জামিলা, আলিমা, কামিলা, আরিফা, আবিদা হযরত নিবরাসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়া সাল্লাম উনারা জাহিরী-বাতিনীভাবে বেমেছাল ইলম হাদিয়া করেছেন। পবিত্র ইলম মুবারক উনার যতগুলো শাখা-প্রশাখা রয়েছে- প্রতিটা শাখাতেই উনার রয়েছে পূর্ণ বিচরণ ও কামালিয়াত। তিনি জাহিরী ও বাতিনীভাবে কুদরতী ইলম মুবারক দ্বারা খাছভাবে পরিপূর্ণ। পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র তাফসীর, পবিত্র শরাহ, ফিক্বাহ, মানতিক ও হিকমত, বালাগাত, কালাম শাস্ত্র, বিভিন্ন ভাষার ব্যাকরণ ও সাহিত্য, মুনাজারা, দর্শন, ফারায়িজ, বিজ্ঞান, ইতিহাস, সমাজকল্যাণ, ভূগোল, মহাকাশশাস্ত্র, গণিত, চিকিৎসা শাস্ত্র, ইসলামী আইন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞান, পোশাক বিজ্ঞান, বিভিন্ন ধর্মের আইন ইত্যাদিসহ সমস্ত বিষয়ের অগাধ ইলম ও প্রজ্ঞার অধিকারিণী তিনি। পবিত্র ইলম উনার প্রতিটি স্তরে আওলাদে রাসূল, সাইয়্যিদাতুন নিসা, ছাহিবাতুল কুরআন হযরত নিবরাসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার রয়েছে ব্যাপক দক্ষতা ও পা-িত্য। সুবহানাল্লাহ!

আওলাদে রসূল, তাওশিয়াহ, তাকরীমাহ, তাক্বিয়্যাহ, তাযকিয়্যাহ হযরত শাহযাদীয়ে ছানী আলাইহাস সালাম তিনি সাধারণ কোনোও মহিলাদের মতো নন; এমনকি সাধারণ কোনো পুরুষও উনার সমকক্ষ নয় :

যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, “হে উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম! আপনারা অন্য কোনো মহিলাদের মতো নন।” সুবহানাল্লাহ!
আওলাদে রসূল, তাওশিয়াহ, তাকরীমাহ, তাক্বিয়্যাহ, তাযকিয়্যাহ হযরত নিবরাসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের পরিপূর্ণ ক্বায়িম-মাক্বাম হওয়ার কারণে তিনিও অন্য কোনোও মহিলাদের মতো নন। হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে কেউ যদি দেখতেন, তাহলে কারও সাধ্য ছিলো না যে- আওলাদে রসূল, তাওশিয়াহ, তাকরীমাহ, তাক্বিয়্যাহ, তাযকিয়্যাহ হযরত নিবরাসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার আচার-ব্যবহার, চলাফেরা, কথাবার্তা, উঠাবসা, হাঁটাচলা, আহার-বিহার, শয়ন-স্বপন, ইলম-প্রজ্ঞা, মুয়ামিলাত-মুয়াশিরাত, ইবাদত-বন্দেগী, তাক্বওয়া-পরহেজগারিতা, মানবকল্যাণ, দান-সদকা, কুল-কায়িনাতের প্রতি দয়া-মায়া প্রদর্শন ইত্যাদি যাবতীয় বিষয়ে উনাদের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করতে পারে। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “(হযরত মারইয়াম আলাইহাস সালাম) উনার সমকক্ষ কোনো পুরুষও নন।” (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ)
এতো বেমেছাল ফাযায়িল-ফযীলত, বুযুর্গী-সম্মান, শান-মান মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাকে সৃষ্টিগতভাবেই হাদিয়া করেছেন। সুবহানাল্লাহ! যা কুল-কায়িনাতের পক্ষে চিন্তা করাও যথেষ্ট কষ্টসাধ্য ব্যাপার। যাঁদের মহান আল্লাহ পাক উনার এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সাথে বেমেছাল তায়াল্লুক-নিসবত আছে উনারাই কেবল আওলাদে রসূল, তাওশিয়াহ, তাকরীমাহ, তাক্বিয়্যাহ, তাযকিয়্যাহ হযরত নিবরাসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মুবারক শান কিছুটা উপলব্ধি করতে পারেন। সাধারণ মানুষ বুঝবে কি করে? বুঝার সাধ্যই বা কোথায়?

ছামীনাহ, ছা’ইমাহ, ছালিহাহ, ছুফিয়্যাহ, সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত শাহযাদীয়ে ছানী আলাইহাস সালাম উনার মুবারক ছোহবতে বদকার মহিলা নেককারে পরিণত হয়:

হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মুবারক ছোহবতে মহিলা ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা আনহুন্না উনারা দুনিয়াতে থাকতেই মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ রেযামন্দি লাভ করেছিলেন। জাহিলিয়াতের সমস্ত বেহায়া, বেশরা সমূলে মূলোৎপাটন হয়েছিলো হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মুবারক রূহানী তাছির মুবারক-এ।
ঠিক ছামীনাহ, ছা’ইমাহ, ছালিহাহ, ছুফিয়্যাহ, সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত নিবরাসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মুবারক বেলায়েতী নূরানী তাছিরে আজকের পথহারা মহিলারা বদকার থেকে আল্লাহওয়ালীতে পরিণত হচ্ছে।
কিতাবে উল্লেখ করা হয়, “ছোহবত (সঙ্গ) তাছির করে।” অর্থাৎ বদকারের ছোহবতে থাকলে বদকার হয় এবং নেককার উনাদের ছোহবতে থাকলে নেককার তথা আল্লাহওয়ালা, আল্লাহওয়ালী হয়। এ কারণেই হযরত শায়েখ সা’দী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “নেক ছোহবত মানুষকে নেককার করে দেয়, আর বদ ছোহবত মানুষকে বদকার বানিয়ে দেয়।”
মহান আল্লাহ পাক উনার জলীলুল ক্বদর রসূল হযরত নূহ আলাইহিস সালাম উনার সন্তান ‘কেনান’ কাফির-মুশরিকদের ছোহবতে থাকার কারণে কাফির-মুশরিক হয়ে মারা যায়। নাউযুবিল্লাহ! আর পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছে আসহাবে কাহাফ উনাদের সাথে কুকুর ছিল। কিতাবে বর্ণিত রয়েছে- ওলীআল্লাহগণ উনাদের ছোহবতে থাকার কারণে পরকালে মালউন দরবেশ বালআম বিন বাউরার ছূরতে উক্ত কুকুরটি বেহেশতে যাবে। একটা অপবিত্র কুকুর যদি ওলীআল্লাহ উনাদের ছোহবতের বিনিময়ে জান্নাতী হতে পারে, তাহলে যিনি ছামীনাহ, ছা’ইমাহ, ছালিহাহ, ছুফিয়্যাহ, সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত নিবরাসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম- যিনি হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের পরিপূর্ণ ক্বায়িম-মাক্বাম এবং বেমেছাল নূরানী বেলায়েতী কুবরা উনার অধিকারিণী, উনার মুবারক ছোহবতে জাহান্নামী মহিলারাও যে বেমেছাল জান্নাতী হবে এবং হচ্ছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। যা আমাদের দেশ-বিদেশের লাখ লাখ মুরীদা, আশিকা পীরবোন উনাদের দিকে তাকালে সহজেই অনুমান করা যায়।
ছামীনাহ, ছা’ইমাহ, ছালিহাহ, ছুফিয়্যাহ, সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত নিবরাসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মুবারক ছোহবতের ফায়েজী রোবে-দাপটে সমস্ত বেহায়াপনা, অশ্লীলতা আজ ভয়ে কেঁপে উঠেছে। উনার নেক ছোহবত মুবারক উনার উসীলায় নিজেকে আল্লাহওয়ালী উনাদের কাতারে শামিল করে নিচ্ছেন অসংখ্য অগণিত পথহারা-বেপর্দা মহিলারা। সুবহানাল্লাহ!

ফারীদাহ, ক্বারীনাহ, ক্বারীবাহ, কাবীরাহ, কাছিত্বাহ
হযরত শাহযাদীয়ে ছানী আলাইহাস সালাম উনার বেমেছাল হিজাব বা পর্দা পালন:

যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়া সাল্লাম উনারা পর্দা বা হিজাবকে সমস্ত মহিলাদের জন্য ফরযে আইন করে দিয়েছেন। আর হিজাব পালনের মধ্যেই নারী জাতির মর্যাদা-শ্রেষ্ঠত্ব তথা ফাযায়িল-ফযীলত, বুযুর্গী-সম্মান নিহিত রয়েছে। মণি-মুক্তা দামি হওয়ার দরুন যেমন খোলা ফেলে রাখলে চোরে নিয়ে পালায়, তেমনি মহিলাদেরকেও হিজাবহীন অবস্থায় রাখলে পরপুরুষের বদ নজরে পড়ে থাকে। মণি-মুক্তা রাখার নিরাপদ জায়গা হচ্ছে নিরাপত্তা বেষ্টিত ঘরের সিন্দুক, তেমনি সম্মানিতা নারীদের নিরাপদ অবস্থান হচ্ছে সর্বাবস্থায় হিজাবে থাকা।
ফারীদাহ, ক্বারীনাহ, ক্বারীবাহ, কাবীরাহ, কাছিত্বাহ হযরত নিবরাসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার বেমেছাল হিজাব পালন, যা কল্পনা করা কঠিন ব্যাপার। উনার মুবারক ছায়াও কখনো কোনো পরপুরুষ দেখেনি। এমনকি কোনো পর্দাহীন বেহায়া মহিলাও উনাকে দেখতে পায়নি। উনার মুবারক কণ্ঠস্বর কোনো পরপুরুষ কখনো শুনেনি। বলতে গেলে সূর্যের কিরণও উনাকে স্পর্শ করেনি। সুবহানাল্লাহ! এতো বেমেছাল হিজাব মুবারক তিনি পালন করেন। ফারীদাহ, ক্বারীনাহ, ক্বারীবাহ, কাবীরাহ, কাছিত্বাহ হযরত নিবরাসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মাঝে এখন আমরা সেই নববী যুগের হিজাব পালনের হুবহু বেমেছাল নকশা মুবারক দেখতে পাচ্ছি। যার কারণে বেহিজাব নারীরা উনার বেমেছাল হিজাব পালনের তাছিরে আপসে আপ পর্দানশীন হয়ে যাচ্ছে। সুবহানাল্লাহ!

রফীক্বাহ, রুকাইয়্যা, হাবীবাতুল্লাহ, নূরিয়্যাহ, ফখরিয়্যাহ হযরত শাহযাদীয়ে ছানী আলাইহাস সালাম তিনি সৃষ্টিগতভাবেই মহান আল্লাহ পাক উনার মনোনীতা হাবীবা:

যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “মহান আল্লাহ পাক তিনি (উনার খাছ ওলী হিসেবে) যাঁকে ইচ্ছা উনাকেই মনোনীত করেন।” (পবিত্র সূরা শূরা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১৩)
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি যখন একা ছিলেন। কুল-কায়িনাতের কোনোও অস্তিত্ব ছিলো না। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইচ্ছা করলেন প্রকাশ ঘটবেন। তখনই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মনোনীত করেছিলেন উনার পরে সর্বশ্রেষ্ঠ ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে। এভাবেই মনোনীত হওয়ার বা করার বিষয়টির যাত্রা শুরু হয়। এরপর হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুছ ছলাতু ওয়া সালাম, হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম, হযরত ছাহবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম এবং বিশেষ শ্রেণীর হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদেরকে মনোনীত করেন।
অর্থাৎ হযরত আউলিয়ায়ে ক্বিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের মধ্যে অনেকে যিকির-ফিকির, রিয়াজত-মাশাক্কাত করার মাধ্যমে ওলীআল্লাহ হন। আবার কেউ আছেন যাঁদেরকে মহান আল্লাহ পাক তিনি সৃষ্টিগতভাবেই মনোনীত করেন ওলীআল্লাহ হিসেবে। আর যাঁদেরকে মনোনীত করা হয় উনাদের শান-মান, মর্যাদা-মর্তবা, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযুর্গী-সম্মান বেমেছাল থাকে আগমনগতভাবেই। অল্প বয়স মুবারক থেকেই উনাদের মাঝে বেমেছাল ব্যক্তিত্ব ফুটে উঠে।
রফীক্বাহ, রুকাইয়্যা, হাবীবাহ, নূরিয়্যাহ, ফখরিয়্যাহ হযরত নিবরাসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাকে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা সৃষ্টিলগ্ন থেকেই মুরাদ ত্ববকার আল্লাহওয়ালী হাবীবা হিসেবে মনোনীত করেন। সুবহানাল্লাহ! এজন্য আগমনগতভাবেই তিনি সর্বগুণে গুণী, সর্বজ্ঞানে জ্ঞানী। ইলমের প্রতিটি শাখায় উনার অবাধ পা-িত্যের সাথে বিচরণ। শিশুকাল থেকেই পূর্ণরূপে দুনিয়া বিরাগী, পরকালের প্রতি অত্যন্ত নিমগ্ন, দায়েমীভাবে সুন্নতে মশগুল, পর্দা পালনে বেমেছাল ও কঠোর, অপছন্দনীয় কাজ সম্পর্কেও সদা সতর্ক, তাক্বওয়া সমৃদ্ধ ইবাদতে বলীয়ান, দুনিয়াবী ক্ষমতা ও মাল-আসবাবের আকাঙ্খা থেকে পরিপূর্ণরূপে পূত-পবিত্রা। সুবহানাল্লাহ! ফলে মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ লক্ষ্যস্থল মাহবূবা ওলী হিসেবে উনার মনোনীতা হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ ঘটায় কুল-কায়িনাত সুশোভিত হয়ে উঠে।

লখতে জিগারে মুজাদ্দিদে আ’যম, কুতুবুল আলম, তা¡হিরাহ, ত্বইয়িবাহ, মাহবূবাহ হযরত শাহযাদীয়ে
ছানী আলাইহাস সালাম উনার খাছ লক্বব মুবারক ও উনার বিশেষত্ব:

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “মানুষকে তাঁর মর্যাদা অনুসারে সম্মান করো বা ডাকো।” (তাফসীরে মাযহারী শরীফ)
মূলত লক্বব হচ্ছে যেকোনো ব্যক্তির মর্যাদা-মর্তবা, ফাযায়িল-ফযীলত, ইজ্জত-সম্মানের বহিঃপ্রকাশ। লখতে জিগারে মুজাদ্দিদে আ’যম, কুতুবুল আলম, ত্বাহিরাহ, ত্বইয়িবাহ, মাহবূবাহ হযরত শাহযাদীয়ে ছানী আলাইহাস সালাম উনার খাছ লক্বব মুবারক হচ্ছে ‘নিবরাসাতুল উমাম’। কুল-কায়িনাতবাসী উনাকে এই সুমহান লক্বব মুবারকেই বেশি সম্বোধন করে থাকেন।
‘নিবরাসা’ শব্দ মুবারক উনার অর্থ: এক সুউজ্জ্বল নূর, সুমহান প্রদীপ, সুউচ্চ আলোকবর্তিকা। আর ‘উমাম’ শব্দ মুবারক উনার অর্থ: সমস্ত উম্মত। মূলত, সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ছানী ক্বিবলা আলাইহাস সালাম তিনি সারা কায়িনাত তথা গোটা উম্মতের আলোকবর্তিকা বা আলোদানকারিণী। অর্থাৎ উনার উসীলায় তথা উনার নূরে সারা জগৎ নূরানীময় হয়ে ধন্যপ্রাপ্ত। সুবহানাল্লাহ! বর্তমানে কোনোও মা’রিফাত পিপাসু হৃদয়ে খোদায়ী নূর মুবারক ধারণ করতে চাইলে অবশ্যই উনার মুবারক ইজাজত লাগবে। সারা কুল-কায়িনাতের সুমহান রূহানী নূর মুবারক উনার চাবিকাঠি এখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ছানী ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার মুবারক খিদমতে। তিনিই উহার বণ্টনকারিণী। তাইতো কায়িনাতবাসী সকাল-সন্ধ্যা ‘নিবরাসাতুল উমাম’ বলে হৃদয়ে প্রতিধ্বনি তুলে থাকে সেই সুমহান রূহানী নূর মুবারক হাছিল করতে। আর হযরত নিবরাসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি আধুনিক জাহিলিয়াতের তিমির প্রকোষ্ঠে নিমজ্জিত বেভোলা-বেদিশা নারীদেরকে সেই নূরের ছটা তাদের হৃদয়ে নিক্ষেপ করে প্রকৃত ইসলামে দীক্ষিত করে চলেছেন। সুবহানাল্লাহ!

ফাক্বীহা, মাশুকাহ, গফীরাহ, নাছিবাহ, রহীমাহ হযরত শাহযাদীয়ে ছানী আলাইহাস সালাম উনার লক্বব মুবারক অসংখ্য-অগণিত:

যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়া সাল্লাম উনারা নিজে অসংখ্য লক্বব মুবারক ব্যবহার এবং প্রকাশ করে বান্দা-বান্দী ও উম্মতকে লক্বব মুবারক ব্যবহার এবং প্রকাশ করার আদত শিক্ষা দিয়েছেন। যার জন্য লক্বব ব্যবহার করা খাছ সুন্নাতুল্লাহ এবং সুন্নতে রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়া সাল্লাম। সুবহানাল্লাহ!
মূলত, লক্বব হচ্ছে কোনোও ব্যক্তির মর্যদা-মর্তবা, ফাযায়িল-ফযীলত, ইজ্জত-সম্মানের বহিঃপ্রকাশ। যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়া সাল্লাম উনারা যাঁকে যে পরিমাণ বিশেষ নিয়ামত হাদিয়া করেন তিনি সে অনুযায়ী মর্যদা-মর্তবা, ফাযায়িল-ফযীলত লাভ করে থাকেন বা সে অনুযায়ী উনার লক্বব মুবারক হয়ে থাকে। সেদিক দিয়ে হযরত নিবরাসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার লক্বব মুবারক হচ্ছে অসংখ্য, অগণিত। কেননা যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়া সাল্লাম উনারা হযরত নিবরাসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাকে বেমেছাল শান-মান, মর্যদা-মর্তবা, ফাযায়িল-ফযীলত, ইজ্জত-সম্মান আগমনগতভাবেই হাদিয়া করেছেন। উনার অসংখ্য, অগণিত লক্বব মুবারক-এর মধ্য হতে নিম্নে সামান্য কিছু লক্বব মুবারক মানুষদের বরকত লাভের জন্য উল্লেখ করা হলো:
লখতে জিগারে মুজাদ্দিদে আ’যম, কুতুবুল আলম, ত্বাহিরাহ, ত্বইয়িবাহ, মাহবুবাহ, ফাক্বীহা, মাশুকাহ, গফীরাহ, নাছিবাহ, রহীমাহ, রফীক্বাহ, রুকাইয়্যা, হাবীবাহ, নূরিয়্যাহ, ফখরিয়্যাহ, ফারীদাহ, ক্বারীনাহ, ক্বারীবাহ, কাবীরাহ, কাছিত্বাহ, ছামীনাহ, ছা’ইমাহ, ছালিহাহ, ছুফিয়্যাহ, সাইয়্যিদাতুন নিসা, তাওশিয়াহ, তাকরীমাহ, তাক্বিয়্যাহ, তাযকিয়্যাহ, জাকিয়্যাহ, নাজিয়াহ, উম্মুল ওয়ারা, আফদ্বালুন নিসা বা’দাল উম্মাহাতিল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদা, আলিমা, জামিলা, কামিলা, আরিফা, আবিদা, ফারীহা, নূরে হাবীবা, হাদীয়াতুল মাদানী, হাদীয়ে মাদারযাদ, ওলীয়ে মাদারযাদ, ক্বায়িম-মক্বামে ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম, ক্বায়িম-মাক্বামে সাইয়্যিদাতুন নিসা ফিল জান্নাহ, বাশীরা, নাজীরা, শাহিদা, মুবাশিশরা, আশ্শাবীহাতু বিল মুজাদ্দিদে আ’যম, আয্যাহরা, মালিকায়ে নিয়াম, ছহিবাতুন নিয়াম, মালিকায়ে আ’যম, মালিকায়ে আলম, ছহিবে গাফফার, হুমায়রা, ছিদ্দীক্বা, হাবীবাতুল্লাহ, নূরে মদীনা, গুলে মুবীনা, নাছীরা, মানছুরা, গালিবা, আফীফা, ছহিবে নূর, উম্মুল খইরা, মুনিরা, শরীফা, বাহরুল আলীমা, জামিউল মাক্বাম, হাদীয়ে জাহান, কুররতু আইনি মুর্শিদুনা আলাইহিস সালাম, মুখলিছা, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, ক্বায়িম-মাক্বামে উম্মে কুলসুম আলাইহাস সালাম, ছাহিবাতুল কুরআন ওয়াল হাদীছ, ছহিবে যিকির, আফযালুন নিসা, মাখযানুল মারিফা, রাহনুমায়ে দ্বীন, মাজীদাতুন নিসা, হামীদাতুন নিসা, বাহরুল উলুম, ছহিবাতুল হিকাম, আওলাদে রসূল, নিবরাসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ছানী ক্বিবলা আলাইহাস সালাম তিনি উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার ‘হুমায়রা’ ও ‘ছিদ্দীক্বা’ লক্বব মুবারক উনার হুবহু মিছদাক:

হযরত আহলে বাইত শরীফ ও আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামগণ উনাদের খাছ ও অন্যতমা সদস্য সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ছানী ক্বিবলা আলাইহাস সালাম। যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের তরফ থেকে মনোনীত হয়েই তিনি যমীনে আগমন করেছেন। আমাদের একটা জিনিস মনে রাখতে হবে, তা হলো- হযরত মুজাদ্দিদে কিরাম (আলাইহিমুর রহমাহ) উনারা যেমনিভাবে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের পক্ষ হতে মনোনীত, তদ্রƒপ উনাদের যাঁরা লখতে জিগার পবিত্র আওলাদ উনারাও মনোনীত। এছাড়া যাঁরা আহলে বাইত শরীফ ও আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা আরো খাছভাবে খালিক্ব, মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের পক্ষ হতে মনোনীত তা বলার অপেক্ষা রাখে না। উনাদের পবিত্রতা, খুছুছিয়ত, ফযীলত, ছানা-ছিফত বর্ণনা করা, উনাদের প্রতি সুধারণা পোষণ করা, মুহব্বত করা, তা’যীম-তাকরীম করা ইত্যাদি বিষয়গুলো পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে বর্ণিত রয়েছে।
কাজেই উম্মুল ওয়ারা সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ক্বিবলা আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন- যামানার মহান মুজাদ্দিদ ও ইমাম, যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, মুজাদ্দিদে আ’যম ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার লখতে জিগার, ছানী আওলাদ, ক্বায়িম-মাক্বামে উম্মুল মু’মিনীন হুমায়রা সাইয়্যিদাতুনা হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ! উম্মুল ওয়ারা সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ছানী ক্বিবলা আলাইহাস সালাম তিনি এমনিতেই উম্মুল মু’মিনীন হুমায়রা সাইয়্যিদাতুনা হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার ক্বায়িম-মাক্বাম নন। যে মহান খুছুছিয়ত বা বৈশিষ্ট্য মুবারক-এর কারণে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি ‘হুমায়রা’ ও ‘ছিদ্দীক্বা’ লক্বব মুবারক-এ ভূষিত হয়েছেন, সে একই খুছুছিয়ত বা বৈশিষ্ট্য মুবারক-এর অধিকারিণী উম্মুল ওয়ারা সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ক্বিবলা আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
কিতাবে বর্ণিত রয়েছে, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি ছিলেন খুব দ্রুত বেড়ে উঠা মেয়েদের একজন। মাত্র নয়-দশ বছর বয়স মুবারক-এ তিনি বেশ বেড়ে উঠেছিলেন এবং অনন্য খুবছূরত ছিলেন। উনার এ পবিত্র খুছুছিয়ত মুবরক-এর কারণে উনাকে ‘হুমায়রা’ বলা হতো। আর এসব গুণ-বৈশিষ্ট্য মুবরক-এর হুবহু মিছদাক হলেন উম্মুল ওয়ারা সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ছানী ক্বিবলা আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
একইভাবে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি যে পিতার কারণে ‘ছিদ্দীক্বা’ ছিলেন, তা নয়। বরং তিনি নিজ বৈশিষ্ট্য-গুণেই ‘ছিদ্দীক্বা’ লক্বব মুবারক-এ ভূষিত। উনার ছিদ্দীক্বা বা সত্যবাদিনী হওয়ার স্বপক্ষে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআনুল কারীম উনার পবিত্র আয়াত শরীফও নাযিল করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
তদ্রƒপ উম্মুল ওয়ারা সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ছানী ক্বিবলা আলাইহাস সালাম তিনি যে ‘ছিদ্দীক্বা’ সে বিষয়ে অনেক বাস্তব ঘটনাই রয়েছে। তার মধ্যে একটি ঘটনা এখানে উল্লেখ করা হলো। ঘটনাটি হলো, এক পীরবোন যিনি অবিবাহিতা থাকাকালে উম্মুল ওয়ারা সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ছানী ক্বিবলা আলাইহাস সালাম এবং পবিত্র আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের কিছু খিদমত করার সুযোগ পেয়েছিলেন। খাদিমা হওয়ার সুবাদে উনাদের সাথে ওই পীরবোন কুড়িগ্রাম জেলা শহরে এক ‘বিশেষ সফরে’ যান। সেখানে স্মৃতি হোটেলে সাইয়্যিদাতুন নিসা, হাবীবাতুল্লাহ হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার মুবারক তা’লীমী মজলিসের ব্যবস্থা করা হয়। সেই তা’লীম ও ছোহবত মুবারক গ্রহণের জন্য অনেকের মতো স্থানীয় এক পীরবোন গিয়েছিলেন, যাঁর বড়ভাই খোদ দরবার শরীফ-এ খিদমতে নিয়োজিত। ছোহবত ও তা’লীম শেষে স্থানীয় ওই পীরবোন ছফরসঙ্গী খাদিমা পীরবোনের সাথে কথা বলছিলেন। সেটা প্রত্যক্ষ করে উম্মুল ওয়ারা হযরত শাহযাদী ছানী ক্বিবলা আলাইহাস সালাম তিনি তখন খাদিমা পীরবোনকে বলেছিলেন, “বেশি খাতির জমায়ে কথা বলিও না, পরে আবার ভাইয়ের বউ করিয়ে নিবে।” উনার এ কথা মুবারক তিনি অনেক পূর্বে বলেছিলেন। কিন্তু অনেক বছর পর সে কথা মুবারক বাস্তবে পরিণত হয়ে যায়। যাঁরা ‘ছিদ্দীক্বা’ ত্ববকার অধিকারী উনাদের সমস্ত কথা মুবারক-ই অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবে পারণত হয়ে যায়, এটা তার নগণ্য দৃষ্টান্ত মাত্র। সুবহানাল্লাহ!

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে