শা’বান মাসের চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রাতটিই হচ্ছে বরকতপূর্ণ রাত অর্থাৎ শবে- বরাতের রাত


শা’বান মাসের চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রাতটিই হচ্ছে বরকতপূর্ণ রাত অর্থাৎ শবে- বরাতের রাত যেই রাতটিতে মহান আল্লাহ পাক উনার দরবারে আমলনামা পেশ করা হয় এবং বান্দার রুযী-রোযগার, হায়াত-মউত ইত্যাদি বহু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ফায়ছালা করা হয়। যেমন এ প্রসঙ্গে সূরা দুখান-এর ৪নং আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “এটি এমন এক রাত, যে রাতে সমস্ত প্রজ্ঞাসম্পন্ন বিষয়ের ফায়ছালা করা হয়।”
এ আয়াত শরীফ-এর ব্যাখ্যায় হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ মুবরক হয়েছে, “এ রাতে কতজন সন্তান জন্মগ্রহণ করবে, কতজন মৃত্যুবরণ করবে তার ফায়ছালা করা হয়। এছাড়া বান্দার আমল আল্লাহ পাক উনার নিকট পেশ করা হয় এবং বান্দার রিযিকের ফায়ছালা করা হয়।” (বায়হাকী, মিশকাত)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, “যখন শা’বান মাসের ১৫ই তারিখ উপস্থিত হয় তখন ওই রাতে তোমরা সজাগ থেকে ইবাদত-বন্দেগী করো এবং দিনে রোযা রাখো। কারণ ওই দিন আল্লাহ পাক তিনি সূর্যাস্তের পর থেকে পৃথিবীর আসমানে অবতরণ করেন অর্থাৎ রহমতে খাছ নাযিল করে ঘোষণা করতে থাকেন, কেউ ক্ষমাপ্রার্থী আছ কি? আমি তাকে ক্ষমা করে দিব। কেউ রিযিক প্রার্থনাকারী আছ কি? আমি তাকে রিযিক প্রদান করবো। কেউ বিপদগ্রস্ত আছ কি? আমি তার বিপদ দূর করে দিব। কেউ তওবাকারী রয়েছ, তার তওবা কবুল করবো। কোনো প্রার্থনাকারী আছ যার প্রার্থিত বিষয় দিয়ে দিব। এভাবে ফজরের পূর্ব পর্যন্ত মহান আল্লাহ পাক তিনি ঘোষণা দিতে থাকেন।” সুবহানাল্লাহ!
কাজেই, প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ মহিলা, জিন-ইনসানের কর্তব্য হলো, “লাইলাতুম মুবারাকাহ, লাইলাতুন নিছফি মিং শা’বান, অর্থাৎ শবে- বরাতের রাতটিতে সজাগ থেকে ইবাদত-বন্দেগী করা, জীবনের গুনাহখতার জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করা, তওবা ইসতিগফার করা এবং যার যা নেক দোয়া ও নেক মকছূদ রয়েছে তা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ওসীলায় খালিক্ব, মালিক, রব আল্লাহ পাক সুবহানাহূ ওয়া তায়ালা উনার নিকট পরিপূর্ণ ইয়াক্বীনের সাথে আরজু করা।

Ahmad Rahma Khan's photo.
Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে