শাসক ও মুসলমান জনগণের প্রতি নছীহত ……।


হযরত কাব ইবনে উজরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, একদা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, আমি তোমাকে অসৎ নির্বোধ শাসকদের নেতৃত্ব হতে আল্লাহ পাক উনার হিফাজতে দিলাম। তিনি বললেন, তা কিরূপে হবে ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! তিনি বলেন, অচিরেই আমার পরে তাদের আবির্ভাব ঘটবে। যেই ব্যক্তি তাদের কাছে যাবে, তাদের মিথ্যাকে সত্য বলে বিশ্বাস করবে এবং তাদের অন্যায় কাজ কর্মে সাহায্য-সহযোগিতা করবে। আমার সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই এবং তাদের সাথে আমারও কোনো সম্পর্ক নেই। অবশেষে তারা হাউজে কাউছারে আমার কাছে আসতেও পারবে না, বস্তুত যারা তাদের কাছে যাবে না, তাদের মিথ্যাকে সত্য বলে বিশ্বাস করবে না এবং তাদের অন্যায় কাজে সহযোগিতাও করবে না, সেই সমস্ত লোকেরা হবে আমার দলভুক্ত এবং আমিও হবো তাদের দলভুক্ত। এরাই হাউজে কাউছারে আমার সাথে মিলিত হবো। (তিরমিযী শরীফ, নাসায়ী শরীফ)
বর্তমানে এই হাদীছ শরীফ-এর ভাষ্য সুস্পষ্ট, অসৎ ও যালিম শাসকদের কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ বিরোধী আইন; নিয়ম-নীতিকে আগ্রহভরে গ্রহণ করা এবং সেটাকে ফলাও করে প্রকাশ করাকে নিজের স্বার্থ সিদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। এসব শাসক এবং তাদের সমর্থকরা কেউই জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। সে কথাই হাদীছ শরীফ-এ ব্যক্ত হয়েছে যে, তারা হাউজে কাওছারে আমার কাছে আসতেও পারবে না। নাঊযুবিল্লাহ।
হযরত উম্মু সালামা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, অচিরেই তোমাদের উপর এমন সব শাসক নিযুক্ত করা হবে, যারা ভালো মন্দ উভয় প্রকারের কাজ করবে। সুতরাং যে ব্যক্তি তার মন্দ কাজের প্রতিবাদ করলো অর্থাৎ তাকে বলে দিলো যে, তোমার এই কাজ শরীয়ত বিরোধী সেই ব্যক্তি তার দায়িত্ব হতে মুক্ত হয়ে গেলো। আর যে ব্যক্তি মনে মনে উক্ত কাজটিকে খারাপ জানলো সে ব্যক্তি নিরাপদে রইলো অর্থাৎ গুনাহ থেকে বেঁচে রইলো। কিন্তু যেই ব্যক্তি উক্ত কাজের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করলো এবং উক্ত শাসকের সেই কাজে আনুগত্য করলো, সেই ব্যক্তি গুনাহের মধ্যে তার সাথে শরীক হয়ে গেলো। তখন ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এমতাবস্থায় আমরা কি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবো না? তিনি বললেন- না, যে যাবৎ তারা নামায পড়ে। আবার বললেন- না, যে যাবত তারা নামায পড়ে।
মূলকথা হলো- কোনো মুসলমান শাসক যদি শরীয়তবিরোধী কোনো কাজ করে সেক্ষেত্রে মুসলমান জনগণের দায়িত্ব হলো উক্ত শাসককে সতর্ক করা। সতর্ক করা সম্ভব না হলে উক্ত শরীয়তবিরোধী কাজকে খারাপ জেনে তা থেকে দূরে থাকা। কিন্তু কোনো মতেই তার শরীয়তবিরোধী কাজের সমর্থন করা ও আনুগত্য বা পালন করা যাবে না। অন্যথায় শাসকের মতোই তাকেও কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে।

Views All Time
2
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+