সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দু:খিত। ব্লগের উন্নয়নের কাজ চলছে। অতিশীঘ্রই আমরা নতুনভাবে ব্লগকে উপস্থাপন করবো। ইনশাআল্লাহ।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংস্কৃতি চর্চার নামে হারাম কার্যক্রম হিতে বিপরীত হবে


শিক্ষার্থীদেরকে সন্ত্রাসবাদ বিমুখ করার লক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (হারাম) সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বাড়ানো হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে সরকার। কিন্তু সরকারের এই সিদ্ধান্ত প্রকৃতপক্ষে বাস্তবসম্মত নয়, বরং বাস্তবতার নীরিখে হওয়া উচিত ছিলো বিপরীত। অর্থাৎ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ দেশের সর্বস্তরে সংস্কৃতির নামে হারাম কর্মকা- তুলে দিয়ে সঠিক দ্বীন ইসলাম শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা উচিত।
বাস্তবতার আলোকে আমরা দেখতে পাই, সাম্প্রতিক হামলাগুলোর সাথে যারা জড়িত তারা প্রত্যেকেই উচ্চবিলাসী, সংস্কৃতমনা এবং সংস্কৃতির নামে হারাম পরিবেশের মধ্য দিয়েই বেড়ে উঠা। যেমন- গুলশানে সন্ত্রাসী হামলায় জড়িত তাহমিদ খান গান-বাজনা, নাটক ইত্যাদি সংষ্কৃতি চর্চার মধ্যেই বেড়ে উঠা ছেলে। এই তাহমিদ খান কিন্তু কোনো মাদরাসার ছাত্র নয়। সে নাচ-গান, খেলাধুলা, হারাম অনুষ্ঠান আয়োজনে অংশগ্রহণ, কথিত সংস্কৃতির এমন কোনো হারাম পর্ব নেই, যেখানে তার পদচারণা ছিলো না। কিন্তু তারপরও তাহমিদ কেন সন্ত্রাসবাদে জড়ালো? এছাড়া বাংলাদেশে আইএস আছে প্রমাণ করতে যে ভিডিওটি গুলশান হামলার পরপর অনলাইনে প্রচারণা হয়, সেখানে তিন জনের মধ্যে একজন ছিলো তাহমিদ রহমান সাফি। এই সন্ত্রাসী তাহমিদ রহমান সাফি ছিলো সঙ্গীতশিল্পী। ক্লোজআপ ওয়ান তারকা হিসেবেও সে পরিচিত। সে ছিলো রবীন্দ্র চেতনায় উজ্জীবিত। রবীন্দ্রসঙ্গীত নিয়ে পিএইচডি করারও ইচ্ছা ছিলো তার। অথচ এমন সংস্কৃতিবান ও রবীন্দ্রচর্চাকারীই মধ্যপ্রাচ্যে গিয়ে আইএস-এ যোগ দিয়েছে এবং বাংলাদেশে হামলার হুমকি দিয়েছে।
পাশপাশি গুলশানে হামলাকারী নিহত সন্ত্রাসী নিবরাস ইসলামও সংস্কৃতিমনা ছিলো। সে ভারতীয় নায়িকার সাথে নাচানাচি করতো অর্থাৎ ভারতীয় সংস্কৃতি পালনে প্রথম কাতারে ছিলো। সেও সন্ত্রাসবাদে পা বাড়ালো। এর দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয়, কথিত সংস্কৃতি চর্চার দ্বারা তরুণ প্রজন্মকে কখনোই সন্ত্রাসবাদ বিমুখ করা যাবে না বরং সন্ত্রাসবাদের দিকেই ধাবিত করা হবে। কারণ হারাম থেকে ভালা কিছু বের হয় না, হারাম থেকে হারামই বের হয়। এছাড়া প্রকৃত দ্বীনিশিক্ষার যেখানে অভাব হয়, সেখানেই সাম্রাজ্যবাদীরা সন্ত্রাসবাদের বিষ মিশ্রণ করার সুযোগ পায়।
তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কথিত সংষ্কৃতি চর্চার নামে হারাম কর্মকান্ড বৃদ্ধি না করে, বরং এসব সংস্কৃতিচর্চার দিকে বিমুখ করে দ্বীনি চর্চা বৃদ্ধি করতে হবে। সিলেবাসগুলোকে ইসলামীকীকরণ করতে হবে। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রকৃত দ্বীন শিক্ষার আয়োজন ও ব্যবস্থাপনা বাধ্যতামূলক করতে হবে।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে