শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ষড়যন্ত্র


এসএসসি পরীক্ষা আসার আগে শিক্ষামন্ত্রীর নতুন নিয়ম :

১) পরীক্ষার হলে ৩০ মিনিট আগে প্রবেশ করতে হবে, নয়ত অনুপস্থিত দেখানো হবে।

২) পরীক্ষা শুরুর তিন দিন আগে থেকে কোচিং সেন্টার বন্ধ ।

৩) প্রশ্নপত্র ফাঁস হলে পরীক্ষা বাতিল, প্রয়োজনে ১০ বার বাতিল হবে ।

৪) অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হবে ।

৫) ফেসবুক বন্ধ করা হবে ।

শিক্ষামন্ত্রী এ বছর প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে এ পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করছে। এগুলো যে পজিটিভ হবে বিষয়টা সেরকম না, সে পরীক্ষামূলক হিসেবে এ পদক্ষেপগুলো নিয়েছে।

আমি অনেক আগে থেকে একটা কথা বলেছি, শিক্ষামন্ত্রী সকল শিক্ষার্থীদের গিনিপিগ বানিয়েছে, আর তার নানা ধরনের এক্সপেরিমেন্ট ছাত্র-ছাত্রীদের উপর প্রয়োগ করেছে। কিন্তু কোনটাই যে সফল হয়নি তা বর্তমানে শিক্ষাক্ষেত্রে বাংলাদেশের বেহাল দশা বলে দেয়। (২৭শে এপ্রিল, ২০১৭ তারিখে দৈনিক যুগান্তরে খবরের হেডিং- “শিক্ষার্থীদের গিনিপিগ বানানো অব্যাহত : শিক্ষা ব্যবস্থায় ফের নতুন পদ্ধতি” )

মজার ব্যাপার হচ্ছে, নাহিদ শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে আছে ৯ বছর আর বাংলাদেশেও স্বাধীনতাপ্রাপ্ত হয়েছে ৪৭ বছর। এখন কিন্তু মোটেও পরিবেশটা এক্সপেরিমেন্ট করার নয়, বরং আগেরটাকে এগিয়ে নেয়া। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রী সেটা না করে, নতুন নতুন পদ্ধতি এনে ছাত্র-ছাত্রীদের লেজে-গবরে অবস্থা করে তুলেছে।

আমি আগে একটা কথা বহুবার বলেছি, শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ হচ্ছে বিদেশী এজেন্ট, যে আমেরিকা ও ভারত (বিজেপি) জোটের স্বার্থ উদ্ধার করছে। এ কারণে পরপর দুইবার তাকে ইউনেস্কো থেকে পুরস্কৃতি করা হয়েছে এবং একবার ভারত থেকে পুরষ্কার দেয়া হয়েছে।
(http://bit.ly/2n9zNRe)

আসলে আন্তর্জাতিক সম্রাজ্যবাদীদের বাংলাদেশ নিয়ে একটা প্ল্যান আছে। বলতে পারেন এটা আমেরিকার ‘পিভট টু এশিয়া’ এবং ভারতের ‘লুক ইস্ট পলিসি’র সমন্বিত রূপ। এ দুই পলিসির আন্ডারে বাংলাদেশের পুরোপুরি কর্তৃত্ব নিতে চাইবে আমেরিকা ও ভারতের সমন্বিত জোট। কিন্তু সেই কর্তৃত্ব দীর্ঘ মেয়াদে প্রতিষ্ঠা করার জন্য প্রয়োজন বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ভেঙ্গে দেয়া। কারণ শিক্ষা ব্যবস্থা ভালো থাকলে সমঝদার প্রজন্ম আসতে থাকবে, যারা তাদের সম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াবে। তাই সেটা হতে দেয়া যাবে না। ব্রিটিশরা এ অঞ্চলে ক্ষমতা দখলের পর সর্বপ্রথম ৮০ হাজার মক্তব বন্ধ করেছিলো এবং ফার্সীভাষা ভিত্তিক স্বয়ংসম্পূর্ণ শিক্ষা ব্যবস্থা তুলে তাদের বানানো শিক্ষা সিস্টেম চালু করেছিলো। পুরো প্রজেক্ট করতে তাদের ১০০ বছরের বেশি সময় লাগে, কিন্তু এর মাধ্যমে তারা পুরো জাতির মন-মগজ পাল্টে গোলামির বন্ধনে আবদ্ধ করতে সক্ষম হয়। বিষয়টা এমন, এখনও আমরা ব্রিটিশ চিন্তা-চেতনা থেকে বের হতে পারিনি। এখনও বাংলাদেশের শিক্ষা, আইন-বিচার ও অর্থনীতি ব্রিটিশ সিস্টেম ফলো করে।

ব্রিটিশরা ক্ষমতা দখলের পর যে কাজটি করেছিলো, এখন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ একই কাজ করে আমেরিকা-ভারতের সম্রাজ্যবাদ বাংলাদেশে দৃঢ় করতে কাজ করছে। ইতিহাস ফিরে আসে বার বার, কেউ বুঝতে পারে, কেউ বুঝতে পারে না।

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে