শিরক থেকে বাঁচার জন্য ক্বলবী যিকিরের বিকল্প নেই


একলোকের সাথে তার স্ত্রীর তুমুল কথা কাটাকাটি চলছে। বিষয় হল, স্বামীর আরেকটি বিয়ে করার ইচ্ছা। স্ত্রী স্বামীকে বলল যে, তার যেকোন শর্তই সে মেনে নিতে পারবে, কিন্তু দ্বিতীয় বিয়ে মানতে পারবে না। তাদের প্রতিবেশী ছিলেন হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি। উনার হুজরা শরীফ থেকে স্বামী-স্ত্রীর এই তর্কবিতর্ক শোনা যাচ্ছিল। তিনি ফিকির করলেন যে, শরীক কেউই পছন্দ করে না। কোন মহিলা ঘরের কর্ত্রী। সে সতীনের আগমন পছন্দ করে না, কারণ এতে তার কর্তৃত্বের মধ্যে ভাগীদার চলে আসবে। এখন চিন্তা করতে হবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি সারা জাহানের মালিক। তাহলে উনার ইবাদতের মধ্যে বান্দা কাউকে শরীক করলে তিনি কিভাবে তা সহ্য করবেন?
 
হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “দুটি জিনিস ওয়াজিব হয়ে গেল।” তখন একজন হযরত সাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু আরজ মুবারক করলেন, “ইয়া রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! কি ওয়াজিব হয়ে গেল?” হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, “যে ব্যক্তি শিরক করা ব্যতীত মৃত্যুবরণ করল, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে গেল। আর যে শিরক করে মারা গেল, তার জন্য জাহান্নাম ওয়াজিব হয়ে গেল।”
 
শুধুমাত্র মূর্তিপূজা করলেই শিরক হয়না। নফসের অনুসরণ করাও শিরক। কেননা এতে মহান আল্লাহ পাক উনার আদেশ নিষেধ মুবারকের উপরে নিজের খেয়াল খুশিকে প্রাধান্য দেয়া হয়। একইভাবে মানুষের যত বদ খাছলত রয়েছে, যেমন অহংকার, হিংসা, রিয়া ইত্যাদিও শিরকের পর্যায়ে পড়ে। তাই জাহান্নাম থেকে বাঁচতে হলে মানুষের জন্য ফরয ওয়াজিব হল নিজ নফসকে কন্ট্রোল করা, নিজ বদ খাছলতগুলোকে দূর করা। আর এটা সম্ভব একমাত্র ক্বলবী যিকিরের মাধ্যমে। হাদীস শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “প্রতিটি বস্তু পরিস্কার করার অস্ত্র আছে। আর ক্বলব বা অন্তর পরিস্কার করার অস্ত্র হচ্ছে মহান আল্লাহ্ তায়ালা উনার যিকির।” (বুখারী শরীফ)
Views All Time
2
Views Today
4
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে