শিশুরাও অপসংস্কৃতির আগ্রাসনের শিকার!


স্যাটেলাইট টিভি, ইন্টারনেট ইত্যাদির মাধ্যমে বিজাতি-বিধর্মীদের অপসংস্কৃতি মহামারি রূপে ছড়িয়ে পড়ছে। এর দ্বারা মুসলিম তাহযীব-তামাদ্দুন আস্তে আস্তে ভুলে যাচ্ছে এদেশের জনসাধারণ। এই অপসংস্কৃতি সবচেয়ে বেশি বদ-তাছীর করছে শিশুতোষ মেধা ও মননে। এ ব্যাপারে আমি একটি বাস্তব ঘটনা বর্ণনা করছি;
আমি এক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত; ফলে প্রাতিষ্ঠানিক কাজে মাঝে মাঝে আমাকে শিশুদের দেখা-শোনা করতে হয়। তো একদিন ৭/৮ বছরের এক ফুটফুটে বাচ্চা ছেলে খুব কোলাহল করছিলো, তাই তাকে শাসন করলাম। সে আমার কথা শুনে শান্ত হয়ে আমার পাশে বসে পড়লো। তার এই হঠাৎ কোলাহল এবং হঠাৎ শান্ত হওয়ার কায়দাটি আমার খুব ভালো লাগলো। স্নেহের কারণে আমি আনমনে তাকে বলে ফেললাম- “আগার তেরে জ্যায়ছা মেরে এক বাচ্চা হোতে; তো মেরে যিনদাগী বাদাল যাতে।”
এটা শুনে সে মিটিমিটি হাসতে লাগলো। আমার ধারণা ছিলো, এতো ছোট বাচ্চা উর্দূ বা হিন্দী বোঝে না। কিন্তু তার হাসি দেখে আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম- হাসছো কেন? সে মনে হয় একটু লজ্জা পেলো, কিছু বললো না। আমি আবার তাকে একটু জোর তাক্বীদ দিয়ে জিজ্ঞেস করলাম- বাবা! বলো, হাসছো কেন? তুমি কি আমার কথা বুঝতে পেরেছো?
সে আমাকে অবাক করে দিয়ে মাথা নাড়লো। বললাম- কি বলেছি, বাংলায় বলো তো। সে লাজুকভাবে হাসতে হাসতে বললো- ‘আপনি বলেছেন যে, যদি আমার মতো আপনার একটা বাচ্চা থাকতো।’ এবার আমি আরো বেশি অবাক হয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলাম- তুমি এই ভাষা বুঝলে কিভাবে?
কিভাবে শিখেছো? শিশুটি একটু আমতা আমতা করে বললো- হিন্দী ‘ডোরেমন’ কার্টুন দেখে।
সম্মানিত পাঠক! ভেবে দেখুন, কাফির-মুশরিকরা কিভাবে আমাদের শিশুদের মগজ ধোলাই করছে, আর না বুঝে অভিভাবকরাও তাতে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। শিশুরা এই কার্টুন দেখে শুধু ওদের ভাষাই নয়, বরং ওদের বিধর্মীয়ানী কৃষ্টি-কালচার সব কিছুই শিখছে এবং অনুকরণ করছে।
কাজেই, নিজ সন্তানের চূড়ান্ত সর্বনাশ হওয়ার পূর্বেই সবাইকে কাফির-মুশরিকদের সাংস্কৃতিক আগ্রাসন সম্পর্কে সচেতন হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।

Views All Time
2
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে