শিশুর সুন্নতে খতনা নিষিদ্ধ করা হল।


ঢাকা, জুন ২৭ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- ধর্মীয় কারণে শিশুর সুন্নতে খতনা তার ওপর বড় ধরনের নির্যাতন বলে আদেশ দিয়েছে জার্মানির একটি আদালত। জার্মানির কোলন শহরের ওই আদালত মঙ্গলবার বলেছে, সুন্নতে খতনার জন্য শিশুকে চরম দৈহিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। “শারীরিকভাবে অক্ষত থাকার শিশুর যে অধিকার তা বাবা-মায়ের অধিকারকে ছাড়িয়ে যায়। খৎনা বিষয়ে সন্তানের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করলে বাবা-মা সহজেই সন্তানের ওপর তাদের এ ধর্মীয় অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে না।” বুধবার আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এক মুসলিম দম্পতির অনুরোধে তাদের চার বছরের ছেলেকে খৎনা করানো কোলনের এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলার আদেশে এ কথা বলে আদালত। অস্ত্রোপচারের কয়েক দিন পর ওই শিশুর ক্ষতস্থান থেকে বেশি মাত্রায় রক্তপাত শুরু হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তখন ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে চরম দৈহিক ক্ষতি করার অভিযোগ তোলে প্রসিকিউশন। বাবা-মায়ের ইচ্ছায় শিশুকে খৎনা করানোর জন্য ওই চিকিৎসককে নির্দোষ বলে রায় দেয় আদালত। তবে এর মাধ্যমে শিশুর চরম দৈহিক ক্ষতির অভিযোগ বহাল রেখে ‘শিশুর ওপর বাবা-মায়ের ধর্মীয় অধিকার প্রযোগের’ তীব্র বিরোধিতা করা হয় আদালতের ওই আদেশে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বিশ্বে ১৫ বছর কম বয়সী ছেলেদের মধ্যে তিন জনে একজনের লিঙ্গমুখের উপরের অংশের চামড়া কাটা থাকে। মুসলিম ও ইহুদিরা ধর্মীয় কারণে এটা করলেও যুক্তরাষ্ট্রে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি মাথায় রেখে প্রায়ই শিশুকে এ অস্ত্রোপচার করা হয়।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+