শুধু টাকা-পয়সা থাকলেই হজ্জ ফরয হয় না; বরং হজ্জ ফরয হওয়ার জন্য যেমন যাতায়াতের সামর্থ্য থাকা শর্ত, তেমনি শর্ত হচ্ছে জান-মাল, ইজ্জত, ঈমান ও আমলের নিরাপত্তার


অনেকের ধারণা যে, হজ্জে যাওয়া ও ফিরে আসার সামর্থ্য বা টাকা-পয়সা থাকলেই হজ্জ ফরয হয়। এ ধারণা আদৌ শুদ্ধ নয়। বরং হজ্জ ফরয হওয়ার জন্য টাকা-পয়সা থাকার পাশাপাশি আরও একাধিক শর্ত রয়েছে যা অনুপস্থিত থাকলে হজ্জ ফরয হয় না। যেমন হজ্জ ফরয হওয়ার জন্য শর্তসমূহ হচ্ছে- ১. স্বাধীন হওয়া, ২. বালেগ হওয়া, ৩. সুস্থ হওয়া, ৪. দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন হওয়া, ৫. সাংসারিক প্রয়োজনীয় ব্যয়ের পর হজ্জে যাওয়া ও ফিরে আসা পর্যন্ত পরিবারবর্গের ভরণ-পোষণের অতিরিক্ত সম্বল বা পাথেয় থাকা, ৬. যানবাহনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা থাকা, ৭. জীবনের নিরাপত্তা থাকা, ৮. মাল বা সম্পদের নিরাপত্তা থাকা, ৯. ঈমানের নিরাপত্তা থাকা, ১০. আমলের নিরাপত্তা থাকা। আর ১১. মহিলাদের জন্য অতিরিক্ত একটি শর্ত হচ্ছে তার স্বামী অথবা কোনো সচ্চরিত্রবান মাহরাম পুরুষ সঙ্গে থাকা। এ সকল শর্তসমূহের কোনো একটি শর্ত অনুপস্থিত থাকলে হজ্জ ফরয হবে না।

অথচ আজ হজ্জ আদায়ের অন্যতম শর্ত ঈমান ও আমলের নিরাপত্তার বিষয়টিকে উপেক্ষা করেই হাজী ছাহেবরা হজ্জ করে গর্ববোধ করছেন। নাঊযুবিল্লাহ! যেমন হজ্জ করতে গিয়ে তারা ছবি তুলছেন, বেপর্দা হচ্ছেন। নাঊযুবিল্লাহ! অথচ হজ্জ আদায়ের জন্য সর্বপ্রকার হারাম বা কবীরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা ফরয।
যেমন কুরআন শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে-“যে ব্যক্তির প্রতি হজ্জ ফরয সে যেন হজ্জ পালনের ক্ষেত্রে নির্জন অবস্থান ও তার সংশ্লিষ্ট কোনো কাজ না করে এবং কোনো প্রকার ফাসিকী বা নাফরমানিমূলক কাজ না করে এবং ঝগড়া-বিবাদ না করে। আর তোমরা যে নেক কাজ করো তা মহান আল্লাহ পাক তিনি জানেন। তোমরা পাথেয় সংগ্রহ কর। নিশ্চয়ই উত্তম পাথেয় হচ্ছে তাক্বওয়া।” (সূরা বাক্বারা : আয়াত শরীফ ১৯৭)
বলার অপেক্ষা রাখে না, ছবি তোলা ও বেপর্দা হওয়া চরম ফাসিকী কাজ এবং কঠিন হারাম, কবীরা ও কুফরী গুনাহের অন্তর্ভুক্ত।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে