শুধু প্রাণহানির আশঙ্কা আর অবৈধ বিলবোর্ডই মুখ্য নয়; আমলে নিতে হবে বিলবোর্ডে চিত্রিত বিবস্ত্র দেহকেও তথা হারাম ছবি এবং বেপর্দাকেও



গতকাল দৈনিক আল ইহসানে ফার্স্ট লীড নিউজ হয়েছে, “সুন্দরী নারীদের বিলবোর্ড সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। এ স্বীকারোক্তি খোদ সরকারদলীয় প্রভাবশালী যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের।” গত পরশু মঙ্গলবার তিনি বলেন, “ডিজিটাল বিলবোর্ডের কারণে অনেক সময় চালকদের দৃষ্টিভ্রম হয়।” তিনি আরো বলেন “বিভিন্ন পণ্যের বিলবোর্ডে সুন্দরী নারীদের ছবি দেয়া হচ্ছে। তারাও (গাড়িচালক) তো মানুষ। রাস্তা দিয়ে চলার সময় চালকদের সেদিকে নজর যাচ্ছে। ফলে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে।”
উল্লেখ্য, নারীর প্রতি নজরদানের কুফল সম্পর্কে একমাত্র পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মাঝেই স্বীকৃত। পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে পবিত্র সূরা নূর শরীফ, পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ, পবিত্র সূরা মায়েদা শরীফ, পবিত্র সূরা নিসা শরীফ উনাদের মধ্যে নারীদেরকে পরপুরুষের নজর থেকে আত্মরক্ষার জন্য পর্দার কথা বলা হয়েছে।
পবিত্র সূরা নূর শরীফ উনার মধ্যে বলা হয়েছে, “মহিলারা যাতে তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে।”
এ বিষয়ে পবিত্র হাদীছ শরীফ রয়েছে বিস্তর। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, হযরত হাসান বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মুরসাল রূপে বর্ণনা করেন (হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের হতে) আমার নিকট বিশ্বস্ত সূত্রে পৌঁছেছে যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি লা’নত করেন (ইচ্ছাকৃত) দৃষ্টিকারী এবং যে (ইচ্ছাকৃতভাবে) দৃষ্টিতে পতিত হয় তার প্রতি।” (বায়হাকী শরীফ, শোয়াবুল ঈমান)

প্রসঙ্গত বিলবোর্ড উচ্ছেদের ক্ষেত্রে সরকারের কাছে যে বিষয়গুলো প্রাধান্য পায়; তাহলো দুর্ঘটনায় মৃত্যু। নগরীর শোভায় বিঘœ ঘটা এবং নির্দিষ্ট হারে কর না দেয়ার কারণে অবৈধ হওয়া।
কিন্তু সরকারের নীতি নির্ধারক মহল অথবা খোদ হাইকোর্টের কাছে একটা বিষয় এখনো আসেনি; সেটা হলো- মারাত্মক অশ্লীলতা। তথা প্রায় বিবস্ত্র বিলবোর্ড। (নাঊযুবিল্লাহ)
বলাবাহুল্য, মানুষ স্পর্শকাতর জীব। বিলবোর্ডে যেভাবে বিবস্ত্র নারীর উত্তেজক ভঙ্গিমা চিত্রায়িত থাকে, তা দেখে তাদেরকে মনস্তাত্ত্বিকভাবে ভোগ করে প্রতিটি সাধারণ মানুষ। এ মনস্তাত্ত্বিক ভোগবাদী প্রবণতা অবশেষে তাকে পরিণত করে পশুবৎ ধর্ষকে। আর তা না পারলেও নিদেনপক্ষে নারী টিজিংয়ে।
বলাবাহুল্য, প্রায় বিবস্ত্র ও অশ্লীল নারী ভঙ্গিমার এসব বিলবোর্ডগুলো নারী অধিকারও চরমভাবে ব্যহত করছে। কারণ, মনস্তাত্ত্বিকভাবে বিলবোর্ডের চিত্রায়িত নারীদেহকে ভোগকারী পুরুষের মানসে থাকে ওইসব কথিত সুন্দরী।
কিন্তু বাস্তবে অপেক্ষাকৃত কম সুন্দরী স্ত্রীকে কাছে পেয়ে তখন অতৃপ্ত হয় পুরুষ মন। তৈরি হয় অপছন্দ। তৈরি অনাগ্রহ। সব সময় উন্মুখ প্রবণতা তৈরি হয় বিলবোর্ডে দর্শিত অনুরূপ কোনো সুন্দরী নারীর সান্নিধ্য লাভের।
সবমিলিয়ে তৈরি হয় অবৈধ প্রবণতা তথা চরিত্রহীনতা। পরিণামে ঘরের স্ত্রী হয় লাঞ্ছিত, পদদলিত এবং বঞ্চিত। লঙ্ঘিত হয় নারী অধিকার। সমাজে তৈরি হয় অপরাধ বলয়। সমাজ হারায় ভারসাম্য। তৈরি হয় পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার বৈরী পরিবেশ। মুসলমান হারায় তার পবিত্র দ্বীন ইসলামী অনুভূতি, আবেগ, ধর্মীয় ভাবাবেগ। প্রাধান্য লাভ করে, বিজাতীয় সংস্কৃতি। স্বদেশ মুহব্বত যায় উবে। ঊর্বরভূমি তৈরি হয় সাম্রাজ্যবাদীদের জন্য। দেশের স্বাধীনতা হয় বিপন্নের মুখোমুখি।
সঙ্গতকারণেই বিলবোর্ডের নিকটবর্তী ক্ষতিকর দিকটিই কেবল আমলে না নিয়ে দূরবর্তী এবং সর্বব্যাপী ক্ষতিকর দিকগুলোও হাইকোর্টকে তথা সরকারকে যথাযথ আমলে নিতে হবে।
প্রসঙ্গত একথা ঠিক যে, সরকারের এ অবিমৃষ্যকারিতা তথা বিপথগামিতার জন্য মূলত নামধারী ধর্মব্যবসায়ী মৌলানারাই দায়ী। ছবি তোলার বিরুদ্ধে যেখানে তাদের সরব হওয়া কর্তব্য ছিল, সেখানে তারা ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে ছবির পক্ষে সরকারকে প্ররোচিত করেছে। নাঊযুবিল্লাহ!
অথচ তাদের সবার পুস্তকে, যবানীতেও ছবি তোলার বিরুদ্ধে রয়ে গেছে। কিন্তু ধর্মব্যবসার স্বার্থেই তারা এখন ছবির পক্ষে বলছে।
কাজেই সরকারের মনে রাখা কর্তব্য যে, এসব স্ববিরোধী, ধর্ম-বিরোধী, ধর্মব্যবসায়ীদের বক্তব্য ও আমল ধর্মের প্রকৃত পরিচয় পেশ, প্রতিভাত ও প্রমাণিত করে না। তারা ধর্ম ও ধর্মপ্রাণদের আদৌ প্রতিনিধিত্ব করে না। রাজনৈতিক দলের লেজুরবৃত্তি ছাড়া তাদের জামানতই সব সময়ই বাজেয়াপ্ত হয়।

 

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে