সংখ্যালঘুদের চেয়ে সংখ্যাগুরু মুসলিমরাই বেশি বঞ্চনার শিকার


স্বাভাবিক নিয়মেতো বটেই কথিত গণতান্ত্রিক নিয়মেও সংখ্যাগরিষ্ঠদের প্রাধান্য দেয়াই নিয়ম। সে হিসেবে বাংলাদেশের মুসলমানরাই দেশের সমস্ত ক্ষেত্রে প্রাধান্য পাবে এটাই ছিলো স্বাভাবিক। কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা কি সেটা প্রকাশ করে? না, বাস্তবতা কিন্তু তার বিপরীত।
কারণ এখনো এদেশের কোটি কোটি মুসলমান তথা মোট জনসংখ্যার ৯৮ ভাগ মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ২ ঈদের ছুটি মাত্র ৩ দিন করে দেয়া হয়। পবিত্র ১২ রবিউল আউওয়াল, ১০ মুহররমসহ অনেক অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ দিনসমূহে শুধুমাত্র ১ দিন ছুটি দেয়া হয়। আবার এমন অনেকগুলো বিশেষ দিন আছে যেগুলোতে কোনোই ছুটির ব্যবস্থা নেই। অথচ সংখ্যলঘুরা যারা সংখ্যায় ১.৫ ভাগের কম তাদের বিভিন্ন পূজা-পার্বণের ছুটি মুসলমানদের ছুটির অনুপাতে অনেক বেশি। অফিসের ২-১ জন লোক, স্কুল-কলেজের ২-১টি ছাত্রের জন্য পুরো প্রতিষ্ঠানকে ছুটি দেয়া কখনোই বুুদ্ধিমানের কাজ নয়।
মুসলিমদের কুরবানীর ঈদে সরকারিভাবে কোনো কুরবানীর ব্যবস্থা করা হয় না। অথচ দেশে বহু মুসলিম পরিবার আছে যাদের কুরবানী দেয়ার সামর্থ্য নেই। বিপরীতে সরকার ঠিকই কিন্তু সংখ্যালঘুদের পূজা-পার্বণে চাল-ডালসহ বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে থাকে।
আরো একটি আশ্চর্য বিষয় হলো- এদেশে হাজার হাজার মুসলিম যুবকরা বেকার বা উপযুক্ত চাকরি থেকে বঞ্চিত হয়ে কষ্টকর জীবনযাপন করছে। আবার অনেক মেধাবী মুসলিমরা যোগ্যতা থাকার পরও পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এর বড় একটি কারণ হলো- সংখ্যালঘু কোটা ও সংখ্যালঘুদের প্রতি সরকারের অতি দরদ। যে কারণে দেখা যায়, বাংলাদেশ মুসলিম অধ্যুষিত হওয়ার পরও, এদেশের জনসংখ্যা ৯৮ ভাগ হওয়ার পরও এদেশের বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তাপদে বসে আছে সংখ্যালঘুরা। জাতগত ও বংশগত কারনে তাদের যথাযথ যোগ্যতা ও মেধা না থাকার পরও তাদেরকে ওইসব পদে বসিয়ে রাখা হয়েছে। যে কারণে যেমনিভাবে প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনিভাবে দুর্নীতিও সেগুলোকে গ্রাস করছে।
বাংলাদেশের সরকার নাকি গণতান্ত্রিক! তাহলে গণতন্ত্রেরই ‘সংখ্যাগরিষ্ঠ নীতি’ কেনো এখানে প্রতিষ্ঠিত নেই? এটা দেশের বৈষম্যের শিকার বঞ্চিত মুসলমানদেরই প্রশ্ন।

Views All Time
2
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে