সউদী প্রিন্সের বিরুদ্ধে মাদক চোরাচালানের মামলা দায়ের করেছে লেবানন


লেবাননে আটক সউদী রাজপুত্র আবদুল মুহসেন বিন ওয়ালিদ বিন আবদুল আজিজ আল সউদ এবং আরো ৯ ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে মাদক চোরাচালানের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। খবর- আল-জাজিরা’র।
গত ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) লেবাননের বিচার বিভাগের একটি সূত্র জানায়, ‘দশ ব্যক্তি, যাদের মধ্যে এক সউদী রাজপুত্রসহ পাঁচ সউদী নাগরিক রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কেপ্টাগন নামক মাদকদ্রব্য চোরাচালানের অভিযোগ আনা হয়েছে।’
গত ২৭ অক্টোবর-২০১৫ লেবাননের রাজধানী বৈরুতের রফিক হারিরি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে সউদী রাজপুত্রের ব্যক্তিগত বিমান থেকে দুই টন মাদকদ্রব্য উদ্ধার করে লেবানন পুলিশ। বিমানটি থেকে ২৪টি ব্যাগ ও ৮টি স্যুটকেস উদ্ধার করে নিরাপত্তাকর্মীরা, যার প্রতিটি ছিল মাদকদ্রব্য কেপ্টাগনে ভর্তি। বিমানটির পরবর্তী গন্তব্য ছিল সউদী আরব। এর আগে ২০১৪ সালের এপ্রিল মাসে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী বৈরুত বন্দর থেকে প্রায় ১৫ মিলিয়ন কেপ্টাগন ক্যাপসুল আটক করেছিল।
কেপ্টাগন সউদী আরবের তরুণদের মাঝে বেশ ব্যবহৃত একটি মাদক। এছাড়া সিরিয়ায় ওহাবীপন্থী সন্ত্রাসীগোষ্ঠী আইএস সদস্যরাও ব্যাপকভাবে কেপ্টাগন সেবন করে থাকে। মাদক সেবনের ফলে তারা একটানা লড়াই করতে সক্ষম হয়। রাত্রিকালীন অভিযান বা গেরিলা যুদ্ধের সময়ও তারা এই মাদক সেবন করে থাকে।
১৯৬০ সালে হতাশা ও তন্দ্রাচ্ছন্নতার ওষুধ হিসেবে প্রথম কেপ্টাগন উৎপাদন শুরু হয়। কিন্তু অতিরিক্ত নেশাগ্রস্ততার কারণে ১৯৮০ সালে ওষুধটিকে নিষিদ্ধ করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কেপ্টাগন সেবনের পর একজন মাদকসেবী প্রথমদিকে নিজের ভেতর উদ্দীপনা অনুভব করে। কোনো খাবার না খেয়ে, দীর্ঘ সময় নির্ঘুম থেকে বিরতিহীনভাবে কথা বলে যেতে পারে। অথবা অন্যকোনো কাজ বিরতিহীনভাবে করে যেতে পারে। কিন্তু এ মাদক চূড়ান্তভাবে একজন মানুষের জীবনীশক্তিকে ধ্বংস করে দেয়, তাকে মাদকের উপর নির্ভরশীল করে তোলে।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে