সউদী বাদশা, ঘোড়ার গাড়ী ও ব্যাকডেটেড কালচার!


মনে পড়ে দেশী বিদেশী সংবাদপত্র তথা মিডিয়াগুলোতে একবার দিনের পর দিন ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে ঐতিহ্য বজায় রাখার প্রসংশা করে ধন্যবাদ জানিয়ে ব্যাপক লেখালেখি আলোচনা করা হয়। বিষয়টি বিশ্ব কাপানো বা মহাকাশ এর গুঢ়তত্ত্ব আবিষ্কার এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিশ্ব জাগানো কিছু ছিল না।

সউদী রাজকীয় বাদশাহ গিয়েছিলেন এক সময়কার সাম্রাজ্যবাদী অপশক্তি ব্রিটেনে। সউদী বাদশাহর আগমন উপলক্ষে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য ব্রিটিশ রাজ পরিবার এর পক্ষ থেকে ঘোড়ার-গাড়িবহরের ব্যবস্থা করা হয় অর্থাৎ ঘোড়ার গাড়ীতে চড়িয়ে স্বাগত জানানো হয়।


ব্যাস এতটুকুই; মিডিয়া জগত এবং তথাকথিত মানবতাবাদী বুদ্ধিজীবি জগতে তোলপাড় সৃষ্টি হয়ে গেল এই বলে যে, নিজস্ব স্বকীয় জাতীয় ঐতিহ্য রক্ষায় ব্রিটিশরা কত বেশী সচেতন তারই দৃষ্টান্ত উক্ত ঘটনা।

এ জন্য স্বাগতিক ব্রিটিশ রাজ পরিবার এবং সহাস্য বদনে রাজকীয় ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়ে ঘোড়ার গাড়ীতে উপবেশনকারী সউদী বাদশাহর আধুনিক মুক্তমনের মহিমা বর্ণনা করা হয় মিডিয়াগুলোতে। সম্মানিত মেহমানকে সম্মান জানানো হবে এটাই স্বাভাবিক। এতে দোষের কিছুই নেই এবং সেক্ষেত্রে যদি জাতীয় ঐতিহ্যকে অক্ষুন্ন রাখার ব্যবস্থা করা হয় তাতেও যে কোন সমস্যা নয় -তা বলার অপেক্ষা থাকে না। কিন্তু প্রশ্ন জাগে তখনি, মুসলিম অন্তরে আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয় তখনি যখন মুমিন মুসলমানগণ তাদের নিজস্ব জাতীয় ঐতিহ্য দ্বীন ইসলামের সুশৃংখল বিধান গুলো পালনের জন্য তৎপর হয়। তখন চারদিক হতে একযোগে প্রশ্ন তোলা হয় এগুলো পুরাতন যুগের অন্ধকার যুগের নিয়মনীতি। আধুনিক যুগে যার কোন মূল্যই নেই। অর্থাৎ একজন খাটি মুমিন মুসলমান যখন চায় কুরআন-সুন্নাহর আদেশ অনুযায়ী দাড়ি রাখতে, টুপি পড়তে, সুন্নতি পোষাক পড়তে, মহিলারা সুন্নতী বোরকা পড়তে তখনি মহল বিশেষ থেকে জোরগলায় উচ্চারিত হয় এগুলো হলো ব্যাক ডেটেড বিষয়। (নাউযুবিল্লাহ)

অথচ বৌদ্ধ ভিক্ষুরা সব সময় তাদের স্থায়ী গেরুয়া পোষাক পড়ে, শিখরা তাদের কথিত পাগড়ী পড়ে, জাতী হিন্দু গাঞ্জী ধূতি -পৈতা পড়ে সারা জীবন দেশ বিদেশ ঘুড়ে বেড়ালেও এক বারের জন্যও কারো থেকেই কখনোই শুনা যায়নি কিংবা কোন পত্র-পত্রিকা মিডিয়াতে কোনদিন প্রকাশ পায়নি যে, এগুলো সেকেলে মার্কা পোশাক, জাতীগত ধর্মীয় উম্মাদনা সৃষ্টিতে উস্কানী যোগায় বা দেখতে একদম বেখাপ্পা দেখায়। অথচ শুধুমাত্র মুসলমানরাই তাদের ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী সুন্নতী পোশাক-পরিচ্ছদ, দ্রবাদী ব্যবহার করলেই সেগুলো দেখতে অতি আধুনিক মহল বিশেষের নিকট খারাপ লাগে, তাদের মাথা ব্যথা আলোচনা-সমালোচনা এবং তিরস্কারের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

যদিও ঈমানদার মুসলমানগণ আল্লাহ পাক এবং তাঁর হাবীব হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রদর্শিত আমলগুলো করতে, সুন্নাহ মত চলতে ইসলাম বিদ্ধেষী, সুন্নাহ বিদ্ধেষী, তথা মুসলিম বিদ্ধেষী তথাকথিত মহল বিশেষের আলোচনা-সমালোচনা, ভয়ভীতি তিরষ্কার এবং রক্তচক্ষু প্রদর্শনকে বিন্দুমাত্র পরোয়া করে না, করতে পারে না।

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+