সকলের জন্যই শিক্ষণীয়


হে ভাই! কখনো মানুষের মধ্য দুনিয়াবী খেয়াল আসলে তৎক্ষণাতই দুনিয়া কামাইয়ে মশগুল হয়ে যায়। এ অবস্থায় সে দুনিয়াবী কাজে অধিক পরিমাণে মজাও পেয়ে থাকে। তখন সে হয়রান পেরেশান হয়ে দুনিয়া প্রত্যাশীদের প্রতিও আকৃষ্ট হয়। মূলত: দুনিয়ার আশিক ও মাশুক উভয়ই লাঞ্ছিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে। এ দু’ব্যক্তি দুনিয়ার মধ্যে বিলীন হয়ে নিজের ক্ষতি বা অনিষ্টতাকেও সে ভুলে যায়। শেষ পর্যন্ত দায়িমীভাবেই তার এমন অবস্থা হয় যে, তার থেকে কি করার ওয়াদা নেয়া হয়েছিল এবং কি করতে নিষেধ করা হয়েছিল তাও সে ভুলে যায়। এমনকি মৃত্যুকেও সে ভুলে যায়। দুনিয়ার আশিক ব্যক্তি দুনিয়ার চাকচিক্যের প্রতি এমনভাবে মনোনিবেশ করে যে, পরকালীন কোন কিছুরই খবর সে রাখে না। দুনিয়াকে এমনভাবেই তার মাশুক বানায় যে, শেষ পর্যন্ত সে যা ইচ্ছা তাই করে। এছাড়া দুনিয়ার আশিক ব্যক্তি শুধুমাত্র ওই কথার প্রতিই দৃষ্টি রাখে যে, পরকাল হবে। (পরকালীন হিসাব নিকাশ ইত্যাদি সবই সে ভুলে যায়)
হে ভাই! এই বিষয়টি তুমি খুব ভালভাবে উপলদ্ধি কর যে, তুমি একটি কঠিন মুছীবতের মধ্যে রয়েছ সুতরাং তোমার একজন অন্তরঙ্গ বন্ধু আবশ্যক। সাবধানতার সাথে শ্বাস-নিশ্বাস ত্যাগ কর এবং দৃঢ়ভাবে এই কথা ইয়াকীন কর যে, তুমি বর্তমানে নফসে আম্মারা বা প্রকৃতির গোলাম হয়ে গিয়েছো। উহা থেকে কিভাবে পরিত্রাণ পাবে তা গভীরভাবে ফিকির কর।
হে ভাই! কারোই জানা নেই যে, মানুষের চিন্তা-ফিকির বা খেয়াল (কৃপ্রবৃত্তি) কিভাবে মানুষকে খারাপ অবস্থার দিকে নিয়ে যায়। যখন কারো কোন বদ নছীবি প্রকাশ পায় তখন জানা যায় যে এই বদ নছীবি বা বদ বখতী মূলত খারাপ খেয়ালেরই ফসল।
হে ভাই! আমি বলতেছি বা কি করতেছি তা কোন কিছুরই খবর আমার নেই। আমার কাছে আমার কোন কাজেরই খেয়াল নেই। তবে আমার যবান মহান আল্লাহ পাক উনার তত্ত্বাবধানে রয়েছে সেজন্য আমার মুখ দিয়ে এমন সব কথাই বের হয় যাতে উভয় জাহানে কল্যাণ লাভ করা যায়।
~~~হযরত শায়েখ শরফুদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি~~~

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে