সত্য ঘটনা অবলম্বনে লিখিত


orange-alpha
 
একটি মেয়ে জীবনে অনেক কষ্ট সংগ্রাম করে বড় হয়েছে। তার নাম হল সুমি তার বাবার সংসারে থাকা অবস্থায় অনেক পরিশ্রম করে সে , দেশের বাড়িতে অনেক জায়গা জমি তাদের থাকলেও তাঁর বাবার অন্যান্য ভাইয়েরা একত্র অবস্থায় থাকাতে সব কিছুই তাঁরায় পরিচালন করতো। সুমির বাবা ছিল একটু নম্র ভদ্র টাইপের তাই সে তাঁর ভাইদের উপর কোন কথা বলতে পারতো না। সুমির বাবা-মাকে দিয়ে সবকিছু কাজ করে নিত আর অন্যান্য ভাইয়েরা বিভিন্ন জায়গায় চাকরি করতো জমি আবাদ ফসলে কোন সময় দিত না । যখন ফসল ঘরে তোলা হয় তখন সমস্ত ফসল সুমির চাচা ফুফুরা নিয়ে নেই তারা একটু মাতব্বর টাইপের তাই সুমির বাবা কিছু বলতে পারেনা। সুমির চাচারা সুমিদের ঠিকমত ভরন পোষন করেনা কাপড় চোপর ঠিকমত দেয় না। তাই সুমির জীবনে নেমে আসে অন্ধকার বেশি দুর লেখা পড়া করে এগুতে পারিনি। সুমি অনেক সুন্দরি ছিল হঠাৎ বিয়ের প্রস্তাব আসে পাশের গ্রাম থেকে এতে ভাল ভাবেই সুমির বিয়ে হয়ে যায়। প্রাত্র মুটামুটি ভালই ছিল ।
 
সুমির স্বামীর নাম সবুজ, সবুজের সবাই ঢাকাতে থাকত। তাঁর পরিবারের সবাই কোন এক পীর ছাহেবের কাছে বাইয়াত হয়েছিল। তাঁরা নাকি খুব আল্লাহ ওয়ালা মানুষ । সবুজেরা চার ভাইবোন,দুইভাই দুইবোন ভাইবোনদের মধ্যে সবুজই বড়। সুমিরা তিন বোন এক ভাই। সুমিও ভাইবোনদেও মধ্যে সবার বড়। যাইহোক সুমির সবুজের সাথে বিয়ে হবার পর সংসার জীবন ভালই কাটতে লাগল। সবুজ যখন ছোট ছিল তখন তাঁর মা হঠাৎ ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হওয়ার কারনে একদিন মারা যায়।
 
পরিশ্রম করে সবুজ ও তাঁর বাবা মিলে দুইবোনকে ভালই ধুমধামের সহিত বিবাহ দিয়ে দিল । সবুজের বাবা একজন আলিম মানুষ ছিলেন তাই বিভিন্ন জায়গায় ওয়াজ নছহিত করতেন মসজিদের খতিবও ছিলেন। সবুজের বোনদের যাদের সাথে বিবাহ দিয়েছেন তাঁরাও অনেক ভাল হুযুর টাইপের একই সিলসিলার মুরিদ আল্লাহ ওয়ালা খাস ভাবে পর্দা পুশিদা পালন করে। তাদেরকে দেখে সুমিও পর্দা করতে শুরু করে। এইদিকে সবুজের মা মারা যাবার পর তাঁর বাবা অন্য আরেকটি বিবাহ করেন ছেলে মেয়েদের দেখাশুনা করার জন্য। বেশ ভালই কাটতেছিল তাঁদের জীবন হঠাৎ যেন দুর্ভিক্ষ নেমে এল তাঁদের জীবনে সবুজের বাবাও ইনতিকাল করাতে। সমস্ত দায়ভার চলে আসল সবুজের উপর সবুজ ভাইবোনদের মধ্যে সবার বড় তাই চিন্তা তাঁর অনেক বেশি । সবুজের বাবা মারা যাবার কয়েকদিন না যেতেই তাঁর সৎ মা চলে যায়।
 
অনেক দামি ফার্ণিচার ছিল সেগুলোও নিয়ে যায় আরো নিয়ে যায় সবুজের বাবার ব্যাংকে জমানো টাকা সবুজ বাবা মারা যাওয়াও চিন্তায় অনেক মুমূর্ষ হয়ে যায় তাই কোনো দিকে তাঁর লক্ষ ছিল না। পরে ব্যাংকে সবুজ খোজ নিয়ে দেখল সব টাকা তুুলা হয়েছে কারণ চেক ছিল তাঁর সৎ মায়ের হাতে। মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পরলেন সবুজ। এখন সে কি করবে সে চিন্তাই সে অস্থির। সবুজ একটা কাজে খুবই পারদর্শী ছিল থাইএ্যলুমিনিয়ামের কাজ তার ভগ্নিপতিও সে কাজ করত। সবুজকে রিকোয়েস্ট করলো তাঁর আন্ডারে কাজ করার জন্য তাকে কথা দিল আপনি কোন চিন্তা করবেন না। আপনার সব ব্যবস্থা আমি করবো । আপনি আমার সাথে কাজ করুন। সবুজ তাঁর বোনের মুখের দিকে তাকিয়ে কথাগুলো মেনে নিলেন। সবুজকে যে বেতন দিত তাতে কোন মতে টেনেটুনে সংসার চলত ।
 
এই দিকে সবুজ-সুমির ঘরে দুটি প্রদিপ জম্ম নেয় একটা ছেলে একটা মেয়ে । ছেলে মেয়েকে মাদ্রাসায় ভর্তি করে দেয় সবুজ। কিন্তু খরচ চালাতে না পেরে ছেলের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। ঐদিকে সবুজের ভগ্নিপতি ঠিকই অনেক বড় লোক হয়েছে সবুজের মাধ্যম দিয়েই, ঢাকাতে বিল্ডিং বাড়ী করেছে অনেক পরিশ্রম করে নিয়েছে সবুজকে দিয়ে। সবুজের একটা বিশ্বাস ছিল হইতো তাঁর ভগ্নিপতি সবুজের একটা ব্যবস্থা করবে। কিন্তু সে আশা নিরাশা হয়ে গেল দেখা গেল সবুজের ভগ্নিপতি ঠিকই তার ছেলে মেয়েকে মাদ্রাসায় পড়াচ্ছে অথচ সবুজের ছেলে টাকার অভাবে পড়তে পারছেনা। সবুজ বেতন বাড়িয়ে চাইলে বেতন বাড়িয়ে দিতে রাজি নই তার ভগ্নিপতি। মাত্র এগারো হাজার টাকা বেতন দিত তাকে । সে নিয়ে সবুজ বাসা ভাড়া দিত এবং সংসার চালাত কোন মতে । একদিন সবুজের ভগ্নিপতি তাকে বলে আপনি অন্য জায়গায় কাজ দেখুন আমার কাজবাজ কমে গেছে, একমাসের বেতন পরিশোধ করে সবুজকে তাঁর কাজ থেকে বাদ দিয়ে দেয় এতে হতাশ হয় এতিম বাবা-মা হারানো ছেলে সবুজ যার জন্য এত কিছু করলাম সে আজকে প্রতিষ্ঠিত হয়ে আমাকে ছেড়ে দিল। নানান চিন্তা সবুজকে গ্রাস করতে লাগল ।
 
যাইহোক সবুজ নিজেই কাজ নিয়ে কাজ করতে লাগল। কিন্তু কাজ তেমন না থাকাই বাসা ভাড়া অনেক বাঁকি পরে যায় । সংসার জীবনে নেমে আসে অনেক কষ্ট। অনেক জায়গায় চাকরির উদ্দেশ্যে দৌড়াদৌড়ি করল সবুজ এতে কোন ফায়দা হলোনা কারণ অফিসে নিজের কানেক্টেড লোক ছাড়া চাকরি পাওয়া খুবই কষ্টের। তেমন কোন লোকও নাই সবুজের। সুমি ঢাকাতে আসার পর তার বাবা-মা কোন দিনই খোজ খবর নেয় না। শুধুমাত্র মোবাইলে লুকিয়ে লুকিয়ে ফোনে কথা বলা ছাড়া। এর কারণ হলো সুমি যাকে বিয়ে করেছে সে এক হক্ব সিলসিলা ফুরফুরা শরীফ এর অর্ন্তভুক্ত কিন্তু সুমির চাচারা ছিল কাট্টা খারিজি । তাই সুমিকে দেখতে পেতনা সুমির বাবা-মা সুমির চাচাদের দেখে অনেক ভয় করত সেজন্য তারাও কিছু বলতে পারেনা। সুমিও বিয়ের পর কোনদিন তার বাবার বাড়িতে যায় নাই। সুমি অনেক পর্দা পুশিদা পালন করে। গ্রামের বাড়িতে গেলে হইতো তাকে পর্দার খিলাপ হতে হবে তাছাড়া তার চাচারা সুমির প্রতি অনেক ক্ষিপ্ত। এইদিকে সবুজের কাজকাম না থাকাই সবুজ আর সংসার চালাতে পারছেনা সুমিকে বলল তাঁর বাবার বাড়িতে যাওয়ার জন্য ।
 
বাসা ছেড়ে দিবে সবুজ। দুটি ছেলে মেয়ে নিয়ে সুমি কোন মুখে তার বাপের বাড়ি যাবে যেখানে সে বিয়ের পর কোন দিনই যায় নাই। সকলের নিকট আমার প্রশ্ন এখন কি করলে সবুজ-সুমির সংসার জীবন পুনরায় বহাল থাকবে? আমার মনে হয় সবুজের একটা চাকরির ব্যবস্থা হলে হইতো তাদের সংসার জীবন আবার বহাল থাকত কিন্তু কে দিবে এই চাকরি? কে এমন দরদি মানুষ আছে এতিম সবুজকে একটা চাকরি দিয়ে সহযোগিতা করবে? মহান আল্লাহ পাক হইতো এই মহৎ কাজের উছিলায় চাকরি দাতাকে নাজাতের ব্যবস্থা করতে পারেন। আমরা সবাই দোয়া করি তাদের জন্য মহান আল্লাহ পাক তাদের উত্তম ব্যবস্থা করুন এবং পূনরায় বহাল থাকুক তাদের সংসার জীবন।
Views All Time
1
Views Today
3
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে