সন্তান জন্মের ব্যাপারে নাস্তিকদের বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য খন্ডন


============================
নাস্তিকদের আপত্তি : কুরানে বার বার উল্লেখ করা হয়েছে পুরুষের থেকে নির্গত বীর্য থেকে সন্তানের জন্ম হয় (Quran ৮৬:৫-৬, ৭৬:২, ২৩:১৩-১৪, ৫৩:৪৫-৪৬, ৮০:১৯, ২:২২৩)! কিন্তু স্ত্রীর ডিম্বানুর যে ভূমিকা সে ব্যাপারে কিছুই বলা হয়নি! এটা কি মুহম্মদের অজ্ঞতা ছাড়া অন্য কিছু হতে পারে?
===============================================
খণ্ডন : পবিত্র কুরআন শরীফ-এ ব্যবহৃত نُطْفَةٍ “নুতফা” শব্দের অর্থ শুক্রাণু বা শুক্রবিন্দু গ্রহণ করার কারণেই নাস্তিকরা বলার সুযোগ পাচ্ছে যে, সন্তান জন্মের ব্যাপারে স্ত্রীর ডিম্বাণুর যে ভূমিকা সে ব্যাপারে কিছুই বলা হয়নি!
বস্তুত نُطْفَةٍ “নুতফা” শব্দের অর্থ হবে জননকোষ বা বীর্য, যা পুরুষ ও নারী উভয়ের থেকে নির্গত হয়। نُطْفَةٍ “নুতফা” শব্দের সাথে এমন কোন বিশ্লেষণ জুড়ে দেয়া হয়নি যে এটাকে শুধুমাত্র পুরুষের বীর্য বা শুক্রাণু বলা যায়।
আর বীর্য যে নারী-পুরুষ উভয় থেকেই নির্গত হয় এই বিষয়ে পবিত্র হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ جَاءَتْ أُمُّ سُلَيْمٍ إِلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّ اللهَ لاَ يَسْتَحْيِي مِنَ الْحَقِّ، فَهَلْ عَلَى الْمَرْأَةِ مِنْ غُسْلٍ إِذَا احْتَلَمَتْ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ إِذَا رَأَتِ الْمَاءَ ‏”‏‏.‏ فَغَطَّتْ أُمُّ سَلَمَةَ ـ تَعْنِي وَجْهَهَا ـ وَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللهِ وَتَحْتَلِمُ الْمَرْأَةُ قَالَ ‏”‏ نَعَمْ تَرِبَتْ يَمِينُكِ فَبِمَ يُشْبِهُهَا وَلَدُهَا ‏”‏‏.‏‏
অর্থ : “উম্মুল মু’মিনীন হযরত উম্মু সালামা আলাইহাস সালাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার নিকট হযরত উম্মু সুলাইম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা এসে বললেন, হে রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! মহান আল্লাহ পাক হক্ব কথা প্রকাশ করতে লজ্জাবোধ করেন না। মহিলাদের স্বপ্নদোষ হলে কি গোসল করতে হবে? নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, হ্যাঁ, যখন সে বীর্য দেখতে পাবে। তখন উম্মুল মু’মিনীন হযরত উম্মু সালামা আলাইহাস সালাম (লজ্জায়) উনার মুখ মুবারক ঢেকে নিয়ে বললেন, হে রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! মহিলাদেরও স্বপ্নদোষ হয় কি?’ তিনি বললেন, হ্যাঁ, (বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন) তোমার ডান হাতে মাটি পড়ুক! (তা না হলে) তাদের সন্তান মায়ের আকৃতি পায় কিভাবে?” (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ)
অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ، أَنَّهَا قَالَتْ جَاءَتْ أُمُّ سُلَيْمٍ امْرَأَةُ أَبِي طَلْحَةَ إِلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللهِ، إِنَّ اللهَ لاَ يَسْتَحْيِي مِنَ الْحَقِّ، هَلْ عَلَى الْمَرْأَةِ مِنْ غُسْلٍ إِذَا هِيَ احْتَلَمَتْ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم ‏نَعَمْ إِذَا رَأَتِ الْمَاءَ‏
অর্থ : “ উম্মুল মু’মিনীন হযরত উম্মু সালামা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার খিদমত মুবারকে হযরত আবূ তালহা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-উনার আহলিয়া হযরত উম্মু সুলাইম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা এসে বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! মহান আল্লাহ পাক হক্বের ব্যাপারে লজ্জা করেন না। স্ত্রীলোকের ইহ্তিলাম (স্বপ্নদোষ) হলে কি ফরয গোসল করবে? নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, হ্যাঁ, যদি তারা বীর্য দেখে।” (বুখারী শরীফ)
عَنْ حَضْرَتْ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ حَدَّثَهُمْ أَنَّ أُمَّ سُلَيْمٍ حَدَّثَتْ أَنَّهَا، سَأَلَتْ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْمَرْأَةِ تَرَى فِي مَنَامِهَا مَا يَرَى الرَّجُلُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا رَأَتْ ذَلِكِ الْمَرْأَةُ فَلْتَغْتَسِلْ ‏‏.‏ فَقَالَتْ أُمُّ سُلَيْمٍ وَاسْتَحْيَيْتُ مِنْ ذَلِكَ قَالَتْ وَهَلْ يَكُونُ هَذَا فَقَالَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏نَعَمْ فَمِنْ أَيْنَ يَكُونُ الشَّبَهُ إِنَّ مَاءَ الرَّجُلِ غَلِيظٌ أَبْيَضُ وَمَاءَ الْمَرْأَةِ رَقِيقٌ أَصْفَرُ فَمِنْ أَيِّهِمَا عَلاَ أَوْ سَبَقَ يَكُونُ مِنْهُ الشَّبَهُ.‏
অর্থ : “হযরত আনাস বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু শুনছেন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার খিদমত মুবারকে হযরত উম্মু সুলাইম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা এসে সুওয়াল করলেন, পুরুষরা স্বপ্নে যা কিছু দেখে মেয়েরাও যদি স্বপ্নে তাই দেখে (অর্থাৎ যদি স্বপ্নদোষ হয়) তাহলে কি করবে? নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, যদি তারা বীর্য দেখে তাহলে গোসল করবে। একথা শুনে উম্মু সুলাইম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা পুনরায় সুওয়াল করলেন, মেয়েদেরও এমন হয়? অর্থাৎ মেয়েদেরও কি স্বপ্নদোষ ও বীর্যপাত হয়? তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, অবশ্যই! নয়তো সন্তান মায়ের মতো হয় কেমন করে? পুরুষের বীর্য হয় ঘন এবং সাদাটে আর নারীর বীর্য হয় পাতলা এবং হলুদ। অতঃপর তাদের মধ্য থেকে যে শক্তিশালী হয় বা যে অগ্রবর্তী হয় সন্তান তার মতোই হয়।” (মুসলিম শরীফ)
উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, নারীদেরও বীর্যপাত ঘটে। অর্থাৎ মানুষ সৃষ্টির জন্য স্ত্রীর ডিম্বাণু ও পুরুষের শুক্রাণু দুটোই যে অপরিহার্য সে তথ্যটাই স্পষ্ট করে দেয়া হয়েছে।
আর তাই পবিত্র কুরআন শরীফ-এ বর্ণিত হয়েছে-
إِنَّا خَلَقْنَا الْإِنسَانَ مِن نُّطْفَةٍ أَمْشَاجٍ
অর্থ : “আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি মিশ্র বীর্য থেকে।” (পবিত্র সূরা ইনসান শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ২)
এখানে মিশ্র বীর্য বলতে নারী-পুরুষ উভয় থেকেই বীর্য দ্বারা মানুষ সৃষ্টি করা হয়েছে। আর তাই সন্তান মায়ের চেহারা বা বৈশিষ্ট্য লাভ করতে পারে।
দ্বিতীয়ত মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ মুবারক করেন-
يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُم مِّن نَّفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً ۚ
অর্থ : “হে মানব সম্প্রদায়! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি উনার থেকে উনার সঙ্গীনীকে সৃষ্টি করেছেন; আর বিস্তার করেছেন উনাদের দু’জন থেকে অগণিত পুরুষ ও নারী।” (পবিত্র সূরা নিসা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১)
সুতরাং পবিত্র কুরআন শরীফ-এ সুস্পষ্টভাবেই বর্ণনা করা হয়েছে যে, সন্তান জন্মের জন্য মাতা-পিতা উভয়েরই ভূমিকা রয়েছে।

Views All Time
2
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে