সবচেয়ে অবাক বিষয় হচ্ছে- সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পেয়ে খুশি প্রকাশ না করা


বাংলাদেশে দেখা গেছে- কাফির, মুশরিকদের নিয়ে নানা ধরনের অনুষ্ঠান করতে, এর মধ্যে বছরব্যাপী অনুষ্ঠানও হয়েছে। শুধু নির্দিষ্ট কাফির, মুশরিক, ইহুদী, নাছারা, হিন্দু, বৌদ্ধ নয়, বিভিন্ন কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক তাদের নিয়েও বিভিন্ন অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। লক্ষ্য করা গেছে, জীবিত অনেক লেখক, সাংবাদিক, চিত্রকর তাদের জন্মদিন, কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ, গ্রন্থ প্রকাশনা, চিত্রকর্ম ইত্যাদি নিয়েও হরহামেশা অনুষ্ঠান হচ্ছে।
এখানে যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ তা হচ্ছে- এই ব্যক্তিগুলোর যা কাজ বা সমাজ গঠনে এদের যে ভুমিকা (তা ভালো বা মন্দ, উপকারী বা অপকারী যাই হোক না কেন) তা যদি এই মানুষগুলো থেকে আলাদা করা হয়, তবে এদের কোনো অস্তিত্বই থাকে না। কারণ এরা সব বিভ্রান্ত আক্বীদা এবং বদচরিত্রের অধিকারী। এদের কোনোটার জন্ম কাফিরের ঘরে, কোনোটার জন্ম ফাসিক-ফুজ্জারের ঘরে, কোনোটার জন্ম অস্তিত্বহীন কোনো বংশে। কিন্তু তারপরেও মানুষ সেগুলো মনে না রেখে এদের কর্ম, চিন্তা নিয়ে প্রশংসা করতে গিয়ে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে, প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে এই নিয়ে কেউ কোনো ওজর-আপত্তি তোলে না। যদিও সমালোচকগণ বলবেন- ‘জন্ম হোক যথা তথা, কর্ম হোক ভালো।” কিন্তু সম্মানিত দ্বীন ইসলাম বলেন- “হারাম থেকে হারামের জন্ম হয়।” ফলে এদের জন্মেও সমস্যা আর তাই কর্মেও সমস্যা।
উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে- হিন্দু ঠাকুরের দাদার কলকাতা শহরে ছিল ৪৩টি পতিতালয় আর সেই টাকায় সে প্রতিপালিত। তার সারাজীবনের সাহিত্য কর্মে ছিল অবৈধ প্রেম ভালোবাসা আর বস্তুগত জীবনের কথা। তার সাহিত্য দিয়ে না হয়েছে মানুষের চারিত্রিক উন্নতি, না হয়েছে সমাজ গঠন।
এ সকল তথাকথিত সুশীল শ্রেণির (প্রকৃতপক্ষে কুশীল শ্রেণির) কাজের বিষয় নিয়ে যদি চিন্তা করা হয়, তবে দেখা যাবে- তাদের শতভাগ কাজই সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার খিলাফ। আর সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার খিলাফ বলে এদের চিন্তা-চেতনা দ্বারা সমাজ গঠন তো হচ্ছেই না, বরং জন্ম নিচ্ছে হাজারো ফিতনা-ফাসাদ। আজকের সমাজে সমস্ত অশান্তির মূল- এই সকল তথাকথিত বুদ্ধিজীবী শ্রেণি।
কিন্তু সাধারণ মানুষ দূরে থাক, তথাকথিত আলিম-উলামারাও এ নিয়ে কোনো লিখিত বা মৌখিক প্রতিবাদও করে না। তাদের জন্মদিন পালন, সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার খিলাফ কথা, কাজ, চিন্তা-চেতনা নিয়ে কোনো উচ্চবাচ্য করে না। অথচ এই সকল কুশীল সমাজের সমস্ত আলোচনা যে অন্তঃশারশূন্য তা কবি নজরুল ইসলাম উনার একটি বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট বোঝা যায়। উনার জীবনের শেষ ভাষণে তিনি বলেছেন, “আমি যখন চলে যাবো, তখন হয়তোবা বড় বড় সভা হবে, থাপ্পড় মেরে টেবিল ভেঙ্গে ফেলবে বক্তার পর বক্তা। সেদিনের সেই সভায় তুমি যেন যেয়ো না বন্ধু।”
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যমীনে আসার মূল কারণই ছিল দিশেহারা মানুষকে পথ দেখানো এবং অন্তর বিশুদ্ধ করা। অর্থাৎ মানুষের চারিত্রিক গঠন করা। এবং মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মাঝেই এ বিষয় বর্ণনা করেছেন।
এছাড়াও মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, “নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন “সকলের জন্য উত্তম আদর্শ।” যিনি অনুসরণের জন্য উত্তম আদর্শ উনার আলোচনা মানুষের মাঝে নেই। আফসুস! উদাসীন সেই মানুষগুলোর জন্য।
পবিত্র কুরআন শরীফ এবং পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত সমস্ত বিষয়াদি বাদ দিয়ে যদি শুধু ইতিহাসের ভিত্তিতে আলোচনা করা হয়, তাহলে দেখা যাবে- পৃথিবীতে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একটি সমাজ ব্যবস্থার যতটা আমূল পরিবর্তন এনেছিলেন, মানুষকে যেভাবে সভ্যতা শিখিয়েছিলেন আর কোনোদিন কারো পক্ষে তা সম্ভব হবে না। সুবহানাল্লাহ!
যদিও তিনি বাশার হিসেবে পৃথিবীতে তাশরীফ মুবারক নিয়েছেন ফলে এই কায়িনাতে উনার মতো আর কেউ নেই যিনি সর্বোত্তম গুণ মুবারক ধারণ করে আছেন। অথচ উনার সম্পর্কে কোনো আলোচনা নেই। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বাদ দিয়ে কোনো আলোচনাই হতে পারে না।
পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ মহান আল্লাহ পাক উনার কালাম পাক এবং সমগ্র কালামুল্লাহ শরীফ জুড়েই রয়েছে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-ছিফত মুবারক।
এছাড়া পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা ফজল ও রহমত মুবারক হিসেবে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পাওয়ার কারণে খুশি প্রকাশ করো।” তিনি তো সৃষ্টির মূল, সমস্ত অস্তিত্বই উনার মুবারক অজুদ পাক থেকে সৃষ্টি হয়েছে। অথচ উনাকে নিয়ে কোনো আলোচনা নেই, খুশি প্রকাশের কোনো উদ্যোগ নেই। নাউযুবিল্লাহ!
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার হাক্বীক্বী ইলিম ফাসিক-ফুজ্জারদের নেই। ফলে নিজেদের জন্মদিন পালন করবে, নিজের প্রশংসা নিজেই করবে, প্রয়োজনে টাকা খরচ করে ভাড়া করা লোক যোগাড় করবে, ঢাক-ঢোল পেটাবে ইত্যাদি।
কিন্তু পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ পড়া ঊলামায়ে ‘সূ’রা যখন বলে- সাইয়্যিদুল আইয়াদ, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদে ঈদে আকবর পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ “সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ” পালন করা বিদয়াত- তখন সেটা হয় সবচেয়ে অবাক একটি বিষয়।
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক নন, এছাড়া সমস্ত মর্যাদা-মর্তবা মুবারক উনার অধিকারী। উনার শান-মান, মর্যাদা-মর্তবা মুবারক নিয়ে আলোচনা কেবল শুরু করা যাবে; কিন্তু শেষ করা যাবে না। সুবহানাল্লাহ! কাজেই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান-মান মুবারক, ফাযায়িল ফযীলত মুবারক নিয়ে যারা আলোচনা করতে, উনাকে পেয়ে খুশি প্রকাশ করতে কুন্ঠাবোধ করে তারা আসলে উম্মত নয়, তারা নরকের কীট এবং তাদের জন্য অপেক্ষা করছে নিকৃষ্ট জাহান্নাম।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে