সমস্যা যখন সাধারণ তখন “তালাক্ব” সমাধান নয়!


সুখী দাম্পত্য জীবনের কারণে আহাল আহলিয়া যদি একে অন্যের কাছে উত্তম পরিগণিত হয় তাহলে তারাই তাদের জন্য নাযাতের উসীলা হয়ে যেতেও পারে…
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে- “পূর্ণ ঈমানদার সেই ব্যক্তি, যার চরিত্র সবচেয়ে সুন্দর, আর তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে তার আহলিয়ার কাছে উত্তম।” (তিরমিযী শরীফ)
অন্যত্র ইরশাদ মুবারক হয়েছে- “আহলকে সন্তুষ্ট রেখে যে আহলিয়া মৃত্যুবরণ করবে, সে জান্নাতে যাবে।” (ইবনে মাজাহ, তিরমিযী শরীফ)
অতএব, মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টির জন্য উভয় উভয়ের জন্য ভালো হওয়া, উভয়কে উভয়ের হক্ব আদায় করা তথা উভয় উভয়কে মুহব্বত করা বাঞ্ছনীয়।
কিন্তু এখন মানুষ এমনই ইবলিশী শিক্ষায় শিক্ষিত যে,কথা নেই বার্তা নেই পান থেকে চুন খসলেই একে অন্যের উপর তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠে!কেউ কারো কাছে উত্তম হতে চায় না। কেউ কারো হক্ব আদায় করবে তো দূরে থাক!কার কোন হক্বটা আদায় হলো না সেই নিয়েই ঝগড়া-ঝাঁটি বাঁধিয়ে ফেলে।ছাড় দেয়ার প্রবণতা ম্যাক্সিমামের মধ্যে থাকে না।দুইজনেরই মেন্টালিটি থাকে এরকম,”আমি কি ওর উপর নির্ভরশীল নাকি!?” নিজে কামাই করতে জানি…
আমারও যোগ্যতা আছে কত ধানে কত চাল দেখিয়ে দেয়ার।
এই একজন আরেকজনকে নিজেদের পাওয়ার (ক্ষমতা!) দেখাতে গিয়েই ঝরে পড়ে।নাঊযুবিল্লাহ!
অথচ বিয়ে বিষয়টা কি এতোটাই ঠুনকো একটা বন্ধন হওয়ার ছিলো, যে তা যখন তখন ভেঙ্গে ফেলা যায়!নাঊযুবিল্লাহ!
বিশেষ করে যখন থেকে মহিলারা বাইরে বের হলো আর আমরাও পারি কিছু করে দেখাতে -এই মেন্টালিটির উদয় হলো(/করে দেয়া হলো) তখন থেকেই এই ফেৎনা শুরু হয়ে গেলো!সবারই প্রেস্টিজের ইস্যু হয়ে গেলো এই দেখিয়ে দেয়াটা!আরে বাবা সবক্ষেত্রে তো নিজেকে বড় প্রমাণ করতে নেই।কিছু বিষয়ে কারো সম্মান অনেক উপরে…সবাই একই ক্ষেত্রে একই রকম সম্মানের অধিকারী না।সংসারে প্রত্যেকেই তাদের আলাদা আলাদা ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সম্মানিত পদে রয়েছে।
এখন আহালকে (স্বামী) আহলিয়ার (স্ত্রী) উপর কর্তৃত্বের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে।তবে তার মানে এই না যে,স্ত্রীকে নাকে দড়ি দিয়ে ঘুরাতে হবে।
মানুষ নিজের ক্ষমতার গন্ডি অতিক্রম করতে গিয়েই ভুলটা করে।যেমন মহিলারা তেমনি পুরুষরাও।
কম্প্রোমাইজ করার ইচ্ছা কারো মধ্যেই যখন থাকে না তখনই তারা ছোটখাটো বিষয়কেই বড় করে ফেলে…আর ভাঙ্গার দিকে গড়ায়!
অথচ এইটা তো রব তায়ালা উনার পছন্দ নয়।তিনি তালাককে হালাল করেছেন খুব অপছন্দের সাথে।
আর বৈবাহিক সম্পর্কের পর সংসার পরিচালনা যে দ্বীন ইসলামের রীতিনীতির বাইরে পড়ে না এটাও লোকে ভুলে যায়।বিয়েটা যদিও দ্বীন ইসলামিক রীতি মাফিক করে কিন্তু সংসারটা তো সে-মতে চালায় না।এজন্যই তো ফেৎনা লাগে।
আহলিয়ার দায়িত্ব সংসারের শান্তি বিধানের প্রতি মনোযোগী হওয়া আর সেজন্যই আহাল যতক্ষণ না পর্যন্ত শরীয়ত বিরোধী কোনো আদেশ না করে ততক্ষণ পর্যন্ত তার কথামতো চলা,তাকে খুশি রাখার চেষ্টা করা,সর্বোপরি তার কি প্রয়োজন,কি পছন্দ সেদিকে যত্নবান হওয়া।
আর আহালেরও দায়িত্ব আহলিয়ার শরীয়তসম্মত যাবতীয় প্রয়োজন পূরণে যথাসম্ভব চেষ্টা করা, দাস-দাসীর মতো ব্যবহার না করা,মনে রাখা সে তার সঙ্গী,দাসী-বাঁদী নয়।তাই তার যা কষ্টের কারণ হয় এরকম কিছু করা ,করতে বলা কখনোই শুদ্ধ হবে না।
শুরুতেই জেনে রাখবেন,সে কিন্তু অর্ধেক ছাড় আগেই ছেড়ে আসেছে।অর্থাৎ বাবা-মা,ভাইবোন ছেড়ে আপনার কাছে এসেছে এজন্য না যে,আপনি যা-তা ব্যবহার করবেন আর সে হাসিমুখে সহ্য করবে।
সুতরাং, প্রয়োজন পরস্পরের প্রতি সহনশীল মনোভাবের,সেজন্য প্রয়োজন বোধের..আর বোধটা তখনই হবে যখন কেউ আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারকের মধ্যেই জীবন অতিবাহিত করতে চাইবে,সন্তুষ্টি লাভের জন্যই বিয়ে করবে।
তাই মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে দোয়া করে চাইতে হবে,যেন,আল্লাহ পাক সন্তুষ্টি লাভের জন্য সংসারের সমস্ত ঝামেলার কুদরতী ফায়সালা করে দেন,পরস্পরের প্রতি মুহব্বত সৃষ্টি করে দেন,আর আল্লাহ পাক উনারই সন্তুষ্টি মুতাবিক চলার জন্য যেভাবে সংসার পরিচালনা করা প্রয়োজন সেভাবেই পরিচালনা করার তৌফিক দান করেন।
চাইলেই পাওয়া যাবে,ব্যবস্থা হবে।কেননা মহান আল্লাহ পাক তিনি তো সব বিষয়েই সর্বোচ্চ ক্ষমতাবান…Untitled-1

Views All Time
1
Views Today
4
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে