সমাজে এক শ্রেনীর মানুষ তৈরী হয়েছে তারা তাদের মতবাদের বিরুদ্ধে মনে হলেই হাদীছ শরীফকে জাল বলে দেয়


সমাজে এক শ্রেনীর মানুষ তৈরী হয়েছে তারা তাদের মতবাদের বিরুদ্ধে মনে হলেই হাদীছ শরীফকে জাল বলে দেয়। কোন কিছু আগ পিছ চিন্তাও করে না। অথচ হাদীছ শরীফ নিয়ে কথা বলার মত যোগ্যতাও এদের নাই।
অথচ এ বিষয়ে মুহাদ্দিছীনেগন কি বলেছেন দেখুন, “ ইসলামীক ফাউন্ডেশনের রেজাল শাস্ত্র ও জাল হাদীসের ইতিবৃত্ত বইয়ের ২২৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, বলাবাহুল্য; যে হাদিসের ব্যপারে নিশ্চিতভাবে জানা যায় যে এটা জাল বা মউযু তবে এটা মউযু হওয়ার উল্লেখ না করে বর্নণা করা হারাম।
অবশ্যই জাল হাদিস হওয়া বা না হওয়ার ব্যাপারে বিষেশজ্ঞ মুহাদ্দিছগনের নিকট মতানৈক্য রয়েছে, সেসব হাদিসকে জাল বলে সরাসরি উল্লেখ না করাই বাঞ্চনীয়। একারনেই মুহাদ্দিসগন সতর্কতাবসত ‘এটা জাল হাদীছ’ এ কথা না বলে لم اقف علي اصل لم اجد له اصلا “আমি এর কোনো সুত্র পাইনি, আমি এর সুত্র সম্পর্কে অবহিত নই’ পৃভূত শব্দ প্রয়োগ করতেন।
এ প্রসঙ্গে মুল্লা আলী কারী রহমাতুল্লাহি বলেন, যে হাদিস জাল হওয়ার মতানৈক্য রয়েছে আমি আমার মওজুয়াতুল কবীর গ্রন্থে উল্লেখ করিনি। কেননা এমন সম্ভাবনা রয়েছে হাদিসটি একটি সুত্রে মউজু এবং অন্য সুত্রে সহীহ। প্রকৃতপক্ষে এর সনদের প্রতি হাদিসবেত্তাদের দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপার। অন্যথায় সনদের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার কোন উপায় নেই । কেননা যে সনদকে সনদের ভিত্তিতে সহীহ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে আসলে যক্তির বিচারে তা যইফ এবং মউযুর হওয়া অসম্ভব কিছু নয়। অপরপক্ষে যে হাদিসটা মউদ্বু বলে আখ্যায়িত করা হচ্ছে প্রকৃতপক্ষে সহীহ মরফু হাদীছ হওয়া বিচিত্র নয়।”
অর্থাৎ নিজের নফসানিয়াত অনুসরন করে সনদ না পেলেই জাল বলা যাবে না। জাল হওয়ার ব্যাপারে অকাট্য দলীল থাকতে হবে। যারা আজ নি’য়মাতুল কুবরা আলাল আলাম কিতাবে বর্ণিত হাদীছ শরীফ সমূহকে জাল বলার অপচেষ্ট করে তারা কি কোন গ্রহনযোগ্য ইমাম হতে উক্ত হাদীছ শরীফ গুলো জাল এ মর্মে দলীল দিতে পারবে? কষ্মিনকালেও পারবে না। তাহলে কোন সাহসে তারা জাল বলছে?
বরং এ হাদীছ শরীফকে গ্রহন করে নিজ নিজ কিতাবে বর্ণনা করেছেন অনেক বড় বড় ইমাম ও মুহাদ্দিছগন।
সনদের গুরুত্ব আমরাও অস্বীকার করি না। কিন্তু সনদ হজফ করে কোন মুতাবার ইমাম যদি হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেন সেটা জাল এ কথা কি সে প্রমাণ করতে পারবে? সনদ হজফ বা উল্লেখ না করে হাদীছ শরীফ বর্ণনা করা নতুন কিছু? এটা জাল পদ্মতি হয় তাহলে এমন তোহমত পৃথিবীর অনেক ইমাম , ফক্বীহ, মুস্তাহিদ উনাদের দিকে যাবে। নাউযুবিল্লাহ।
মূলত যেটা জানার বিষয় সেটা হচ্ছে যিনি হাদীছ শরীফ বর্ননা করছেন তিনি গ্রহনযোগ্য কিনা? অর্থাৎ নি’য়মাতুল কুবরা কিতাবের মুছান্নিফ হযরত ইবনে হাজার হায়তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিন কেমন? উনার গ্রহনযোগ্যতা, নির্ভরযোগ্যতা, বিশ্বস্ততা, আমানতদারী কেমন সেটা দেখতে হবে।

এ প্রসঙ্গে সহীহ মুসলিম শরীফ উনার মুকাদ্দিমা বর্নিত আছে,
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِىُّ أَخْبَرَنَا عِيسَى – وَهُوَ ابْنُ يُونُسَ – حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِىُّ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ مُوسَى قَالَ لَقِيتُ طَاوُسًا فَقُلْتُ حَدَّثَنِى فُلاَنٌ كَيْتَ وَكَيْتَ. قَالَ إِنْ كَانَ صَاحِبُكَ مَلِيًّا فَخُذْ عَنْهُ
সুলাইমান ইবনে মুসা রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি তাউস রহমতুল্লাহি আলাইহিকে বললাম, অমুক ব্যাক্তি আমাকে এরুপ এরুপ হাদিস শুনিয়েছে। তিনি বললেন যদি তোমার সাথী নির্ভরযোগ্য হয় তাহলে তার থেকে হাদিস গ্রহণ কর।
অর্থাৎ বর্ননাকারী যদি নির্ভযোগ্য হয় তবে উনার কাছ থেকে হাদীছ শরীফ গ্রহন করা যাবে এটাও একটা উছুল। অথচ এ ছোকরা সে বিষয়ে কোন কথাই বলে নি।

আরো একটা উছুল রয়েছে, কোন একজন মুজতাহিদ শ্রেনীর ইমাম উনার কোন কিতাবে যদি হাদীছ শরীফ থেকে দলীল দেন তখন বুঝতে হবে সেই হাদীছ শরীফ খানার ভিত্তি আছে। কারন না জেনে না বুঝে তিনিতো একটা দলীল দিবেন না। বরং সবকিছুর মানদন্ডে বিচার করে তিনি উনার কিতাবে সে হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেন।

বিখ্যাত উছূলে হাদীছ শরীফের কিতাব “মীযানুল আখবার” কিতাবের ৩৬ পৃষ্ঠায় বর্নিত আছে,
فاذا استدل المجتهد بحديث كان تصحيحا له وكذا الحديث المتلقي بالقبول محكوم بالصحة وان لم يكن له اسناد صحيح
অর্থ: অনন্তর যখন কোনো মুজতাহিদ কোনো হাদীছ যারা দলীল গ্রহন করেন তখন তা উনার ধারনায় ছহীহ হাদীস হবে। অনুরুপভাবে হাদীছবিদনের সাধারণভাবে গৃহিত হাদিসও ছহীহ হাদীছ বলে ধর্তব্য হবে, যদিও তা সনদ অশুদ্ধ হয়।”
সূতরাং আমরা দেখতে পেলাম বিখ্যাত হাদীছবিদ হযরত ইবহে হাজার হায়তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনি উনার বিখ্যাত কিতাব ‘নি’মাতুল কুবরা আলাল আলাম’ কিতাবে খুলাফায়ে রাশেদীন আলাইহিমুস সালাম উনাদের থেকে চার খানা হাদীছ শরীফ বর্ননা করে এটাই প্রমাণ করলেন, হাদীছ শরীফ গুলো উনার কাছে গ্রহনযোগ্য।

এখন জানা দরকার আন নি’মাতুল কুবরা আলাল আলাম কিতাবে বর্ণিত হাদীছ শরীফে সনদ সর্ম্পকে পরবর্তী ইমামগন কি বলেছেন:
বিখ্যাত ইসলামী গবেষক, বিশিষ্ঠ কাজী, বিখ্যাত মুহাদ্দিছ, অসংখ্যা কিতাবে মুছান্নিফ হযরত ইউসুফ আন নাবেহানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার আলোড়নসৃষ্টিকারী কিতাব “জাওয়াহেরুল বিহার” কিতাবের ৩য় খন্ডের ৩৪৯-৩৫০ পৃষ্ঠায় লিখা আছে,
(ومن جواهره رضي الله عنه) هذا المولد النبوي الشريف، وهو من أجمع المولد وأصحها.
অর্থ: মশহুর ও মহানতম ইমাম হযরত শিহাবুদ্দিন হ্জাার হাইতামী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার জাওহার (মণিমুক্তা) সমূহের অন্যতম বিষয় হচ্ছে নুরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ উনার বিষয়।
উক্ত মীলাদ শরীফ সংক্রান্ত সকলের সংগ্রহিত বিষয়সমূহকে সর্বাধিক ছহীহ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
كما جمعت ذالك في كتاب سمتيه النعمة الكبري علي العالم* يمولد سيد ولد ادم) باسانيده التي نقلها أئمة السنن والحديث الموصوفون بلحفظ الاتقان، والجلالة والبرهان في القديم والحديث مما هو سالم من وضع الوضاعين، وانتحال الملحدين والمفترين لا كأكثر المولد التي بأيدي الناس فان فيها كثيرا من الموضوع الكذب المختلق المصنوع، لكن في ذالك الكتاب بسط لا يتم معه قراءته في مجلس واحد، فاختصرته هنا بحذف أسانيده وغرائبه واقتصرت منه علي ما بسنده منابع، أو عاضد روما للتسهيل علي المادحين، وقصدأ لحيازتهم معرفة تلك المزايا، والكرامات لينتظموا بذالك في سلك المحبين.
অর্থ: যেমন মীলাদ শরীফ সংক্রান্ত বর্ণনা সমূহ তিনি সনদ সহকারে একখানা কিতাবে একত্রিত করেন তিনি উক্ত কিতাবখানার নাম দিয়েছেন আন নিয়ামুল কুবরা আলাল আলাম ফি মাওলিদি সাইয়্যিদে বিলদে আদাম)
যেই সনদগুলো সুনান ও হাদীছ শরীফের ইমামগণ নকল করেছেন। যেই ইমামগন উনারা আগের হোন বা সাম্প্রতিক হোন উনারা সকলেই প্রখর স্বরণ শক্তি সম্পন্ন দক্ষ ও মর্যাদাসম্পন্ন দলীলনির্ভরসম্পন্ন ইত্যাদী গুণে ভুষিত। আর উনাদের বর্ণণাসমূহ বানোয়াটী বর্ণনা থেকে মুক্ত। এবং ধর্মত্যাগী বা নাস্তিক ও মিথ্যাবাদীদের বর্ণনা থেকেও মুক্ত। আর উক্ত ইমামগণের বর্ণণাসমূহ ঐ সকল বর্ণনার মতোও নয় যা মানুষের মাঝে ব্যাপকভাবে বর্ণিত আছে। কেননা মানুষের মাঝে যেগুলো ব্যাপকভাবে বর্ণিত আছে তার অধিকাংশগুলোই বানোয়াট, মিথ্যা, সৃষ্ট, তৈরীকৃত। তবে বিলাদত শরীফ সংক্রান্ত ঐ কিতাবগুলোতে বিস্তারিত উল্লেখ আছে। যা একটি মজলিসে পাঠ করে শেষ করা যাবেনা। তাই আমি এ কিতাবথেকে সনদগুলো এবং দুর্বোধ্য বিষয়গুলো বাদ দিয়ে সংক্ষিপ্ত করলাম। এমনকি সনদ কর্তৃক উৎস ও সমর্থিত বিষয়গুলো থেকে আরো সংক্ষিপ্ত করলাম। এই উদ্দেশ্যে যে, যাতে করে ছানা ছিফত বর্ননা বর্ণকারীদের জন্য সহজ হয়। এবং উনাদের প্রত্যাশা পূরণের হয়। পবিত্র মিলাদ শরীফ উনার বৈশিষ্টসমূহ বুজুর্গীসমূহ জেনে মুহিব্বীনগনের তরীক্বা অনুযায়ী মিলাদ শরীফের আয়োজন করে।”
অর্থাৎ উক্ত কিতাব থেকে আমরা জানতে পারলাম “নি’মাতুল কুবরা আলাল আলাম” কিতাবে বর্ণিত হাদীছ শরীফে সনদ আছে। বিখ্যাত মুহাদ্দিছ ইবনে হাজার হায়তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি হযফ করেছেন। কারন হচ্ছে যেহেতু নি’মাতুল কুবরা আলাল আলাম কিতাব খানা হাদীছ শরীফের কিতাব নয় বরং এটা হচ্ছে মীলাদ শরীফ উনার কিতাব তাই। আর মীলাদ শরীফের উনার কিতাবে প্রতিটা বর্ণনায় সনদ সহ বর্ণনা শ্রবন করা শ্রোতার জন্য কষ্টকর। আর সেটা কিতাবের জন্য সামঞ্জস্যপূর্ণও নয় তাই সনদ বাদ দিয়ে বর্ননা করেছেন। সনদ বাদ দিয়ে বর্ণনা নতুন কোন বিষয় নয় বরং ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি নিজেও সনদ হযফ করে অনেক হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন উনারই বুখারী শরীফে। বিখ্যাত ফিকাহের কিতাব ‘হেদায়া’তেও হাদীছ শরীফ সনদ ছাড়া উল্লেখ করা হয়েছে। সনদ উল্লেখ করে বর্ননা না করাতেই কি তা জাল বলা যাবে?

বিখ্যাত মুহাদ্দিছ ও আলেমে দ্বীন হযরত আব্দুল আউয়াল জৈনপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি স্বয়ং বিরোধীতাকারীদের মুরুব্বী আনোয়ার শহ কাশ্মীরী তার ‘ফয়জুল বারী’ কিতাবের মুকাদ্দিমায় উপমহাদেশের অন্যতম মুহাদ্দিছ হিসাবে উল্লেখ করছেন তিনি উনার “নাফহাতুল আম্বরিয়া” ৮ পৃষ্ঠায় নি’মাতুল কুবরা আলাল আলম কিতাবের চার খানা হাদীছ শরীফ উল্লেখ করে বলেন,
فلا يحفى على المتاملين ان هذا الحديث مماما كاتب على مخرجه وماثبت اساده فمثل هذا عندا لمحدثين ليس بشى فان الاعتناء بالحديث يكون بالرواة الثقاث فان لم يعرفواولامخرج الحديث فلا يعتبر عندهم ولعل الله يحدث بعد ذلك امرا
অর্থ: হাদীছ শরীফ বিশারদগণ উনাদের নিকট এটা ষ্পষ্ট যে, নিশ্চয় এমন হাদীছ সমূহ যার উৎপত্তিস্থল প্রকাশিত হয়নি। এবং তার সনদও প্রমাণিত নেই। এই উদাহরণ মুহাদ্দিছিনদের নিকট কোন বিষয় নয়। কেননা হাদীছের ক্ষেত্রে লক্ষনীয় হচ্ছে রাবী ছেক্বাহ হওয়া। আর উনারা যদি অপরিচিত হন এবং হাদীছের উৎপত্তিস্থলও যদি না পাওয়া যায়, তাহলে মুহাদ্দিছিনদের নিকট তা গ্রহণযোগ্য হবে না। হাদীছ শরীফে উল্লেখিত বর্ণনা থাকার পরেও মহান আল্লাহ পাক তিনি এ বিষয়ে আদেশ মুবারক প্রদান করেছেন। ”
উপরোক্ত কিতাব থেকে আমরা জানতে পারলাম হাদীছ শরীফের সনদ উল্লেখ না থাকলেও মুহাদ্দিছগন যদি হাদীছ শরীফ গ্রহন করেন তাহলেও তা গ্রহনযোগ্য। কেননা উনারা সহীহ বলেই উক্ত হাদীছ শরীফ উনাদের কিতাবে উল্লেখ করেছেন। তাই বাহ্যিক ভাবে সনদ দেখা না গেলেও জাল বলে উড়িয়ে দেয়ার সুযোগ নেই।

সনদ বাদ দিয়ে হাদীছ শরীফ উল্লেখ করা এটা নতুন কিছু না। বরং পৃথিবীর অনেক বিখ্যাত মুহাদ্দিছগন সনদ বাদ দিয়ে হাদীছ বর্ননা করেছেন তাদের হাদীছ শরীফের কিতাবেই।
মিশকাত শরীফের মুকাদ্দিমা: আদ দিরারুল মুনতাকাতু আলা মুকাদ্দামাশ শায়েখ: ৫১ পৃষ্ঠায় বর্ণিত আছে,
معلق :
والسقوط إما أن يكون من أول السند ويسمى معلقا (২) وهذا الإسقاط تعليقا والساقط قد يكون واحدا وقد يكون أكثر وقد يحذف تمام السند كما هو عادة المصنفين يقولون قال رسول الله صلى الله عليه و سلم
অর্থ: আর এ বাদ পড়া যদি সনদের প্রথম হতে হয়, তবে তাকে মুয়ালআক বলা হয়। আর এ বাদ পড়াকে তালীক বলে। আর বাদ পড়া বর্ণণাকারী কখোনো একজন হয়, আবার কখোনো কখোনো অধিক হয়ে থাকে। আবার কোনো কনো সময় সমস্ত সনদটিকে বিলুপ করা হয়। যেমন গ্রন্থকারগনের অভ্যাস, তারা বলে থাকে
قال رسول الله صلى الله عليه و سلم
(ছহীহ বুখারী শরীফে অসংখ্য তালীক রয়েছে। কবে এ তালীকের হুকুম হলো ইত্তিছাল। কেননা তিনি এ কিকাবে বিশুদ্ধ হাদীছ গুহণ করাকেই নীতি হিসাবে অপরিহার্য করে নিয়েছেন। তবে এটা মুসনাদের পর্যায়ের তখন পর্যন্ত হবে না, যখন পর্যন্ত উনার কিতাবে অন্য স্থানে এটাকে মুসনাদ হিসাবে বর্নণা না করে থাকেন। তবে এই তালীকাতগুলির মধ্যে এভাবে পার্থক্য করা যায় যে তিনি যাকে দৃঢ়তা ও দৃঢ়বিশ্বাসের শব্দ (মারুফের ছিগাহ) দারা বর্ণণা করেছেন। যেমন, তার কথায় অমুক বলেছেন বা অমুক উল্লেখ করেছেন। এটা দারা বুঝায় য়ে এ হাদিসটির সনদ ইমাম বুখারীর নিকট প্রমাণিক। তবে তা নিঃশন্দেহে ছহীহ হবে। যদি দূর্বর ও মাজহুল (অজ্ঞতামূলক) শব্দ দারা বর্ণণা করে থাকেন যেমন বলা হয়েছে, বলা যায়, বর্ণণা করা হয়েছে কবে এগুলির বিশুদ্ধতার ব্যাপারে উনার কথা আছে। উনার নিকট দ্বন্দ রয়েছ কিন্তু তনি যখন স্বীয় গ্রন্থে এগুলোকে বর্ণণা করেছেন তখন বুঝতে হবে এর মুল উনার নিকট সুপওমাণিত। এজন্য মুহাদ্দিসগণ বলেছেন ইমাম বুখারীর তালীকাত মুত্তাসিল ও সহীহ।”

সনদ বাদ দিয়ে উল্লেখ করা বা তালিক করা এটা অনেক মুহাদ্দিছ গনের আদত। উনারা সনদ সর্ম্পকে সুনিশ্চিত এবং পরিপূর্ণ ভাবে জানেন বলেই সনদ উল্লেখ না করে মূল বর্ননাকারীর নাম ব্যবহার করেছেন। যেমন হযরত ইবনে হাজার হায়তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সরাসরি খুলাফয়ে রাশেদীন আলাইহিমুস সালাম উনাদের নাম উল্লেখ করে বর্ননা করেছেন।
একটা উদাহরন দেয়া যায়, “আল হিদায়া মায়াদ দিরায়া” কিতাবের ১৭২পৃষ্ঠার বাবুল ঈদাইন এর ৬নং হাশিয়ায় হাদীছ শরীফ উল্লেখ রয়েছে:
لكل مؤمن في كل شهر اربعة اعياد او خمسة اعياد
অর্থ: প্রত্যেক মুমিনের জন্য প্রতি মাসে চারটি / পাচটি ঈদ রয়েছে।
“ফতহুল কাদির মায়াল কিফায়া” কিতাবে ২য় খন্ডের ৩৯ পৃষ্ঠায় বাবু ছালাতিল ঈদাইন এ উল্লেখ আছে
لكل مؤمن في شهر اربعة اعياد او خمسة اعياد
অর্থ: প্রত্যেক মুমিনের জন্য মাসে চারটি / পাচটি ঈদ রয়েছে।

“হাশিয়াতুত তহতাবী”-ইমাম তাহতাবীর লেখা কিতাবে ৫২৭পৃষ্ঠায় বাবু আহকামু ঈদাইন এ অধ্যায়ের হাদিসটি উল্লেখ করা হয়োছে।

এটার কোন সনদ পাওয়া যায় না। উনারাও কেউ কিতাবে সনদ উল্লেখ করেন নাই। তবে সবাই গ্রহনযোগ্য বলে মেনে নিয়েছেন বলেই স্ব স্ব কিতাবে দলীল হিসাবে উল্লেখও করেছেন। কেউ জাল বলেননি। হিদায়ার হাশিয়ায় দেওবন্দীদের মুরুব্বী আব্দুল হাই লখনবীও এ হাদীছ এনেছে।
বিদয়াতি ওহাবীরা কি এ হাদীছ শরীফ জাল বলে উড়িয়ে দিবে??

বিখ্যাত ওলী আল্লাহ, হাজার বছরের মুজাদ্দিদ , হযরত মুজাদ্দিদে আলফে সানী রহমতুল্লাহি আলাইহি “মাকতুবাত শরীফ” একাধিক স্থানে

لِـىْ مَعَ اللهِ وَقْتٌ لَا يَسْعَنِىْ فِيْهِ مَلَكٌ مَّقَرَبٌ وَلَا نَبِىُّ مُّرْسَل

এ হাদিছটা এনেছেন,যার কোনো সনদ বাহ্যিকভাবে পাওয়া যায় না। এখন কি জাল বলে ছুড়ে ফেলে দিবেন? উনার মত বুজুর্গকে জালিয়াত বলবে? নাউযুবিল্লাহ।
এই ওহাবীদের মুরুব্বী ওয়াহীদুয যামান তার “লুগাতুল হাদীছ” নামক কিতাবে ২য় খন্ড ৬৭পৃষ্ঠায় একখানা হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছে,
السخي حبيب الله ولو كان فاسقا والبخيل عدو الله ولو كان عابدا
দানশীল ব্যাক্তি আল্লাহ পাক উনার বন্ধু যদিও তিনি গুনাহগার হন। আর কৃপণ ব্যাক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার দুশমন যদিও সে ইবাদতগুজারী হয়।(লুগাতুল হাদীছ ২য় খন্ড ৬৭পৃষ্ঠা,লেখক: হযরত আল্লামা ওয়াহীদুয যামান প্রকাশনা: কুতুবখানা মারকাযে ইলম ও ওয়া আদব আরামবাগ, করাচী, পাকিস্তান)

উক্ত হাদীছ শরীফখানা লুগাতুল হাদীছ কিতাবে উল্লেখ করলেও অন্যান্য কিতাবসমূহেগ উক্ত হাদীছকে ভিত্তিহীন. বাতিল, উ’পত্তিহীন ইত্যাদী দোষে দুষিত হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। সনদ উল্লেখ না থাকার পরও এ হাদীছ শরীফ অনেক কিতাবে দলীল হিসাবে এসেছে।

তাবলিগীদের “ফাযায়েলে আমলের” ফাজায়েলে নামাযে ৮৯পৃষ্ঠায় একটা হাদীছ শরীফ আছে,
وفي الحديث : “من ترك صلاة حتى مضى وقتها ثم قضى عذب في النار حقباً” والحقب ثمانون سنة كل سنة ثلاثمائة وستون يوماً كل يوم ألف سنة مما تعدون يعني ترك الصلاة إلى وقت القضاء إثم لو عاقب الله به يكون جزاءه هكذا ولكن الله يتكرم بأن لا يجازي به إذا تاب عنه كذا في “مشكاة الأنوار” وفي الحديث : “خمسة لا تطفأ نيرانهم ولا تموت ديدانهم ولا يخفف عنهم
অর্থঃ- “যে ব্যক্তি নামায তরক করলো, এমনকি নামাযের ওয়াক্ত শেষ হয়ে গেল, অতঃপর সে ব্যক্তি তার ক্বাযা আদায় করলো, সে জাহান্নামে এক হুক্বা শাস্তি ভোগ করবে। আর এক হুক্বা হচ্ছে ৮০ বছর এবং এক বছর হচ্ছে ৩৬০ দিন, প্রতিটি দিন হচ্ছে- হাজার বছরের সমান।” (মাজালিসুল আবরার, আল্ মানাসিক, তাফসীরে রুহুল বয়ান ২/২২০)

অথচ এ হাদীছ শরীফের কোন সনদ পাওয়া যায় না। কিন্তু হাজার হাজার জায়গায় তাবলিগীরা ফাযায়েলে আমলে এই হাদীছ শরীফ পড়ছে। ওয়াযও করছে। মাওলানা যাকারিয়া এই হাদীছকে যদি হাদীছ বলে না মানলে এটা কিতাবে আনার যৌক্তিকতা কি?
এছাড়া ফাযায়েলে আমলে এমন আরো অনেক হাদীছ শরীফ আনা হয়েছে যার সনদ বাহ্যিক ভাবে ভাবে পাওয়া যায় না। কোন কোন নির্ভরযোগ্য ইমাম উনাদের কিতাবে উল্লেখ করেছেন বলেই গ্রহনযোগ্য বিধায় ফাযায়েলে আমলে যাকারিয়া সাহেব এনেছেন।
দেওবন্দীদের অন্যতম মুরুব্বী যারা তাকে শায়খুল হাদীছ বলে থাকে। হামিদিয়া লাইব্রেরীর থেকে প্রকাশিত তাদের শায়খুল হাদীছ আজিজুল হক বোখারী শরীফের টীকা বুখারীর ২য় পৃষ্ঠায় “সর্বপ্রথম সৃষ্টি হযরত মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম” অধ্যায়ে লিখেছে:
“অলিকুল শিরোমণি শায়েখ মুহিউদ্দিন ইবনে আরাবী শায়েখে আকবরী রহমতুল্লাহি আলাইহি কর্তৃক এলহামে প্রাপ্ত এবং পূর্বাপর ওলী ও সূফী তথা আধ্যাতিকতায় ধৈন্য মহানগণ কর্তৃক গৃহিত আল্লাহ তায়ালার বানীতে উল্লেখ আছে-

كنت كنز مكفيا فاحببت…
অর্থ: আমার সত্তা (জানিবার কেহ না জানায়) অজানা ছিল; আমার ইচ্ছা হইল(আমার গুণাবলির মাধ্যমে আমাকে প্রকাশ করা) আমাকে জানান। সেমতে আমি সৃষ্টি করি জগত।”
এই হাদীছে কুদসী শরীফের সমর্থন দিতে আজিজুল হক কুরআন শরীফের আয়ত সমর্থন হিসাবে দলীল দিয়ে বলেছেন,
এই বানীর মর্ম কোরআনের একটি আয়াত দারাও সমর্থিত আল্লাহ তায়ালা বলেছেন:

وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ
জিন এবং ইনসান এই দুটি জাতিকে আমি একমাত্র আমার ইবাদত বন্দেগী করার জন্য সুষ্টি করেছে।”
সনদ বিহীন একটা হাদীছে কুদসীকে সমর্থন দিতে আজিজুল হক কুরআন শরীফের দলীল দিয়েও আলোচনায় আনলো। এর ব্যাখ্যা কি?

এরপর হযরত জাবের রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর বর্নিত নুর মুবারকের বর্ননার হাদীছ খানা বর্ণনা করে। আমরা যে সনদখানা জুয উল মাফকুদের বরাতে উল্লেখ করি সেটাতো বর্তমান দেওবন্দীরা মানে না। তাহলে তাদের মুরুব্বীর মুরুব্বী আজিজুল হক কিসের ভিত্তিতে সে হাদীছ শরীফ খানা উল্লেখ করলো? তাদের আশরাফ আলী থানবী একাধিক কিতাবে কোন ভিত্তিতে সে হাদীছ শরীফ খানা আনলো?
তাদের মুরুব্বী মুফতী শফী মা’রেফুল কুরআনে কিসের ভিত্তিতে আনলো?
তাদের ৬০ বছর দেওবন্দ মাদ্রসায় দরস দেয়া ক্বারী তৈয়ব কোন ভিত্তিতে তার কিতাবে আনলো?

সনদ বর্নিত না থাকলেই যাদি হাদীছ শরীফ গায়রে সহীহ হয়ে যায় তাহলে এই কিতাব ও তার দলীলের ফয়সালা কি? কওমীদের অন্যতম মুরুব্বী মাসিক মদীনার সম্পাদক মুহিউদ্দীন খান তার কিতাবে কি লিখেছে দেখেন-
প্রথমে কিতাবে বর্ণিত ঘটনাবলীর গ্রহনযোগ্য সর্ম্পকে মাহিউদ্দীন নিজেই লিখেছে,
“স্বপ্নযোগে রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম”-মাহিউদ্দিন খান রচিত এ কিতাবের মুকাদ্দিমায় বলেছে: “একারণে রসুলুল্রাহর সাক্ষাত লাভ সম্পর্কিত প্রাপ্ত ঘটনাবলি সম্পর্কে আমাকে পূর্ণ সচেতনতা অবলম্বন ও যথেষ্ট যাচাইবাছাই করতে হয়েছে। মনে সামান্য সন্দেহের উদ্রেগ হয়েছে এমন কোনো ঘটনা আমি পাঠকের নিকট পৌছানোর দুঃসাহস সচেতনভাবেই করিনি।”

স্বপ্নযোগে রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-মাহিউদ্দিন রচিত-১৪পৃষ্ঠায় :
“অপরদিকে স্বপ্নেপ্রাপ্ত নির্দেশ যদি শরীয়তের অনূকূলে হয় তবে সেগুলো মান্য করা উত্তম। বিশিষ্ট মুহাদ্দিছগন অনেকেই হুযূর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট থেকে ইলমের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পথনির্দেশ পেয়েছেন বলে বিশুদ্ধ বর্ণণা রয়েছে। বিশেষ কোনো একখানা হাদিস সম্পকের্ং হয়তো তারা সন্দেহে পতিত হয়েছেন। সাক্ষাত লাভের সময় তারা জিজ্ঞাসা করেছেন হাদিসখানা শুদ্ধ কিনা। জিজ্ঞাসার জবাবে হযরত নবী করিম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুদ্ধ সম্পর্কিত মীমাংসা বলে দিয়েছেন। একই প্রক্রিয়ায়ং জাগ্রত অবস্থাতেও অনেকে হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট থেকে অনেক অমূল্য জ্ঞান লাভ করেছেন বলে প্রচুর বর্ণনা রয়েছে।
একই বইয়ের ৬৮পৃষ্ঠা: শায়খ আবুল মাওয়াহেব সাজ্জালী রহিমাহুল্লাহ বলেন আমি একবার স্বপ্নযোগে রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাক্ষাত লাভ করলাম এবং দুটি হাদিসের শুদ্ধাশুদ্ধ সম্পর্কে প্রশ্ন করলাম। হাদিস দুটি হলো-
ক) এমন ভাবে আল্লাহর যিকির কর যেন মানুষ তোমাকে পাগল বলে।
খ) ইবনে হিব্বানের বর্ণনায় রয়েছে আল্লাহর যিকির এত অধিক পরিমানে কর যেন লোকে তোমাকে পাগল সাব্যস্ত করে।
রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করলেন দুটি বর্নণায় ঠিক। আমি দুবার এই একই বিষয়বস্তু দুভাবে বলেছি, দুটি বক্তব্যই আমার।”
উক্ত বইয়ের ৫৫ পৃষ্ঠায়; প্রখ্যাত মুহাদ্দিছ শায়েখ রাজিউদ্দিন হাসান সাকানী কুতুবুদ্দিন আইবেকের শাসনামলে আবগানিস্থান থেকে আগমন করেন এবং বাদাউনে বসতি স্থাপান করেন। ‘মাশায়েকুল আনোয়ার’ নামক বহুল প্রচলিত হাদিসগ্রন্থখানা তার সংকলিত। ২২৪৬খানা হাদিস এ কিতাবে সংকলিত হয়েছে। হযরত নিযামুদ্দিন আউলিয়া রহমাতুল্লাহ বলেন; কিতাব সংকলেন সময় কোনো হাদিস সম্পর্কে সন্দেহ দেখা দিলে হযরত শায়েখ স্বপ্নযোগে রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাক্ষাত লাভ করতেন। রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বয়ং সংশ্লিষ্ট হাদিসের শুদ্ধাশুদ্ধ বলে দিতেন। ”

উক্ত কিতাবের ৬০ পৃষ্ঠায় আরো উল্লেখ আছে, “ইমাম ইয়াফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, ‘শায়খ আবুল হাসান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পৌত্রগণ উনাদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি আমাকে বলেন, আমার দাদা তিনি হযরত ইমাম গাযযালী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ‘ইহয়াউল উলুম’ কিতাবখানা হাদীছ শরীফ-এর খেলাফ বলে মনে করতেন। একবার তিনি উনার নিকট রক্ষিত ‘ইহয়াউল উলুম’-এর একটি কপি জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন। সে দিনটি ছিল বৃহস্পতিবার। জুমুয়ার রাতেই তিনি স্বপ্নে দেখলেনঃ রসূলে মকবুল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বসে আছেন। সঙ্গে হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম এবং হযরত উমর ফারূক আলাইহিস সালাম সহ অনেকেই রয়েছেন। সে মজলিসে হযরত ইমাম গাযযালী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনিও উপস্থিত। আমার দাদাকে দেখতে পেয়ে হযরত ইমাম গাযযালী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি একখানা ‘ইহয়াউল উলুম’ কিতাব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র হাত মুবারক তুলে দিয়ে আরজ করলেন, “ইয়া রসুলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এ ব্যক্তি আমার কিতাবখানাকে হাদীছ শরীফ-এর খেলাফ বলে আখ্যায়িত করে এর একটি কপি জ্বালিয়ে দিয়েছে। আপনি ফায়ছালা দিন, যদি আমার এ কিতাবে হাদীছ শরীফ বিরোধী কিছু থেকে থাকে, তবে আমি আল্লাহ পাক উনার নিকট ক্ষমা চাইব। আর যদি আপনার বিবেচনায় আমার এই কিতাব ঠিক হয়ে থাকে, তবে আমি এ ব্যক্তির এহেন শত্রুতামূলক আচরণের বিচার চাই।”
হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কিতাবখানা আগাগোড়া নেড়েচেড়ে ও পড়ে দেখলেন এবং রায় দিলেন, “বেশ ভাল হয়েছে। এর মধ্যে হাদীছ শরীফ-এর খেলাফ কোন কিছু নেই। অতঃপর নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমার দাদার জামা খুললেন এবং উনার পিঠে পাঁচ ঘা বেত মারলেন। অতঃপর হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম তিনি অগ্রসর হয়ে আরয করলেন, “ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এ ব্যক্তি হাদীছ শরীফ-এর প্রতি মাত্রাতিরিক্ত মুহব্বতের কারণেই ইমাম গাযযালী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কিতাবের প্রতি বিরূপ হয়েছে; ব্যক্তিগত কোন শত্রুতার কারণে নয়। সুতরাং সে ক্ষমা পাওয়ার যোগ্য।” হযরত আবু বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম উনার এ বক্তব্য শোনার পর ইমাম গাযযালী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি আমার দাদার অপরাধ ক্ষমা করে দিলেন। …….।”
ফুরফুরা শরীফের ইতিবৃত্ত-ইসলামীক ফাউন্ডেশন প্রকাশিত মুবারক আলী রাহমানী লিখিত-৭৬-৭৭পৃষ্ঠায়: শামসুল উলামা আল্লামা পীর গোলাম সালমানী আব্বাসী ফুরফুরাবী থেকে আল্লামা পীর রুহুল আমীন রহমতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন; এক সময় কলিকাতায় বিবি সালেটের মসজিদে হযরত সূফী সাহেবের খিদমতে কলিকাতা মাদ্রাসা আলীয়ার মুদাররিস হযরত মাওলানা সায়াদাত হোসেন বসেছিলেন। হযরত সুফী সাহেব একটি হাদীছ বর্নণা কতেছিলেন। তৎশ্রবণে মাওলানা সাহেব বললেন হুযুর এ হাদীছটি সহীহ নয়। সুফী সাহেব বলেন না মাওলানা ‘সহীহ হাদীছ’। এমতাবস্থায় হঠাৎ তিনি অচৈতন্য হয়ে যান। হযরত সুফী সাহেব মাওলানা গোলাম সালমানীকে বলেন-বাবা, তুমি মাওলানার মাথায় পানি ঢেলে দাও। সেবা যতেœর পর চৈতন্য লাভ করে তিনি বলেন-হ্যা সুফী সাহেব হাদীছটি সহীহ। মাওলানা সাহেব চলে যাওয়ার পর হযরত সুফী সাহেবকে জিজ্ঞাসা করায় তিনি বলেন-তিনি একটি হাদীছ সম্পর্কে অস্বীকার করেছিলেন, এজন্য ইস্তিসরাকের ফায়েজ নিক্ষেপ করে নবীজির যিয়ারত করে দিলাম। নবীজি বললেন হে সায়াদাত হোসেন ইহা আমার সহীহ হাদিছ। ”

বাহ্যিক ভাবেই সনদ না পেলেই সেটাকে জাল বলা যাবে না। বরং জাল বলার জন্য শর্ত এমন না। এই ধোঁকাবাজরা মানুষ ধোঁকা দিতে মনগড়া উছুল বলে বেড়ায়। তারা যে উছূল বলে এসব কি বিখ্যাত মুহাদ্দিছ ইবনে হাজার হায়তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি জানতেন না? যদি জানতেন তবে কি জেনে শুনে জাল হাদীছ বর্ননা করেছেন? নাউযুবিল্লাহ।

বরং উনার কাছে সহীহ সনদ ছিলো বলেই তিনি বর্ণনা করেছেন। মীলাদ শরীফের কিতাব বলে সনদ উল্লেখ করেন নাই।তাই যারা সনদ নাই বলে হাদীছ শরীফ গুলো উড়িয়ে দিতে চায় তারা মূলত মিথ্যাবাদী, প্রতারক, ধোঁকাবাজ। সেই সাথে ইমাম মুহাদ্দিস উনাদের প্রতি মিথ্যা অপবাদ দানকারী।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে