সম্প্রতি ক্রাইস্টচার্চে ঘটে যাওয়া ঘটনা সম্প্রতি ক্রাইস্টচার্চে ঘটে যাওয়া ঘটনা প্রসঙ্গে


মুসলমানরা যদি ইহুদীবাদীদের খপ্পর থেকে বের হয়ে আসতে চায়, তবে তাদের ‘টাইম-নলেজ-মানি’ এই তিনটি বিষয় নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। যতদিন এগুলো অমুসলিমদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে, ততদিন মুসলমানরা কিছুই করতে পারবে না, তাদেরকে অমুসলিমদের নিয়ন্ত্রণ স্বীকার করে নিতে হবে। যদি মুসলমানরা চায়, ফের মুসলমানদের উত্থ্যান ঘটুক, তবে ‘টাইম-নলেজ-মানি’ এই তিনটি বিষয় নিজেদের মধ্যে জমা করা জরুরী। (https://bit.ly/2JfYeKT)

সম্প্রতি ক্রাইস্টচার্চে ঘটে যাওয়া ঘটনায় নিহতদের প্রায় সবাই নিউজিল্যান্ডের অভিবাসী, কেউ নিউজিল্যান্ডের মূল নিবাসী নয়। লক্ষ্যনীয় বিষয় হলো প্রায় সবাই উচ্চ শিক্ষিত (নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশীদের অধিকাংশ পড়ালেখা করতে গিয়ে স্থায়ীভাবে থেকে যায়)। এ লোকগুলো যদি নিজ দেশে থাকতো, তবে একেবারে না খেয়ে মারা যেতো না, হয়ত ৩০-৫০ হাজার টাকা বেতনের চাকুরী করতো। কিন্তু ১-২ লাখ টাকা বেতনের আশায় লোকগুলো নিজ মুসলিম অধ্যুষিত দেশ ছেড়ে অমুসলিমদের কাছে তার জ্ঞান (নলেজ) বিক্রি করতে এসেছে। তার নলেজ মুসলিমদের অধীনে জড়ো না করে, অমুসলিমদের অধীনে জড়ো করেছে। দিন শেষে ঐ অমুসলিমরাই তার জীবন কেড়ে নিলো।

কয়েক বছর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্র্যাম্প যখন ৭টি মুসলিম দেশ থেকে অভিবাসী নেয়ার বিরুদ্ধে আইন করলো, তখন কিন্তু এর প্রতিবাদ করেছিলো ফেসবুক, গুগল ও অ্যাপলসহ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শতাধিক বড় বড় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান। কারণ তাদের কোম্পানি টিকে আছে মুসলমানদের মেধার উপর ভিত্তি করে। মুসলমান আসা বন্ধ হয়ে যাওয়া মানে তাদের কোম্পানিগুলো মেধাশূণ্য হয়ে যাবে। আর মেধাশূণ্য হওয়া মানে তাদের পথে বসে যাওয়া। (https://tinyurl.com/y3bbov7q)
এখানে লক্ষ্যনীয়, মুসলমানদের নলেজ জড়ো করে ইহুদীবাদীরা তাদের সম্রাজ্যবাদ তৈরী করছে, তবে মাঝে মাঝে তারা কিছু আগাছা ছাটে, যেন মুসলমানরা স্মরণ রাখে তারা ইহুদীবাদীদের নিয়ন্ত্রণেই আছে।

আমার এ লেখার পর দুই শ্রেণী এর বিরুদ্ধে যাবে,
১) যারা মনে করে, অমুসলিম দেশে গিয়ে সংখ্যা বৃদ্ধি করে এবং অনেক অমুসলিমকে কনভার্ট করে এক সময় মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল তৈরী করবে।
২) যারা মনে করে, দেশ মেধাবীদের সুযোগ দেয়া হয় না, এজন্য তারা বিদেশ যেতে বাধ্য হয়।

প্রথম দলের যুক্তির উত্তর হলো, আপনি যে প্ল্যানে অমুসলিম দেশ দখলের প্ল্যান নিয়েছেন, সেটা আমার কাছে অনেকটা অলীক কল্পনা মনে হয়। আমাদের এ অঞ্চল থেকে যেসব মুসলমান শেতাঙ্গদের দেশে যায়, প্রথম প্রজন্ম হয়ত ধর্ম-কর্ম কিছু করে। কিন্তু দ্বিতীয় আর তৃতীয় প্রজন্ম আসতে আসতে তারা ধর্ম-কর্ম ছেড়ে পশ্চিমা কালচার ও ধর্মের কাছে একেবারে বিলীন হয়ে যায়। আর মাঝে মাঝে যদি ক্রাইস্টচার্চের মত ঘটনা ঘটে, তবে মুসলমানরা যে শৃঙ্খলাবদ্ধ সেটাও আবার স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়।
অমুসলিমদের অধীনে থাকলে, সেখানে মুসলমারনরা কিন্তু শিকড় দৃঢ় হতে পারে না, ১ ব্রেন্টন পুরো মুসলিম কমিউনিটিকে হুমকির মুখে ফেলি দিতে পারে, কিন্তু মুসলমানদের আন্ডারে টাইম-নলেজ-মানি গ্যাদার করলে শত অমুসলিম রাষ্ট্র এসে কিছু করা দুষ্কর, উল্টো তারাই মুসলমানদের কর্তৃত্ব স্বীকার করে নিতে বাধ্য। তাই আমি যে প্ল্যান বললাম, মানে মুসলমানদের অধীনে টাইম-নলেজ-মানি গ্যাদার করা, সেটা করলে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে মুসলমানদের অধীনে ফল পাওয়া সম্ভব।
দ্বিতীয়ত যারা মনে করেন,
“দেশে মেধাবীদের সুযোগ দেয়া হয় না, তাই তারা বিদেশ যায়”, আমি ব্যক্তিগতভাবে এই যুক্তি মানতে নারাজ। দেশ তো আমার-আপনার মাধ্যমেই গঠিত, আমাকে-আপনাকেই সুযোগ করে নিতে হবে। কোন ব্যক্তি যদি সত্যিই মেধাবী আর পরিশ্রমী হয়, তবে অ্যামাজন জঙ্গলে গিয়েও সে তার সুফল পেতে পারে, এটাই আমার বিশ্বাস। ঐ লোকগুলো অমুসলিম দেশের ইউনিভার্সিটির একটা ডক্টরেট ডিগ্রি নামের সামনে লাগানোর জন্য যে রাত-দিন পরিশ্রম আর মেধা খরচ করে, সেটা যদি সে নিজ দেশে করতো, তবে আমি নিশ্চিত আরো বেশি টাকা সে ইনকাম করতে পারতো। এক্ষেত্রে তারা দেশ বা সরকারকে যতই দোষ দিক, আসল দোষ দিতে হবে তাদের চিন্তাধারার- “অমুসলিম মানেই ভালো, শান্তি, সুন্দর, টাকা ইত্যাদি, ইত্যাদি……” এই ধারণার। এই ধারণা থেকেই সে নিজের মুসলিম দেশের সাথে বেঈমানি করে অমুসলিমদের কাছে নিজের জ্ঞান বিক্রি করতে যায়, দিন শেষে তাদেরকে ঐ অমুসলিমরাই ইদুরের মত গুলি করে মারে।
কবি ইকবাল এক কবিতায় তার এক বন্ধুর কথা বলেছিলো, যে বন্ধু অনেক লেখাপড়া করে শেষে ব্রিটিশদের অধীনে চাকুরী নিয়েছিলো। এরপর সেই ব্রিটিশ চাকর থাকা অবস্থায় হঠাৎ একদিন মরে গেলো:

احباب نے کے نمےء کرگےء بیے کیا نوکر ہوئے اور مرگے
বাংলা – আহবাবনে কিয়ে নুমায়ে কারগিয়ে , বিয়ে কিয়া নুওকর হুয়ে আওর মার গিয়ে ।
অর্থ – বন্ধু আমাকে কি দেখালো , সে বিয়ে পাশ করলো (ব্রিটিশ) চাকর হলো, আবার মারা গেলো ।

বাংলাদেশের শিক্ষিত মেধাবী সমাজের মাথায় ঢুকায় দেয়া হইছে, আমাকে চাকর হইতে হবে, চাকুরী করতে হবে। দেশে চাকুরী নাই, তাই বিদেশে যাও।
কেন বাংলাদেশে চাকুরী নাই, কিন্তু ব্যবসা বা উৎপাদন কি বন্ধ আছে ?
সে যে টাকা খরচ করে বিদেশ যায়, সে টাকা নিয়ে নিজের মেধা খাটায় নতুন কিছু চেষ্টা করুক ।
উদাহরণ: পুরান ঢাকায় এত হাজার হাজার ব্যবসা, কারখানা
বেশিরভাগ ব্যবসায়ী হচ্ছে স্বল্বশিক্ষিত, অনেকে আছে পড়ালেখাই জানে না। এরা প্রায় সবাই প্রযুক্তি বিমুখ। মেধাবীরা সেখানে যায় না।
মেধাবীরা যদি সেখানে যেতো, ঐসব শিল্প-কারখানায় প্রযুক্তি আর জ্ঞানের ছোয়া দিতো,
তবে বাংলাদেশের নিজস্ব শিল্প-বাণিজ্যের অনেক উন্নয়ন হতো
আজকে পুরান ঢাকায় এই বিশাল শিল্পজোনে যদি মেধাবীরা থাকতো, তবে ষড়যন্ত্রকারীরাও কূটচাল করে তাদের সাথে পেরে উঠতো না।মেধাবীরা একটা উপায় বাতলে দিতো এবং দেশের সম্পদকে আরো উন্নতির দিকে নিয়ে যেতো।

এছাড়া কৃষিখাত, মৎস খাত, পশু উৎপাদন খাতেও রয়েছে অসীম সম্ভবনা।
সুযোগ অশেষ আছে, উৎপাদন করে শুধু মেধা খাটায় বাজারজাত করতে হবে।
কিন্তু আজকে দেশের মেধাবীরা সে কাজ করতে নারাজ।
তারা দেশ ছেড়ে ফকিরের মত অমুসলিম দেশে বর্গা খাটতে যায়।
ইউরোপ থেকে সন্ত্রাসীদের নির্বাসন দেয়ায় যে অস্ট্রেলিয়ার সৃষ্টি হয়েছে,
সেই সব দাগী সন্ত্রাসীদের মুখে শুনতে হয়, “তোমরা আমাদের দেশে কেন আসছো, ভাগো আমাদের দেশ থেকে। নয়ত গুলি করে মারবো।”

—————————————————-
খুনি সন্ত্রাসী ব্রেন্টন কিন্তু একা কোন ব্যক্তি নয়, সে একটি বৃহৎগোষ্ঠীর সদস্য।
অভিবাসীবিরোধী জাতীয়তাবাদীদের উত্থান এখন দেশে দেশে।
অস্ট্রেলিয়া, ভারত, মিয়ানমার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপের অনেকরাষ্ট্রেই জাতীয়তাবাদীরা এখন বৃহৎগোষ্ঠী,
এবং তাদের ভোট অধিক বলেই, অভিবাসীবিরোধী সরকারগুলো এখন নির্বাচনে জয়লাভ করতেছে।
তাই ব্রেন্টন ধরা পড়লেই খুশি হওয়ার কিছু নেই, তার ৮৭ পৃষ্ঠার মেনিফেস্টোতে সে অমুসলিম শাসিত রাষ্ট্রগুলো মুসলিমমুক্ত করার যে ঘোষণা দিয়েছে, সেটার দিকে খেয়াল দেয়া উচিত। তারমানে সামনে ব্রেন্টনের কাজের ধারাবাহিকতা আরো হতে থাকবে। তাই যেসব মুসলিম মেধাবী অমুসলিমদের কাছে গিয়ে নিজের মাথা বিক্রি করে দুই পয়সা বেশি ইনকামের ধান্ধা করতেছেন, আপাতত সেটা সে চিন্তা বাদ দিয়ে নিজ দেশেই কিছু করার চেষ্টা করুন।

নয়ন চ্যাটার্জী—-পেইজ থেকে সংগৃহীত…….

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে