সম্মানিত ইলমে তাসাউফ ব্যতীত হাক্বীক্বী ঈমানদার হওয়া এবং মুহব্বত-মা’রিফত অর্জন করা সম্ভব নয়।


 

সমস্ত হাদীছ শরীফ উনাদের মূল “উম্মুল হাদীছ শরীফ” হচ্ছেন-

لا يؤمن أحدكم حتى أكون أحبَّ إليه من ولده ووالده والناس أجمعين وفي الرواية الأخرى من ماله ونفسه.

অর্থ: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার হতে পারবেনা, যতক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের পিতা-মাতা (ও পূর্বপুরুষ), সন্তান-সন্ততি (ও বংশধর), পৃথিবীর সমস্ত মানুষ এবং নিজের মাল-সম্পদ এমনকি নিজের জীবন থেকেও বেশী আমাকে অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মুহব্বত না করবে।” সুবহানাল্লাহ্

আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাহিস সালাম (সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফা উমর ফারূক্ব আলাইহিস সালাম) তিনি একজন স্পষ্টভাষী ছাহাবী ছিলেন। তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মুহব্বত মুবারক করার বিষয়টি অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করার জন্য জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আমার পিতা-মাতা, আল-আওলাদ, মাল-সম্পদ থেকেও বেশী আপনাকে মুহব্বত করি কিন্তু আমার মনে হচ্ছে- আমি আমার জীবন থেকে বেশী আপনাকে মুহব্বত করতে পারছিনা, তাহলে কি আমি ঈমানদার হতে পারিনি?

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “নিজের জীবন থেকে বেশী মুহব্বত না করতে পারলে তো ঈমানদার হওয়া যাবেনা।”

এটা শুনে হযরত সাইয়্যিদুনা ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বাচ্চা শিশুদের ন্যায় অত্যাধিক কান্নাকাটি করা শুরু করলেন।

এটা দেখে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, আপনার এভাবে কান্নাকাটির কারণ কি?

হযরত সাইয়্যিদুনা ফারূক্বে আ’যম আলাইহি সালাম তিনি বললেন, “ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি পূর্ববর্তী ধর্ম ত্যাগ করে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেছি। আমার সম্মানিত শরীয়ত বহির্ভূত একাদিক আহলিয়া ছিলো, তাদেরকে ত্যাগ করেছি। সম্মানিত মক্কা শরীফে আমার অনেক জায়গা-জমি, মাল-সম্পদ, ব্যবসা-বাণিজ্য ছিলো তা ত্যাগ করে আপনার মুহব্বতে সম্মানিত মদীনা শরীফ হিজরত করেছি। এতকিছু করার পরেও যদি হাক্বীক্বী ঈমানদার হওয়া না যায়, তাহলে তো আমার পুরো যিন্দেগীই বৃথা। সেজন্য আমার কান্না পাচ্ছে।”

তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত সাইয়্যিদুনা ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনাকে কাছে ডাকলেন এবং উনার সম্মানিত হাত মুবারক হযরত সাইয়্যিদুনা ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার সিনা মুবারকে রাখলেন, সম্মানিত ইলমে তাসাউফ উনার পরিভাষায় ফায়িযে ইত্তেহাদী প্রদান করলেন। যার ফলশ্রুতিতে হযরত সাইয়্যিদুনা ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার এমন হাল মুবারক (অবস্থা) যাহির হলো।

তখন হযরত সাইয়্যিদুনা ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, “ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এখন আমি একজন হযরত সাইয়্যিদুনা ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম কেন আমার মতো শত-সহস্র হযরত সাইয়্যিদুনা ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম আপনার জন্য জান কুরবান করতে প্রস্তুত রয়েছি।” সুবহানাল্লাহ!

উপরোক্ত সম্মানিত ওয়াক্বিয়া মুবারক থেকে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে,
সম্মানিত ইলমে তাসাউফ উনার মূল হচ্ছে- ফায়িয-তাওয়াজ্জুহ। আর ফায়িয-তাওয়াজ্জুহ ব্যতীত হাক্বীক্বী ঈমানদার হওয়া যেমন সম্ভব নয়, ঠিক তেমনি মুহব্বত-মা’রিফত, নিছবত-ক্বুরবত, রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করা কস্মিনকালেও সম্ভব নয়।

সম্মানিত ইলমে তাসাউফ অর্জন করতে হলে প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ-মহিলা, জ্বিন-ইনসান সকলের জন্য ফরয হচ্ছে- একজন কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার নিকট বাইয়াত গ্রহণ করা এবং উনার প্রতি বিশুদ্ধ আক্বীদা হুসনে যন পোষণ করা। নিয়মিত যিকির-ফিকির ও ছবক্ব আদায়ের সাথে সাথে বেশী বেশী ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করা। যার মাধ্যম দিয়ে ফায়িয-তাওয়াজ্জুহ হাছিল করা। যে যতটুকু ফায়িয-তাওয়াজ্জুহ হাছিল করবেে, সে ঠিক ততটুকু ইছলাহ হবে। সে অনুযায়ী আক্বীদা আরো বিশুদ্ধ হবে, আরো হুসনে যন পয়দা হবে। তখন ঐ ব্যক্তির পক্ষে হাক্বীক্বী ঈমানদার হওয়া এবং মুহব্বত-মা’রিফত, নিছবত-কুরবত, রিযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক অর্জন করা এবং হাক্বীক্বী আল্লাহওয়ালা-আল্লাহওয়ালী হওয়া সহজ ও সম্ভব হবে।

বর্তমান যামানায় হাক্বীক্বী কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা হচ্ছেন- যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ্

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে