সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা, পিতা-মাতা, উস্তাদ অর্থাৎ সম্মানিত দ্বীনদার পরহেযগার ব্যক্তি উনাদের ক্বদমবুছী বা পদচুম্বন করা খাছ সুন্নত মুবারক। এটাকে বিদয়াত-শিরক বলা কাট্টা কুফরী। 


বাতিল ফিরক্বা ওহাবী খারিজী লা-মাযহাবী জামাতী দেওবন্দী তাবলীগী- এরা সকলেই পবিত্র সুন্নত আমল ক্বদমবুছী উনাকে নাজায়িয, বিদয়াত ও শিরক বলে থাকে। নাউযুবিল্লাহ! যদিও তারা তাদের বক্তব্যের স্বপক্ষে নির্ভরযোগ্য কোনো দলীল পেশ করতে পারেনি এবং ক্বিয়ামত পর্যন্ত পারবেও না ইনশাআল্লাহ!

কেননা ক্বদমবুছী বানানো ও মনগড়া কোনো আমল নয়। বরং একাধিক ছহীহ হাদীছ শরীফ উনাদের দ্বারা প্রমাণিত খাছ সুন্নত মুবারক আমল। যার স্বপক্ষে বহু নির্ভরযোগ্য ও মজবুত দলীল-আদিল্লাহ মওজুদ রয়েছে।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, যেসব বাতিল ফিরক্বাগুলো পবিত্র খাছ সুন্নত আমল ক্বদমবুছী উনাকে নাজায়িয, বিদয়াত ও শিরক বলে ফতওয়া দেয়, তাদেরই মুরব্বীদের লেখা কিতাবে ক্বদমবুছী উনাকে জায়িয ও সুন্নত বলে ফতওয়া দেয়া হয়েছে। এর দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয় যে, বাতিল ফিরক্বাগুলো মূলত মুসলমান উনাদেরকে একটি খাছ সুন্নত আমল থেকে ফিরিয়ে রাখতেই ক্বদমবুছী সম্পর্কে বিভ্রান্তকর বক্তব্য প্রচার করছে। নাউযুবিল্লাহ!
স্মরণীয় যে, সম্মানিত শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ, পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দ্বারা প্রমাণিত কোনো হালালকে হারাম অথবা হারামকে হালাল, সুন্নতকে বিদয়াত অথবা বিদয়াতকে সুন্নত হিসেবে সাব্যস্ত করা কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ যারা এরূপ করবে তারা সকলেই কাফির বা মুরতাদ হিসেবে সাব্যস্ত হবে।
এখন সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা, পিতা-মাতা, উস্তাদ অর্থাৎ সম্মানিত দ্বীনদার পরহেযগার ব্যক্তি উনাদের ক্বদমবুছী বা পদচুম্বন করা খাছ সুন্নত মুবারক আমল এ সম্পর্কিত নির্ভরযোগ্য দলীল-আদিল্লাহসমূহ ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করা হবে ইনশাআল্লাহ!
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
ان رجلا اتى النبى صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله صلى الله عليه وسلم امرنى شيئا ازداد به يقينافقال اذهب الى تلك الشجرة فادعها فذهب اليها فقال ان رسول الله صلى الله عليه وسلم يدعوك فجائت حتى سلمت على النبى صلى الله عليه وسلم- فقال لهاارجعى فرجعت- ثم اذن له فقبل رأسه ورجليه- اخرجه حاكم فى صيح الاسناد.
অর্থ: এক ব্যক্তি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট এসে বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমাকে এমন কোনো বিষয়ে আদেশ মুবারক করুন, যা আমার বিশ্বাসকে আরো বৃদ্ধি করবে। তখন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাঁকে বললেন, “তুমি ঐ গাছটিকে ডেকে আনো।” অতঃপর তিনি গাছটির নিকটে গিয়ে বললেন, নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তোমাকে ডেকেছেন। সুতরাং গাছটি এসে মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সালাম করলো। মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাকে চলে যেতে বললেন, গাছটি তখন চলে গেল। অতঃপর ঐ ব্যক্তি অনুমতি স্বাপেক্ষে মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাথা মুবারক ও উভয় ক্বদম (পা) মুবারক বুছা (চুম্বন) দিলেন। হাকিম এ হাদীছ শরীফখানা ছহীহ্ সনদে বর্ণনা করেন। (মুস্তাদরিকে হাকিম, ফতহুল বারী শরহে বুখারী জিঃ ১১ পৃঃ ৫৭, তুহ্ফাতুল আহ্ওয়াযী শরহে তিরমিযী জিঃ ৭ পৃঃ ৫২৮, আল কালামুল মুবীন পৃঃ ১৪৬)

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে