সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- পবিত্র তারাবীহ নামায উনার গুরুত্ব ও ফযীলত


পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাসের ফযীলত ও গুরুত্ব
পবিত্র তারাবীহ্ নামায উনার সম্পর্ক যেহেতু পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস উনার সাথে, সেহেতু পবিত্র তারাবীহ্ নামায উনার গুরুত্ব, ফাযায়েল ও আহ্কাম বুঝতে হলে আমাদেরকে সর্বপ্রথম পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস উনার গুরুত্ব, তাৎপর্য ও ফাযায়েল জানতে হবে বা অনুধাবন করতে হবে।
মূলতঃ মহান আল্লাহ্ পাক রব্বুল আ’লামীন তিনি পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাসকে অনেক দিক দিয়েই বরকতময় ও ফযীলতপূর্ণ করে রেখেছেন। আর পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার অনেক ফাযায়েল-ফযীলত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যেও আলোচিত হয়েছে। পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস উনার ফযীলত বর্ণনা করতে গিয়ে মহান আল্লাহ্ পাক রব্বুল আ’লামীন তিনি পবিত্র কালাম পাক উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِيْ أُنْزِلَ فِيْهِ الْقُرْاٰنُ هُدًى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِّنَ الْهُدٰى وَالْفُرْقَانِ
অর্থ: “পবিত্র রমাদ্বান শরীফ এমন একটি (বরকতময়) মাস, যে মাসে পবিত্র কুরআন শরীফ নাযিল করা হয়েছে (যা মানুষের জন্যে হিদায়েত দান কারী) এবং হিদায়েত উনার স্পষ্ট দলীল ও সত্য-মিথ্যা পার্থক্যকারী।” (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৮৫)
আর পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
الرمضان شهرالله من اكرم شهر الله اكرمه الله تعالى بالجنة.
অর্থ: “পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস হলো- মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ মাস, যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ মাসকে সম্মান করবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে জান্নাত দ্বারা সম্মানিত করবেন।” সুবহানাল্লাহ!
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস উনার ফযীলত সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عن حضرت سلمان الفارسى رضى الله تعالى عنه قال خطبنا رسول الله صلى الله عليه وسلم فى اخر يوم من شعبان فقال يايها الناس قد اظلكم شهر عظيم شهر مبارك شهر فيه ليلة خير من الف شهر جعل الله صيامه فريضة وقيام ليله تطوعا من تقرب فيه بخصلة من الخير كان كمن ادى فريضة فيما سواه ومن ادى فريضة فيه كان كمن ادى سبعين فريضة فيما سواه وهو شهر الصبر والصبر ثوابه الجنة وشهر المواسة وشهر يزاد فيه رزق المؤمن من فطر فيه صائما كان له مغفرة لذنوبه وعتق رقبته من النار وكان له مثل اجره من غير ان ينتقص من اجره شىء قلنا يا رسول الله صلى الله عليه وسلم ليس كلنا نجد ما نفطربه الصائم فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم يعطى الله هذا الثواب من فطر صائما على مذقة لبن او تمرة او شربة من ماء ومن اشبع صائما سقاه الله من حوضى شربة لايظمأ حتى يدخل الجنة وهو شهر اوله رحمة واوسطه مغفرة واخره عتق من النار ومن خفف عن مملوكه فيه غفر الله له واعتقه من النار.
অর্থ: “হযরত সালমান ফার্সী রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ্্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র শা’বান শরীফ মাসের শেষ দিন আমাদের নিকট খুৎবা মুবারক দিতেন বা ওয়াজ করতেন। (উক্ত খুৎবা মুবারকে) তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “হে লোক সকল! নিশ্চয়ই তোমাদের নিকট এক মহান মাস (পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস) উপস্থিত। এ মাসে এমন একটি রাত্র রয়েছে, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। মহান আল্লাহ্ পাক তিনি পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস উনার রোজাকে ফরজ করেছেন ও পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস উনার রাত্রি বেলায় কিয়ামুল লাইল অর্থাৎ পবিত্র তারাবীহ্ নামাযকে সুন্নত করেছেন। যে ব্যক্তি পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার মাসে একটি নফল আমল করলো, সে যেন অন্য সময়ের একটি ফরজ আদায় করলো, আর যে ব্যক্তি একটি ফরজ আদায় করলো, সে যেন অন্য মাসের সত্তরটি ফরজ আদায় করলো। পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস হলো সবরের মাস, আর সবরের বিণিময় হলো জান্নাত, এটা সহানুভূতীর মাস। এটা এমন মাস, যে মাসে মু’মিনের রিযিক বৃদ্ধি করা হয়। যে ব্যক্তি এ মাসে কোন রোজাদারকে ইফ্তার করাবে, এটা তার জন্যে গুণাহ্ মাফ ও দোযখের আগুন হতে মুক্তির কারণস্বরূপ হবে। আর সে রোজাদারের সমান সাওয়াব পাবে, অথচ রোজাদারের সাওয়াবও কম হবেনা। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহুগণ উনারা বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমাদের প্রত্যেকের তো এমন সামর্থ নেই, যদ্বারা রোজাদারকে ইফ্তার করাবো। তখন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, ‘মহান আল্লাহ্ পাক এ সাওয়াব দান করবেন তাকে, যে এক চুমুক দুধ দ্বারা অথবা একটি খেজুর দ্বারা অথবা এক চুমুক পানি দ্বারা কোন রোজাদারকে ইফ্তার করাবে। আর যে ব্যক্তি তৃপ্তি সহকারে রোজাদারকে খাদ্য খাওয়াবে, মহান আল্লাহ্ পাক তিনি তাকে আমার হাউজে কাওছার হতে পানি পান করাবেন, যার কারণে জান্নাতে প্রবেশ করা পর্যন্ত তার পিপাসা লাগবেনা।’ এটা এমন এক মাস, যে মাসের প্রথম দশদিন “রহ্মত” দ্বিতীয় দশদিন “মাগফিরাত” আর তৃতীয় দশদিন হচ্ছে জাহান্নাম হতে নাযাত পাওয়ার। আর যে ব্যক্তি পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাসে তার কর্মচারীর কাজ কমায়ে দিবে, মহান আল্লাহ্ পাক তাকে ক্ষমা করবেন ও জাহান্নাম থেকে নাযাত দিবেন।” সুবহানাল্লাহ! (বায়হাক্বী ফী শু’বিল ঈমান)
উপরোক্ত সংক্ষিপ্ত আলোচনা দ্বারা এটা স্পষ্ট প্রমাণিত হলো যে, পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস উনার ফাযায়িল- ফযীলত, মর্যাদা-মর্তবা অপরিসীম। কাজেই মহান আল্লাহ্ পাক রব্বুল আ’লামীন উনার দরবারে অসংখ্য শুকরিয়া এজন্য যে, মহান আল্লাহ্ পাক তিনি পবিত্র, বরকতময় ও ফযীলতপূর্ণ মাস পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাসে আমাদেরকে পবিত্র তারাবীহ্ নামায দান করে, পবিত্র তারাবীহ্ নামায উনার ফাযায়েল-ফযীলত ও গুরুত্বকে আরো বহুগুণে বৃদ্ধি করে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে