সম্মানিত খিলাফত মুবারক পরিচালনায় যেরূপ ছিলেন খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন আলাইহিমুস সালামগণ


খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেছেন,“তোমাদের জন্য আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যে রয়েছে সর্বোত্তম আদর্শ।” অর্থাৎ সমস্ত কায়িনাতের জন্য মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন সর্বোত্তম আদর্শ।”
অন্য পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যা এনেছেন তা আঁকড়ে ধর এবং যা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন তা থেকে বিরত থাক।”
সম্মানিত খিলাফত মুবারক পরিচালনাসহ জীবনের সর্বক্ষেত্রে উপরোক্ত পবিত্র আয়াত শরীফসমূহের উপর হুবহু মিছদাক ছিলেন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আলাইহিম তথা খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন আলাইহিমুস সালামগণ উনারা সকলে। সুবহানাল্লাহ!
উনারা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আদর্শ মুবারক কিভাবে যমীনে কায়িম করে গেছেন তার দু-একটি নমুনা এখানে উল্লেখ করা হলো।
(১)
খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি উনার সম্মানিত বিছাল শরীফ নিকটবর্তী বুঝতে পেরে উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনাকে ডাকলেন যে- মা, হিসেব করে দেখুনতো খলীফা হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত বায়তুল মাল থেকে কত টাকা ভাতা পেয়েছি। উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি হিসেব করে বললেন ছয় হাজার দিরহাম। খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি বললেন আমার ঐ জমিটি বিক্রি করে উক্ত টাকা বায়তুল মালে জমা দিয়ে দিন। তাই করা হলো।
খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম পরে আবার জিজ্ঞেস করলেন খলীফা হওয়ার পর থেকে সংসারে অতিরিক্ত কি কি জিনিস বেড়েছে তার একটি তালিকা তৈরি করুন। উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বললেন হে সম্মানিত আব্বাজান, একজন হাবসী ক্রীতদাস ও একটি উট বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্রীতদাসটি আপনার সংসারের কিছু কাজ কর্ম করে আর মুজাহিদদের তরবারী পরিষ্কার করে দেয় এবং উটটিকে পানি আনার কাজে ব্যবহার করা হয়। নিজের ভাতা দ্বারা খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি একখানা কাপড় ক্রয় করিয়া ছিলেন তাহাও উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি স্মরণ করিয়ে দিলেন। খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি বললেন আমার সম্মানিত বেছাল শরীফ উনার পর এই অতিরিক্ত মালামালগুলো আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত উমর ফারূক্ব আলাইহিস সালাম উনার নিকট পাঠিয়ে দিবেন। পরবর্তীতে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি তা-ই করেছিলেন। সুবহানাল্লাহ!
(২)
সম্মানিত ইসলামী খিলাফত উনার দ্বিতীয় খলীফা, আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন, মহান আল্লাহ পাক উনার যমীনে যিনি দ্বিতীয় সর্বোত্তম ব্যক্তিত্ব সাইয়্যিদুনা হযরত উমর ফারূক্ব আলাইহিস সালাম; তিনি উনার খিলাফতকালে একবার সিরিয়াবাসীদের অবস্থা পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্যে সেখানে গেলেন। অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করে ফেরার পথে একটি তাঁবু দেখতে পেয়ে সেখানে গেলেন। জানতে পারলেন সেখানে একজন বৃদ্ধা মহিলা অবস্থান করছেন।
তাঁবুর বাইরে থেকে বৃদ্ধা মহিলার কাছে জানতে চাইলেন খলীফা ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার ব্যাপারে আপনার কিছু জানা আছে কি? বৃদ্ধা মহিলা তখন একটু রাগের স্বরে বললো শুনেছি তিনি সিরিয়া সফর করছেন। উনার পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত আমি কোনো সাহায্য পাইনি। আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি একথা শুনে বিশেষ ব্যথিত হলেন। বললেন- মা, এতো দূরের খবর তিনি কিভাবে জানবেন। তখন সাথে সাথে আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি উক্ত মহিলার জন্য বায়তুল মাল থেকে ভাতার ব্যবস্থা করে দিলেন। সুবহানাল্লাহ!
(৩)
অন্যদিনের ঘটনা আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত খিলাফত মুবারকের অবস্থা পর্যবেক্ষনে ছদ্মবেশে বের হলেন। ঘুরতে ঘুরতে মহাসম্মানিত পবিত্র মদীনা শরীফ উনার বাইরে এসে একটি কাফেলার তাবু দেখতে পেলেন। কাফেলার লোকজন ঘুমানোর প্রস্তুুতি নিচ্ছেন। হঠাৎ শুনলেন তাবুর ভিতরে একটি শিশু খুব জোরে কান্নাকাটি করছে।
আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বাহির থেকে শিশুটির মাকে বললেন, শিশুটির কান্না থামান না কেন। তারপরও মহিলাটি কান্না থামানোর চেষ্টা করল না। তখন আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন তিনি বললেন, তোমার মতো নিষ্ঠুর মা-তো দেখি নাই যে, শিশুটি কাঁদছে অথচ তাকে শান্ত করছে না।
একথা শুনে রাগতস্বরে শিশুটির মা বললো আপনি যা জানেন না তা নিয়ে কথা বলে লাভ নাই। আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি ফরমান জারী করিয়াছেন, শিশুর মায়ের দুধ খাওয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত বায়তুল মাল থেকে ভাতা দেয়া হবে না। আমরা গরিব লোক সংসার কিভাবে চালাব? তাই শিশুটিকে দুধ ছাড়ানোর চেষ্টা করতেছি। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি একথা শুনে খুবই ব্যথিত হলেন, এবং ভাবলেন না জানি এরকম কত শিশুকে আমি কাঁদাইতেছি। অতঃপর তিনি মহাসম্মানিত পবিত্র মদীনা শরীফ উনার মধ্যে ফিরে ফরমান মুবারক জারি করলেন প্রত্যেক শিশুকে তার জন্মের দিন থেকে ভাতা দেয়া হবে। সুবহানাল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এসব বিলুপ্ত প্রায় সম্মানিত আদর্শ মুবারক পুণরায় জারি করছেন পঞ্চদশ হিজরী শতকের মহাসম্মানিত ইমাম ও মুজতাহিদ, সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম রাজারবাগ শরীফ উনার সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে