সম্মানিত দ্বীন ইসলামই নারী জাতিকে দিয়েছেন একমাত্র সম্মান ও মর্যাদা


নারী ঘটিত বিভিন্ন ফিতনায় জর্জরিত ৯৮ ভাগ মুসলমানদের এই দেশ, প্রতিনিয়ত নারীটিজিং হতে শুরু করে এসিড নিক্ষেপ, সম্ভ্রমহরণ, এমনকি হত্যা পর্যন্ত করা হচ্ছে এই দেশের নারীদেরকে। কিন্তু কেন? এই বিষয়টি কি জানা আছে? মূলত তাহলো- পবিত্র দ্বীন ইসলাম যেভাবে নারীদের সম্মান দিয়েছেন ইজ্জত দিয়েছেন, সে ইজ্জত সম্মান উনাকে ধরে না রাখার কারণে।

আজকাল কাফির-মুশরিকদের অনুসরণে একটি নারীবাদী দল রয়েছে যারা সমঅধিকার ও স্বাধীনতার দাবিতে নারী-পুরুষকে একাকার করে ফেলতে চায়, আসলে কি তা আদৌ সম্ভব? কখনো না। কেননা একজন পুরুষ যেমন কখনো নারী হতে পারবে না, ঠিক একজন নারীও কখনো পুরুষ হতে পারবে না। অনুরূপভাবে নারী-পুরুষও কখনো এক হতে পারে না। চাই তা অধিকার সম্পর্কে হোক অথবা কাজ কর্ম সম্পর্কে হোক। কেননা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার দ্বারা পুরুষ জাতির কর্মের পরিধি ও নারী জাতির কর্মের পরিধি পৃথক করে দিয়েছেন। সে অনুযায়ী যার যার স্থানে সে সম্মানিত ও মর্যাদাম-িত। সুবহানাল্লাহ! কিন্তু নারী জাতিরা আজ তাদের স্ব স্ব সম্মান না জানার কারণে, পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাকে না বুঝার কারণে তারা চরম লাঞ্ছিত, উপেক্ষিত। তারা আজ হাজারো গলা ফাটিয়ে যতই অধিকার দাবি করুক না কেন এবং যতই স্বাধীনতা দাবি করুক না কেন সম্মানিত দ্বীন ইসলাম তাদেরকে যে সম্মান ইজ্জত দিয়েছেন সে সম্মান ও ইজ্জত কখনো লাভ করতে পারবে না। ফলে তারা বর্তমান লাঞ্ছনা-গঞ্জনার পাহাড় কখনো পাড়ি দিতে পারবে না, যা বর্তমানে পারছে না।

প্রকৃতপক্ষে নারীদেরকে সমস্ত ইজ্জত সম্মান, যথাযথ অধিকার সম্মানিত দ্বীন ইসলামই দিয়েছেন। যেমন একজন মা হিসেবে একজন নারীর রয়েছে অনেক অনেক মর্যাদা, যা পৃথিবীর অন্য কারো সাথে তুলনা হয় না। এই সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে- “মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেশত।” আবার স্ত্রী হিসেবেও নারীদের রয়েছে অনেক মর্যাদা। যেমন ইরশাদ মুবারক হয়েছে- “তোমাদের মধ্যে ওই ব্যক্তি সবচেয়ে উত্তম, যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম।” সুবহানাল্লাহ! এবং স্বামীর উপর স্ত্রীর ভরণ-পোষণ ফরয করে দিয়েছেন। সাথে সাথে মহর দিয়ে বিয়ে করা স্বামীর উপর ফরয। এবং সম্মানিত দ্বীন ইসলাম নারীদেরকে কন্যা, স্ত্রী, মা, ভগ্নি হিসেবে ধন-সম্পদের ওয়ারিশও করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

কাজেই একজন নারীকে তথাকথিত সমঅধিকার ও স্বাবলম্বীতার নামে বেপর্দাভাবে রাস্তায় নামার প্রয়োজন পড়ে না। সুতরাং সকল মুসলিমা নারীদের উচিত সম্মানিত দ্বীন ইসলাম কর্তৃক প্রদত্ত সম্মান ইজ্জত ও মর্যাদা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকা, এবং হাক্বীক্বী দ্বীনি ইলিম অর্জন করা। হাক্বীক্বী দ্বীনি ইলম, দ্বীনি সমঝ না থাকার কারণে তথাকথিত আধুনিকতার খপ্পরে পড়ে মুসলিমা নারীরা এই সব নারী দিবস মা দিবস পালন করে নিজেকে অবমাননা করে। নাউযুবিল্লাহ।

মূলত, সকলের উচিত এই যামানার যিনি মহিলাদের হাদী, হেদায়তের দিক-নিদের্শনা দানকারিণী, যিনি মহিলাদের জাহির-বাতিন ইছলাহকারিণী, পবিত্র দ্বীনি ইলম দানকারিণী সাইয়্যিদাতুন নিসা, উম্মুল উমাম হযরত আম্মাজী ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করা। তাহলেই একজন নারীর পক্ষে সম্ভব হবে তার ইজ্জত সম্মান, অধিকার হিফাযত করা।

অতএব, মহান আল্লাহ পাক তিনি সবাইকে উনার মুবারক ছোহবত ইখতিয়ার করে ইস্তিক্বামত থাকার তাওফীক দান করুন। আমীন!

 

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে