সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার অন্যতম বুনিয়াদ হলেন পবিত্র যাকাত


পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
وَاَقِيمُوا الصَّلوةَ وَاٰتُوا الزَّكَوةَ وَاَطِيعُوا الرَّ‌سُولَ.
অর্থ : “আর তোমরা নামায কায়িম কর ও যাকাত প্রদান কর এবং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুগত্য কর।” (পবিত্র সূরা নূর শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৬)
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
وَلٰكِنَّ الْبِرَّ مَنْ اٰمَنَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الاٰخِرِ وَالْمَلائِكَةِ وَالْكِتَابِ وَالنَّبِيِّينَ وَاٰتَى الْمَالَ عَلٰى حُبِّه ذَوِي الْقُرْبٰى وَالْيَتَامٰى وَالْمَسَاكِينَ وَابْنَ السَّبِيلِ وَالسَّائِلِينَ وَفِي الرِّقَابِ وَاَقَامَ الصَّلٰوةَ وَاٰتَى الزَّكٰوةَ وَالْمُوفُونَ بِعَهْدِهِمْ إِذَا عَاهَدُوا وَالصَّابِرِينَ فِي الْبَاْسَاءِ وَالضَّرَّاءِ وَحِينَ الْبَاْسِ اُولئِكَ الَّذِينَ صَدَقُوا وَاُولئِكَ هُمُ الْمُتَّقُونَ.
অর্থ : “বড় সৎ কাজ হলো এই যে, ঈমান আনবে মহান আল্লাহ পাক উনার উপর, পরকালের উপর, হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের উপর, পবিত্র কিতাব উনার উপর এবং সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালামগণ উনাদের উপর। আর সম্পদ ব্যয় করবে উনারই মুহব্বতে আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতীম, মিসকীন, মুসাফির, ভিক্ষুক ও মুক্তিকামী গোলাম ও বাঁদীদের জন্য। আর নামায কায়িম করবে, যাকাত আদায় করবে, কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করবে, অভাবে দুঃখ-কষ্টে এবং যুদ্ধের সময় ধৈর্যধারণকারী হবেন। উনারাই হলেন সত্যবাদী, আর উনারাই হলেন তাকওয়া বা পরহিযগার।” (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১৭৭)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عن حضرت عمر الفاروق عليه السلام قال ما تلف مال فى بر و لا بحر الا بـحبس الزكوة.
অর্থ : “হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম তিনি বর্ণনা করেন- নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘যমীনে এবং পানিতে যেখানেই কোন সম্পদ বিনষ্ট বা ধ্বংস হয়, তা কেবল মালের যাকাত আদায় না করার কারণে।” (তবারানী শরীফ)
এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عن حضرت ابن مسعود رضى الله تعالى عنه قال قال النبى صلى الله عليه وسلم أمرتم بالصلاة والزكاة فمن لم يزك فلا صلاة له.
অর্থ : ফক্বীহুল উম্মত, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন- নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আপনারা পবিত্র নামায এবং পবিত্র যাকাত আদায়ের জন্য আদিষ্ট হয়েছেন। কাজেই যে ব্যক্তি পবিত্র যাকাত প্রদান করেনা, তার নামায কবুল হয়না।” (তাফসীরে কুরতবী, রুহুল মায়ানী, তাফসীরে খযীন ও বাগবী শরীফ)
পবিত্র ইসলাম উনার ৫টি মূল বুনিয়াদ বা ভিত্তি এর মধ্যে অন্যতম তৃতীয় মূল বুনিয়াদ বা ভিত্তি হচ্ছে পবিত্র যাকাত। যা ৮ম হিজরীতে ফরয হয়েছে। এ পবিত্র যাকাত উনাকে ব্যতিরেকে পবিত্র ইসলাম উনাকে কল্পনা করা যায় না। কেননা, কোন মুসলমান যদি সমস্ত কিছুই বিশ্বাস করে তদনুযায়ী আমলও করে কিন্তু এরপর যদি সে পবিত্র যাকাত উনাকে অস্বীকার করে কিংবা সামান্যতম তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে তাহলে তার ঈমান-আক্বীদা, আমল সব কিছু বরবাদ হয়ে কাট্টা কাফির ও মুরতাদে পরিণত হয়ে যাবে। পবিত্র যাকাত যদিও মালি ইবাদত মূলত তা হক্কুল্লাহ ও হক্কুল ইবাদ উভয়ের সাথে ওতোপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত। পবিত্র যাকাত প্রদানের ব্যাপারে পবিত্র কুআন শরীফ উনার মধ্যে সরাসরি মোট ৩২ খানা পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মাধ্যমে এবং অসংখ্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মাধ্যমে শক্তভাবে বলা হয়েছে। পবিত্র যাকাত আদায় সীমাহীন ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী ও মর্যাদা হাছিলের কারণ। সাথে সাথে প্রশান্তি, পবিত্রতা ও বরকত হাছিল করার কথাও উল্লেখ আছে। পক্ষান্তরে, পবিত্র যাকাত আদায় না করলে পবিত্র যাকাত উনার মাল-সম্পদ তার জন্য বিষধর সাপ, আগুন ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের আকৃতি ধারণ করে তাকে ভয়ানক আযাব দিতে থাকবে। সে কথাও উল্লেখ আছে। এ পবিত্র যাকাত গরীব-মিসকীন ও অভাবীদের হক। তা প্রদানের জন্য ধনীদেরকে নির্দেশ করা হয়েছে। এ পবিত্র যাকাত আদায়ে আদায়কারীর মাল পবিত্র হয়, মালে বরকত হয়, বৃদ্ধি হয়, ও তার দেহ, রক্ত, গোশত পবিত্র হয়, সন্তানাদি নেককার হয় এবং তার ও তার পরিবারের জন্য মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দোয়া করার জন্য বলেন এ সম্পর্কে আয়াত শরীফও উল্লেখ করা হয়েছে। কোন্ কোন্ মাল-সম্পদের উপর এবং কার উপর পবিত্র যাকাত ফরয। আর কোন্ কোন্ মাল-সম্পদের উপর এবং কার উপর পবিত্র যাকাত ফরয নয়, পবিত্র যাকাতযোগ্য মাল-সম্পদ এবং পবিত্র যাকাত উনার অযোগ্য মাল-সম্পদ, যেমন বর্তমানে দেখা যাচ্ছে পবিত্র যাকাত উনার টাকা দিয়ে নি¤œমানের শাড়ি-লুঙ্গি ক্রয় করে ধনী ব্যক্তিরা পবিত্র যাকাত উনার হক্বদার অর্থাৎ গরীবদেরকে তাদের ন্যায্য প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করছে এবং নিজেদের পবিত্র যাকাত বিনষ্ট করছে। নাউযুবিল্লাহ! ‘যাকাতের শাড়ি-লুঙ্গি’ নামক সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে পবিত্র যাকাত উনাকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে মুসলমানরা আজ ঈমান হারা হচ্ছে, যা ইহুদী-নাছারাদের সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র, ইহা সহ পবিত্র যাকাত উনার হুকুম-আহকাম এক কথায় বিস্তারিতভাবে পবিত্র যাকাত সম্পর্কিত আলোচনা এ কিতাবে সুবিন্যস্ত করা হয়েছে যা অধ্যয়ন করলে পবিত্র যাকাত বিষয়ে ফরয পরিমাণ ইলম অর্জিত হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহু তায়ালা।

এক নজরে পবিত্র যাকাত আদায়ের উপকারিতা

পবিত্র যাকাত প্রদানে লক্ষ-কোটি গুণে উপকারিতা, ফায়দা, রহমত বরকত, সাকীনা, মাগফিরাত ও কল্যাণ নিহিত রয়েছে তন্মধ্যে নি¤েœ কয়েকটি আলোকপাত করা হল-
১. পবিত্র যাকাত আদায়ে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মুবারক নির্দেশ পালিত হয়। সুবহানাল্লাহ!
২. পবিত্র যাকাত আদায়ের মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের পক্ষ থেকে পবিত্র যাকাতদাতা ও তার পরিবার প্রশান্তি, তথা দয়া-দান, ইহসান, রহমত-বরকত লাভ করে এবং যাবতীয় রোগ-ব্যধি, বালা-মুছীবত হতে মুক্তি লাভ করেন। সুবহানাল্লাহ!
৩. পবিত্র যাকাত প্রদানে মাল-সম্পদ পুত-পবিত্র হয় এবং বৃদ্ধি পায়। সুবহানাল্লাহ! যেমন: পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে-
يَـمْحَقُ اللهُ الرّ‌بَا وَيُرْ‌بِي الصَّدَقَاتِ
অর্থ : “মহান আল্লাহ পাক তিনি সুদকে ধ্বংস করে দেন এবং দান-ছদকা তথা পবিত্র যাকাত উনাকে বৃদ্ধি করেন অর্থাৎ দান, ছদকা ও যাকাতদানকারীর সম্পদ বৃদ্ধি পায়।” সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ২৭৬)
৪. তাকে নেক সন্তান দান করা হয়। সুবহানাল্লাহ!
৫. পবিত্র যাকাত আদায়ে তার সমস্ত পবিত্র ইবাদত-বন্দিগী কবুল হয়।
৬. পবিত্র যাকাত দাতা নিজে ও তার পরিবার পবিত্রতা হাছিল করে এবং সাখী বা দানশীল হিসেবে মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে গভীর নিসবত পয়দা হয়।
৭. মানুষের প্রিয়ভাজন ও পবিত্র জান্নাতের নিকটবর্তী হয় এবং জাহান্নাম থেকে দূরে যায়। যেমন: পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে-
اَلسَّخِىُ قَرِيْبٌ مّنَ اللهِ وَقَرِيْبٌ مّنَ النَّاسِ وَقَرِيْبٌ مّنَ الْـجَنَّةِ وَبَعِيْدٌ مّنَ النَّارِ.
অর্থ : “দানশীল মহান আল্লাহ পাক উনার নিকটে মানুষের নিকটবর্তী, পবিত্র জান্নাত উনার নিকটবর্তী এবং জাহান্নাম থেকে দূরে।” (তিরমিযী শরীফ)
আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে- اَلسَّخِىُ حَبِيْبُ اللهِ وَلَوْ كَانَ فَاسِقَا.
অর্থ : “দানশীল মহান আল্লাহ পাক উনার বন্ধু যদিও সে ফাসিক হোক না কেন।” সুবহানাল্লাহ!
৮. পবিত্র যাকাত উনার মাধ্যমে বখীল বা কৃপণতার দফতর থেকে নাম কেটে যায়। সুবহানাল্লাহ!
৯. ধনী-গরীবদের মধ্যে বৈষম্যতা দূরীভুত হয়ে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন মজবুত হয়। সুবহানাল্লাহ!
১০. দারিদ্রতা বিমোচন হয়। সুবহানাল্লাহ!
১১. ইয়াতীমের আবাসন তথা ভরণ-পোষণের চাহিদা পূরণ হয়। সুবহানাল্লাহ!
১২. খিলাফত পরিচালনার ভিত্তি সুদৃঢ় হয় এবং অর্থনৈতিক আঞ্জামে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। সুবহানাল্লাহ!
১৩. পবিত্র যাকাত খিলাফত পরিচালনায় অন্যতম অর্থনৈতিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
১৪. মহামারী, দুর্যোগ, বন্যা, জলোচ্ছাস, অতি বৃষ্টি, অনা বৃষ্টি, আগুনে পোড়া ইত্যাদি দুর্যোগ থেকে মাল-সম্পদ বিনষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা পায়। সুবহানাল্লাহ!
১৫. পবিত্র যাকাত উনার মাল পুলসীরাত পারাপারে সহায়ক হবে। সুবহানাল্লাহ!
১৬. অর্থনৈতিক অবস্থা উন্নত হয় এতে ক্রয় ক্ষমতা ও চাহিদা বৃদ্ধি পায় ফলে উৎপাদনের হারও বৃদ্ধি পেতে থাকে। সুবহানাল্লাহ!
১৭. আর্থ-সামাজিক স্বাবলম্বী হয়ে জমীনে পবিত্র জান্নাতী পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হয়। সুবহানাল্লাহ!

এক নজরে পবিত্র যাকাত আদায় না করার অপকারিতা, ভয়াবহতা ও প্রতিবন্ধকতা
পবিত্র যাকাত প্রদান না করলে লক্ষ-কোটি অপকারিতা, আযাব-গযব তথা অকল্যাণ নিহিত রয়েছে তন্মধ্যে নি¤েœ কয়েকটি আলোকপাত করা হল-
১. পবিত্র যাকাত আদায় না করলে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মুবারক নির্দেশ সরাসরি অমান্য করা হয়।
২. পবিত্র যাকাত অনাদায়ে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সাথে নিছবত বিনষ্ট হয়ে শত্রুতায় পরিণত হতে হয়।
৩. পবিত্র যাকাত অনাদায়ের মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের পক্ষ থেকে পবিত্র যাকাত দাতা ও তার পরিবার প্রশান্তি, তথা দয়া-দান, ইহসান, রহমত-বরকত থেকে বঞ্চিত হয়ে আযাব-গযবের হক্বদার হতে হয়।
৪. পবিত্র যাকাত প্রদান না করলে মাল-সম্পদ অপবিত্র হয় বরকত নষ্ট হয়ে যায়।
৫. পবিত্র যাকাত অনাদায়কারী নিজে ও তার পরিবার সকলেই অপবিত্র হয় এবং বখীল হিসেবে মহান আল্লাহ পাক উনার দফতরে নাম লেখা হয়।
৬. পবিত্র যাকাত অনাদায়কারী মানুষের অপ্রিয়ভাজন ও জাহান্নামের নিকটবর্তী হয় এবং পবিত্র জান্নাত থেকে দূরে সরে যায়।
পবিত্র যাকাত অনাদায়ের মাধ্যমে দানশীলতার দফতর থেকে নাম কেটে যায়। যেমন: পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
اَلْبَخِيْلُ بَعِيْدٌ مّنَ اللهِ وَبَعِيْدٌ مّنَ النَّاسِ وَبَعِيْدٌ مّنَ الْـجَنّةِ وَقَرِيْبٌ مّنَ النَّارِ.
অর্থ : “কৃপন ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার থেকে দূরে, মানুষ থেকে দূরে, পবিত্র জান্নাত হতে দূরে, জাহান্নামের নিকটে।” (তিরমিযী শরীফ)
আরো বর্ণিত আছে-
اَلْبَخِيْلُ عَدُوُ اللهِ وَلَوْكَانَ عَابِدَا
অর্থ : “বখীল মহান আল্লাহ পাক উনার শত্রু যদিও সে আবিদ হোক না কেন।”
৭. কোন ইবাদত-বন্দেগী কবুল হয় না।
৮. ধনী-গরীবদের মধ্যে বৈষম্যতা সৃষ্টি হয়ে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন দূর্বল হয়।
৯. দারিদ্রতা বৃদ্ধি পায়।
১০. ইয়াতীম ও গরীব-মিসকীনদের চাহিদা পূরণের তথা ভরণ-পোষণের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়।
১১. পবিত্র খিলাফত পরিচালনার ব্যাপারে অর্থনৈতিক আঞ্জামে ব্যাপক বিঘœতা সৃষ্টি হয়।
১২. অর্থনৈতিক অবকাঠামো ভেঙ্গে পড়ে। কেননা পবিত্র যাকাত প্রদান না করলে মাল-সম্পদ বিনষ্ট হয় বিধায় অর্থনৈতিক অবস্থা সামাজিক ভাবে খুবই শোচনীয় হয়ে পড়ে।
১৩. মহামারী, দুর্যোগ, বন্যা, জলোচ্ছাস, অতি বৃষ্টি, অনা বৃষ্টি, আগুনে পোড়া ইত্যাদি দুর্যোগ ও আযাব-গযবে মাল-সম্পদ বিনষ্ট হয়।
১৪. অনাদায়ী পবিত্র যাকাত উনার মাল অন্য মালের সাথে মিশ্রিত হয়ে সমস্ত মালকেই বিনষ্ট করে।
১৫. অনাদায়ী পবিত্র যাকাত উনার মাল-সম্পদ আগুন, সাপে পরিণত হয়ে তাকে আযাব দিতে থাকবে।
১৬. অনাদায়ী পবিত্র যাকাত উনার মাল পুলসীরাত পারাপারে প্রতিবন্ধক হবে। পবিত্র যাকাত উনার মাল-সম্পদ ভক্ষণ করা জাহান্নামের আগুন ভক্ষণ করা একই কথা।
১৭. পারিবারিকভাবে সকলেই ক্ষতিগ্রস্থ হয়। যেমন- নানা রকমের অসুখ-বিসুখ, অশান্তি, ঝগড়া, কলোহ, মারামারি-কাটাকাটি ইত্যাদিতে সদা ডুবে থাকতে হয়।

পবিত্র যাকাত উছূলকারীদের ফাযায়িল-ফযীলত
সম্পর্কে আলোচনা
ক) পবিত্র যাকাত উছূলকারীর ফযীলত :
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضَرَةْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالى عَنْهُ قَالَ سَـمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ الْعَامِلُ عَلٰى الصَّدَقَةِ بِالْـحَقِّ كَالْغَازِى فِى سَبِيلِ اللهِ حتّٰى يَرْجِعَ اِلٰى بَيْتِه.
অর্থ : হযরত রাফে’ ইবনে খাদীজ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ন্যায়নিষ্ঠার সাথে পবিত্র যাকাত উসূলকারী কর্মী বাড়িতে ফিরে আসা পর্যন্ত মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় জিহাদকারী গাজীর ন্যায়। (আবূ দাউদ শরীফ ও তিরমিযী শরীফ)
খ) পবিত্র যাকাত প্রদানকারীর জন্য দোয়া করা উছূলকারীর দায়িত্ব-কর্তব্য প্রসঙ্গে :
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حضرة عَبْدِ الرَّحْـمٰنِ بْنِ جَابِرِ بْنِ عَتِيكٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ عَنْ اَبِيهِ اَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ سَيَاْتِيكُمْ رَكْبٌ مُبَغَّضُونَ فَإِذَا جَاءُوكُمْ فَرَحِّبُوا بِـهِمْ وَخَلُّوا بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ مَا يَبْتَغُونَ فَإِنْ عَدَلُوا فَلأَنْفُسِهِمْ وَإِنْ ظَلَمُوا فَعَلَيْهَا وَاَرْضُوهُمْ فَإِنَّ تَـمَامَ زَكَاتِكُمْ رِضَاهُمْ وَلْيَدْعُوا لَكُمْ
অর্থ : “হযরত আব্দুর রহমান ইবনে জাবির ইবনে আতীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উনার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, উনার পিতা বলেন- নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, শীঘ্রই আপনাদের নিকট (পবিত্র যাকাত উছূলের জন্য) কতক সওয়ারী আসবেন, যাদেরকে আপনারা পছন্দ করবেন না। কিন্তু যখন উনারা আসবেন, উনাদেরকে স্বাগতম জানাবেন এবং উনারা যা চাবেন, তাই উনাদেরকে দিয়ে দিবেন। যদি উনারা আপনাদের সাথে ইনসাফ করেন, উনাদের জন্য উত্তম হবে, আর যদি এর বিপরীত করেন, তা উনাদের অকল্যাণের কারণ হবে। কিন্তু আপনারা উনাদেরকে সন্তুষ্ট রাখতে চেষ্টা করবেন। কেননা, উনাদের সন্তুষ্টির মধ্যেই আপনাদের পবিত্র যাকাত উনার পূর্ণতা রয়েছে এবং উনারাও যেন আপনাদের জন্য দোয়া করেন।” (আবূ দাউদ শরীফ)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حضرة جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ رضى الله تعالى عنه قَالَ جَاءَ نَاسٌ يَعْنِى مِنَ الأَعْرَابِ إِلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا إِنَّ نَاسًا مِنَ الْمُصَدِّقِينَ يَأْتُونَا فَيَظْلِمُونَا. قَالَ فَقَالَ أَرْضُوا مُصَدِّقِيكُمْ قَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَإِنْ ظَلَمُونَا قَالَ أَرْضُوا مُصَدِّقِيكُمْ وَإِنْ ظُلِمْتُمْ .
অর্থ : “হযরত জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, একবার গ্রাম্য আরবদের কিছু হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট এসে বললেন, (ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) পবিত্র যাকাত উসূলকারী ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা আমাদের নিকট এসে আমাদের প্রতি অবিচার করেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন- আপনারা আপনাদের পবিত্র যাকাত উসূলকারী উনাদেরকে সন্তুষ্ট রাখবেন। উনারা বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! যদিও উনারা আমাদের প্রতি অবিচার করেন? নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, আপনারা আপনাদের পবিত্র যাকাত উসূলকারী উনাদেরকে সন্তুষ্ট রাখবেন। (অর্থাৎ পবিত্র যাকাত দিবেন) যদিও আপনারা মাযলুম হন অর্থাৎ যদিও আপনাদের উপর অবিচার করা হয়।” (আবূ দাউদ শরীফ)
গ) পবিত্র যাকাত উছূলকারীকে সন্তুষ্ট করা পবিত্র যাকাত প্রদানকারীর কর্তব্য :
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عن حضرة جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا اتاكم المصدق فليصدر عنكم وهو عنكم راض.
অর্থ : হযরত জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যখন তোমাদের নিকট পবিত্র যাকাত উসূলকারী আসবেন, তখন সে যেন তোমাদের নিকট হতে তোমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যান। (মুসলিম শরীফ)
ঘ) পবিত্র যাকাত তথা উশর আদায়ের আনজাম মূলত: খিলাফতের আনজাম, তবে তা গ্রহণে যূলুম না করা প্রসঙ্গে :
যেমন : পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عن حضرة ابن عباس رضى الله تعالى عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم بعث حضرت معاذا رضى الله تعالى عنه إلى اليمن فقال إنك تأتي قوما من أهل الكتاب. فادعهم إلى شهادة أن لا إله إلا الله وأن مـحمدا رسول الله. فإن هم أطاعوا لذلك. فأعلمهم أن الله قد فرض عليهم خـمس صلوات في اليوم والليلة. فإن هم أطاعوا لذٰلك فأعلمهم أن الله قد فرض عليهم صدقة تؤخذ من أغنيائهم فترد في فقرائهم. فإن هم أطاعوا لذٰلك. فإياك وكرائم أموالـهم واتق دعوة الـمظلوم فإنه ليس بينها وبين الله حجاب
অর্থ : হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হতে বর্ণিত হয়েছে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত মুআয ইবনে জাবাল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে ইয়ামনের শাসনকর্তা করে যখন পাঠালেন, তখন বললেন- হে মুআয রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! আপনি আহলে কিতাবদের নিকট যাচ্ছেন। প্রথমে তাদেরকে এ ঘোষণা করতে আহ্বান করবেন- “মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত কোন মা’বুদ নেই এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল।” যদি তারা আপনার এ কথা মেনে নেয়, তা হলে তাদেরকে বলবেন যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদের উপর এক দিবা-রাত্রিতে পাঁচ ওয়াক্ত পবিত্র নামায ফরয করেছেন। তারা যদি তাও মেনে নেয়, তা হলে তাদেরকে বলবেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদের উপর পবিত্র যাকাত ফরয করেছেন, যা তাদের ধনীদের নিকট হতে গ্রহণ করা হবে, অতপর তাদের দরিদ্রদের প্রতি প্রদান বা ফেরত দেয়া হবে। এ ব্যাপারেও যদি তারা আপনার কথা মেনে নেয়, তবে সাবধান! পবিত্র যাকাতে আপনি বেছে বেছে তাদের উত্তম জিনিসসমূহ নিবেন না এবং বেঁচে থাকবেন মযলুমের বদ দোয়া হতে। কেননা, মযলুমের বদ দোয়া এবং মহান আল্লাহ পাক উনার মধ্যে কোন পর্দা তথা আড়াল নেই। (অর্থাৎ তাদের বদ্দোয়া নিশ্চয়ই কবুল হয়।) সুবহানাল্লাহ!
শুধু তাই নয় যাকাতের মাল-সম্পদ, টাকা-পয়সা ইত্যাদি যত হাত ঘুরে আসবে সকলেই উক্ত পবিত্র যাকাত প্রদানের ছাওয়াবের হিসসা লাভ করবে এবং হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দোয়া সকলেই পাবে। সুবহানাল্লাহ!

পবিত্র যাকাত, পবিত্র ফিতরা, পবিত্র উশর, পবিত্র মান্নত, পবিত্র ছদকা, পবিত্র কুরবানী উনার চামড়া ও তার মূল্য, দান ইত্যাদি প্রদানের সর্বোৎকৃষ্ট ও সর্বোত্তম স্থান হচ্ছে- মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ মাদরাসা

মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ মাদরাসা ও ইয়াতীমখানা, যার মহান প্রতিষ্ঠাতা এবং পৃষ্ঠপোষক হচ্ছেন মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ লক্ষ্যস্থল ওলী, আওলাদে রসূল, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, গাউছুল আ’যম, মুজাদ্দিদ আ’যম, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুনা ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম।
‘মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ’ উনার অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহ হচ্ছে এই যে, একমাত্র অত্র প্রতিষ্ঠানেই ইলমে ফিক্বাহ উনার পাশাপাশি ইলমে তাছাউফ শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে; যা শিক্ষা করা প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ-মহিলা উনাদের জন্য ফরয। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সম্পূর্ণ শরয়ী পর্দার সাথে বালক ও বালিকাদের শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বালক শাখা উনার শিক্ষক, কর্মকর্তা ও আমিলগণ উনারা প্রত্যেকেই পুরুষ এবং বালিকা শাখা উনার শিক্ষিকা, কর্মকর্তা ও আমিলগণ উনারা প্রত্যেকেই মহিলা।
এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার নামে অনৈসলামিক কর্মকা- যেমন, মৌলবাদ, সন্ত্রাসবাদ, বোমাবাজী, হরতাল, লংমার্চ, ইসলাম হেফাযতের নামে কুরআন শরীফ পোড়ানো, জান-মালের ক্ষতিসাধন, কুশপুত্তলিকা দাহ ইত্যাদি হারাম ও কুফরীমূলক কাজের সাথে এবং এ ধরনের কোন প্রকার অবাঞ্ছিত সংগঠন বা দলের সাথে সম্পৃক্ত নয়। বরং এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন আমল এবং মাথার তালু থেকে পায়ের তলা পর্যন্ত সব কিছুই সুন্নত মুবারক দ্বারা অলঙ্কৃত।
সর্বোপরি এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনার আক্বীদা ভিত্তিক পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ এবং পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে ইলম শিক্ষা দেয়া হয়। যার উদ্দেশ্য হচ্ছে বাস্তব জীবনে সুন্নতে নববী উনার আদর্শ প্রতিষ্ঠা তথা সঠিক পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাকে কায়িমের মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি বা রেযামন্দী মুবারক হাছিল করা।
এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সমাজের বিত্তবানদের পাশাপাশি ‘গরিব এবং ইয়াতীমদের’ শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ‘ইয়াতীমখানা এবং লিল্লাহ বোডিং’। সুতরাং আপনার পবিত্র যাকাত, পবিত্র উশর, পবিত্র ফিৎরা, পবিত্র কাফফারা, পবিত্র মান্নত, পবিত্র দান, পবিত্র ছদকা, পবিত্র কুরবানী উনার চামড়া বা তার মূল্য অত্র প্রতিষ্ঠানের লিল্লাহ বোডিংয়ে দান করাই হবে অধিক ফযীলতের কারণ।
বিশ্ববিখ্যাত আউলিয়ায়ে কিরাম উনাদের অভিমত হচ্ছে- মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার এবং মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে যেসব খাতে পবিত্র যাকাত, পবিত্র উশর, পবিত্র ফিৎরা, পবিত্র কাফফারা, পবিত্র মান্নত, পবিত্র দান, পবিত্র ছদকা, পবিত্র কুরবানী উনার চামড়া ইত্যাদি প্রদানের ব্যাপারে তাগিদ দিয়েছেন তার মধ্যে যারা ইয়াতীম ও গরিব ত্বলিবে ইলম অর্থাৎ ইলমে দ্বীন শিক্ষায় নিয়োজিত রয়েছেন তাদেরকে প্রদান করাই লক্ষ-কোটি গুণ বেশি ছওয়াব এবং মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি বা রেযামন্দী মুবারক হাছিলের সর্বোত্তম উসীলা। কাজেই, আপনার যে কোনো আর্থিক সহযোগিতা, পবিত্র যাকাত, পবিত্র উশর, পবিত্র ফিৎরা, পবিত্র কাফ্ফারা, পবিত্র মান্নত, পবিত্র দান, পবিত্র ছদকা, পবিত্র কুরবানী উনার চামড়া বা তার মূল্য অত্র প্রতিষ্ঠানে প্রদান করে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের খাছ সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করুন।
এই প্রতিষ্ঠানের মৌলিক বৈশিষ্ট্যসমূহ:
* আল্লাহওয়ালা ও আল্লাহওয়ালী হওয়ার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ : ইলমে ফিক্বাহ ও ইলমে তাছাউফ শিক্ষাদানের মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল তথা খালিছ আল্লাহওয়ালা ও আল্লাহওয়ালী হওয়ার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
* শরয়ী পর্দা পালন : এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সম্পূর্ণ শরয়ী পর্দার সাথে বালক ও বালিকাদের শিক্ষার সুব্যবস্থা করা হয়েছে। এখানে বালক শাখার সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রত্যেকেই পুরুষ এবং বালিকা শাখার সকল শিক্ষিকা, কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রত্যেকেই মহিলা।
* অবাঞ্ছিত সংগঠন বা দলের সাথে সম্পৃক্ত নয় : এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা- পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার নামে অনৈসলামিক কর্মকা- যেমন- মৌলবাদ, সন্ত্রাসবাদ, বোমাবাজি, হরতাল, লংমার্চ, কুশপুত্তলিকা দাহ ইত্যাদি হারাম ও কুফরীমূলক কাজের সাথে এবং এ ধরনের কোন প্রকার অবাঞ্ছিত সংগঠন বা দলের সাথে সম্পৃক্ত নয়।
* সুন্নতের অলঙ্কারে অলঙ্কৃত : এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন কার্যকলাপ এবং মাথার তালু থেকে পায়ের তলা পর্যন্ত সব কিছুই সুন্নতের অলঙ্কারে অলঙ্কৃত।
* তাহাজ্জুদ নামায ও যিকির-ফিকির বাধ্যতামূলক : উঠা-বসা, কথাবার্তা, পোশাক-পরিচ্ছদ, খাওয়া-দাওয়াসহ প্রাত্যহিক জীবনের সর্বক্ষেত্রে হাক্বীক্বীভাবে সুন্নত উনার আমলসহ তাহাজ্জুদ নামায ও যিকির-ফিকির বাধ্যতামূলক।
* আদব-কায়দা ও নিয়ম-শৃঙ্খলা শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্বারোপ।
* ক্বিরায়াত শরীফ, হামদ শরীফ, না’ত শরীফ, কাছীদা শরীফ, জরুরী মাসয়ালা-মাসায়িল ও ইসলামী সাহিত্য অনুশীলনের সুব্যবস্থা।
* পাঁচটি ভাষা ভিত্তিক লেখা পড়া : আরবী, বাংলা, উর্দূ, ফারসী ও ইংরেজি এ পাঁচটি ভাষার উপর বিশেষভাবে জোরদার ও বিশুদ্ধ উচ্চারণে গুরুত্বারোপ। বিশেষ করে আরবী, উর্দূ, ফারসী ও ঝঢ়ড়শবহ ঊহমষরংয-এ দক্ষ শিক্ষক-শিক্ষিকাগণের তত্ত্বাবধান।
* নিজস্ব ভবনে শিক্ষা-দীক্ষা।
* রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে অধিকতর নিরাপত্তায় ও মনোরম পরিবেশে অবস্থিত। সীমিত আসনে প্রতিটি ক্লাসে পাঠদান।
* বোর্ড পরীক্ষা : নিজস্ব সিলেবাসের অধীনে বোর্ড পরীক্ষার ব্যবস্থা।
* বর্তমানে শিশু শ্রেণী হতে উচ্চতর শ্রেণী মুকাম্মিল/কামিল) পর্যন্ত ক্লাস চলছে।
* রুটিন মাফিক তত্ত্বাবধান : সুযোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকাগণের রুটিন মাফিক সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধান ও শিক্ষা প্রদান।
* হাফিয, মেধাবী ও গরীব ছাত্রদের বিশেষ সুযোগ-সুবিধা বিবেচনাধীন।
* সুদক্ষ হাফিয ছাহেবগণের তত্ত্বাবধানে হিফযখানা পরিচালিত।
* বালিকা মাদরাসা : সম্পূর্ণ যোগ্যতমা মহিলা শিক্ষিকাগণের দ্বারা পরিচালিত। ছাত্রীদের সম্মানিত শরীয়তসম্মত (খাছ) পর্দা রক্ষা করা হয়।
* স্বাস্থ্যসম্মত খাবার-দাবার : আবাসিক শিক্ষার্থীদের রুটিন মাফিক উন্নত মানের স্বাস্থ্যসম্মত খাবার-দাবারের ব্যবস্থা।
* মেডিকেল চেকআপ : বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে মেডিকেল চেকআপ করা হয়।
* শিক্ষা সফর ও ভ্রমণ : শরীয়ত ও সুন্নতী কায়দায় শিক্ষা সফর ও ভ্রমণের ব্যবস্থা রয়েছে।* আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত ভিত্তিক পরিচালিত : অত্র প্রতিষ্ঠানখানা যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, গাউছূল আ’যম, আওলাদে রসূল, মহান আল্লাহ পাক উনার খালিছ ওলী রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ও ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ মুবারক তথা মুবারক নেক দৃষ্টি দ্বারা পরিচালিত। তাই শুধু কিতাবী ইলম হাছিলই নয় বরং আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত ভিত্তিক ছহীহ আক্বীদা শিক্ষা দেয়া হয়।
* আল্লাহওয়ালা ও আল্লাহওয়ালী হওয়ার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ : ইলমে ফিক্বাহ ও ইলমে তাছাউফ শিক্ষাদানের মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল তথা খালিছ আল্লাহওয়ালা ও আল্লাহওয়ালী হওয়ার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে