সম্মানিত দ্বীন ইসলাম সম্পর্কিত আর্টিকেল লেখার জন্য ইংরেজি ভাষার কিছু সংস্কার করা আবশ্যক


বর্তমানে সারাবিশ্বে সবার নিকট বোধগম্য ভাষা বলতে ইংরেজিকেই বোঝানো হয়। অন্যান্য ভাষা থেকে ইংরেজি ভাষায় বিভিন্ন প্রবন্ধ ও আর্টিকেল লিখে ছড়ানো হয়, যেন তা অন্যান্য ভাষাভাষীর নি`কট পৌঁছানো যায়। তবে এখানে একটি সমস্যা রয়েছে, তা হচ্ছে প্রচলিত ইংরেজি ভাষায় আদব, শরাফত, ভদ্রতা ও শিষ্টাচারের অনুপস্থিতি।
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিআল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সম্পর্কিত আর্টিকেলে ‘ইউ’ (ণড়ঁ) বা ‘হি/শি’(ঐব/ঝযব)-এর ন্যায় সম্বোধনগুলো প্রায়ই ঘুরেফিরে আসে। অনেকের দৃষ্টিতেই এই সম্বোধনগুলো ভীষণভাবে অস্বস্তিকর ঠেকে, বিশেষ করে যারা আল ইহসান শরীফ পড়তে অভ্যস্ত। কারণ ইংরেজি ভাষার ঐসব সম্বোধনের সাথে উচ্চারণগত মিল রয়েছে আমাদের বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত তুচ্ছার্থক সম্বোধনের।
অনেকে বলে থাকে, ইংরেজি ভাষায় ‘ইউ’ সম্বোধন দ্বারা আপনি-তুমি-তুই সবই বোঝায়। এই কথাটি মোটেও ঠিক নয়। আমরা যদি ভাষাতাত্ত্বিক দিক দিয়ে বিবেচনা করি, তাহলে খেয়াল করবো ইংরেজি ‘ইউ’ সম্বোধনটি উর্দু-ফারসীর ‘তু’ সম্বোধন কিংবা বাংলার ‘তুই’ সম্বোধনের সাথে তুলনীয়।
ঠিক সেভাবে তৃতীয় পুরুষবাচক সম্বোধনের ক্ষেত্রে ইংরেজিতে ব্যবহার করা হয় ‘হি’ অথবা ‘শি’। এই ‘হি’ অথবা ‘শি’ উচ্চারণগত দিক দিয়ে বাংলার ‘সে’ সম্বোধনের সাথে তুলনীয়। এই ‘সে’ কোনো সম্মানসূচক সম্বোধন নয়, সম্মানিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে আমরা ‘তিনি’ কিংবা ‘উনি’ সম্বোধন ব্যবহার করি। আসলে ভাষাতত্ত্বের বিচারে ইংরেজি ভাষায় কোনো সম্মানসূচক সম্বোধন নেই। এর কারণ, ইংরেজি ভাষাটি যাদের দ্বারা প্রচলিত হয়েছে, তারা সম্মানিত ব্যক্তি ছিলো না।
এ প্রসঙ্গে লেখকের বাস্তব জীবনের একটি উদাহরণ উল্লেখ করতে হয়। একবার আমার পাশের বাসার এক হিন্দু পরিবার তাদের কাজের জন্য গ্রাম থেকে এক নীচুবর্ণের হিন্দু ছোকরাকে নিয়ে আসলো। সেই ছোকরা ঢাকায় এসে আশেপাশের সবাইকে সম্বোধন করতো ‘তুমি’। এমনকি তাকে যে বাসায় নিয়ে আসা হয়েছে, সেই বাসার মহিলাকেও সে সম্বোধন করতো ‘তুমি’ বলে। এর কারণ হলো, ঐ নীচুশ্রেণীর হিন্দু ছোকরাটি যেই পরিবেশে বড় হয়েছে, সেখানে বাবা মাকেও সন্তানেরা ‘তুই’ বলে সম্বোধন করে। ‘আপনি’ সম্বোধনই সেই হিন্দু ছোকরার অভিধানে নেই।
যে কারণে নীচুবর্ণের হিন্দুসমাজের ভাষায় ‘আপনি’ শব্দটি অনুপস্থিত, ঠিক সে কারণেই ইংরেজি ভাষায় ‘ইউ’ তথা ‘তুই’-এর উপরে কোনো সম্বোধন নেই। ইংরেজদের ইতিহাস বলছে যে, তাদের পূর্বপুরুষরা ছিলো নৌ-দস্যু। জাহাজে চড়ে বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে লুটপাট চালানো আর বিভিন্ন বন্দরের পতিতালয়ে গিয়ে আশ্রয় নেওয়াটা হলো নৌ-দস্যুদের জাতিগত বৈশিষ্ট্য। এই ডাকাত গোষ্ঠীর সদস্যরা একজন আরেকজনকে ‘তুই’ বলবে না তো কী ‘আপনি’ বলবে?
এখন আমাদের বক্তব্য বিশ্ববাসীর নিকট পৌঁছাতে হলে আমাদেরকে অবশ্যই ইংরেজি ভাষা ব্যবহার করতে হবে, কিন্তু সেই ইংরেজি অবশ্যই নৌ-দস্যুদের প্রচলন করা বেয়াদবীমূলক ভাষা হতে পারবে না। ইংরেজি ভাষার সংস্কার করে তার মধ্যে সম্মানসূচক সর্বনাম যোগ করতে হবে, যা আপনি-তিনি প্রভৃতি সম্বোধনের সাথে তুলনীয় হতে পারে। তবেই তা সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার সম্পর্কিত আর্টিকেল লেখার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হওয়ার উপযুক্ত হতে পারে।

Views All Time
6
Views Today
16
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

  1. জি সহমত। এভাবে চিন্তা করিনি কখনো। শুকরিয়া।

    আল্লাহ পাক উনাকেই তো মানুষ “তুমি” বলে সম্বোধণ করছে অজ্ঞতার কারণে। একসময় আমি অ তাই করতাম। না’উযুবিল্লাহ। তাই, আদব আসলেই মূল্যবান বিষয়। আমাদের সকলেরই আদবের বিষয়ে ইলম অর্জন করা ফরজ।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে