সম্মানিত মিরজ শরীফ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা –


সম্মানিত মিরজ শরীফ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা –
**************************************************
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
সূরা বাণী ইসরাঈল এর প্রথম আয়াতে বলা হয়েছে:
سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَىٰ بِعَبْدِهِ لَيْلًا مِّنَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ إِلَى الْمَسْجِدِ الْأَقْصَى الَّذِي بَارَكْنَا حَوْلَهُ لِنُرِيَهُ مِنْ آيَاتِنَا ۚ إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ
অর্থঃ ‘মহান আল্লাহ পাক যিনি উনার বান্দা (হাবীব) ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কোনো এক রাতের সামান্য সময়ে (প্রথমে) বাইতুল্লাহ শরীফ থেকে বাইতুল মুকাদ্দাস শরীফ পর্যন্ত, যার আশপাশ বরকতময়; অতঃপর উনার নিদর্শনসমূহ দেখানোর জন্য অর্থাৎ দীদার মুবারক আরশে আযীমে দেয়ার জন্য ভ্রমণ করিয়েছেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা।’

 

মিরাজ শরীফ উনার দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয় বায়তুল মোকাদ্দাস শরীফ থেকে এবং শেষ হয় সিদরাতুল মোন্তাহা শরীফ গিয়ে। প্রথম আকাশে গিয়ে হযরত জিব্রাঈল আলাইহিস সালাম ডাক দিলেন প্রথম আকাশের ভারপ্রাপ্ত ফেরেস্তাকে এবং দরজা খুলে দিতে বললেন। উক্ত ফিরিশতা আলাইহিস সালাম পরিচয় নিয়ে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্যাবিয়্যিন, নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার নাম মুবারক শুনেই দরজা খুলে দিলেন। প্রথমেই সাক্ষাত হলো আবুল বাশার হযরত আদম ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সাথে। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্যাবিয়্যিন, নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে ছালাম দিলেন। কেননা ভ্রমনকারীকেই প্রথমে সালাম দিতে হয়। আবুল বাশার হযরত আদম ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম যিনি সকলের আদি পিতা। সুবহানাল্লাহ। তাই তাকে দিয়েই প্রথম অভ্যর্থনা শুরু হলো। আবুল বাশার হযরত আদম ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার নেতৃত্বে অন্যান্য আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম এবং প্রথম আকাশের ফেরেস্তা আলাইহিমুস সালাম উক্ত অভ্যর্থনায় যোগদান করেন। এমনিভাবে দ্বিতীয় আকাশে হযরত ঈছা রুহুল্লাহ আলাইহিস সালাম, হযরত যাকারিয়া আলাইহিস সালাম এবং হযরত ইয়াহ্‌ইয়া আলাইহিস সালাম এবং অন্যান্য হযরত নবী আলাইহিমুস সালামগন, হযরত রসুল আলাইহিমুস সালামগন ও হযরত ফিরিশতা আলাইহিমুস সালামগন অভ্যর্থনা জানালেন ।
হযরত যাকারিয়াও আলাইহিস সালাম উক্ত অভ্যর্থনায় শরীক ছিলেন।
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্যাবিয়্যিন, নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে জিজ্ঞাসা করলেন- “যখন আপনাকে করাত দ্বারা দ্বিখণ্ডিত করা হচ্ছিল- তখন আপনার কেমন অনুভব হচ্ছিল ?”
উত্তরে হযরত যাকারিয়া আলাইহিস সালাম বললেন- তখন আল্লাহ তায়ালা আমাকে ডাক দিয়ে বলেছিলেন- “আমি আপনার সাথে আছি। এতদশ্রবনে আমি মঊতের কষ্ট ভুলে গিয়েছিলাম ।”
প্রকৃত আশেকগনের মউতের সময় সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্যাবিয়্যিন, নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার দিদার নছিব হয়। তাই তাদের মউতের কষ্ট অনুভূত হয় না
তৃতীয় আকাশে হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম উনার নেতৃত্বে অন্যান্য হযরত নবী আলাইহিমুস সালামগন ও হযরত ফেরেস্তা আলাইহিমুস সালামগণ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্যাবিয়্যিন, নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে অভ্যর্থনা জানান এবং ছালাম কালাম বিনিময় করেন। চতুর্থ আকাশে হযরত ইদ্রিছ আলাইহিস সারাম, পঞ্চম আকাশে হযরত হারুন আলাইহিস সালাম ফেরেস্তাগণসহ অভ্যর্থনা জ্ঞাপন করেন । ৬ষ্ঠ আকাশে হযরত মুছা আলাইহিস সালাম উনার সাথে সাক্ষাত হয়। তিনি অভ্যর্থনা জানিয়ে বিদায়কালে আশ্চর্য হয়ে বললেন- “এই যুবক নবী সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্যাবিয়্যিন, নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শেষকালে এসেও আমার পূর্বে বেহেস্তে যাবেন এবং উনার উম্মতগণ আমার উম্মতের পূর্বে বেহেস্তে প্রবেশ করবেন”। হযর মুছা আলাইহিস সালাম সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্যাবিয়্যিন, নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং উনার উম্মতের বিশেষ মর্যাদা দেখে আনন্দে কেঁদে ফেলেন। উনার এই আফসোস ছিল আনন্দসূচক ও স্বীকৃতিমূলক- বিদ্বেষমূলক নয়। হযরত কালিমুল্লাহ আলাইহিস সালাম সে সময় সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্যাবিয়্যিন, নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার নিকট একটি হাদিস শরীফ উনার ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছিলেন । হাদীস শরীফ হলো-
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্যাবিয়্যিন, নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেছেন- “আমার উম্মতের যাহেরী-বাতেনী এলেম সম্পন্ন আলেমগণ বনী ইসরাঈলের নবীগনের ন্যায় (এলেমের ক্ষেত্রে) ।
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্যাবিয়্যিন, নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত হাদিস শরীফ উনার যথার্থতা প্রমানের জন্য রুহানী জগত থেকে ইমাম গাজ্জালী রহমতুল্লাহি আলাইহিকে হযরত মুছা কালিমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সামনে হাযির করালেন। হযরত কালিমুল্লাহ আলাইহিস সালাম বললেন- “আপনার নাম কি?” উত্তরে ইমাম গাজ্জালী রহমতুল্লাহি আলাইহি নিজের নাম, পিতার নাম, দাদার নাম, পরদাদার নাম সহ ছয় পুরুষের নাম বললেন। হযরত কালিমুল্লাহ আলাইহিস সালাম বললেন, আমি শুধু আপনার নাম জিজ্ঞেস করেছি। আপনি এত দীর্ষ তালিকা পেশ করলেন কেন?  ইমাম গাজ্জালী রহমতুল্লাহি আলাইহি আদবের সাথে জবাব দিলেন- “আড়াই হাজার বছর পূর্বে আপনিও তো আল্লাহ তায়ালার ছোট্ট একটি প্রশ্নের দীর্ঘ উত্তর দিয়েছিলেন”। ইমাম গাজ্জালী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার এলেম ও প্রজ্ঞা দেখে হযরত কালিমুল্লাহ আলাইহিস সালাম মুগ্ধ হয়ে গেলেন এবং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্যাবিয়্যিন, নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার হাদিসখানার তাৎপর্য স্বীকার করে নিলেন। এখানে একটি বিষয় তাৎপর্যপূর্ন । হযরত কালিমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত বিছালি শান মুবারক প্রকাশের আড়াই হাজার বৎসর পরে সম্মানিত মক্কা শরীফ উনার জমিনে প্রদত্ত সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্যাবিয়্যিন, নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার খুতবা/নছিহত/ওয়াজ শরীফ তিনি শুনতে পেয়েছিলেন- আপন রওযা শরীফ থেকে। অপরদিকে দুনিয়াতে আসার পূর্ব আলমে আরওয়াহ্‌ থেকে ইমাম গাজ্জালী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মত একজন বিজ্ঞ অলী আড়াই হাজার হাজার বৎসর পূর্বে তূর পর্বতে ঘটে যাওয়া হযরত কালিমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার ঘটনা সম্পর্কেও অবগত ছিলেন। সুবহানাল্লাহ। এতে প্রমানিত হলো- খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক হযরত নবী আলাইহিমুস সালামগন ও অলীগণকে আল্লাহ তায়ালা বাতেনী প্রজ্ঞা দান করেছেন- যাকে নূরে নযর বা ফিরাছাত বলা হয়। আল্লাহর অলীগণ আল্লাহ প্রদত্ত কাশফ দ্বারা অনেক সময় মানুষের মনের গোপন কথাও বলে দিতে পারেন । ইমাম আবু হানিফা রহমতুল্লাহি আলাইহি কুফার এক মসজিদে জনৈক মুছল্লিকে অযু করতে দেখে বলেছিলেন-
তুমি যিনা করে এসেছো। লোকটি অবাক হয়ে বলল, আপনি কিভাবে জানলেন ? হযরত ইমাম আবু হানিফা রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন- তোমার অযুর পানির সাথে যিনার গুনাহ্‌ ঝরে পড়ছিল। সুবহানাল্লাহ।
হাদীস শরীফ এ ও অযুর পানির সাথে গুনাহ্‌ ঝরে পড়ার কথা উল্লেখ আছে। লোকটি ইমাম সাহেবের বাতেনী এলেম দেখে স্তম্ভিত হয়ে গেলো এবং সাথে সাথে ইমাম সাহেবের হাতে তওবা করলো। সুবহানাল্লাহ। বড়পীর হযরত গাউছুল আযম আব্দুল কাদের জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি বাহজাতুল আসরার কিতাবে বলেনঃ  দুনিয়ায় নেককার ও বদকার সকলকেই আমার দৃষ্টিতে পেশ করা হয় লওহে মাহফুজে লওহে মাহফুযে নেককার-বদকার সকলের তালিকা রয়েছে । হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নযরও দুনিয়া থেকে লওহে মাহফুযে নিবদ্ধ। এজন্য মাওলানা জালালুদ্দিন রুমী রহমতুল্লাহি আলাইহি মসনবী শরীফে বলেছেনঃ  লওহে মাহফুয ওলী-আল্লাহগণের নযরের সামনে। (ইনশাআল্লাহ চলবে)

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে