সম্মানিত শরীয়তবিরোধী সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের তরতীব


মুসলিম হোক অমুসলিম হোক প্রতিষ্ঠিত কোন সরকারের ইসলাম বিরোধী হুকুম মানতে কোন মুসলিম নাগরিক বাধ্য নয়। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
لاَ طَاعَةَ لِمَخْلُوقٍ فِى مَعْصِيَةِ الْخَالِقِ
অর্থ: ‘¯্রষ্টার অবাধ্যতায় সৃষ্টির প্রতি কোন আনুগত্য নেই।’ অতএব সর্বাবস্থায় তাওহীদের কালেমা শরীফ উনাকে সমুন্নত রাখা ও সম্মানিত ইসলাম উনার স্বার্থকে অক্ষুণ্য রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা করা মুসলমানের উপর ফরয দায়িত্ব। এমতাবস্থায় সরকারের নিকটে পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের বক্তব্য তুলে ধরাই হলো বড় জিহাদ। যেমন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
أَفْضَلُ الْجِهَادِ كَلِمَةُ حَقٍّ عِنْدَ سُلْطَانٍ جَائِرٍ
অর্থ: ‘শ্রেষ্ঠ জিহাদ হলো অত্যাচারী শাসকের নিকটে হক্ব কথা বলা।’
সরকারের নিকট বক্তব্য তুলে ধরার সর্বোত্তম পন্থা হলো, সরকার প্রধান বা তাঁর প্রতিনিধির সাথে সাক্ষাতে কথা বলা ও উপদেশ দেওয়া। এজন্য সরকারকে উদার ও সহনশীল হতে হবে। অহংকারী, হঠকারী ও যালিম হওয়া চলবে না। হরতাল-ধর্মঘট, মিছিল ইত্যাদি হারাম গণতন্ত্রে সমর্থনযোগ্য হলেও সম্মানিত দ্বীন ইসলাম এগুলি সমর্থন করে না। অতএব এগুলি কখনোই কোন উত্তম প্রক্রিয়া নয়।
এতে সরকার ও জনগণ মুখোমুখি হয়। যাতে হিতে বিপরীত হবে এবং অহেতুক নির্যাতন ও রক্তপাত হবে। যা এখন হারাম গণতান্ত্রিক দেশগুলিতে নিয়মিত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারী ও বিরোধী দল অর্থই হলো পরস্পর সহিংস দুটো দল। যা সমাজকে বিভক্ত করে পঙ্গু ও গতিহীন করে দেয়। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
مَنْ أَرَادَ أَنْ يَنْصَحَ لِسُلْطَانٍ بِأَمْرٍ فَلاَ يُبْدِ لَهُ عَلاَنِيَةً وَلَكِنْ لِيَأْخُذْ بِيَدِهِ فَيَخْلُوَ بِهِ فَإِنْ قَبِلَ مِنْهُ فَذَاكَ وَإِلاَّ كَانَ قَدْ أَدَّى الَّذِى عَلَيْهِ لَهُ
অর্থ” ‘যে ব্যক্তি শাসককে উপদেশ দিতে চায়, সে যেন তা প্রকাশ্যে না দেয়। বরং তার কাছে নির্জন স্থানে দেয়। এক্ষণে তিনি সেটি গ্রহণ করলে তো ভালই। না করলে ঐ ব্যক্তি তার দায়িত্ব পালন সম্পন্ন করল। সরকারের কাছে বক্তব্য পেশ করার এই ভদ্র পন্থাই হলো সম্মানিত শরীয়তসম্মত পন্থা। এতে উভয়পক্ষ পরস্পরের প্রতি সহনশীল ও সহানুভূতিশীল থাকে। দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। এর বাইরে প্রচলিত হরতাল-ধর্মঘট ইত্যাদী হারাম পন্থা বৈ কিছুই নয়।
অমুসলিম রাষ্ট্রে মুসলমান উনাদের সম্মানিত দ্বীনের অধিকার সংরক্ষণের সকল প্রকার ইসলামী প্রচেষ্টাই হলো ‘জিহাদ। যখন তা মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টির জন্য হয় এবং সম্মানিত দ্বীন উসলাম উনার ঝান্ডাকে সমুন্নত রাখার উদ্দেশ্যে হয়। কিন্তু যদি বিনা প্রচেষ্টায় অনৈসলামী আইন মেনে নেওয়া হয় এবং তার উপর কোন মুসলমান সন্তুষ্ট থাকে, তাহলে সে অবশ্যই কবীরা গুনাহে গোনাহগার হবে। সাধ্যমত চেষ্টা সত্ত্বেও বাধ্য হলে মহান আল্লাহ পাক উনার নিকটে ক্ষমা চাইতে হবে এবং শাসকের হেদায়াতের জন্য দো‘আ করতে হবে।
শাসক মুসলিম ফাসেক হলে সে অবস্থায় করণীয় সম্পর্কে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
إِنَّهُ يُسْتَعْمَلُ عَلَيْكُمْ أُمَرَاءُ فَتَعْرِفُونَ وَتُنْكِرُونَ فَمَنْ أَنْكَرَ فَقَدْ بَرِئَ وَمَنْ كَرِهَ فَقَدْ سَلِمَ وَلَكِنْ مَنْ رَضِىَ وَتَابَعَ، قَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ أَفَلاَ نُقَاتِلُهُمْ؟ قَالَ لاَ مَا صَلَّوْا، لاَ مَا صَلَّوْا-
অর্থ: ‘তোমাদের উপর অনেক শাসক নিযুক্ত হবে। যাদের কোন কাজ তোমরা পছন্দ করবে এবং কোন কাজ অপছন্দ করবে। এক্ষণে যে ব্যক্তি উক্ত অন্যায় কাজের প্রতিবাদ করবে, সে দায়িত্বমুক্ত হবে। আর যে ব্যক্তি তা অপছন্দ করবে, সে নিরাপদ থাকবে। কিন্তু যে ব্যক্তি তাতে সন্তুষ্ট থাকবে ও তার অনুসরণ করবে। সে পাকড়াও হবে এ সময় ছাহাবীগণ বললেন, আমরা কি ঐ শাসকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করব না? নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, না। যতক্ষণ তারা ছলাত আদায় করে।
অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
وَأَنْ لاَ نُنَازِعَ الأَمْرَ أَهْلَهُ قَالَ إِلاَّ أَنْ تَرَوْا كُفْرًا بَوَاحًا عِنْدَكُمْ مِنَ اللهِ فِيهِ بُرْهَانٌ
মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ হতে প্রমাণ ভিত্তিক সুস্পষ্ট কুফরী না দেখা পর্যন্ত মুসলিম খলীফা উনাদের আনুগত্যমুক্ত হওয়া যাবে না।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে