সম্মানিত শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে কাতারে ফাঁক বন্ধ করা ওয়াজিব; তাই নামাযে দুরত্ব বজায় রাখা বা কাতারে ফাকা ফাকা হয়ে দাঁড়ানো জায়িয নেই


জামায়াতে নামায আদায় করার ব্যাপারে সম্মানিত শরীয়ত উনার বিধান হচ্ছে, কাতার সোজা করা ওয়াজিব এবং ফাঁক বন্ধ করা ওয়াজিব। কাতারে ফাক থাকলে ওয়াজিব তরক হওয়ার কারনে নামায মাকরুহ তাহরীমী হবে। আর নামাযে মাকরুহ তাহরীমী হলে নামায দোহরায়ে পড়া ওয়াজিব হয়ে যায়। এ প্রসঙ্গে আবূ দাউদ শরীফের বাংলা অনুবাদের ১ম খ-ের ৩৬৩-৩৬৪ পৃষ্ঠার ৬৬২ নং পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ আছে-
عَنْ حضرت النُّعْمَان بْن بَشِيرٍ رضى الله تعالى عنه يَقُولُ أَقْبَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى النَّاسِ بِوَجْهِهِ فَقَالَ أَقِيمُوا صُفُوفَكُمْ. ثَلاَثًا وَاللَّهِ لَتُقِيمُنَّ صُفُوفَكُمْ أَوْ لَيُخَالِفَنَّ اللَّهُ بَيْنَ قُلُوبِكُمْ. قَالَ فَرَأَيْتُ الرَّجُلَ يُلْزِقُ مَنْكِبَهُ بِمَنْكِبِ صَاحِبِهِ وَرُكْبَتَهُ بِرُكْبَةِ صَاحِبِهِ وَكَعْبَهُ بِكَعْبِهِ.
অর্থ: “হযরত নুমান ইবনু বাশির রদ্বিয়াল্লাহ তা’য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত আছে তিনি বর্ণনা করেন; মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সমবেত ব্যক্তিদের নিকট উপস্থিত হয়ে, তিনবার ইরশাদ মুবারক করলেন, তোমরা তোমাদের কাতার সোজা কর। মহান আল্লাহ পাক উনার শপথ! তোমরা কাতার সোজা করে দন্ডায়মান হবে, অন্যথায় মহান আল্লাহ পাক তোমাদের অন্তরের মধ্যে মতানৈক্য সৃষ্টি করবেন। রাবী বলেন, অতঃপর আমি মুছল্লিদেরকে পরস্পর কাঁধে কাঁধ, হাটু তথা পায়ে পা এবং গোড়ালির সাথে গোড়ালী মিলিয়ে দাঁড়াতে দেখেছি। ” সুবহানাল্লাহ!
মুসলিম শরীফের বাংলা অনুবাদের ২য় খ-ের ২০৮-২০৯ পৃষ্ঠার ৮৫১ নং পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ আছে-
عن حضرت جابر بن سمرة رضى الله تعالى عنه قال خرج علينا رسول الله -صلى الله عليه وسلم- ………قال ثم خرج علينا فقال ্র ألا تصفون كما تصف الملائكة عند ربها গ্ধ. فقلنا يا رسول الله صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلّمَ وكيف تصف الملائكة عند ربها قال ্র يتمون الصفوف الأول ويتراصون فى الصف.
অর্থ: “হযরত জাবির ইবনু সামুরাহ রদ্বিয়াল্লাহ তা’য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত আছে তিনি বর্ণনা করেন; …….. একদা মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাদের নিকট আগমন করে ইরশাদ মুবারক করলেন, তোমরা এমনভাবে কাতার বাঁধবে যেমনিভাবে হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা উনাদের রবের সামনে কাতারবন্দি হয়ে থাকেন। আমরা বললাম, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা উনাদের রবের সামনে কিভাবে কাতারবন্দি হন? নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা সামনের কাতারগুলি আগে পূর্ণ করেন, এবং গায়ে গায়ে লেগে দাঁড়ান।”
ইবনে মাজাহ শরীফের বাংলা অনুবাদের ১ম খ-ের ৩৭০ পৃষ্ঠার ৯৯২ নং পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ আছে-
عَنْ حضرت جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ السُّدائِيِّ رضى الله تعالى عنه ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ : أَلاَ تَصُفُّونَ كَمَا تَصُفُّ الْمَلاَئِكَةُ عِنْدَ رَبِّهَا ؟ قَالَ، قُلْنَا : وَكَيْفَ تَصُفُّ الْمَلاَئِكَةُ عِنْدَ رَبِّهَا ؟ قَالَ : يُتِمُّونَ الصُّفُوفَ الاوَّلَ ، وَيَتَرَاصُّونَ فِي الصَّفِّ.

অর্থ: “হযরত জাবির ইবনু সামুরাহ সুদায়ী রদ্বিয়াল্লাহ তা’য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বর্ণনা করেন; মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, জেনে রাখ, তোমরা কাতার সোজা করবে, যেমন হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা উনাদের রবের সামনে কাতার সোজা করেন। রাবী বলেন, আমরা বললাম, (ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম,) হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা উনাদের রবের সামনে কিভাবে কাতার সোজা করেন? নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা প্রথম সারি আগে পূর্ণ করেন, এবং সারিতে তথা কাতারে মিলে মিলে দাঁড়ান (এবং মাঝে কোন ফাঁক রাখেন না।”)
“মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ” কিতাবের ৩৮২৪ নং পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ আছে,
عَنْ حضرت اُمِّ المؤمنين الثالثة عَائِشَةَ الصديقة عليها السلام قَالَتْ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ مَنْ سَدّ فُرْجَةً فِى صَفٍّ رَفَعَهُ اللهُ بِهَا دَرَجَةً وَ بَنٰى لَهُ بَيْتًا فِي الْجَنّةِ.
অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত আছে। তিনি বর্ণনা করেন, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি কাতারের মাঝখানে ফাঁক বন্ধ করবে, এর বিনিময়ে মহান আল্লাহ পাক তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেবেন এবং পবিত্র জান্নাত উনার মধ্যে তার জন্য একটি ঘর তথা একটি বালাখানা নির্মাণ করে দিবেন।” সুবহানাল্লাহ! -(আলমু‘জামুল আওসাত, তবারানী, হাদীছ শরীফ নং ৫৭৯৫; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ, হাদীছ শরীফ নং ৩৮২৪)
সুনানু নাসাঈ শরীফের বাংলা অনুবাদের ১ম খ-ের ৪৪৯ পৃষ্ঠার ৮১৮ নং পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ আছে-
عَنْ حضرت اَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضى الله تعالى عنه عَنْ رَسُوْلِ الله صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلّمَ قَالَ رُصُّوْا صُفُوْفَكُمْ وَ قَارِبُوْا بَيْنَهَا وَحَاذُوْا بِالْاَعْنَاقِ فَوَالذِى نَفْسِىْ بِيَدِهِ اِنِّىْ لَاَرَى الشّيْطَانَ يَدْخُلُ مِنْ خَلَلِ الصّفِّ كَاَنّهَا الْحَذَف.
অর্থ: “হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহ তা’য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত আছে। তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে বর্ণনা করেন যে, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা কাতারে পরস্পরে মিশে দাঁড়াও। দুই কাতারের মাঝে কিছু ফাঁক রাখ এবং কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়াও। অতঃপর ঐ সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার জীবন মুবারক! নিশ্চয়ই আমি শয়তানকে দেখছি শয়তান ছোট ছোট বকরীর বাচ্চার মত কাতারের মধ্যে প্রবেশ করছে।” (সুনানে আবূ দাঊদ, হাদীছ শরীফ নং ৬৬৭)
বুখারী শরীফের বাংলা অনুবাদের ২য় খ-ের ৯৩ পৃষ্ঠার ৬৮৪ নং পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ আছে-
এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ আছে-
عَنْ حضرت اَنَسٍ رضى الله تعالى عنه قَالَ اُقِيْمَتِ الصّلَاةُ فَاَقْبَلَ عَلَيْنَا رَسُوْلُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلّمَ بِوَجْهِهِ فَقَالَ اَقِيْمُوْا صُفُوْفَكُمْ وَتَرَاصٌّوْا فَاِنِّى اَرَاكُمْ مِنْ وَرَاءِ ظَهْرِىْ.
অর্থ: “হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহ তা’য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত আছে তিনি বর্ণনা করেন; একদা নামাযের ইকামত দেয়া হচ্ছে এমন সময় নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাদের দিকে মুখ করে তাকালেন এবং বললেন, তোমরা তোমাদের কাতারগুলো সোজা কর আর তোমরা পরস্পরে মিলে দাঁড়াও (তথা গাদা-গাদি করে, চাপা-চাপি করে, ঠাসা-ঠাসি করে, গায়ে গায়ে মিশে মিশে দাঁড়াও।) কেননা আমি আমার পেছন দিক থেকেও তোমাদেরকে দেখতে পাই।”
ফিক্হুস সুনানি ওয়াল আছার শরীফের বাংলা অনুবাদের ১ম খ-ের ২৩৪ পৃষ্ঠার ৬৩২ নং পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ আছে-
عَنْ حضرت عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَر رضى اللهُ تعالى عنهما مرفوعا ‏”‏ أَقِيمُوا الصُّفُوفَ وَحَاذُوا بَيْنَ الْمَنَاكِبِ وَسَدُّوا الْخَالَ وَلِينُوا بِأَيْدِي إِخْوَانِكُمْ ‏ وَلاَ تَذَرُوا فُرُجَاتٍ لِلشَّيْطَانِ وَمَنْ وَصَلَ صَفًّا وَصَلَهُ اللَّهُ وَمَنْ قَطَعَ صَفًّا قَطَعَهُ اللَّهُ ‏”‏
অর্থ: “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বর্ণনা করেন মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
(“তোমরা নামাযের সারি বা কাতারসমূহ সোজা করবে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সমান্তরাল করবে তথা সমান করবে, (কাতারের) ফাঁক পূরণ করবে তথা কাতারের ফাঁক বন্ধ করবে এবং তোমাদের ভাইদের প্রতি বিনম্্র হবে। তোমরা শয়তানের জন্য ফাঁক রাখবে না। যে ব্যক্তি কাতার মিলিয়ে দেবে মহান আল্লাহ পাক তাকে মিলিয়ে দিবেন এবং যে ব্যক্তি কাতার কর্তন করবে মহান আল্লাহ পাক তাকে কর্তন করবেন।” ( আবূ দাউদ, ইবনে খুযাইমা ও হাকীম হাদীছ শরীফখানাকে ছহীহ বলেছেন)।
উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফসমূহ উনাদের ইবারতে تَرَاصٌّوْاশব্দটি এবং سَدُّوا শব্দটি امر (আমর) এর ছীগাহ। আর আমাদের সম্মানিত হানাফী মাযহাব উনাদের নিকট উসূল হলো- امر (আমর) এর হুকুম হচ্ছে- وجوب উজুব বা ওয়াজিব। তাই যে পর্যন্ত এর বিপরীত কোন দলীল পাওয়া না যাবে, সে পর্যন্ত مطلقا (সাধারণভাবে) امر (আমর) এর হুকুম وجوب বা ওয়াজিব, হিসেবে বর্তাবে।
যেমন “বাদায়েউস্ সানায়ে” কিতাবের ১ম খন্ডের ১৫৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,
ومطلق الامر لوجوب العمل.
অর্থ: “আর সাধারণভাবে امر (আমর) আমলকে ওয়াজিব করে দেয়।”
শুধু তাই নয়, শয়তানের জন্য কাতারের ফাঁক না রাখার জন্য নিষেধ করা হয়েছে, যেমন, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, وَلاَ تَذَرُوا فُرُجَاتٍ لِلشَّيْطَانِ তোমরা শয়তানের জন্য ফাঁক রাখবে না।
প্রশ্ন হলো- উক্ত পবিত্র হাদীস শরীফসমূহ উনাদের হুকুম এ পর্যায়ভূক্ত নয় কি? এ হুকুমের বিপরীত কোন হাদীছ শরীফ, যারা ফাঁক ফাঁক করে দাঁড়াতে বলে, তারা দেখাতে পারবে কি? কখনোই না। সুতরাং তোমরা কাতারে পরস্পরে মিলে দাঁড়াও তথা গাদা-গাদি করে, চাপা-চাপি করে, ঠাসা-ঠাসি করে, গায়ে গায়ে মিশে মিশে দাঁড়াও এবং কাতারের ফাঁক পূরণ কর, তথা কাতারের ফাঁক বন্ধ কর, এ সমস্ত বর্ণনার দ্বারা কাতারের ফাঁক বন্ধ করা ওয়াজিব সাব্যস্ত হলো।
এছাড়াও নিম্নে সর্বজনমান্য, বিশ্ববিখ্যাত ফিক্বাহ্ ও ফতওয়ার কিতাব থেকে অকাট্ট ও নির্ভরযোগ্য দলীল পেশ করা হলো-
যেমন- “তানযীমুল আশতাত” কিতাবের ১ম খ-ের ৩৮৩ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-
امر جو مقرون بالوعید ھو وہ وجوب پردلالت کرتا ھے- لھذا مناسب یھی ھے کہ تسویۃ الصفوف کو واجب کھا جاوے-
অর্থ: “যে আদেশের দ্বারা আযাবের কথা বলা হয়েছে, উহা দ্বারা ওয়াজিবই ছাবিত হয়, এ জন্যই নামাযের কাতার সোজা করা, (ফাঁক বন্ধ করা) ওয়াজিব।”
“সুবুলুস সালাম” কিতাবের ১ম খ-ের ৩৩৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,
“হযরত নুমান ইবনু বাশির রদ্বিয়াল্লাহ তা’য়ালা আনহু উনার হাদীছ শরীফ থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বর্ণনা করেন; মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সমবেত ব্যক্তিদের নিকট উপস্থিত হয়ে, তিনবার ইরশাদ মুবারক করলেন, তোমরা তোমাদের কাতার সোজা কর। মহান আল্লাহ পাক উনার শপথ! তোমরা কাতার সোজা করে দন্ডায়মান হবে, অন্যথায় মহান আল্লাহ পাক তোমাদের অন্তরের মধ্যে মতানৈক্য সৃষ্টি করবেন। রাবী বলেন, অত:পর আমি মুছল্লিদেরকে পরস্পর কাঁধে কাঁধ এবং গোড়ালির সাথে গোড়ালী মিলিয়ে দাঁড়াতে দেখেছি। ” সুবহানাল্লাহ! অনুরূপভাবে আবূ দাউদ শরীফ কিতাবে উনার থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাদের কাতারগুলো এমনভাবে সোজা করতেন, যেন তিনি এর দ্বারা তীর সোজা করেছেন। (তিনি তাতে প্রবৃত্ত থাকতেন) যতক্ষণ না তিনি জানতে পারতেন যে, আমরা উনার কথা বুঝে ফেলেছি। একদিন তিনি বাইরে এলেন এমন সময় একটি লোক যার বুক কাতার থেকে আগে বেরিয়ে ছিল। তিনি বললেন, “তোমরা তোমাদের নিজেদের কাতারগুলো সোজা করে নাও, নচেৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদের মুখমন্ডলের মধ্যে বিভিন্নতা তথা বিভেদ সৃষ্টি করে দিবেন অর্থাৎ তোমাদের চেহারার আকৃতি বদলে দেবেন, তোমাদের মধ্যে বিদ্বেষ সৃষ্টি করবেন, ফলে তোমাদের মধ্যে হিংসা, বিদ্বেষ ও শত্রুতা জন্ম নেবে, যার অনিবার্য পরিণতি হবে অনৈক্য, অশান্তি, দ্বন্দ্ব-কলহ তথা অধঃপতন।”
অনুরূপভাবে হযরত বারা ইবনে আযিব রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু উনার হাদীছ শরীফ থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কাতারের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে গিয়ে আমাদের বুক ও কাঁধ সোজা করে দিতেন, আর ইরশাদ মুবারক করতেন তোমরা কাতারে বাঁকা হয়ে দাঁড়িও না। অন্যথায় তোমাদের অন্তরে বৈপরিত্য সৃষ্টি হবে তথা তোমাদের মধ্যে হিংসা, বিদ্বেষ ও শত্রুতা জন্ম নেবে, যার অনিবার্য পরিণতি হবে অনৈক্য, অশান্তি, দ্বন্দ্ব-কলহ তথা অধঃপতন।”এই পবিত্র হাদীছ শরীফগুলো, যাতে শাস্তির ব্যাপারে ভীতিপ্রদর্শন করা হয়েছে, এর থেকে প্রমাণিত হয় কাতার সোজা করা এবং কাতারের ফাঁক বন্ধ করা ওয়াজিব।” (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, আবূ দাউদ শরীফ)
উপরোক্ত দলীল-আদিল্লাহর দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, নামাযের জন্য কাতার সোজা করা ও কাতারের ফাঁক বন্ধ করা ওয়াজিব। আর ওয়াজিব তরক করলে নামায মাকরূহ তাহরীমী হবে।
যেমন, এ প্রসঙ্গে “মাছাবীহুত তানবীর আলা ছহীহিল জামিয়িছ ছাগীর” কিতাবের ২য় খ-ের ২৬৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,

(ومن سد فرجة) بضم أوله خللاً بين المصلين في ص…..وهذا وارد على منهج تأكد سد الفرج في الصفوف وكراهة تركها….
অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, (“যে ব্যক্তি কাতারের মাঝখানে ফাঁক বন্ধ করবে”) অর্থাৎ কাতারে মুছল্লিদের মাঝে ফাঁক বন্ধ করবে, ….. কাতারে মুছল্লিদের মাঝে ফাঁক বন্ধ করা সম্পর্কিত এই বর্ণিত হাদীছ শরীফ খানা তা’কীদের জন্য এসেছে। তাই কাতারের মাঝখানে ফাঁক বন্ধ না করলে নামায মাকরূহ তাহরীমী হবে।
“আর-শীফু মুলতাক্বা আহলিল হাদীছ” কিতাবের ১ম খ-ের ৫৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,
وقوله (ومن سد فرجة) بضم أوله خللا بين المصلين في صف ……وهذا وارد على منهج تأكد سد الفرج في الصفوف وكراهة تركها
অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, (“যে ব্যক্তি কাতারের মাঝখানে ফাঁক বন্ধ করবে”) অর্থাৎ কাতারে মুছল্লিদের মাঝে ফাঁক বন্ধ করবে, ….. কাতারে মুছল্লিদের মাঝে ফাঁক বন্ধ করা সম্পর্কিত এই বর্ণিত হাদীছ শরীফখানা তা’কীদের জন্য এসেছে। তাই কাতারের মাঝখানে ফাঁক বন্ধ না করলে নামায মাকরূহ তাহরীমী হবে।”
“ফাইযুল কাদীর শারহুল জামিয়ুছ ছাগীর” কিতাবের ২য় খ-ের ২৬৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,
(ومن سد فرجة) بضم أوله خللا بين المصلين في صف ….. وهذا وارد على منهج تأكد سد الفرج في الصفوف وكراهة تركها…
অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, (“যে ব্যক্তি কাতারের মাঝখানে ফাঁক বন্ধ করবে”) অর্থাৎ কাতারে মুছল্লিদের মাঝে ফাঁক বন্ধ করবে, ….. কাতারে মুছল্লিদের মাঝে ফাঁক বন্ধ করা সম্পর্কিত এই বর্ণিত হাদীছ শরীফখানা তা’কীদের জন্য এসেছে। তাই কাতারের মাঝখানে ফাঁক বন্ধ না করলে নামায মাকরূহ তাহরীমী হবে।”
আর নামায মাকরূহ তাহরীমী হলে নামায দোহরানো ওয়াজিব।
যেমন, বিশ্ববিখ্যাত ফতওয়ার কিতাব “ফতওয়ায়ে আলমগীরী” কিতাবের ১০৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-
فان كانت تلك الكراهة كراهة تحريم تجب الاعادة
অর্থ: “নামাযের মধ্যে যদি মাকরূহ তাহরীমী হয়, তাহলে নামায দোহরানো ওয়াজিব।”
“হিদায়া মা’য়াদ দেরায়া” কিতাবের ১৪৩ পৃষ্ঠার ৩নং হাশিায়ায় উল্লেখ আছে-
وتعاد … بين كونه كراهة تحريم فيجب الاعادة
অর্থ: “নামায মাকরূহ তাহরীমী হলে, নামায দোহরানো ওয়াজিব।”
“ফতহুল ক্বাদীর” কিতাবে উল্লেখ আছে-
فان كانت تلك الكراهة كراهة تحريم تجب الاعادة
অর্থ: “নামাযের মধ্যে যদি মাকরূহ তাহরীমী হয়, তাহলে নামায দোহরানো ওয়াজিব।”
“দুররুল মুখতার” কিতাবে উল্লেখ আছে-
كل صلاة اديت مع كراهة التحريم تجب اعادتها.
অর্থ: “প্রত্যেক নামায যা মাকরূহ তাহরীমীর সাথে আদায় হয়, তা দোহরায়ে পড়া ওয়াজিব।”
“হাশিয়াতুত তাহ্তাবী” আ’লা মারাকিউল ফালাহ্ কিতাবের ২৩৩ পৃষ্ঠার হাশিয়ায় উল্লেখ আছে-
كل صلاة اديت مع الكراهة فانها تعاد
অর্থ: “ প্রত্যেক নামায যা মাকরূহ তাহরীমীর সাথে আদায় হয়, তা অবশ্যই দোহরায়ে পড়তে হবে।”
“মারাকিউল ফালাহ্” কিতাবে উল্লেখ আছে-
كل صلاة اديت مع الكراهة فانها تعاد
অর্থ: “প্রত্যেক নামায যা মাকরূহ তাহরীমীর সাথে আদায় হয়, তা অবশ্যই দোহরায়ে পড়তে হবে।”
“নূরুল ইজাহ” কিতাবের ৮৮ পৃষ্ঠার ৬নং হাশিয়ায় উল্লেখ আছে-
وتعاد الصلاة مع كونها … وجوبا
অর্থ: “নামায মাকরূহ তাহরীমীর সাথে আদায় হলে, তা দোহরায়ে পড়া …ওয়াজিব।”
“ফতওয়ায়ে শামী” কিতাবের ১ম খ-ের ৪৫৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-
كل صلاة اديت مع كراهة التحريم تجب اعادتها.
অর্থ: “প্রত্যেক নামায যা মাকরূহ তাহরীমীর সাথে আদায় হয়, তা দোহরায়ে পড়া ওয়াজিব।”
উপরোক্ত দলীলভিত্তিক বর্ণনার দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, নামাযের জন্য কাতার সোজা করা ও কাতারের ফাঁক ফাঁক বন্ধ করা ওয়াজিব। আর ওয়াজিব তরক করলে নামায মাকরূহ তাহরীমী হয়। আর নামায মাকরূহ তাহরীমী হলে নামায দোহরানো ওয়াজিব। সুতরাং যারা কাতারের মাঝখানে ফাঁক ফাঁক করে দাঁড়িয়ে নামায পড়ছে, তাদের প্রত্যেকের জন্য নামায দোহরানো ওয়াজিব।
আরো উল্লেখ্য যে, যারা ছোঁয়াচে রোগ বিশ্বাস করে নামাযে কাতার ফাঁক ফাঁক করে দাড়াচ্ছে তারা শিরক করার সাথে সাথে কুফরীও করেছে। কারণ তারা মহাসম্মানিত শরীয়ত উনার হুকুম পরিবর্তন করে দিয়েছে। নাউযুবিল্লাহ!
তাই তাদেরকে এর থেকে খালিছ তওবা ইস্তিগফার করতে হবে। নচেৎ ঈমানদার হিসেবে থাকা ও মৃত্যুবরন করা কস্মিনকালেও সম্ভব নয়।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে