সম্মানিত সুন্নত আমল খাবারের সময় দস্তরখানা ব্যবহার করার ফযীলত সম্পর্কে


মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বলুন, তোমরা যদি মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত পেতে চাও তাহলে আমার অনুসরণ কর। এতে মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদেরকে মুহব্বত করবেন। তোমাদের গুনাহ ক্ষমা করবেন এবং তোমাদের প্রতি তিনি ক্ষমাশীল ও দয়ালু হবেন। (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৩১)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যে ব্যক্তি আমার সুন্নত মুবারক উনাকে মুহব্বত করলো সে প্রকৃতপক্ষে আমাকেই মুহব্বত করলো। আর যে আমাকে মুহব্বত করলো সে জান্নাতে আমার সাথে থাকবে। সুবহানাল্লাহ! (তিরমিযী শরীফ)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন, “ যে ব্যক্তি ফিৎনা-ফাসাদের যামানায় একটি মাত্র সুন্নত মুবারক দৃঢ়তার সাথে আঁকড়িয়ে ধরবে, সে একশত শহীদের ছাওয়াব পাবে।” সুবহানাল্লাহ! (মিশকাত শরীফ)
সম্মানিত আয়াত শরীফ ও সম্মানিত হাদীছ শরীফদ্বয় থেকে জানা গেল যে, যারা মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মুহব্বত, সন্তুষ্টি রেযামন্দি পেতে চান, উনাদের জন্য নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইত্তেবা বা অনুসরণ অনুকরন করা ফরয।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার একটি সুন্নত মুবারক হলো খাবারের সময় দস্তরখানা ব্যবহার করা। উনার দস্তরখানা মুবারক ছিল চামড়ার এবং তা হালকা খয়েরী রংয়ের ছিল। (শামায়েলে তিরমিযী, আনিসুল আরওয়াহ)
চামড়ার খয়েরী রঙের দস্তরখানায় পানাহারের অসংখ্য অগনিত ফযীলত মুবারক রয়েছে। যেমন-
(১) চামড়ার এবং খয়েরী রঙের দস্তরখানায় পানাহার করা খাছ সুন্নতে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অন্তর্ভূক্ত। যে ব্যক্তি চায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সম্মানিত জান্নাত মুবারকে থাকতে সে যেন উক্ত দস্তরখানায় পানাহার করে। সুবহানাল্লাহ!
(২) হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম, হযরত মূসা আলাইহিস সালাম, হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম এবং সমস্ত নবী ও রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা চামড়ার দস্তরখানায় পানাহার করেছেন। উক্ত দস্তরখানায় পানাহার করলে সমস্ত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনাদের খাছ সুন্নত মুবারক আদায় হবে। সুবহানাল্লাহ!
(৩) নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যে ব্যক্তি খয়েরী রঙের চামড়ার দস্তরখানায় এক লোকমা খাবার খাবে, তার প্রতিটি লোকমার প্রতিদানে তাকে ১০০টি করে ছওয়াব দেয়া হবে। সুবহানাল্লাহ!
(৪) প্রতিটি লোকমার প্রতিদানে ১০০টি জান্নাতের কামরা তার জন্য নির্মাণ ও সুসজ্জিত করা হবে। সুবহানাল্লাহ!
(৫) সে ব্যক্তি বেহেশতের মধ্যে সমস্ত নবী ও রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের অফুরন্ত ছলাত এবং সালাম লাভ করবে দায়েমীভাবে। সুবহানাল্লাহ!
(৬) উক্ত দস্তরখানায় পানাহার করে তা শেষ করার সাথে সাথেই মহান আল্লাহ পাক তিনি সে ব্যক্তির জীবনের পুঞ্জীভূত গুনাহসমূহ মাফ করে দেন। সুবহানাল্লাহ!
(৭) যে ব্যক্তি উক্ত দস্তরখানায় পানাহার করবে, সে ব্যক্তি ১টি উমরাহ হজ্বের ছওয়াব পাবে এবং ১ হাজার ক্ষুধার্তকে পেট ভরে খাওয়ানোর ছওয়াব পাবে। সে ব্যক্তি এতো বেশী ছওয়াব লাভ করবে, যেন সে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মতের মধ্যে হাজার বন্দীকে মুক্ত করে দিল। সুবহানাল্লাহ!
(৮) যে ব্যক্তি দস্তরখানায় কোন গরীব দুঃখীকে আহার করাবে, তাকে সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদায় সমাসীন করা হবে। সুবহানাল্লাহ!
(৯) যে ব্যক্তি চামড়ার দস্তরখানায় সবসময় খাবার খাবে, রোজ হাশরের দিনে হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তাকে বেহেশতী পোষাক পরিয়ে বোরাকে করে উপস্থিত করাবেন এবং এই অবস্থায় তাকে বেহেশতে প্রবেশ করিয়ে দিবেন। সুবহানাল্লাহ!
(১০) যে ব্যক্তি উক্ত দস্তরখানায় খাবার খাবে এবং দস্তরখানায় পতিত খাবার টুকে টুকে খাবে, কিয়ামতের দিন তার ডান হাতে আমলনামা দেওয়া হবে, পেটের পীড়া দূরীভূত হবে, নেক সন্তান হবে, চোখের জ্যোতি ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পাবে। সুবহানাল্লাহ!
(১১) যে ব্যক্তি কোন মেহমানকে খয়েরী রংয়ের চামড়ার দস্তরখানায় খাবার খাওয়াবে, সে প্রতিটি দানার প্রতিদানে এক হাজার করে নেকী বা ছওয়াব লাভ করবে। সুবহানাল্লাহ!
(১২) যে ব্যক্তি খয়েরী রঙের চামড়ার দস্তর খানায় খাদ্য খাবে, মেহমানকে খাওয়াবে মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে দয়া, রহমত ও ক্ষমার কুদরতী নজরে দেখবেন এবং তাকে সম্মানিত জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাকে শাফায়াত করিয়ে সাথে করে নিয়ে সম্মানিত জান্নাতে প্রবেশ করবেন। সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম এবং সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানার্থে মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন আমাদেরকে দায়েমীভাবে সম্মানিত সুন্নত মুবারকের আমল করার তাওফীক দান করেন। আমীন!

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে