সম্মানিত সুন্নত মুবারক অনুযায়ী আমল করলে কামিয়াবী হাছিল হয়


মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “অবশ্যই তোমাদের সকলের জন্য নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যেই উত্তম আদর্শ মুবারক রয়েছে।” সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২১)
অর্থাৎ প্রত্যেক মুসলমান উনাদের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে মাথার তালু থেকে পায়ের তলা, হায়াত থেকে মউত পর্যন্ত সব অবস্থায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরণ-অনুকরণ করা। কখনো কাফির-মুশরিক বেদ্বীন-বদদ্বীনদের অনুসরণ করা যাবে না। যদি কোনো মুসলমান তাদের অনুসরণ করে, তবে সে তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে। নাউযুবিল্লাহ!
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, ‘যে যার অনুসরণ করে সে তার অন্তর্ভুক্ত।’ (আবূ দাউদ শরীফ, মিশকাত শরীফ)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যে ব্যক্তি আমার সম্মানিত সুন্নত মুবারক উনাকে মুহব্বত করলো, সে মূলত: আমাকেই মুহব্বত করলো, আর যে আমাকে মুহব্বত করবে, সে আমার সাথে সম্মানিত জান্নাতে অবস্থান করবে।” সুবহানাল্লাহ! (তিরমিযী শরীফ)
মুসলমান উনাদের জন্য সবসময় সম্মানিত সুন্নত মুবারক অনুযায়ী আমল করার জন্য দোয়া করা, কোশেশ করা উচিত।
সবসময় রাগ করা, অযথা রাগ করা, রাগের সময় এলো-মেলো কথা বলা, গালি-গালাজ করা একটি বদস্বভাব। এটি অবশ্যই দূর করা উচিত। রাগের সময় বা ক্রোধের সময় কি করা উচিত এ বিষয়ে সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমাদের কারো রাগ উঠলে যদি সে দ-ায়মান থাকে, তবে বসে যাওয়া উচিত। বসার পরে রাগ থেমে গেলে উত্তম। যদি তাতেও না থামে, তবে শুয়ে পড়া উচিত।” (আহমদ শরীফ, তিরমিযী শরীফ)
একবার হযরত আবূজর গিফারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি সকাল বেলা উনার ক্ষেত মুবারকে পানি দিচ্ছেলেন। এক ব্যক্তি এসে উনাকে কিছু এলোমেলো কথা বললো। তিনি দাঁড়ানো অবস্থায় ছিলেন, তিনি কাদার মধ্যে বসে গেলেন। এরপর শুয়ে গেলেন। লোকটি বললো, হুযূর আপনি কি করলেন, আপনার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কাপড় নিয়ে কাদার মধ্যে শুয়ে পড়লেন? তিনি বললেন, তোমার এলোমেলো কথা শুনে আমার গোস্বা পয়দা হলো। তখন আমার মনে পড়ল যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, হে আবুজর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! আপনার যদি গোস্বা পয়দা হয়, তাহলে আপনি দাঁড়ানো থাকলে বসে যাবেন, তাতেও যদি গোস্বা না মিটে, আপনি শুয়ে যাবেন, আপনার গোস্বা মিটে যাবে। এজন্যই আমি এরূপ করলাম। সুবহানাল্লাহ!
এ ঘটনা থেকে স্পষ্টভাবে বুঝা গেলো যে, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা সম্মানিত সুন্নত মুবারক সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্মভাবে পালন করতেন। সুবহানাল্লাহ! এজন্যই উনারা প্রতিক্ষেত্রে কামিয়াবী লাভ করেছেন, সন্তুষ্টি মুবারক লাভ করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন আমাদের সকলকে সম্মানিত সুন্নত মুবারক অনুযায়ী জীবন-যাপন করার তাওফীক্ব দান করেন। আমীন!

Views All Time
1
Views Today
3
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে