সম্মানিত সুন্নত মুবারক পালনে হীনম্মন্যতা- এটা মুসলমানের পরিচয় হতে পারে না


একজন মুসলমান মারা গেলে তাকে সুন্নতী তর্জ-তরীকা অনুযায়ী গোসল, কাফন, দাফন ইত্যাদি কাজ সম্পন্ন করা হয়। অর্থাৎ মারা গেলে প্রত্যেককে ইচ্ছা-অনিচ্ছায় সম্মানিত সুন্নত পালন করতে হচ্ছে। কিন্তু বেঁচে থাকতে অনেকেই সম্মানিত সুন্নত পালন করতে অনীহা প্রকাশ করে। এখন একজন ফাসিক মুসলমানকেও যদি বলা হয় মারা গেলে তোমাকে সুট, কোট, টাই পড়িয়ে দাফন করা হবে, এটা কেউই মানবে না। তাহলে যখন এখতিয়ার থাকে না, তখন ঠিকই সুন্নত পালন করতে হচ্ছে অর্থাৎ সুন্নতি পোশাক পরতে হচ্ছে। তাহলে এখন কিছুটা এখতিয়ার পেয়ে এমন বেপরোয়া হলে চলবে? সুট, কোট, টাই এগুলো কাফির-মুশরিকদের পোশাক। এগুলো ছেড়ে খাছ সুন্নতি পোশাক কোর্তা, লুঙ্গি, সেলোয়ার, পাগড়ি, রুমাল ইত্যাদি পরতে হবে।
কেননা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “যে ব্যক্তি সম্মানিত সুন্নত উনাকে মুহব্বত করলো সে যেন আমাকেই মুহব্বত করলো এবং আমার সাথেই সে জান্নাতে থাকবে”।
আরো বর্ণিত রয়েছে, “যে যে সম্প্রদায়ের সাথে মিল রাখে তার হাশর-নশর তাদের সাথেই হবে”। অর্থাৎ সম্মানিত সুন্নত পালন করলে আপনার হাশর-নশর-জান্নাত সব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে হবে; অপরদিকে কাফির-মুশরিকদের পোশাক সুট, কোট, টাই পড়লে আপনার হাশর-নশর-জাহান্নাম তাদের সাথেই হবে। নাউযুবিল্লাহ! তাই সকলেরই উচিত কাফির মুশরিকদের পোশাক-আশাক ছেড়ে সুন্নতি পোশাক-আশাকে অভ্যস্ত হওয়া। এখন হয়ত অনেকের পক্ষেই সব সুন্নতি পোশাক একেবারে পড়া সম্ভব নাও হতে পারে। তাই প্রথমে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে পড়া যেতে পারে। এরপর জুম্মার নামাজে পড়তে পারে। বিশেষ বিশেষ ইসলামী পর্বগুলোতে পরা যেতে পারে। এভাবে একসময় হীনমন্যতা দূর হয়ে সুন্নতি পোশাক উনার প্রতি মুহব্বত পয়দা হবে।
মূলত, সম্মানিত সুন্নত পালনের প্রতি তখনই মুহব্বত আসবে যখন একজন দায়িমীভাবে সুন্নত পালনকারী ব্যক্তিত্ব উনার সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত এবং সংযুক্ত করা হবে। বর্তমান যামানায় কেবলমাত্র এবং শুধুমাত্র রাজারবাগ দরবার শরীফ উনার সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি দায়িমীভাবে সব সুন্নত মুবারক পালন করে থাকেন। কাজেই উনার মুবারক ছোহবতে আসলে স্বাভাবিকভাবেই সম্মানিত সুন্নত উনার প্রতি মুহব্বত চলে আসবে ইনশাআল্লাহ!

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে