সম্রাজ্যবাদীদের আগ্রাসনঃ দেশীয় শিল্প ধ্বংস


চকবাজারে দেশী পণ্যের বিরুদ্ধে অভিজান করলেন, কিছু হলো না।
৫২ পণ্যের বিরুদ্ধে অভিজান করলেন, কিছু হলো না।
নিউ মার্কেটের ফাস্ট ফুড দোকানগুলোতে অভিজান করলেন, কিছু হলো না
গ্রিন লাইন বাস কাউন্টারের বিরুদ্ধে অভিজান করলেন, কিছু হলো না।
কিন্তু যেই না, আড়ং এর আউটলেটে অভিজান পরিচালনা করলেন, সাথে সাথে মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ারকে স্ট্যান্ড রিলিজ!

যখন বলা হত, এই সব কথিত অভিজানগুলো হচ্ছে, সম্রাজ্যবাদীদের বিশেষ পলিসির অংশ হিসেবে, এর মাধ্যমে দেশী শিল্প ধ্বংস করা হবে। এর মাধ্যমে আমাদের দেশে কর্পোরেটোক্রেসি বাস্তবায়ন হবে।
তখন, অনেকেই আমার কথা নিয়ে হাসিঠাট্টা করতেন, ভাবতেন- “এ পাগলটা কি সব কথা বলে !”
আসলে- গরীবের কথা বাসি হলে ফলে।

এ কথিত অভিজানগুলো সরকারের মধ্যে ইনফিলট্রেশন করে যাদের পলিসিতে পরিচালিত হতো, আড়ং এ অভিজান করার মাধ্যমে ভুল করে তাদের উপরেই বিষয়টি প্রয়োগ হয়ে গেছে। এ কারণেই ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের দুই কর্মকর্তা পরিচালক মঞ্জুর মোরশেদ চৌধুরী এবং উপপরিচালক মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার দ্রুত বদলি করে দেয়া হলো। তাদের দৃষ্টিতে এই সরকারী কর্মকর্তারা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ করেছে। শুকরের মত বাবার পাছায় কামড় দিয়ে দাঁতের ধার পরীক্ষা করেছে। তারা যদি সরকারি কর্মকর্তা না হয়ে বেসরকারি কর্মকর্তা হতেন, তবে নিশ্চিত জেল হয়ে যেতো।

আরো সহজে মিলিয়ে দিচ্ছি,
‘কর্পোরেটোক্রেসি’র সবচেয়ে ভালো উদাহরণ হলো ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’র শাসন।
-ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কার অনুমতিতে এ এলাকায় এসেছিলো ?
উত্তর : ব্রিটিশ রাজ (দস্যু) পরিবার ।
-ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’র নেতৃত্বে যে সব শীর্ষ দস্যু থাকতো তাদের উপাধি কি ছিলো ?
উত্তর – নাইট উপাধি । ডাকা হতো – স্যার ।
-ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নব্যরূপ বিশ্বের সর্ববৃহৎ এনজিও ব্র্যাকের মালিক হলো ফজলে হাসান আবেদ। ফজলে হাসান আবেদকেও কিন্তু নাইট উপাধি দিয়েছে ব্রিটিশ রাজ (দস্যু) পরিবার। তাকেও ডাকা হয় স্যার বলে। তার প্রথম কর্মস্থল ছিলো ডাচ দস্যুদের তেল কোম্পানি ‘শেল’। ই সেই ফজলে হাসান আবেদ ১৯৭৮ সালে এই আড়ং প্রতিষ্ঠা করে।

দেশী পোষাকের নাম করে বিকৃত সংষ্কৃতির পোষাক গলাকাটা মূল্যে বিক্রি করে ভোক্তা স্বার্থ ক্ষুন্ন করে দেশব্যাপী এই প্রতিষ্ঠানটি কুখ্যাত। কিন্তু তাকে আপনি কিছু বলতে পারবেন না। এটাই সম্রাজ্যবাদীদের আসল চেহারা। যেমন- তারা সারা দিন কথিত সন্ত্রাস দমনের অজুহাতে সবাইকে সাইজ করবে, কিন্তু সে নিজেই একটা বড় সন্ত্রাসী । তাকে আপনি সন্ত্রাসী বলে ডাকতে পারবেন না, ডাকলেই আপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা। ঠিক তেমনি- ঐ গ্রুপটির পলিসিতে ভেজাল-বিষাক্ত নাম দিয়ে দেশী পণ্য/শিল্প/উৎপাদন খাত ধ্বংস করা হবে, কিন্তু তাদের কোন কাজে ভুলেও হাত দিতে পারবেন না, দিলে আপনার হাত ভেঙ্গে দেয়া হবে।
অথচ দেখুন, ফরমালিনের নাম করে ৫০ হাজার টন আম, ফল ও মাছ ধ্বংস করা হয়েছে, কিন্তু পরে বের হয়েছে আসলে মেশিনেই ভুল ছিলো, ফরমালিন ছিলো না। তখন কিন্তু কোন ম্যাজিস্ট্রেটকে বদলি করা হয় নাই, কিংবা ঐ ব্যবসায়ী/কৃষককে ক্ষতিপূরণও দেয়া নাই। এতেই বোঝা যায়, আসলে জনগণকে ধোকা দেয়া হচ্ছে। দেশ গঠনের নামে দেশ-ই ধ্বংস করা হচ্ছে, আর বোকা পাবলিক সেটা দেখেই হাত তালি দিচ্ছে, আনন্দে আত্মহারা হচ্ছে।

সংগৃহীত…

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে