সরকারের প্রতি- রমাদ্বান শরীফ উনার পবিত্রতা রক্ষার্থে হারাম খেলাধুলা, নাচ, গান-বাজনা, বন্ধ করা, দ্রব্যমূল্য হ্রাস করা, সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ করা এবং কমপক্ষে ঈদুল ফিতর সহ ৪৫দিন ছুটি ঘোষণা করা আবশ্যক।


মহান আল্লাহপাক তিনি কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন – يا ا يها الذين امنوا كتب عليكم االصيام كما كتب علي الذ ين من قبلكم لعلكم تتقون
অর্থ: হে ঈমানদার বান্দা-বান্দীগণ! আপনাদের জন্য পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার মাসে পবিত্র ছিয়াম তথা রোযা পালন করাকে ফরয করা হয়েছে। সুবহানাল্লাহ! যেমন ফরজ করা হয়েছিল আপনাদের পূর্ববর্তীদের উপর। যাতে করে আপনারা এই পবিত্র ছিয়াম শরীফ সাধনার মাধ্যমে অবশ্যই তাকওয়া মুবারক তথা পরহেযগারী বা খোদাভীতি মুবারক অর্জন করতে পারেন। সুবহানাল্লাহ!
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে
هذ اسهر اوله رحمة اوسطه مغقرة و اخره عتق من النار
এই পবিত্রতম রমাদ্বান শরীফ এমন এক মহান পবিত্রতম মাস যার প্রথম ১০ দিন পবিত্রতম রহমত মুবারক এ পরিপূর্ণ, মধ্যম ১০ দিন মাগফিরাতে পরিপূর্ণ, শেষোক্ত ১০ দিন জাহান্ন¥ম থেকে মুক্তিলাভ। সুবহানাল্লাহ! আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস যখন সমাগত হন তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি আকাশের দ্বার সমূহ, পবিত্র রহমত মুবারক উনার দ্বার সমূহ, পবিত্র জান্নাত উনার দ্বার সমূহ উন্মুক্ত করে দেন। সুবহানাল্লাহ! পক্ষান্তরে জাহান্নামের দ্বারগুলো বন্ধ করে দেন। আর (শয়তান যাতে করে মানুষকে ওয়াসওয়াসা দিতে না পারে সে জন্য) ইবলিশ শয়তানকে শৃংখলে বন্দি করে রাখেন। সুবহানাল্লাহ!
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার পবিত্রতা, পরিশুদ্ধতা, হুরমত রক্ষা এবং ফযীলত সম্মলিত এরুপ আরো অনেক পবিত্র আয়াত শরীফ এবং অগনিত অসংখ্য পবিত্র হাদীছ শরীফ রয়েছেন।
উপরোক্ত আয়াত শরীফ ও হাদীছ শরীফ উনাদের মাধ্যমে সর্বাধিক প্রাঞ্জল যে, পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস সত্যিই এক মহান পবিত্রতম মাস, যে পবিত্র মাসে পবিত্র সিয়াম সাধনার মাধ্যমে বান্দা-বান্দী তার নিজেদের জিন্দেগীর সমস্ত গুনাহখতা জালিয়ে পুড়িয়ে ভস্মিভূত করে পবিত্র নতুন জিন্দেগী নিষ্পাপ-নিষ্কলুস জিন্দেগী, ফুলের মতো পবিত্র জিন্দেগী হাছিল করতে পারেন। সুবহানাল্লাহ! মূলত: পবিত্র رمضان শরীফ উনার নামের স্বার্থকতা ইহাই।
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস আসলে আমরা সবাই বলি এই পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস উনার পবিত্রতা রক্ষা করা সকলের ঈমানী দায়িত্ব-কর্তব্য। এই পবিত্র মাস আত¦সংযমী, তাকওয়া ও পরহেযগারী হাছিলের মাস। পবিত্র ঈমান, আমল, আক্বীদা বিশুদ্বকরনের মাস ও নিষ্পাপ জিন্দেগী হাছিলের মাস। সুবহানাল্লাহ! পক্ষান্তরে অন্যায়, অপকর্ম, নোংরামী, মদ-জুয়া, নাচ, গান-বাজনা, চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই, খুন-খারবী, রাহাজানি, মারামারি, গালিগালাজ, বেপর্দা, বেহায়াপনা, অশালীন বিলবোর্ড, ছবি, টিভি চ্যানেল, যাবতীয় অশ্লীলতা থেকে বিরত থাকার মাস পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার মাস। সুবহানাল্লাহ! এই কথাগুলো সকল মুসলমানগণ বলেন এবং তা যথাযথ পালন করার চেষ্টা করেন। তাছাড়া সকল রাজনৈতিক নেতা-নেত্রী তারা যেকোন ধর্মের হোকনা কেন তারাও এখন এই কথা গুলো পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার পবিত্রতা রক্ষার্থে ও সম্মানার্থে বলে থাকে। যদি তাই হয়ে থাকে তাহলে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় তা বন্ধ করাই হচ্ছে সরকারের বড় পৃষ্ঠপোষকতা, সবচাইতে বড় গুরু দায়িত্ব ও কতৃব্য। তাহলে আগামী ১১টি মাস দেশ ও জাতি পরিপূর্ণ শান্তভাবে পরিচালিত হবে। দেশে কোন অরাজকতা অনৈতিকতা এবং অশ্লীলতা থাকবে না। সুবহানাল্লাহ!
কাজেই প্রত্যেক মুসলমান যাতে করে সুন্দরভাবে পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার পবিত্র রোযাগুলো সঠিকভাবে পালন করতে পারে সেজন্য কষ্টদায়ক, পীড়াদায়ক মানসিক ও কায়িক কঠোর শ্রম সংশ্লিষ্ট যেগুলো পবিত্র রোযা পালনে প্রতিবন্ধক সৃষ্টি করে এমন কাজগুলো লাঘব করার পথ সুগোমে সরকারী পৃষ্টপোষকতার বিকল্প নেই। আর শতকরা ৯৮% মুসলিম অধ্যুষিত দেশের মুসলমানদের দাবীও তাই। অতএব বাংলাদেশ সরকারের উচিত হবে- মহাপবিত্রতম রমাদ্বান শরীফ উনার পবিত্রতা রক্ষার্থে হারাম খেলাধুলা, নাচ, গান-বাজনা, বেপর্দা-বেহায়াপনা অশ্লীল বিল বোর্ড, টিভি চ্যানেলসহ সকল সম্মানিত শরীয়ত গর্হিত কাজ বন্ধ করা, দ্রব্যমূল্য হ্রাস করা, সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ করা এবং কমপক্ষে ঈদুল ফিতর সহ ৪৫দিন ছুটি ঘোষণা করা আবশ্যক।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে