সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ বিরোধীদের কুফরীমূলক বক্তব্যের দাঁতভাঙ্গা জবাব-


সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ বিরোধীদের কুফরীমূলক বক্তব্যের দাঁতভাঙ্গা জবাব-
ধর্মব্যবসায়ী, আশাদ্দুদ দরজার জাহিল উলামায়ে সূ’রা এবং টিভি চ্যানেলে বলেছে, জন্মাষ্টমী, বৌদ্ধপূর্ণিমা, যিশুর জন্ম দিনের মত ঈদে মীলাদুন নবী নামে বিধর্মীয় সংস্কৃতি পালন করা হচ্ছে । নাঊযুবিল্লাহ!!! নাঊযুবিল্লাহ!!! নাঊযুবিল্লাহ!!!
************************************************************************
পূর্ব প্রকাশিতের পর —
***********************
সুলত্বানুল আরিফীন হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার “ওসায়িল ফী শরহি শামায়িল” নামক কিতাবে বলেন-
قَالَ سُلْطَانُ الْعَارِفِيْنَ الْاِمَامُ جَلالُ الدِّيْنِ السُّيُوْطِىُّ قَدَّسَ اللهُ سِرَّهٗ وَنَوَّرَ ضَرِيْحَهُ فِىْ كِتَابِهِ الُمُسَمّٰى الْوَسَائِلِ فِىْ شَرْحِ الشَّمَائِلِ” مَا مِنْ بَيْتٍ اَوْ مَسْجِدٍ اَوْ مَحَلَّةٍ قُرِئَ فِيْهِ مَوْلِدُ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِلا حَفَّتِ الْمَلٰئِكَةُ ذٰلِكَ الْبَيْتَ اَوِ الْمَسْجِدَ اَوِ الْمَحَلًّةَ صَلَّتِ الْمَلٰئِكَةُ عَلٰى اَهْلِ ذٰلِكَ الْمَكَانِ وَعَمَّهُمُ اللهُ تَعَالٰى بِالرَّحْمَةِ وَالرِّضْوَانِ واَمَّا الْمُطَوَقُّوْنَ بِالنُّوْرِ يَعْنِىْ جِبْرَائيلَ وَمِيْكَائِيْلَ وَاِسْرَافِيْلَ وَعَزْرَائِيْلَ عَلَيْهِمُ السَّلامُ فَاِنَّهُمْ يُصَلُّوْنَ عَلٰى مَنْ كَانَ سَبَبًا لِقَرَائَةِ مَوْلِدِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
অর্থ: “যে কোন ঘরে অথবা মসজিদে অথবা মহল্লায় সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ তথা মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদযাপন করা হয়, সেখানে অবশ্যই মহান আল্লাহ পাক- উনার ফেরেশতা আলাইহিমুস সালামগন বেষ্টন করে নেন। আর উনারা সে স্থানের অধিবাসীগণের উপর ছলাত-সালাম পাঠ করতে থাকেন। আর মহান আল্লাহ পাক উনাদেরকে স্বীয় রহমত ও সন্তুষ্টির আওতাভুক্ত করে নেন। আর নূর দ্বারা সজ্জিত প্রধান চার ফেরেশতা অর্থাৎ হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম, হযরত মীকাঈল আলাইহিস সালাম, হযরত ইসরাফীল আলাইহিস সালাম ও হযরত আযরাঈল আলাইহিস সালাম মীলাদুন সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ অর্থাৎ মিলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদযাপনকারীদের উপর ছলাত-সালাম পাঠ করেন।” সুবহানাল্লাহ!
অতএব প্রমাণিত হলো, মহান আল্লাহ পাক- উনার মনোনীত হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম, হযরত ইমাম-মুজতাহিদ এবং ওলীআল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের আমলকে বিধর্মীদের কালচারের সাথে তুলনা দেয়া সুস্পষ্ট কুফরী ও জাহান্নামী হওয়ার কারণ।
উপরোক্ত কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ উনার বর্ণনা দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত ও প্রতিভাত হয়েছে যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন খাতামুন্যাবিয়্যিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- উনার বিলাদত শরীফ দিবসকে ঈদ বা খুশির দিন হিসেবে উদযাপন করা আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালামগন, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগন, হযরত ইমাম-মুজতাহিদ ও আওলিয়ায়ে কিরামগন সকলেরই সম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ।
যেমন, বিধর্মীদের অনেকে দাড়ি রাখে, সেজন্য মুসলমান কি দাড়ি রাখা ছেড়ে দিবে? কখনোই নয়। বিধর্মীদের অনেকে আবার পাগড়ি পরিধান করে যেমন- কাদিয়ানী, শিখ ও শিয়া সম্প্রদায়, সেজন্য মুসলমানগণ কি পাগড়ি পরিধান করা ছেড়ে দিবে? কস্মিনকালেও নয়। বরং মুসলমানগণ যে বিষয়টি পালন করবে সে বিষয়টি কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ সম্মত হলেই তা পালন করবে। আর কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ সম্মত না হলে তা পালন করা যাবে না।
আরো উল্লেখ্য, মুসলমানদের জন্য দ্বীন ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন ধর্মের কোন আমল, তর্জ-তরীক্বা বা নিয়ম-নীতি অনুসরণ করা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
কাজেই, মুসলমানরা হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানদের অনুসরণ করে জন্মাষ্টমী, বৌদ্ধপূর্ণিমা ও যিশুর জন্ম দিনের মতো ঈদে মীলাদুন নবী পালন করছে এ বক্তব্য আদৌও শুদ্ধ নয়; বরং কাট্টা কুফরী। প্রকৃতপক্ষে বিধর্মীরাই ইসলাম ও মুসলমানদের থেকে নিয়ে অনেক বিষয়ই গ্রহণ করেছে ও করে থাকে।
অতএব, সম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ অর্থাৎ ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইসলাম ও মুসলমানদের এ রহমত, বরকত, সাকীনা ও ফযীলতপূর্ণ আমলটি বিধর্মী-বিজাতীয়দের কালচারের সাথে তুলনা করা বা তুলনা দেয়াটা কাট্টা কাফির ও জাহান্নামী হওয়ার কারণ। নাউযুবিল্লাহ।
খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার যামানার লক্ষ্যস্থল আমাদের আক্বা মাওলা মনিব সাইয়্যিদুনা মামদুহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আওলাদে রাসুলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন খাতামুন্যাবিয়্যিন নুরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং যিনি খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক আমাদেরকে অনন্তকালের জন্য মহা সম্মানিত মহা মহিমান্বিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ দুনিয়িাতে কবরে হাশরে নশরে মিজানে পুলসিরাতে এমনকি সম্মানিত জান্নাত মুবারকএ গিয়েও পালন করার তৌফিক দান করুন। আমিন।
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে