সাইয়্যিদুল মুরসালিন, ইমামুল মুরসালিন, খতামুন নাবিয়্যিন, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনিই সৃষ্টির মূল। উনাকে সৃষ্টি না করা হলে মহান আল্লাহ পাক কিছুই সৃষ্টি করতেন না।


╰☆╮সাইয়্যিদুল মুরসালিন, ইমামুল মুরসালিন, খতামুন নাবিয়্যিন, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনিই সৃষ্টির মূল। উনাকে সৃষ্টি না করা হলে মহান আল্লাহ পাক কিছুই সৃষ্টি করতেন না। ╰☆╮
,
✲ হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদ্বিআল্লাহু তা’য়ালা আনহু থেকে বর্নিত,
عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لما أذنب آدم صلى الله عليه وسلم الذنب الذي أذنه رفع رأسه إلى العرش فقال أسألك حق محمد ألا غفرت لي فأوحى الله إليه وما محمد ومن محمد فقال تبارك اسمك لما لما خلقتني رفعت رأسي إلى عرشك فإذا هو مكتوب لا إله إلا الله محمد رسول الله فعلمت أنه ليس أحد أعظم عندك قدرا ممن جعلت اسمه مع اسمك فأوحى الله عز وجل إليه يا آدم إنه آخر النبيين من ذريتك وإن أمته آخر الأمم من ذريتك ولولاه يا آدم ما خلقتك
অর্থঃ- “ হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, হযরত আদম আলাইহিস সালাম যখন দুনিয়াতে তাশরীফ আনেন তখন তিনি সবসময় কান্নাকাটি করতেন। একদিন তিনি আল্লাহ পাক উনার দরবারে আরজ করলেন, হে আল্লাহ পাক! হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ওসীলায় আমি আপনার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। তখন ওহী নাজীল হয়- হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে আপনি কিভাবে চিনলেন, আপনি তো উনাকে কখনো দেখেননি? তখন তিনি বললেন-যখন আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, আমার অভ্যন্তরে রুহ প্রবেশের পর মাথা তুলে আমি আরশে লেখা দেখলাম- “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্”।
তখনই আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চেয়ে সর্বাধিক প্রিয় ব্যক্তিত্ব আর কেউ নেই যার নাম আপনি স্বীয় নামের সাথে রেখেছেন। তখন অহী নাজীল হল-তিনি সর্বশেষ নবী। আপনার সন্তানদের অন্তর্ভূক্ত হবে। যদি তিনি না হতেন, তাহলে আপনাকেও সৃষ্টি করা হতো না।“
,
দলীল :-
⊲ ইমাম বায়হাকী : দালায়েলুন নাবায়িয়্যাহ : ৫/৪৮৯ পৃ
⊲ ইমাম হাকেম নিশাপুরীঃ মুসতাদরাকে হাকেম – ২/৪৮৬ পৃ : হাদিস : ৪২২৮
⊲ ইমাম হাকেম নিশাপুরীঃ আল মাদখাল : ১/১৫৪
⊲ তাবরানী : আল মুজামুল আওসাত : ৬/৩১৩ : হাদীস নং-৬৫০২
⊲ তাবরানী : আল মুজামুস সগীর : ২/১৮২ : হাদীস নং-৯৯২,
⊲ তাবরানী : মুজমায়ে কবীর’
⊲ ইমাম দায়লামী : আল মুসনাদিল ফেরদাউস : ৫/২২৭
⊲ ইমাম আজলুনী : কাশফুল কাফা : ১/৪৬ ও ২/২১৪
⊲ আবূ নুয়াইম : ‘হিলইয়াতুল আউলিয়া,
⊲ আল্লামা সুবকী -শেফাউস সিকাম
⊲ ইবনে আসাকির : নিজ ‘তারিখে দিমাশক’: ৭/৪৩৭ পৃ
⊲ ইবনুল জাওজী : আল ওয়াফা বি আহওয়ালিল মোস্তফা : ৩৩
⊲ ইবনুল জাওজী : বয়ানুল মীলাদুন্নবী : ১৫৮
⊲ ইবনে কাসীর : আল বিদায়া ওয়ান নেহায়া : ১/১৮ পৃ
⊲ ইবনে হাজর হায়সামী : মাযমাউজ যাওয়ায়েদ : ৮/২৫৩
⊲ শিহাবউদ্দীন খাফাজী : ‘নাসীম আর-রিয়াদ’
⊲ ইমাম সুয়ুতী : কাসায়েসুল কুবরা : ১/১২ : হাদিস ১২
⊲ ইমাম সুয়ুতী : আদ দুররে মানসুর : ১/১৪২
⊲ আল্লামা কাসতাল্লানী -আল মাওয়াহেবুল লাদুনিয়্যাহ : ১/ ৮২ ও ২/৫২৫
⊲ ইমাম যুরকানী : শরহে মাওয়াহিব : ১/১৭২
⊲ ইমাম হালাবী : সীরাতে হালাবিয়্যাহ : ১/৩৫৫
⊲ মুহাদ্দিসে শাহ আব্দুল আজিজ দেহলভী : তফসীরে আজিযী : ১/১৮৩
⊲ ইমাম নাবহানী : শাওয়াহিদুল হক : ১৩৭
⊲ ইমাম নাবহানী : আনোয়ার-ই-মোহাম্মাদীয়া : ৯-১০
⊲ ইমাম নাবহানী : জাওয়াহিরুল বিহার : ২/১১৪
⊲ ইমাম নাবহানী : হুজ্জাতুল্লাহি আলাল আলামিন : ৩১ পৃ ও ৭৯৫ পৃ
(মাকতুবাত এ তাওফিক হিয়্যাহ, কাহেরা,মিশর)
⊲ আল্লামা শফী উকারবী : যিকরে হাসীন : ৩৭
⊲ আশরাফ আলী থানবী : নুশরাত্বীব : ২৮
⊲ ফাযায়েলে আমাল, ৪৯৭, উর্দু এডিশন।
,
⋗ হাদীছ শরীফ উনার মান পর্যালোচনা :-
যে সকল মুহাদ্দিসগন এ হাদীছ শরীফ সহিহ বলেছেনঃ-
১) ইমাম হাকিম রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন হাদিসটি সহীহ। আল মুস্তাদরাক-২/৬১৫
২) ইমাম তকি উদ্দীন সুবকী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, হাদিসটি হাসান।শিফাউস সিকাম, পেইজ-১২০
৩) ইমাম তকী উদ্দীন দামেশকী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, হাদীসটি বিশুদ্ধ। দাফউ শুবহাহঃ ১/৭২
৪) ইমাম কস্তল্লানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, হাদিসটি বিশুদ্ধ।মাওয়াহিবুল লাদুনিয়াহঃ১/১৬৫
৫) ইমাম সামহুদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, হাদিসটি সহীহ। ওয়াফাউল ওয়াফাঃ২/৪১৯
৬) ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ুতী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, বিভিন্ন সনদে বর্ণিত এ হাদিসটি বিশুদ্ধ।আল খাসাইসঃ১/৮
৭) বিশ্ববিখ্যাত মুহাদ্দিস মুল্লা আলী কারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, একথাটি সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ।রেফারেন্সঃ আল আসরারুল মারফুআহ- ১/২৯৫
৮) বাতিল দের জবাবে ইমাম ইবনু কাসীর রহমাতুল্লাহি আলাইহি পরিস্কার বলেছেন, এই হাদীসটি বানোয়াট নয়। এটা দ্বারা নির্দ্বিধায় দলীল প্রদান করা যাবে।
রেফারেন্সঃ আস সীরাতুন নাবাওইয়্যাহ- ১/১৯৫
৯) তাইমিয়্যাহ এ হাদীছ শরীফটি দলীল হিসাবে তাঁর কিতাবে উল্লেখ করেছে। মাজমাউল ফাতাওয়াঃ২/১৫৯
‘যদি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম না হতেন, তবে আমি তোমাকে সৃষ্টি করতাম না’-এ হাদীছ শরীফটি উল্লেখ করে বলেছে,
এ হাদীছ শরীফটি পূর্বের কথাকে শক্তিশালী করেছে। রেফারেন্সঃ মাজমু উল ফাতাওয়া- ২/১৫৯

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে