সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছূম আলাইহাস সালম উনার বিলাদত শরীফ মুবারক হো


মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘মহান আল্লাহ পাক উনার নিদর্শন সম্বলিত দিবসগুলিকে স্মরণ করিয়ে দিন সমস্ত কায়িনাতকে। নিশ্চয়ই এর মধ্যে ধৈর্যশীল ও শোকরগোজার বান্দা-বান্দী উনাদের জন্য ইবরত ও নছীহত রয়েছে।’

আজ সুমহান বেমেছাল ফযীলতপূর্ণ ১১ জুমাদাল ঊলা শরীফ। সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আছ ছালিছা, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছূম আলাইহাস সালাম তিনি এই মুবারক দিনে উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!

তাই এ উপলক্ষে সকলের জন্য ফরয হচ্ছে- উনার পবিত্র সাওয়ানেহে উমরী মুবারক আলোচনা করার লক্ষ্যে মাহফিল করা এবং পবিত্র মীলাদ শরীফ, পবিত্র ক্বিয়াম শরীফ করা। আর সরকারের জন্যও ফরয হচ্ছে- উনার পবিত্র জীবনী মুবারক শিশুশ্রেণী থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ শ্রেণী পর্যন্ত সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত করা এবং উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার দিবসে মাহফিল করা ও সরকারি ছুটি ঘোষণা করা।

যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইউস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যূল আউওয়াল, সুলত্বানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদে রসূল, মাওলানা সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার লখতে জিগার, অত্যন্ত স্নেহময়ী বিনতু এবং উনার সর্বপ্রথম আহলিয়া উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিতা চার বানাত আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের একজন অর্থাৎ তৃতীয়া বিনতু সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত উম্মে কুলছূম আলাইহাস সালাম। মূলত তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আওলাদগণ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্যতমা। যিনি এই পবিত্র জুমাদাল ঊলা শরীফ মাস উনার ১১ তারিখ পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। আর আজই হচ্ছে সেই সুমহান মহাপবিত্র বেমেছাল ফযীলতপূর্ণ ১১ জুমাদাল ঊলা শরীফ। সুবহানাল্লাহ! মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছা আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুষ্ঠানিক নুবুওওয়াত প্রকাশের প্রায় পাঁচ বছর পূর্বে পবিত্র জুমুদাল ঊলা শরীফ উনার ১১ তারিখে পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। তিনিও প্রথমা বিনতু সাইয়্যিদাতুনা হযরত যয়নাব আলাইহাস সালাম ও দ্বিতীয়া বিনতু সাইয়্যিদাতুনা হযরত রুকাইয়া আলাইহাস সালাম উনাদের ন্যায় অত্যন্ত খুবছূরত ছিলেন। তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনাদের গুণে গুণান্বিত ছিলেন। সুবহানাল্লাহ! মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছা আলাইহাস সালাম উনার অল্প বয়স মুবারকে শাদী মুবারক সম্পন্ন হয়। প্রথম শাদী মুবারক সম্পন্ন হয় আবু লাহাবের ছেলে উতাইবা’র সাথে। পবিত্র ‘সূরা লাহাব’ শরীফ নাযিল হওয়ার পর উতাইবা সে বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত উম্মে কুলছূম আলাইহাস সালাম উনার খিদমত মুবারক করার অযোগ্য বলে প্রমাণিত হয়। পরবর্তীতে হযরত রুকাইয়া আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার পরে তৃতীয় হিজরী সনের পবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ মাসে (৬২৪ ঈসায়ী সনে) সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সাথে পবিত্র শাদী মুবারক সম্পন্ন হয়। সুবহানাল্লাহ! মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সাথে পবিত্র শাদী মুবারক হওয়ার ৬ বছর পর হিজরী নবম সালে (৬৩০ ঈসায়ী সনে) ৬ রমাদ্বান শরীফ সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছা আলাইহাস সালাম তিনি পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। অর্থাৎ তিনি ২৬ বছর ৩ মাস ২৫ দিন দুনিয়ার যমীনে অবস্থান মুবারক করেন। নুরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বয়ং উনার পবিত্র জানাযা নামায পড়ান। হযরত আসমা বিনতে উমায়স রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা এবং হযরত ছাফিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনারা উনাকে গোছল মুবারক দেন। মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মূলত উনার ফাযায়িল-ফযীলত, মর্যাদা-মর্তবা ও বুযূর্গী সম্পর্কিত ইলম না থাকার কারণে অনেকেই উনাকে যথাযথ মুহব্বত ও অনুসরণ করতে পারছে না। যার ফলে তারা মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের খাছ রেযামন্দি হাছিলে ব্যর্থ হচ্ছে। তাই উনার সম্পর্কে জানা সকলের জন্যই ফরয। কেননা যে বিষয়টা আমল করা ফরয, সে বিষয়ে ইলম অর্জন করাও ফরয। অথচ আশ্চর্যের বিষয় হলো- ৯৮ ভাগ মুসলমানের দেশ বাংলাদেশের মাদরাসা, স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে উনার সম্পর্কে কোনো আলোচনাই নেই। তাহলে মুসলমানগণ কী করে হাক্বীক্বী মুসলমান হবে? তাই সরকারের জন্য ফরয হচ্ছে- শতকরা ৯৮ ভাগ মুসলমান অধ্যুষিত দেশ- বাংলাদেশের সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সিলেবাস বা পাঠ্যপুস্তকে উনার জীবনী মুবারক অন্তর্ভুক্ত করা। উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস উনার সম্মানার্থে মাসব্যাপী অনুষ্ঠান আয়োজন করা ও সরকারি ছুটি ঘোষণা করা।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে