সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বংশীয় পবিত্রতা মুবারক


মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত কুরআন শরীফ’ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেছেন, وَتَقَلُّبَكَ فِي السَّاجِدِينَ অর্থ: “(হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনার স্থানান্তরিত হওয়ার বিষয়টিও ছিল সম্মানিত সিজদাকারীগণ উনাদের মাধ্যমে।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত সূরা শুয়ারা শরীফ : সম্মানিত আয়াত শরীফ ২১৯) ‘তাফসীরে কবীর শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছে, فَالْاٰيَةُ دَالَّـةٌ عَلـٰى اَنَّ جَمِيعَ آبَاءِ مُحَمَّدٍ عَلَيْهِمُ السَّلَامُ كَانُوْا مُسْلِمِيْنَ. অর্থ: “এই সম্মানিত আয়াত শরীফ থেকে প্রমাণিত হয় যে, নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত পূর্বপুরুষ আলাইহিমুস সালাম উনারা সকলেই সর্বোত্তম মুসলমান ছিলেন, সর্বশ্রেষ্ঠ ঈমানদার ছিলেন।” সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে কবীর শরীফ ১৩/৩২) আরো উল্লেখ রয়েছে যে, اِنَّهٗ كَانَ يَنْقُلُ نُوْرهُ مِنْ سَاجِدٍ إِلَى سَاجِدٍ অর্থ: “নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত নূর মুবারক সম্মানিত সিজদাকারীগণ উনাদের মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়েছিলেন।” সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে কবীর শরীফ ১৩/৩২, মাওয়াহিবুল লাদুননিয়্যাহ শরীফ ১/১০৪, শরহুয যারক্বানী আলাল মাওয়াহিব ১/৩২৬, তারীখুল খমীস ১/২৩৪, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ শরীফ) নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- لَمْ اَزَلْ اُنْقَلُ مِنْ اَصْلَابِ الطَّاهِرِيْنَ اِلى اَرْحَامِ الطَّاهِرَاتِ. অর্থ: “আমি সবসময় পূত-পবিত্র পুরুষ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্য থেকে পূত-পবিত্রা মহিলা আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সম্মানিত রেহেম শরীফ-এ স্থানান্তরিত হয়েছি।” সুবহানাল্লাহ! সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَاِنَّ اللهَ قَسَّمَ الْـخَلْقَ قِسْمَيْنِ فَجَعَلَنِىْ فِىْ خَيْرِهِـمَا قِسْمًا ثُـمَّ جَعَلَ الْقِسْمَيْنِ اَثْلَاثًا فَجَعَلَنِىْ فِىْ خَيْرِهَا ثُلُثًا ثُـمَّ جَعَلَ الْاَثْلَاثَ قَبَائِلَ فَجَعَلَنِىْ فِىْ خَيْرِهَا قَبِيْلَةً ثُـمَّ جَعَلَ الْقَبَائِلَ بُيُوْتًا فَجَعَلَنِىْ فِىْ خَيْرِهَا بَيْتًا فَذٰلِكَ قَوْلُهٗ تَعَالـٰى{اِنَّـمَا يُرِيْدُ اللهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ اَهْلَ الْبَيْتِ وَيُـطَـهِّـرَكُـمْ تَطْهِيْراً} فَاَنَا وَاَهْلُ بَيْتِىْ مُطَهَّرُوْنَ مِنَ الذُّنُوْبِ. অর্থ: “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত সৃষ্টিকে দু’ভাগে বিভক্ত করে আমাকে সর্বোত্তম ভাগে রেখেছেন। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর উভয় ভাগকে তিন প্রকারে বিভক্ত করে আমাকে সর্বোত্তম প্রকারে রেখেছেন। সুবহানাল্লাহ! এরপর প্রত্যেক প্রকারকে গোত্রে গোত্রে বিভক্ত করে আমাকে সর্বোত্তম গোত্র মুবারক-এ রেখেছেন। সুবহানাল্লাহ! এরপর গোত্রকে সম্মানিত আহাল (পরিবার) মুবারক-এ বিভক্ত করে আমাকে সর্বোত্তম সম্মানিত আহাল (পরিবার) মুবারক-এ রেখেছেন। সুবহানাল্লাহ! এ কারণেই মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, হে মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম, ‘নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি চান আপনাদের থেকে সমস্ত প্রকার অপবিত্রতা দূর করে আপনাদেরকে পবিত্র করার মতো পবিত্র করতে। অর্থাৎ তিনি আপনাদের থেকে সমস্ত প্রকার অপবিত্রতা দূর করে আপনাদেরকে পবিত্র করার মতো পবিত্র করেই সৃষ্টি মুবারক করেছেন।’ সুবহানাল্লাহ! আর আমি এবং আমার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম আমরা সকলেই যুনূব তথা সমস্ত প্রকার ছগীরা-কবীরা এবং যাবতীয় অপছন্দনীয় কাজ থেকে পূত-পবিত্র।” সুবহানাল্লাহ! (দালায়িলুন নুবুওওয়াহ লিল বায়হাক্বী, শিফা ১/৩২৫, সীরাতে হালবিয়্যাহ ১/৪২, আল মা’রিফাতু ওয়াত তারীখ ১/৪৯৮, খছাইছুল কুবরা ১/৬৬, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১/২৩৫ ইত্যাদি) সুতরাং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান সাইয়্যিদাতুনা উম্মু রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পূর্বপুরুষ আলাইহিমুস সালাম উনারা প্রত্যেকেই ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ দ্বীনদার, মহান আল্লাহ পাক উনার আখাচ্ছুল খাছ বিশেষ ব্যক্তিত্ব মুবারক। অর্থাৎ উনারা অনেকেই ছিলেন হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম। আর যাঁরা হযরত নবী-রসূল ছিলেন না, উনারা ছিলেন সে যামানার মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ লক্ষ্যস্থল। উনারা প্রত্যেকেই সর্বকালের সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব মুবারক এবং মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ! ‘নিহায়াতুল ঈজাযে’ বর্ণিত রয়েছে, امنة أفضل امرأة في قريش حسبا ونسبا وجمالا অর্থ: “সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ছিলেন কুরাইশ বংশীয় তথা কায়িনাতের সকল মহিলাদের মধ্যে মান, মর্যাদা, সম্মান, বংশ ও সৌন্দর্যগত দিক থেকে সর্বশ্রেষ্ঠা।” সুবহানাল্লাহ! কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে- وهي يومئذ أفضل امرأة في قريش نسبا وموضعا. অর্থ: “সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ছিলেন কুরাইশ তথা কায়িনাতের সমস্ত মহিলাদের মধ্যে মুবারক বংশগত ও অবস্থানগত তথা পিতা-মাতা উভয়ের দিক থেকে অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে সর্বশ্রেষ্ঠা।” সুবহানাল্লাহ! (ইবনে হিশাম, আর রওদ্বুল উন্ফ, দালাইলুন নুবুওওয়াহ, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ, শরহুয যারক্বানী ‘আলাল মাওয়াহিব, শরফুল মুস্ত¡ফা) সুতরাং সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, মালিকাতুল জান্নাহ, হাবীবাতুল্লাহ, সাইয়্যিদাতুছ ছাক্বালাইন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বংশীয় পবিত্রতা মুবারক উনার বিষয়টি যে কতো বেমেছাল তা এখান থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায়। সুবহানাল্লাহ! যা সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী কস্মিনকালেও চিন্তা-কল্পনা করে মিলাতে পারবে না। সুবহানাল্লাহ!
Views All Time
2
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে