সাইয়্যিদাতুনা হযরত নিবরাসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত কারামত মুবারক


লক্ষ-কোটি দূরূদ ও সালাম যিনি যামানার মূল, যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ আমাদের প্রাণপ্রিয় শায়েখ, আমাদের আক্বা ক্বিবলা কা’বা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম এবং নূরে জাহান, গুলে মদীনা, নূরে মুবীনা, কায়িম-মাক্বামে ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম, আমাদের প্রাণপ্রিয় হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনাদের ক্বদম মুবারক-এ।
উনারা অত্যন্ত দয়া করে, ইহসান করে এই পথভ্রষ্ট উম্মতের জন্য হাদিয়া করেছেন আমাদের প্রাণপ্রিয়া শায়েখযাদী সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ছানী আলাইহাস সালাম উনাকে। আরো লক্ষ-কোটি শুকরিয়া জানাই, যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনাকে এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের দরবার শরীফ-এ।
আমাদের যিনি মাথার তাজ, নয়নের মণি সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ছানী আলাইহাস সালাম তিনি অনেক উচ্চ পর্যায়ের একজন ওলীআল্লাহ। উনারা হচ্ছেন মনোনীত। আর যেহেতু উনারা মনোনীত তাই উনাদের রয়েছে লক্ষ-কোটি কারামত। হযরত আউলিয়া কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের কারামত সত্য। তাই আমাদেরকে অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে। এখানে কিছু কারামত উল্লেখ করা হলো:
(১)
আমাদের একজন পীরবোন একবার উনার ছোট বাচ্চা মেয়েকে নিয়ে সফরে গিয়েছিলেন। সেখানে হঠাৎ করে প্রচ- জ্বরে আক্রান্ত হয় মেয়েটি। ঔষধ খাওয়ানো হচ্ছিলো কিন্তু কিছুতেই জ্বর কমছিলো না। এমতাবস্থায় তিনি কি করবেন ভেবে পাচ্ছিলেন না। হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার কাছে নিয়ে যাবেন কিন্তু সেই মুহূর্তে হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম তিনি মহিলাদের তালিম-তালকীন দিতে ব্যস্ত ছিলেন। তিনি যখন মেয়েকে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তখন সেখান দিয়ে সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ছানী আলাইহাস সালাম তিনি যাচ্ছিলেন। উনার বয়স মুবারকও ছিলো অনেক অল্প। যেহেতু ওলীআল্লাহগণ শিশু বয়স মুবারক-এও ওলীআল্লাহ হয়ে থাকেন, তাই তিনি বিচলিত পীরবোনকে উনার চিন্তার কারণ জিজ্ঞাসা করলেন। উক্ত পীরবোন তখন উনার কাছে নিজের মেয়ের জ্বরের কথা বলে দোয়া চাইলেন। সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ছানী আলাইহাস সালাম তিনি মেয়েটিকে ফুঁ মুবারক দিলেন। সত্যিই দেখা গেলো সে কিছুক্ষণ পরই তার জ্বর সেরে গেলো এবং তার আর কখনো এতো বেশি জ্বর আসেনি। সুবহানাল্লাহ!
(২)
আমাদের জনৈক এক পীরবোন তিনি একবার স্বপ্নে দেখেন যে, সাইয়্যিদাতু না হযরত শাহযাদী ছানী আলাইহাস সালাম তিনি উক্ত পীরবোনকে বলছেন যে “তুমিতো অনেক নতুন। কোনো মানুষ কেমন তা তো কেউ উপর থেকে দেখে বুঝবে না। আমার সাথে চল, দেখো সবার বাইরের রূপের সাথে ভিতরের রূপের মিল থাকে না। তোমাকে তাই দেখাবো” এটা বলার সাথে সাথে উক্ত পীরবোন উনার সাথে রওয়ানা হলেন, তিনি যাদের দিকে তাকাচ্ছেন তাদের সবারই ভিতরের রূপটা বাইরে ফুটে উঠছে। অর্থাৎ কারো কারো চেহারা বিকৃত হয়ে গেলো।
সেই পীরবোন তাদেরকে ভালোভাবে চিনে রাখলেন। আশ্চর্যের বিষয় এই যে, যখন দরবার শরীফ উনার মাঝে মুনাফিকদের তালিকা প্রকাশ করা হলো তখন দেখা গেলো যে, যাদের চেহারা বিকৃত হয়ে গিয়েছিলো তাদের প্রত্যেকের নাম মুনাফিকদের তালিকার প্রথম সারিতে রয়েছে। উনারা যেহেতু মাদারযাদ ওলীআল্লাহ, সেহেতু উনারা পূর্ব থেকেই সব কিছু জেনে থাকেন। কিন্তু প্রকাশ করেন না। এটা উনাদের একটা শান মুবারক।
(৩)
আমাদের এক পীরবোন তিনি মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ বালিকা মাদরাসা উনার ছাত্রী ছিলেন। আবাসিক ছাত্রী হিসেবে সেই পীরবোন দরবার শরীফ উনার ভিতরে অবস্থান করতেন। যখনই সেই পীরবোন শাহযাদী ছানী আলাইহাস সালাম উনাকে দেখতে পেতেন সবসময় জানতে চাইতেন তার আব্বু কবে দরবার শরীফ আসবে?
কয়েকদিন এভাবে বলতে বলতে হযরত শাহযাদী ছানী আলাইহাস সালাম তিনি বলেন যে, তোমার আব্বু লাল জুমুয়াবার আসবে। অর্থাৎ এটাতে তিনি বুঝিয়েছেন যে, তার আব্বু আর কোনোদিন আসবে না। কারণ জুমুয়াবার কখনো লাল হবেও না, তার আব্বুর আর আসাও হবে না। সত্যিই দেখা যায় কয়েকদিন পরেই সেই পীরবোনের আব্বু ইন্তিকাল করেছিলো। অর্থাৎ তার আর আসা হয়নি।
ওলীআল্লাহগণ উনাদের জবান মুবারক দিয়ে যা প্রকাশ পায় সেটা অবশ্যই বাস্তব।
(৪)
আমাদের এক পীরবোন দ্বিতীয়বার যখন সন্তান-সম্ভাবা হন তখন মাঝে মাঝে চিন্তিত হতেন এবং সবসময় বলতেন না জানি আমার এই বাচ্চাটি দেখতে কেমন হয়? তিনি হঠাৎ একদিন আলোচনা করছিলেন তখন ঠিক সেই মুহূর্তে শাহযাদী ছানী আলাইহাস সালাম তিনি সেখান দিয়ে যাচ্ছিলেন। উক্ত পীরবোন তখন অত্যন্ত আদবের সাথে, বিনয়ের সাথে জানতে চান যে “শাহযাদী বলুন না আমার এবারের সন্তানটি কেমন হবে”? তখন শাহযাদী ছানী আলাইহাস সালাম তিনি বললেন যে “তোমার এবারের সন্তান আগের সন্তানের চেয়ে আরো অনেক সুন্দর হবে।”
সত্যিই আশ্চর্যের বিষয় এই যে, যখন সেই পীরবোনের সন্তানটি হলো তখন দেখা গেলো যে, আগের সন্তান থেকে এই সন্তান আরো অনেক বেশি সুন্দর। সুবহানাল্লাহ!
যারা মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ ওলীগণ উনাদের অন্তর্ভুক্ত উনাদের জবান মূলত মহান আল্লাহ পাক উনার জবান। উনারা যা বলেন তাই হয়, এমনই লক্ষ-কোটি কারামত সবসময়ই সংঘটিত হতে থাকে। এমনই একটি কারামত হলো, এই অধম যখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ছানী আলাইহাস সালাম উনার শান মুবারক উনাকে রচনাখানা লিখছিলাম তখন হঠাৎ করেই মাগরিবের নামাযের ওয়াক্ত হয়ে গেলো। আমি যখন নামায পড়ার জন্য যাবো তখন দেখতে পেলাম, বেশ কিছু মশা আমার ঘুমন্ত বাচ্চা ছেলেটির আশেপাশে ঘুরাঘুরি করছে। আমি যখন নামায পড়ার জন্য যাচ্ছি তখন আমি আগে রচনার খাতাটি বন্ধ করলাম এবং বললাম যে, আপনারাই তো হিফাযতকারী। আমার সন্তানকে আপনিই হিফাযত করুন। এই বলে সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ছানী আলাইহাস সালাম উনার হিফাযত মুবারক-এ আমার ঘুমন্ত সন্তানকে রেখে পাশে খাতাটি রেখে চলে গেলেম। নামায শেষ করে যখন খাতাটির কাছে আসলাম তখনই দেখলাম আশ্চর্য ঘটনাটি। ২টি মশা মরা মরা অবস্থায় খাতাটির উপর পড়ে আছে। আমি যখন হাত দিতে গেলাম দেখলাম মশাগুলোর শেষ ক্ষমতাটুকুও শেষে হয়ে গেলো। সুবহানাল্লাহ!
আসলে আমাদের চারপাশেই প্রতিনিয়ত ঘটে হাজারও কারামত। শুধুমাত্র একটু ফিকিরের বিষয়। হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম আলাইহিমুস সালাম উনাদের উসীলা দিয়ে দোয়া করলে তা অবশ্যই কবুলযোগ্য। উনাদেরকে হাদিয়া করারও অনেক ফযীলত। কারণ যারা মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে ব্যবসা করে তারা কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। আমরা তো সরাসরি মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে ব্যবসা করতে পারি না। আমরা পেয়েছি আমাদের প্রাণপ্রিয় শায়েখগণ উনাদেরকে। যথাযথভাবে উনাদের খিদমত করতে হবে। ওলীআল্লাহ বা মহান আল্লাহ পাক উনার বন্ধুদের সম্পর্কে আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক উনার এমন কতিপয় বান্দা আছেন যারা নবীও নন, শহীদও নন।” অথচ ক্বিয়ামতের দিন উনাদের নৈকট্য প্রাপ্তি এবং সুউচ্চ মর্যাদা দেখে সমস্ত হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম এবং শহীদগণ পর্যন্ত আশ্চর্যান্বিত হবেন। উনারা বিভিন্ন সম্প্রদায়ের এমন লোকদের সাথে মুলাকাত করতেন, মহান আল্লাহ পাক উনার মুবারক সন্তুষ্টির জন্য পরস্পর দান-ছদকা করতেন, মুহব্বত করতেন যাদের সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিলো না বা দুনিয়াবী কোনো প্রয়োজন থাকতো না। শুধুমাত্র খালিছভাবে মহান আল্লাহ পাক ও উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক সন্তুষ্টির জন্যই মুবারক ছোহবত লাভ করতেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি ক্বিয়ামতের দিন উনাদের জন্য নূরের তৈরি মিম্বরের ব্যবস্থা করবেন, যার উপরে উনারা উপবেশন করবেন। আর সেদিন সমস্ত লোক ভয়ে ভীত হবে কিন্তু উনাদের কোনো প্রকার ভয়ভীতি থাকবে না। আর উনারাই হচ্ছেন ওলীআল্লাহ বা মহান আল্লাহ পাক উনার বন্ধু। উনাদের কোন ভয় নেই, উনারা কোনো প্রকার পেরেশানও হবেন না। (কানযুল উম্মাল ৯/৭)
সুতরাং উনাদের সাথে যারা সম্পর্ক স্থাপন করবে, তারাও যে সে মর্যাদা-মর্তবার অংশীদার হবেন- তা বলার অপেক্ষাই রাখে না।

Views All Time
2
Views Today
3
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে