সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি ‘আলাল ‘আলামীন, আফযালুন নাস ওয়ান নিসা বা’দা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সংক্ষিপ্ত জীবনী মুবারক


যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
اَلنَّبِـىُّ اَوْلـٰى بِالْمُؤْمِنِيْنَ مِنْ اَنْفُسِهِمْ وَاَزْوَاجُهۤٗ اُمَّهٰتُهُمْ.
অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন মু’মিন উনাদের নিকট উনাদের জানের চেয়ে অধিক প্রিয়, উনাদের মহাসম্মানিত পিতা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং উনার মহাসম্মানিতা ‘আযওয়াজুম মুত্বহহারাত’ (হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম) উনারা হচ্ছেন সমস্ত মু’মিন উনাদের মহাসম্মানিতা মাতা আলাইহিন্নাস সালাম।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৬)
হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা ছিলেন মোট ১৩ জন। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ সম্মানিত তাশরীফ মুবারক নেয়ার ধারাবাহিকক্রম মুবারক অনুযায়ী সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি ‘আলাল ‘আলামীন, আফযালুন নাস ওয়ান নিসা বা’দা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা আছ ছানিয়াহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন ‘আছ ছানিয়াহ্ ‘আশার তথা ১২তম’। এ জন্য উনাকে ‘উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা আছ ছানিয়াহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম’ বলা হয়। তিনি সকলের মাঝে ‘উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা আছ ছানিয়াহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম’ হিসেবেই সম্মানিত পরিচিতি মুবারক গ্রহণ করেন। সুবহানাল্লাহ! তবে উনার মূল মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইস্ম বা নাম মুবারক হচ্ছেন- ‘সাইয়্যিদাতুনা হযরত মারিয়াহ্ আলাইহাস সালাম।’ সুবহানাল্লাহ! ১৩ জন হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মধ্যে ৬ জন ছিলেন সম্মানিত কুরাঈশ বংশীয়। ১ জন ছিলেন বনূ আসাদ বংশীয়। ২ জন ছিলেন বনূ হিলাল বংশীয়। ২ জন ছিলেন বনূ নাযীর বংশীয়। বনূ নাযীর গোত্র ছিলেন ইহুদী সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। ১ জন ছিলেন বনূ মুছ্ত্বলিক্ব বংশীয় এবং ১ জন ছিলেন মিশরের বনূ ক্বিব্ত্ব বংশীয়। বনূ মুছত্বলিক্ব এবং বনূ ক্বিব্ত্ব গোত্র ছিলেন ইঞ্জিল শরীফের অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত। উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা আছ ছানিয়াহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম তিনি ছিলেন মিশরের বনূ ক্বিবত বংশীয়। সুতরাং তিনি এসেছেন ইঞ্জিল শরীফের অনুসারী সম্প্রদায় থেকে। তিনি হচ্ছেন-
اُمُّ الْمُؤْمِنِيْنَ سيدتنا حضرت مارية عليها السلام بنت شمعون بن إبراهيم عليهما السلام
অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন আছ ছানিয়াহ্ ‘আশার সাইয়্যিদাতুনা হযরত মারিয়াহ্ আলাইহাস সালাম বিনতে শাম‘ঊন ইবনে ইবরাহীম আলাইহিমাস সালাম।” সুবহানাল্লাহ! (নসবু কুরাইশ ১/২১)
উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা আছ ছানিয়াহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত পিতা হচ্ছেন, সাইয়্যিদুনা হযরত শাম‘ঊন ইবনে ইবরাহীম আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ:

পৃথিবীর কোনো কিতাবে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা আছ ছানিয়াহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের মহাসম্মানিত তারীখ মুবারক উল্লেখ নেই। এটা মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত আফসোসের বিষয় যে, মুসলমানরা উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা আছ ছানিয়াহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের মহাসম্মানিত তারীখ মুবারক সংরক্ষণ করতে পারেনি। না‘ঊযুবিল্লাহ!
উল্লেখ্য যে, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি হচ্ছেন একমাত্র যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার মাহবূব হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা ব্যতীত সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ সম্মানিত নি‘য়ামত মুবারক। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে আখাছ্ছুল খাছভাবে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সাথে উনার রয়েছেন বেমেছাল হাক্বীক্বী দায়িমী তা‘য়াল্লুক্ব-নিসবত এবং যিয়ারত মুবারক। সুবহানাল্লাহ! যার কারণে একমাত্র উনার পক্ষেই সম্ভব হয়েছে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের, আখাছ্ছুল খাছভাবে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মহাম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশের মহাসম্মানিত তারীখ মুবারকসমূহ প্রকাশ করা। সুবহানাল্লাহ! তিনি ১৪৩৯ হিজরী শরীফ উনার ৪ঠা শাওওয়াল শরীফ লাইলাতুছ ছুলাছা’ শরীফ হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের প্রত্যেকের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের মহাসম্মানিত তারীখ মুবারকসমূহ ঘোষণা মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন যে, “উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা আছ ছানিয়াহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত নুবুওওয়াত ও রিসালত মুবারক প্রকাশের ২ বছর পূর্বে ১৩ই সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ (রবী‘উল আউয়াল শরীফ) ইয়াওমুল জুমু‘য়াহ্ শরীফ মিশরে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন।” সুবহানাল্লাহ!

সম্মানিত কুনিয়াত মুবারক:

উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা আছ ছানিয়াহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত কুনিয়াত মুবারক হচ্ছেন, ‘সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু ইবরাহীম আলাইহাস সালাম’। সুবহানাল্লাহ! উনার মহাসম্মানিত আওলাদ ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আন নূরুর রবি’ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ইসম মুবারক অনুযায়ী তিনি এই সম্মানিত কুনিয়াত মুবারক গ্রহণ করেন। সুবহানাল্লাহ!

উনার সম্মানিত ও পবিত্র লক্বব মুবারক:

উম্মুল মু’মিনীন, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি ‘আলাল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, আত্ব ত্বাহিরাহ, আত্ব ত্বইয়্যিবাহ্, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমাদ, মালিকাতুল জান্নাহ, মালিকাতুল কায়িনাত এছাড়াও আরো অসংখ্য-অগণিত। সুবহানাল্লাহ! এক কথায় তিনি শুধু যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং উনার মাহবূব হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারিণী হচ্ছেন তিনি। সুবহানাল্লাহ!

সম্মানিত পবিত্রতা মুবারক:

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
اِنَّـمَا يُرِيْدُ اللهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ اَهْلَ الْبَيْتِ وَيُـطَـهِّـرَكُمْ تَطْهِيْرًا.
অর্থ: “হে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম! নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি চান আপনাদের থেকে সমস্ত প্রকার অপবিত্রতা দূর করে আপনাদেরকে পবিত্র করার মতো পবিত্র করতে। অর্থাৎ তিনি আপনাদেরকে পবিত্র করার মতো পবিত্র করেই সৃষ্টি মুবারক করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৩)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন,
نَـحْنُ اَهْلُ بَيْتٍ طَهَّرَهُمُ اللهُ مِنْ شَجَرَةِ النُّبُوَّةِ وَمَوْضِعِ الرِّسَالَـةِ وَمُـخْتَلِفِ الْمَلَائِكَةِ وَبَيْتِ الرَّحْمَةِ وَمَعْدِنِ الْعِلْمِ.
অর্থ: “আমরা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে (আমাদেরকে) সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক উনার বৃক্ষ, সম্মানিত রিসালাত মুবারক উনার স্থান, বিভিন্ন ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের, উনাদের দ্বারা সম্মানিত খিদমত মুবারক, সম্মানিত রহমত মুবারক উনার ঘর মুবারক এবং সম্মানিত ইলম মুবারক উনার খনি মুবারক (ইত্যাদি সমস্ত কিছু) থেকে পবিত্র রেখেছেন, ছমাদ তথা বেনিয়ায (অমুখাপেক্ষী) করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে দুররে মানছূর ৬/৬০৬, ইবনে আবী হাতিম ৯/৩১৩৩)
এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের পরিপূর্ণ মিছদাক্ব হচ্ছেন উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা আছ ছানিয়াহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! উনাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র করার মতো পবিত্র করেই সম্মানিত সৃষ্টি মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি একমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মাহবূব হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের মুহতাজ। এছাড়া কায়িনাতের অন্য কারো মুহতাজ নন; বরং কায়িনাতের সকলেই উনার মুহতাজ। সুবহানাল্লাহ! তিনি সমস্ত কিছু থেকে পবিত্র, ছমাদ তথা বেনিয়ায। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! উনার কারণেই সম্মানিত নুবুওয়াত মুবারক, সম্মানিত রিসালাত মুবারক, সমস্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা, সম্মানিত রহমত মুবারক এবং সম্মানিত ইলম মুবারকসহ সমস্ত কিছুই ফযীলতপ্রাপ্ত হয়েছেন, সম্মানিত হয়েছেন।” সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত শৈশবকাল মুবারক:

উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা আছ ছানিয়াহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম তিনি উনার মহাসম্মানিত শৈশবকাল মুবারক উনার মহাসম্মানিত পিতা-মাতা আলাইহিমাস সালাম ও পরিবারের সাথে মিশরে অতিবাহিত করেন। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ তাশরীফ মুবারক:

ইমাম ওয়াক্বেদীর মতে, ৬ষ্ঠ হিজরী শরীফ উনার যিলহজ্জ শরীফ মাসে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মিসর ও আলেকজান্দ্রিয়ার খ্রিষ্টান স¤্রাট জুরায়েজ ইবনে মীনা’ ওরফে মুক্বাউক্বিসের নিকট সম্মানিত ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দাওয়াত দিয়ে একখানা পত্র মুবারক লিখেন। উক্ত পত্র মুবারক উনার বাহক ছিলেন হযরত হাত্বিব ইবনে আবূ বালতা‘আহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি। সুবহানাল্লাহ! সম্মানিত পত্র মুবারকখানা হচ্ছেন-
: بِسْمِ اللّهِ الرّحْمَنِ الرّحِيمِ مِنْ مُحَمّدٍ عَبْدِ اللّهِ وَرَسُولِهِ إلَى الْمُقَوْقِسِ عَظِيمِ الْقِبْطِ سَلَامٌ عَلَى مَنْ اتّبَعَ الْهُدَى أَمّا بَعْدُ فَإِنّي أَدْعُوكَ بِدِعَايَةِ الْإِسْلَامِ أَسْلِمْ تَسْلَمْ وَأَسْلِمْ يُؤْتِكَ اللّهُ أَجْرَكَ مَرّتَيْنِ فَإِنْ تَوَلّيْت فَإِنّ عَلَيْكَ إثْمَ الْقِبْطِ {يَا أَهْلَ الْكِتَابِ تَعَالَوْا إِلَى كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ أَلّا نَعْبُدَ إِلّا اللّهَ وَلَا نُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا وَلَا يَتّخِذَ بَعْضُنَا بَعْضًا أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللّهِ فَإِنْ تَوَلّوْا فَقُولُوا اشْهَدُوا بِأَنّا مُسْلِمُونَ}.
“বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম। মহান আল্লাহ পাক উনার মাহবূব হাবীব এবং মহাসম্মানিত রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পক্ষ থেকে ক্বিবতীদের বাদশাহ্ মুক্বাউক্বিস উনার প্রতি। সালাম উনার প্রতি যিনি সম্মানিত হিদায়াত মুবারক উনার অনুসরণ করেন। অতঃপর, আমি আপনাকে সম্মানিত ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দাওয়াত দিচ্ছি। ইসলাম গ্রহণ করুন। নিরাপদ থাকুন। ইসলাম গ্রহণ করুন। মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাকে দ্বিগুণ পুরস্কার দান করবেন। কিন্তু যদি মুখ ফিরিয়ে নেন, তাহলে সমস্ত ক্বিবত্বীদের (ইসলাম গ্রহণ না করার) পাপ আপনার উপর বর্তাবে। (মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আল ইমরান শরীফ উনার ৬৪নং সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,) হে আহলে কিতাবগণ! তোমরা একই বিষয়ের দিকে আসো, যা আমাদের এবং তোমাদের মধ্যে সমান। আর তাহচ্ছে, আমরা আল্লাহ পাক ব্যতীত কারো ইবাদত করবো না, উনার সাথে কোন কিছু শরীক করবো না এবং মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত আমরা একে অপরকে রব হিসাবে গ্রহণ করবো না। এরপরও যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাহলে আপনারা বলে দিন যে, তোমরা সাক্ষী থাক, নিশ্চয়ই আমরা মুসলমান।” সুবহানাল্লাহ! (‘উয়ূনুল আছার ২/২৩২, আস সীরাতুল হালাবিয়্যাহ শরীফ ৩/২৯৫, মাওয়াহিবুল লাদুননিয়্যাহ্ ১/৫৪৪ ইত্যাদী)
মুক্বাউক্বিস পত্র মুবারকখানা পেয়ে অত্যন্ত তা’যীম-তাকরীমের সাথে সংরক্ষণ করেন এবং জবাবে নি¤েœাক্ত পত্রখানা লিখেন-
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، لِمُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ مِنَ الْمُقَوْقِسِ عَظِيمِ الْقِبْطِ، سَلامٌ، أَمَّا بَعْدُ فَقَدْ قَرَأْتُ كِتَابَكَ، وَفَهِمْتُ مَا ذَكَرْتَ فِيهِ، وَمَا تَدْعُو إِلَيْهِ، وَقَدْ عَلِمْتُ أَنَّ نَبِيًّا بَقِيَ، وَكُنْتُ أَظُنُّ أَنَّهُ يَخْرُجُ بِالشَّامِ، وَقَدْ أَكْرَمْتُ رَسُولَكَ، وَبَعَثْتُ إِلَيْكَ بِجَارِيَتَيْنِ لَهُمَا مَكَانٌ فِي الْقِبْطِ عَظِيم، وَبِكِسْوَةٍ، وَأَهْدَيْتُ لَكَ بَغْلَةً لِتَرْكَبَهَا، وَالسَّلامُ عَلَيْكَ.
“বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত-এ ক্বিবত্বী বাদশাহ্ মুক্বাউক্বিস উনার পক্ষ থেকে- আপনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ সম্মানিত সালাম মুবারক। অতঃপর আমি আপনার পত্র মুবারক পাঠ করেছি এবং সেখানে আপনি যা বর্ণনা করেছেন ও যেদিকে আহ্বান করেছেন, তা অনুধাবন করেছি। আমি জানি যে, একজন মহাসম্মানিত নবী-রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আসতে বাকী রয়েছেন। আমি ধারণা করতাম যে, তিনি শাম (সিরিয়া) থেকে আবির্ভূত হবেন। আমি আপনার দূতকে সম্মান করেছি। আমি আপনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়ার জন্য অত্যন্ত সম্মানিত দু’জন মেয়ে হাদিয়া হিসেবে পাঠালাম। ক্বিবতীদের মধ্যে উনাদের অবস্থান মুবারক হচ্ছেন- রাজকীয় বা শাহী অবস্থান। অর্থাৎ উনারা হচ্ছেন রাজ বংশীয় বা রাজ পরিবারের সদস্য। সুবহানাল্লাহ! আপনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ হাদিয়া স্বরূপ পোষাক এবং বাহন হিসেবে একটি খচ্চর পাঠালাম। আপনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ সম্মানিত সালাম মুবারক। সুবহানাল্লাহ! (মাওয়াহিবুল লাদুননিয়্যাহ্ ১/৫৪৫, ‘উয়ূনুল আছার ১/৮৩, শারহু যারক্বানী)
পত্রে উল্লেখিত এই দু’জন সম্মানিতা মেয়ে হচ্ছেন- উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম তিনি এবং উনার সম্মানিত বোন সাইয়্যিদাতুনা হযরত সীরীন রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা তিনি। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনাকে উম্মুল মু’মিনীন হিসেবে গ্রহণ করেন। সুবহানাল্লাহ! আর সাইয়্যিদাতুনা হযরত সীরীন রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা উনাকে (নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খাছ কবি) হযরত হাসসান বিন ছাবিত রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার নিকট সম্মানিত শাদী মুবারক দেন। সুবহানাল্লাহ!
আর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যেই খচ্চরটি সম্মানিত হাদিয়া মুবারক করা হয়েছিলো, সেটি ছিলো সাদা। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উক্ত খচ্চর মুবারক উনার নাম মুবারক রাখেন, ‘দুলদুল’। সুবহানাল্লাহ! সেই খচ্চর মুবারক হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার যামানা পর্যন্ত জীবিত ছিলেন। সুবহানাল্লাহ! এছাড়াও হাদিয়া মুবারক হিসেবে ছিলো- মা’বূর নামক একজন দাস, ‘আফরা নামক একটি গাধা, ১০০০ মিছকাল স্বর্ণ, মিশরীয় সূতায় তৈরী ২০ টি মসৃন কাপড়, সুরমাদানী, জুব্বা, আয়না, চিরুনি, পানি পান করার পাত্র, মধু, মেশক ও এক জোড়া মোজা। সুবহানাল্লাহ!
মুক্বাউক্বিস সম্মানিত ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেন এবং উপরোক্ত হাদিয়া মুবারকগুলো নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক পেশ করেন। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হাদিয়া মুবারকগুলো অত্যন্ত মুহ্ববতের সাথে গ্রহণ করেন। কিতাবে বর্ণিত রয়েছে যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বাদশাহ্র পক্ষ থেকে হাদিয়াকৃত পানপাত্রে পানি মুবারক পান করতেন এবং খচ্চর মুবারক-এ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরোহণ করতেন এবং অত্যন্ত মুহব্বত করে খচ্চর মুবারক উনার নাম মুবারক রাখেন ‘দুলদুল’। সুবহানাল্লাহ!
পূর্ববর্তীদের কেউ কেউ মুক্বাউক্বিস উনাকে ছাহাবী হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
উল্লেখ যে, মুক্বাউক্বিস তিনি উনার চিঠিতে স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন,
وَبَعَثْتُ إِلَيْكَ بِجَارِيَتَيْنِ لَهُمَا مَكَانٌ فِي الْقِبْطِ عَظِيم،
অর্থ: “আমি আপনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়ার জন্য অত্যন্ত সম্মানিত দু’জন মেয়ে পাঠালাম। ক্বিবতীদের মধ্যে উনাদের অবস্থান মুবারক হচ্ছেন- রাজকীয় বা শাহী অবস্থান। অর্থাৎ উনারা হচ্ছেন রাজ বংশীয় বা রাজ পরিবারের সদস্য।” সুবহানাল্লাহ!
এখানে প্রথমে বলা হয়েছে, অত্যন্ত সম্মানিত দু’জন মেয়ে। আরবী جَارِيَةٌ শব্দ মুবারক উনার একখানা অর্থ হচ্ছে- মেয়ে। কিন্তু যাদের অন্তরে কুফরী ও নিফাক্বী রয়েছে, তারা جَارِيَةٌ শব্দ মুবারক উনার অর্থ দাসী নিয়ে থাকে এবং অনেক এলোমেলো বলে থাকে। না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! যারা এলোমেলো বলে বা বলবে, তারা কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামী হবে।
তারপর মুক্বউক্বিস তিনি বলেছেন,
لَهُمَا مَكَانٌ فِي الْقِبْطِ عَظِيم،
অর্থ: “ক্বিবতীদের মধ্যে উনাদের অবস্থান মুবারক হচ্ছেন- রাজকীয় বা শাহী অবস্থান। অর্থাৎ উনারা হচ্ছেন রাজ বংশীয় বা রাজ পরিবারের সদস্য।” সুবহানাল্লাহ!
কেননা, মুক্বাউক্বিস তিনি উনার পত্রের শুরুতে বলেছেন,
مِنَ الْمُقَوْقِسِ عَظِيمِ الْقِبْطِ،
অর্থ: “ক্বিবত্বীদের বাদশাহ্ মুক্বাউক্বিস উনার পক্ষ থেকে।”
এখানে সে عَظِيمِ শব্দ দ্বারা বাদশাহ বা রাজা বুঝিয়েছেন। عَظِيمِ الْقِبْطِ অর্থ- ক্বিবতীদের বাদশাহ বা রাজা।
আবার তিনি একই শব্দ অর্থাৎ عَظِيمِ শব্দ উনাদের শান মুবারকেও ব্যবহার করেছে। তিনি বলেছেন,
لَهُمَا مَكَانٌ فِي الْقِبْطِ عَظِيم،
অর্থ: “ক্বিবতীদের মধ্যে উনাদের অবস্থান মুবারক হচ্ছেন- রাজকীয় বা শাহী অবস্থান। অর্থাৎ উনারা হচ্ছেন রাজ বংশীয় বা রাজ পরিবারের সদস্য।” সুবহানাল্লাহ!
সুতরাং মুক্বাউক্বিস উনার পত্র থেকেই অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো যে, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম তিনি কখনও দাসী ছিলেন না। তিনি ছিলেন রাজ বংশীয় বা রাজ পরিবারে সদস্য। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ!
এখান থেকে আরো একটি বিষয় স্পষ্ট হচ্ছে যে, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম তিনি যেহেতু রাজ পরিবারের সদস্য। সে হিসেবে উনার সম্মানিত দাদা সাইয়্যিদুনা হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তিনি এবং মিশরের বাদশাহ্ মুক্বাউক্বিস উনার বাবা মীনা’ তিনি অর্থা উনারা উভয়ে আপন ভাই ছিলেন।

আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ ও সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ:

উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মধ্যে বিশেষ ব্যক্তিত্বা মুবারক। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনাকে উম্মুল মু’মিনীন আলাইহাস সালম হিসেবে সমস্ত প্রকার শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক হাদিয়া মুবারক করেই সৃষ্টি মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি ছিলেন পূর্ব মনোনীত। সুবাহনাল্লাহ! এছাড়াও মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাকে বিভিন্ন বিশেষ বিশেষ স্বপ্ন মুবারক এবং অন্যান্য বিশেষ বিশেষ ওয়াক্বেয়া মুবারক উনাদের মাধ্যমে সুসংবাদ মুবারক হাদিয়া মুবারক করেছেন যে, তিনি অতিশীঘ্রই সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ-এ অবস্থান মুবারক করছেন, উনার মহাসম্মানিত আযওয়াজুম মুত্বহ্হারাত তথা হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছেন। সুবহানাল্লাহ! যার কারণে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম তিনি মিশরের উচ্চ বংশীয় এবং সম্ভ্রন্ত পরিবারের সদস্য হওয়া সত্যেও মুক্বাউক্বিস উনাকে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ যাওয়ার কথা বললে, তিনি সাথে সাথে রাজী হয়ে যান। সুবহানাল্লাহ!
‘বিদায়া-নিহায়াতে’ উল্লেখ রয়েছে,
قَدِمَ حَاطِبُ بْنُ أَبِي بَلْتَعَةَ مِنْ عِنْدِ الْمُقَوْقِسِ وَمَعَهُ مَارِيَةُ وَسِيرِينُ وَقَدْ أَسْلَمَتَا فِي الطَّرِيقِ،
অর্থ: “হযরত হাত্বিব ইবনে আবূ বালতা‘আহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনাকে এবং উনার সম্মানিতা বোন সাইয়্যিদাতুনা হযরত সীরীন রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা উনাকে অর্থাৎ উনাদেরকেসহ মুক্বাউক্বিসের দরবার থেকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ আগমন করেন। উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম তিনি এবং উনার সম্মানিতা বোন সাইয়্যিদাতুনা হযরত সীরীন রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা তিনি অর্থাৎ উনারা উভয়ে পথিমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেন, সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ করেন।” সুবহানাল্লাহ! (বিদায়া-নিহায়া ৪/২৬৯)
মূলত, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম তিনি পূর্বেই সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ করেছিলেন। তবে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে রাস্তায় সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেন, সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ করেন। তখন সাইয়্যিদুনা হযরত হাত্বিব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি জানতে পারেন যে, তিনি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেছেন, সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ:

৭ম হিজরী শরীফ উনার ২৪শে ছফর শরীফ লাইলাতু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ (লাইলাতু ইছনাইনিল ‘আযীম শরীফ) সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা আছ ছানিয়াহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হয়। সুবহানাল্লাহ! তখন দুনিয়াবী দৃষ্টিতে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা আছ ছানিয়াহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত বয়স মুবারক ছিলেন ২০ বছর ১১ মাস ১১ দিন। সুবহানাল্লাহ!

উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা আছ ছানিয়াহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার ব্যাপারে ইতিহাসের একটি কুফরী দিক এবং তার খ-ন:

একটি বিষয় খুব ভালোভাবে উপলব্ধি আবশ্যক যে, শুধু যাহিরী বা কিতাবী বর্ণনার দ্বারা সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার প্রতিটি বিষয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ের ফায়ছালা দেয়া কস্মিনকালেও সম্ভব নয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিষয়টি এরূপ ঘটে থাকে যে, যাহিরী বা কিতাবী বর্ণনা এক রকম আর প্রকৃত বিষয়টি পুরো বিপরীত। কেননা, সীরাত, তারীখ, তাফসীর ও হাদীছ শরীফ উনার শরাহগুলোতে অনেক ইযরাঈলী বর্ণনা ও বাত্বিলপন্থীদের রেওয়াতের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। যার কারণে শুধু কিতাবী বা যাহিরী বর্ণনা পড়ে ক্ষেত্রে বিশেষ বিভ্রান্ত হওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় অবশিষ্ট থাকে না। এজন্য প্রয়োজন যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার, উনার মাহবূব হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের হাক্বীক্বী দায়িমী দীদার ও তায়াল্লুক্ব-নিসবত মুবারক। সুবহানাল্লাহ!
আর এই বিষয়ে সর্বোচ্চ ও চূড়ান্ত সম্মানিত মাক্বাম মুবারক-এ অধিষ্ঠিত হচ্ছেন, ছাহিবু ইলমিল আউওয়ালি ওয়াল ইলমিল আখিরি, ক্বইয়ূমুয যামান, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, সুলত্বানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, মুজাদ্দিদে আ’যম, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমাদ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! নি¤েœাক্ত ওয়াক্বেয়া মুবারকসমূহ দ্বারা বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে-
মুজাদ্দিদে আ’যম, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমাদ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “মুহররমুল হারাম শরীফ মাস উনার পূর্বে (১৪৩৩ হিজরী শরীফ-এ)। আমাকে দেখানো হচ্ছিলো, দেখলাম সরাসরি সাক্ষাৎ হলো যিনি খালিক্ব¡ মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে। তিনি আমাকে অনেক বড় বড় লেখকদের কতোগুলো আরবী বড় বড় কিতাব দেখালেন। এর মধ্যে অনেক ইবারত, অনেক ভুল। এখন যিনি খালিক্ব¡ মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি দেখাচ্ছেন, আমি চিন্তা করলাম যে, সরাসরি মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে আমাদের তো নিসবত নেই। আমাদের নিসবত তো নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাধ্যম দিয়ে। এটা কেমন! তখন সাথে সাথে দেখলাম যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উপস্থিত হলেন। তিনি আমাকে বললেন, হ্যাঁ, তিনি খালিক্ব¡ মালিক রব মহান আল্লাহ পাক। এখন মহান আল্লাহ পাক তিনি দেখাচ্ছেন এবং দেখালেন কতগুলো অনেক বড় বড় কিতাব, আরবী বড় বড় ইবারত এখানে তারা যে লিখেছে একটাও শুদ্ধ না। একটাও শুদ্ধ না, অধিকাংশগুলোতে ভুল আছে। এরা বুঝতে পারে নাই, হাক্বীক্বতটা বুঝে নাই। আমাকে একখানে নিয়ে গেলেন। ঐ সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফখানা
یٰۤاَیُّہَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا لَا تُـحِلُّوْا شَعَآئِرَ اللهِ وَلَا الشَّهْرَ الْـحَرَامَ وَلَا الْـهَدْىَ
এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার যে, হাক্বীক্বতটা, মাক্বামটা ওখানে আমাকে নিয়ে গেলেন। সেখানে গিয়ে দেখলাম অনেক বড় কামরা, রুম। এটা ইলম মুবারক-এ পরিপূর্ণ। এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার হাক্বীক্বত, তা’যীম-তাকরীমের বিষয়টা। এরপর বললেন যে, এই যে, এতো হাদীছ, তাফসীর যে লেখা হয়েছে- সব কিছু রসম-রেওয়ায এবং অধিকাংশ হচ্ছে পুঁথিগত বিদ্যা, কপি করা। এরপর অনেক ইলম উনাদের একটা বড় মাক্বাম দেখালেন যে, উনার কোনো কুল-কিনারা নাই। এরপর অপর এক জায়গায় আমাকে আবার নিয়ে আসলেন। একটা জিনিস দেখানো হলো, একটা কোণার মধ্যে, অল্প একটু জায়গার মধ্যে দুনিয়ার সমস্ত কিতাব যা আছে, দুনিয়ার যত কিতাব যা লিখা হয়েছে- সমস্ত কিতাবগুলির হাক্বীক্বতটা এক কোণার মধ্যে, অল্প একটু। আর যিনি খালিক্ব¡ মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের যে সম্মানিত ইলম মুবারক অনেক অসীম! সুবহানাল্লাহ! (মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার মাহবূব হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনাকে উনাদের সেই সম্মানিত অসীম ইলম মুবারক দেখিয়েছেন এবং সম্মানিত হাদিয়া মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ! যার কারণে উনার পক্ষে ‘মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মাহবূব হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের যে সম্মানিত ইলম মুবারকটা অনেক অসীম!’ এ বিষয়টি বর্ণনা করা সহজ এবং সম্ভব হয়েছে। সুবহানাল্লাহ!) কাজেই, এই যে, ইলম যা প্রকাশ করা হচ্ছে, যা বিন্দু থেকে বিন্দুতম। যেটা আমরা বলি, এটা হলো সেটা। হাক্বীক্বত খুব কম এবং অনেক বইয়ের মধ্যে অনেক ভুল। হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের শান মুবারক-এ লেখা যেগুলো আছে, অনেক গলদ আছে। হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সম্পর্কে অনেক অনেক বড় বড় আলিম-উলামা উনারা অনেকে অনেক তাফসীর, হাদীছ শরীফ উনার শরাহ লিখেছেন, কিন্তু অনেক গলদ। এ সমস্ত বিষয়গুলো গ্রহণ করা যাবে না।
এরপর কতোগুলো বিষয় জানার ইচ্ছা প্রকাশ করলাম এবং বললাম তাহলে এ রকম হলো কেন? উনারা বললেন যে, প্রকৃতপক্ষে বিষয়টা হচ্ছে, এটা যার যার মাক্বামের সাথে সম্পৃক্ত। যিনি যেই স্তরে পৌঁছেছেন, যতটুকু বুঝেছেন, ততটুকুই লিখেছেন। হাক্বীক্বত এই লেখাগুলো কোনোটাই পূর্ণ না। পূর্ণ হচ্ছেন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ। এখন বুঝ বা সমঝ পূর্ণ হবে উনারা যদি বুঝান। যিনি খালিক্ব¡ মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার মাহবূব হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা যদি বুঝান তাহলে বুঝ বা সমঝ পূর্ণ হবে। তাছাড়া পূর্ণ হবে না।” সুবহানাল্লাহ!
মূলত, মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার মাহবূব হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনাকে উনাদের পরিপূর্ণ অসীম ইলম মুবারক হাদিয়া মুবারক করেই সৃষ্টি মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ! যার কারণে তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের হাক্বীক্বী ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করে যাচ্ছেন। সুবহানাল্লাহ! যেখানে বাত্বিল ফিরক্বার লোকেরা এবং হক্বপন্থী দাবীদাররা অনেক বড় বড় তাফসীরে, বড় বড় কিতাবে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার শরাহগ্রন্থে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের শান-মান মুবারক উনার খিলাফ নানা কুফরীমূলক বক্তব্য পেশ করেছে, সেখানে আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের হাক্বীক্বী শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের বিষয়টি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে যাচ্ছেন। সুবহানাল্লাহ!
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমাদ, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
أَخْبِرْنِي عَنِ الْإِحْسَانِ قَالَ أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ.
অর্থ: “আমাকে ইহসান সম্পর্কে সংবাদ দিন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তুমি এমনভাবে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত ইবাদাত মুবারক করো, যেন তুমি উনাকে দেখতে পাচ্ছো। আর যদি তুমি উনাকে দেখতে না পাও, তবে (ধারণা করো যে) তিনি তোমাকে দেখছেন।” সুবহানাল্লাহ! (মুসলিম শরীফ)
অর্থাৎ ইহ্সানের দুইটি দরজা- ১. যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনাকে দেখে দেখে ইবাদাত বন্দেগী করতে হবে। ২. যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে ধারণা করতে হবে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে দেখছেন। দায়িমীভাবে এই দুইটি অবস্থার যে কোনো একটি অবস্থা থাকতে হবে। সুবহানাল্লহ!
আর দায়িমী হুযূরী বলতে যেটা বুঝায়- সেটা হচ্ছে, সবসময় যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনাকে দেখে দেখে ইবাদত-বন্দেগী করা। সুবহানাল্লাহ! আর ২৪ ঘন্টা দায়িমীভাবে তো হুযূরী থাকবেই, তবে নামায উনার মধ্যে বিশেষ হুযূরী থাকবে। সুবহানাল্লাহ!
যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মাহবূব হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের সাথে সাথে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে দায়িমীভাবে দেখে দেখে সমস্ত ইবাদত-বন্দেগী করতে হবে। সুবহানাল্লাহ! তাহলে হুযূরী পূর্ণতায় পৌঁছবে, অন্যথায় কস্মিনকালেও হুযূরী পূর্ণতায় পৌঁছবে না।” সুবহানাল্লাহ!
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমাদ, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি ১৪৩৯ হিজরী শরীফ উনার ২৩শে রমাদ্বান শরীফ লাইলাতুস সাব্ত শরীফ সম্মানিত তারাবীহ নামায এবং মক্ববূল মুনাজাত শরীফ শেষে ইরশাদ মুবারক করেন, “আজ আমি যখন সম্মানিত ‘ঈশার নামায উনার সম্মানিত নিয়ত মুবারক করলাম, তখন দেখলাম যিনি উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ‘আশিরহ্ আলাইহাস সালাম উনার বিশেষ যিয়ারত মুবারক করালেন। সুবহানাল্লাহ! সবসময় তো হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সম্মানিত যিয়ারত মুবারক রয়েছে, তবে এটা বিশেষ যিয়ারত মুবারক। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা সম্মানিত রুকু ও সম্মানিত সিজদাহ মুবারক উনার তাসবীহ্ মুবারকগুলো নিয়ন্ত্রণ মুবারক করে থাকেন। সুবহানাল্লাহ!
স্বাভাবিকভাবে যদি ধরা হয়, তাহলে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের পুরো বিষয়টা নিয়ন্ত্রণ করেন উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি। এরপরে হচ্ছেন বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম তিনি।” সুবহানাল্লাহ!
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমাদ, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি ১৪৩৯ হিজরী শরীফ উনার ১৯শে যিহজ্জ শরীফ লাইলাতুল জুমুয়াহ্ শরীফ ইরশাদ মুবারক করেন “গত জুমুয়ায় (১২ই যিলহজ্জ শরীফ ইয়াওমুল জুমু‘য়াহ্ শরীফ) আমি যখন জুমুয়ার আলোচনা ও খুতবা মুবারক শেষ করে নামায শুরু করবো, সে মুহূর্তে আমি দেখতে পেলাম যিনি উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনাকে। সুবহানাল্লাহ! তিনি সরাসরি যাহির হয়ে আমাকে বললেন, আজকে যে আলোচনা মুবারক হয়েছে, এই আলোচনা মুবারক উনার কারণে আসমানবাসী-যমীনবাসী সকলে খুশি হয়ে গেছেন। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উম্মু আবীহা, আফযালু ওয়া খইরু বানাতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুল ঊলা আলাইহাস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের সাথে সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূর আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত নিসবত মুবারক উনার বিষয়টি এতো সুন্দরভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, এটা কিন্তু আর কখনও করা হয়নি (ইতিপূর্বে আর কেউ করেনি)। সুবহানাল্লাহ! তিনি অত্যন্ত মুহব্বত মুবারক করে আমাকে ধরে আমার কপাল মুবারক-এ একটা বুছা মুবারক দিলেন।” সুবহানাল্লাহ!
তাহলে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার, উনার মাহবূব হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে, আখাছ্ছুল খাছভাবে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সাথে মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার কতো বেমেছাল তা‘য়াল্লুক্ব-নিসবত মুবারক, তা এখান থেকে স্পষ্ট হয়ে যায়। সুবহানাল্লাহ! তিনি দায়িমীভাবেই উনাদের হাক্বীক্বী দায়িমী দীদার মুবারক, তা‘য়াল্লুক্ব-নিসবত মুবারক-এ মশগূল রয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!
এখন বলার বিষয় হচ্ছে- হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন উনারা কতো জন এ নিয়ে কিতবাদিতে অনেক ইখতিলাফ রয়েছে। কেউ বলেছেন- ৯ জন, কেউ বলেছেন- ১০ জন, কেউ বলেছেন- ১১ জন, কেউ বলেছেন- ১৫ জন, কেউ বলেছেন- ১৯ জন। এরকম নানা মত রয়েছে।
শুধু তাই নয়; অতি দুঃখ ও আফসোসের বিষয় হচ্ছে- সীরাত, তারীখ, তাফসীর ও হাদীছ শরীফ উনার শরাহগুলোতে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনার বিষয়টি সঠিকভাবে সন্নিবেশিত হয়নি। বর্ণনাকারী ইযরাঈলী বর্ণনার দ্বারা বিষয়টিকে এলোমেলো করে ফেলেছে। না‘ঊযুবিল্লাহ! তিনি যে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত, সে বিষয়টি তারা উপলব্ধি করতে পারেনি। না‘ঊযুবিল্লাহ! উনাকে তারা দাসী হিসেবে সাব্যস্ত করার কোশেশ করেছে। না‘ঊযুবিল্লাহ! যার কারণে নাস্তিক ও বাতিল পন্থীরা উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত শান মুবারক উনার খিলাফ নানা কুফরীমূলক বক্তব্য পেশ করে যাচ্ছে। না‘ঊযুবিল্লাহ!
আমরা ধরে নেই যে, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন উনারা কতো জন, এ বিষয়ে ৫টি বা ১০টি মত রয়েছে। তাহলে কখনও ৫টি বা ১০টি মত একসাথে শুদ্ধ হতে পারে না। এতো বর্ণনা, তাহলে প্রকৃতপক্ষে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা কতো জন? এটা একজন মানুষ কিভাবে ফায়াছালা করবে? যাহিরী বা কিতাবের বর্ণনার দ্বারা এ বিষয়ে সঠিক ফায়ছালা প্রদান করা কস্মিনকালেও সম্ভব নয়। বরং ভুল হওয়াটাই স্বাভাবিক। এখন কেউ যদি দায়িমীভাবে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের দীদার মুবারক-এ দায়িমীভাবে মশগূল থাকেন, শুধু উনার পক্ষেই প্রকৃত বিষয়টি বর্ণনা করা সহজ এবং সম্ভব। অন্যথায় কস্মিনকালেও সম্ভব নয়।
আর আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি যেহেতু দায়িমীভাবেই যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার, উনার মাহবূব হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের হাক্বীক্বী দায়িমী দীদার মুবারক, তা‘য়াল্লুক্ব-নিসবত মুবারক-এ মশগূল রয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! যার কারণে একমাত্র উনার পক্ষেই সম্ভব হয়েছে, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা প্রকৃতপক্ষে কত জন এ বিষয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ের সর্বোচ্চ বিশুদ্ধ ফায়াছালা মুবারক প্রদান করা। সুবহানাল্লাহ! তিনি সমস্ত ইখতিলাফ মিটিয়ে দিয়ে ইরশাদ মুবারক করেছেন যে, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা হচ্ছেন- মোট ১৩ জন। সুবহানাল্লাহ! শুধু তাই নয়; তিনি উনাদের মহাসসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ, মহাসসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ এবং মহাসসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হওয়ার বছর, মাস, দিন, বার ও তারীখ মুবারকও বর্ণনা করেছেন এবং উনাদের মধ্যে কার পরে কে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ তাশরীফ মুবারক নিয়েছেন, কে কতো বছর কতো মাস কতো দিন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিয়েছেন এবং কে কতো বছর, কতো মাস, কতো দিন দুনিয়ার যমীনে অবস্থান মুবারক করেছেন প্রত্যেকটি বিষয় অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা পেশ করেছেন। এতো নিখুঁদ বর্ণনা, যেটা সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের চিন্তা ও কল্পনার উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ!
তিনি উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার ব্যাপারে ইরশাদ মুবারক করেছেন যে, ১৩ জন হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনী আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মধ্যে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ সম্মানিত তাশরীফ মুবারক নেয়ার ধারাবাহিকক্রম মুবারক অনুযায়ী সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি ‘আলাল ‘আলামীন, আফযালুন নাস ওয়ান নিসা বা’দা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা আছ ছানিয়াহ্ ‘আশার (উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত মারিয়াহ্ ক্বিবত্বিয়াহ্) আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন ‘আছ ছানিয়াহ্ ‘আশার তথা ১২তম’। এজন্য উনাকে ‘উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা আছ ছানিয়াহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম’ বলা হয়। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত নুবুওওয়াত ও রিসালত মুবারক প্রকাশের ২ বছর পূর্বে ১৩ই সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ (রবী‘উল আউয়াল শরীফ) ইয়াওমুল জুমু‘য়াহ্ শরীফ মিশরে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! ৭ম হিজরী শরীফ উনার ২৪শে ছফর শরীফ লাইলাতু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ (লাইলাতু ইছনাইনিল ‘আযীম শরীফ) সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হন। সুবহানাল্লাহ! তখন দুনিয়াবী দৃষ্টিতে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা আছ ছানিয়াহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত বয়স মুবারক ছিলেন ২০ বছর ১১ মাস ১১ দিন। সুবহানাল্লাহ! তিনি ৪ বছর ১৮ দিন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! আর তিনি ১৬ হিজরী শরীফ উনার ১৬ই মুহাররমুল হারাম শরীফ ইয়াওমুল খমীস শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি দুনিয়ার যমীনে মোট ২৯ বছর ১০ মাস ৩ দিন সম্মানিত অবস্থান মুবারক করেন।” সুবহানাল্লাহ!
সুতরাং আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমাদ, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার এই নিখুঁদ বর্ণনা মুবারক দ্বারা দিবালোকের ন্যায় অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো যে, নি:সন্দেহে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা ১৩ জন এবং উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মধ্যে একজন বিশেষ ব্যক্তিত্বা মুবারক। সুবহানাল্লাহ! তিনি শুধু যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারী। সুবহানাল্লাহ! যারা উনাকে উম্মুল মু’মিনীন আলাইহাস সালাম হিসেবে উল্লেখ করেনি, তারা অবশ্যই অবশ্যই ভুল করেছে। তারা হাক্বীক্বতটা বুঝতে পারেনি; বরং ইযারঈলী রেওয়ায়েত দ্বারা প্রতারিত হয়েছে। না‘ঊযুবিল্লাহ!
কাজেই, এতো নিখুঁদ ও সুস্পষ্ট বর্ণনা মুবারক এবং চূড়ান্ত পর্যায়ের সর্বোচ্চ বিশুদ্ধ ফায়ছালা মুবারক পাওয়ার পরেও যারা উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনাকে দাসী বলবে, না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! উনার শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক নিয়ে চূ-চেরা, ক্বীল-ক্বাল করবে, না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! সম্মানিত শরীয়ত মুবারক উনার ফতওয়া মুবারক অনুযায়ী তারা সবচেয়ে বড় কাট্টা কাফির, চিরজাহান্নামী, চিরমাল‘ঊন, চিরমাল‘ঊন, চিরমাল‘ঊন। তারা যদি মুসলমান বা ঈমানদার দাবি করে, তাহলে তাদের উপর মুরতাদের হুকুম বর্তাবে এবং মুরতাদের শাস্তিও বর্তাবে এবং তাদের প্রাপ্য হলো চির লা’নত ও চির জাহান্নাম। আর যদি কাফির হয়, তাহলে তারা তাদের কুফরীকে আরো বৃদ্ধি করলো। তাদের শাস্তিও মৃত্যুদ-। তাদেরও প্রাপ্য হলো চির লা’নত ও চির জাহান্নাম। তারা ইবলীসের ন্যায়; বরং ইবলীসের চেয়েও চরম মাল‘ঊন। তাদের প্রত্যেককেই লা’নাতুল্লাহি আলাইহি বলা ফরয, ফরয এবং ফরয। সুবহানাল্লাহ!

মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনাকে আমার সম্মানিত আখাচ্ছুল খাছ নৈকট্য মুবারক ও বিশেষ নি‘য়ামত মুবারক হাদিয়া প্রদানে সুসংবাদ মুবারক:

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَلَا اُخْبِرُكَ يَا حَضْرَتْ عُمَرُ عَلَيْهِ السَّلَامُ اَنَّ حَضْرَتْ جِبْرِيْلَ عَلَيْهِ السَّلَامُ اَتَانِـىْ فَاَخْبَرَنِـىْ اَنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ قَدْ بَرَّاَ حَضْرَتْ مَارِيَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ وَقَرِيـبَهَا مِـمَّا وَقَعَ فِـىْ نَفْسِىْ وَبَشَّرَنِـىْ اَنَّ فِـىْ بَطْنِهَا غُلَامًا مِّـنِّــىْ وَاَنَّهٗ اَشْبَهُ الْـخَلْقِ بِىْ وَاَمَرَنِـىْ اَنْ اُسَـمِّـىَ ابْنِىْ اِبْرَاهِيْمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَكَنَّانِـىْ بِاَبِـىْ اِبْرَاهِيْمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَلَوْلَا اَنِّـىْ اَكْرَهُ اَنْ اُحَوِّلَ كُنْيَــتِـىَ الَّتِـىْ عُرِفْتُ بـِهـَا لَاكْتَنَيْتُ بِاَبِـىْ حَضْرَتْ اِبْرَاهِيْمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ كَمَا كَنَّانِـىْ حَضْرَتْ جِبْرِيْلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ.
অর্থ: “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ‘আমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, হে হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম! আমি কি আপনাকে এই মহাসম্মানিত সুসংবাদ মুবারক দিবো না যে, নিশ্চয়ই আমার নিকট হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত ওহী মুবারক নিয়ে তাশরীফ মুবারক নিয়েছেন। অতঃপর তিনি আমার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ এই মুবারক সুসংবাদ পেশ করেছেন যে, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনাকে আমার সম্মানিত আখাচ্ছুল খাছ নৈকট্য মুবারক ও বিশেষ নি‘য়ামত মুবারক হাদিয়া করেছেন এবং আমাকে এই মহাসম্মানিত সুসংবাদ মুবারক হাদিয়া করেছেন যে, নিশ্চয়ই উনার মহাসম্মানিত রেহেম শরীফ-এ আমার একজন মহাসম্মানিত আওলাদ আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত অবস্থায় অবস্থান মুবারক করছেন। (যিনি অতিশীঘ্রই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করবেন।) সুবহানাল্লাহ! আমার এই মহাসম্মানিত আওলাদ আলাইহিস সালাম তিনি সৃষ্টি জগতের মাঝে, সমস্ত মানুষের মাঝে আমার সাথে অধিকতর সদৃশ হবেন, সামঞ্জস্যপূর্ণ হবেন, হুবহু আমার অনুরূপ হবেন তথা আমার হুবহু নকশা মুবারক হবেন। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে এই সম্মানিত নির্দেশ মুবারক প্রদান করেছেন যে, আমি যেন আমার উক্ত মহাসম্মানিত আওলাদ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত নাম মুবারক রাখি ‘হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম’। সুবহানাল্লাহ! তিনি আমার সম্মানিত কুনিয়াত মুবারক দিয়েছেন ‘আবূ ইবরাহীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’। সুবহানাল্লাহ! আর আমি যেই সম্মানিত কুনিয়াত মুবারক-এ পরিচিতি মুবারক গ্রহণ করেছি, যদি তা পরিবর্তন করতে পছন্দ করতাম, তাহলে আমি অবশ্যই ‘আবূ ইবরাহীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ সম্মানিত কুনিয়াত মুবারক গ্রহণ করতাম। যেই সম্মানিত কুনিয়াত মুবারক মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম উনার মাধ্যমে আমাকে সম্মানিত হাদিয়া মুবারক করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (ইবনে আসাকির, জামিউল আহাদীছ শরীফ ৩/৯১ এবং ২০/৪১০, কানযুল উম্মাল শরীফ ১১/৪৭১, ই’তিলালুল ক্বুলূব ২/৩৫৬, আল মু’জামুল কাবীর লিত ত্ববারনী ১৪/১১০, মাজমাউয যাওয়ায়িদ ৯/৮৬ ইত্যাদি)

ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আন নূরুর রবি’ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ:

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হওয়ার ৯ মাস ৮ দিন পর অর্থাৎ ৮ম হিজরী শরীফ উনার ২রা যিলহজ্জ শরীফ লাইলাতুল জুমু‘য়াহ্ শরীফ তথা জুমুয়াবার রাতে সাইয়্যিদুনা হযরত আন নূরুর রবি’ আলাইহিস সালাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! দুনিয়াবী দৃষ্টিতে তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বয়স মুবারক ছিলেন ৬১ বছর। সুবহানাল্লাহ! আর উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত বয়স মুবারক ছিলেন ২১ বছর ৮ মাস ১৯ দিন। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
وَلَـمَّا وُلِدَ حَضْرَتْ اِبْرَاهِيْمُ عَلَيْهِ السَّلَامُ بَشَّرَ النَّبِىَّ صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِهٖ حَضْرَتْ اَبُوْ رَافِعٍ رَضِىَ الله تَعَالـٰى عَنْهُ مَوْلَاهُ فَوَهَبَ لَهٗ عَبْدًا.
অর্থ: “যখন সাইয়্যদুনা হযরত আন নূরুর রবি’ আলাইহিস সালাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন, তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে উনার আযাদকৃত সাইয়্যিদুনা হযরত আবূ রাফি’ রদ্বিয়াল্লাহ তা‘য়ালা আনহু তিনি এই সুসংবাদ মুবারক দেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এই সুসংবাদ মুবারক শুনে (অত্যন্ত খুশি প্রকাশ করে) অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ফালইয়াফরাহূ শরীফ সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করে হযরত আবূ রাফি’ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে একজন গোলাম হাদিয়া করেন।” সুবহানাল্লাহ! (আক্বীদাতু আহলিস সুন্নাহ ১/৩৪৯, ইবনে সা’দ ১/১৩৫, যাদুল মা‘য়াদ ১/১০০, উসদুল গবাহ ১/২৩, মুন্তাখব ১/৫৯, ইস্তিয়াব ১/১৮, যাখাইরুল ‘উক্ববাহ ১/১৫৩ ইত্যাদি)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মহাসম্মানিত আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত আন নূরুর রবি’ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের সপ্তম দিনে উনার পক্ষ থেকে সম্মানিত আক্বীক্বাহ্ মুবারক দেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে পুনরায় উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ইস্ম বা নাম মুবারক রাখেন ‘সাইয়্যিদুনা হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম’। সুবহানাল্লাহ!
কিতাবে বর্ণিত রয়েছে, “হযরত আনছার মহিলা ছাহাবীয়াহ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুন্নাগণ উনারা পরস্পর প্রতিযোগিতায় লেগে গেলেন, কে সাইয়্যিদুনা হযরত আন নূরুর রবি’ আলাইহিস সালাম উনাকে সম্মানতি দুধ মুবারক পান করানোর ব্যাপারে সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিবেন।” সুবহানাল্লাহ! (মুন্তাখাব)
অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মে সাইফ আলাইহাস সালাম উনাকে কবূল করেন। সুবহানাল্লাহ!
হযরত আনাস বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, পরিবার-পরিজনের প্রতি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চেয়ে অধিক স্নেহ-মমতাবান আর কাউকে আমি দেখিনি। সুবহানাল্লাহ! উনার মহাসম্মানিত আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত আন নূরুর রবি’ আলাইহিস সালাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ উনার আওয়ালী (উঁচু) মহল্লায় সম্মানিত দুধ মুবারক পানরত ছিলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি (উনার মহাসম্মানিত আওলাদ আলাইহিস সালাম উনার মুহব্বত মুবারক-এ) সেখানে চলে যেতেন। আমরা উনার সাথে সেখানে যেতাম। তারপর তিনি সম্মানিত হুজরা শরীফ-এ প্রবেশ করতেন; সম্মানিত হুজরা শরীফখানা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন থাকতো। (কারণ) ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আন নূরুর রবি’ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত দুধপিতা আলাইহিস সালাম তিনি ছিলেন একজন কর্মকার।
فَيَأْخُذُهٗ فَيُقَبّـِلُهٗ ثُـمَّ يَرْجِعُ.
অর্থ: তারপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মহাসম্মানিত আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত আন নূরুর রবি’ আলাইহিস সালাম উনাকে (বেমেছাল মুহব্বত মুবারক-এ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল আযহার মুবারক-এ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কোল মুবারক-এ) তুলে নিতেন এবং উনাকে সম্মানিত বুছা মুবারক দিতেন। অতঃপর তিনি ফিরে আসতেন।” সুবহানাল্লাহ! (ইবনে সা’দ ১/১০৯, আল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ ৩/৩৩১, মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ ইত্যাদি)

উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ ‘আশার আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন মহান আল্লাহ পাক উনার আখাচ্ছুল খাছ হাবীবাহ, মাহবূবাহ এবং পরিপূর্ণরূপে উনার পথে পথ মতে মত:

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ كُنْتُ عِنْدَ النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَلـٰى فَخِذِهِ الاَيْسَرِ ابْنُهٗ حَضْرَتْ اِبْرَاهِيْمُ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَعَلـٰى فَخِذِهِ الْاَيْـمَنِ حَضْرَتْ الْـحُسَيْنُ بْنُ عَلِىٍّ عَلَيْهِمَا السَّلَامُ تَارَةً يُقَبِّلُ هٰذَا وَتَارَةً يُقَبِّلُ هٰذَا. اِذَا هَبَطَ عَلَيْهِ حَضْرَتْ جِبْرِيْلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ بِوَحْىٍ مِّنْ رَّبِّ الْعَالَمِيْنَ فَلَمَّا سُرِّىَ عَنْهُ قَالَ اَتَانِـىْ حَضْرَتْ جِبْرِيْلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ مِنْ رَّبّـِـىْ فَقَالَ يَا سَيِّدَنَا مُحَمَّدُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِنَّ رَبَّكَ يُقْرِئُكَ السَّلَامَ وَيَقُوْلُ لَكَ لَسْتُ اَجْمَعُهُمَا فَافْتَدِ اَحَدَهُمَا فَنَظَرَ النَّبِىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِلـٰى حَضْرَتْ اِبْرَاهِيْمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَبَكٰى وَنَظَرَ اِلـٰى حَضْرَتْ اَلْـحُسَيْنِ فَبَكٰى ثُـمَّ قَالَ اِنَّ حَضْرَتْ اِبْرَاهِيْمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ اُمُّهٗ اَمَةٌ اَىْ اَمَةُ اللهِ وَمَتٰى مَاتَ لَمْ يَحْزَنْ عَلَيْهِ غَيْرِىْ وَاُمُّ الْـحُسَيْنِ عَلَيْهِ السَّلَامُ حَضْرَتْ فَاطِمَةُ عَلَيْهَا السَّلَامُ وَاَبُوْهُ حَضْرَتْ عَلِىُّ ابْنُ عَـمِّـىْ وَلَحْمِىْ وَدَمِىْ. وَمَتٰى مَاتَ حَزِنَتْ عَلَيْهِ ابْنَتِىْ وَحَزِنَ ابْنُ عَـمِّـىْ وَحَزِنْتُ اَنَا عَلَيْهِ وَاَنَا اُوْثِرُ حُزْنِـىْ عَلـٰى حُزْنِـهِمَا يَا حَضْرَتْ جِبْرِيْلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ يُقْبَضُ حَضْرَتْ اِبْرَاهِيْمُ عَلَيْهِ السَّلَامُ. فَدَيْتُهٗ بِـحَضْرَتْ اِبْرَاهِيْمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَالَ فَقُبِضَ بَعْدَ ثَلَاثٍ فَكَانَ النَّبِىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِذَا رَاٰى حَضْرَتْ الْـحُسَيْنَ عَلَيْهِ السَّلَامُ مُقْبِلًا قَبَّلَهٗ وَضَمَّهٗ اِلـٰى صَدْرِهٖ وَرَشَفَ ثَنَايَاهُ وَقَالَ فَدَيْتُ مَنْ فَدَيْتُهٗ بِابْنِىْ حَضْرَتْ اِبْرَاهِيْمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ.
অর্থ: “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ উপস্থিত ছিলাম। তখন আমি দেখলাম যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বাম ঊরু মুবারক-এ অবস্থান মুবারক করছেন উনার মহাসম্মানিত আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত আন নূরুর রবি’ আলাইহিস সালাম তিনি এবং উনার সম্মানিত ডান ঊরু মুবারক-এ অবস্থান মুবারক করছেন সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম) তিনি। সুবহানাল্লাহ! আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি (বেমেছাল খুশি মুবারক প্রকাশ করে) একবার উনার মহাসম্মানিত আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত আন নূরুর রবি’ আলাইহিস সালাম উনাকে সম্মানিত বুছা মুবারক দিচ্ছেন আরেকবার সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত বুছা মুবারক দিচ্ছেন। সুবহানাল্লাহ! এমতাবস্থায় হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি রব্বুল আলামীন মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে সম্মানিত ওহী মুবারক নিয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ উপস্থিত হলেন। এতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো খুশি মুবারক প্রকাশ করলেন। তারপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, আমার রব মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি এসেছেন। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি আমাকে বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! নিশ্চয়ই আপনার যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাকে সম্মানিত সালাম মুবারক পেশ করেছেন এবং বলেছেন যে, আমি ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আন নূরুর রবি’ আলাইহিস সালাম উনাকে এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে একই সাথে আপনার সম্মানিত ছোহবত মুবারক রাখবো না। (অর্থাৎ আমি উনাদের দু’জনের একজনকে আমার সম্মানিত ছোহবত মুবারক-এ নিয়ে আসবো। অপরজন আপনার সম্মানিত সোহবত মুবারক-এ থাকবেন। সুবহানাল্লাহ!) অতএব, আপনি উনাদের দু’জনের একজনকে উৎসর্গ করুন। অর্থৎ আমার সম্মানিত ছোহবত মুবারক-এ পাঠিয়ে দিন। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মহাসম্মানিত আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত আন নূরুর রবি’ আলাইহিস সালাম উনার দিকে তাকালেন এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল মুহব্বত মুবারক প্রবাহিত করলেন। আবার সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিকে তাকালেন এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল মুহব্বত মুবারক প্রবাহিত করলেন। তারপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, নিশ্চয়ই সাইয়্যিদুনা হযরত আন নূরুর রবি’ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ ‘আশার আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন মহান আল্লাহ পাক উনার আখাচ্ছুল খাছ হাবীবাহ, মাহবূবাহ এবং পরিপূর্ণরূপে উনার পথে পথ মতে মত। সুবহানাল্লাহ! আমার মহাসম্মানিত আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত আন নূরুর রবি’ আলাইহিস সালাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করলে (উনার সম্মানিত জুদায়ী মুবারক উনার কারণে) শুধু আমি চিন্তিত হবো, কষ্ট পাবো। অর্থাৎ আমি এবং উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম আমরা কষ্ট পাবো। আর সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান হচ্ছেন আন নূরুর রবি‘য়াহ্ সাইয়্যদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি এবং উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান হচ্ছেন সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি। যিনি আমার আপন চাচাতো ভাই, আমার খাছ নৈকট্য মুবারক প্রাপ্ত, নিসবত মুবারক প্রাপ্ত এবং প্রিয় ব্যক্তিত্ব মুবারক। সুবহানাল্লাহ! ফলে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যদি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন, তাহলে (উনার সম্মানিত জুদায়ী মুবারক উনার কারণে) আমার আন নূরুর রবি‘য়াহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি চিন্তিত হবেন, কষ্ট পাবেন, সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনিও চিন্তিত হবেন, কষ্ট পাবেন এবং ফলে আমিও চিন্তিত হবো, কষ্ট পাবো। আমি আমার কষ্ট উনার উপর আন নূরুর রবি‘য়াহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার এবং সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাদের কষ্টকে প্রাধান্য দিলাম। তাই হে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম! সাইয়্যিদুনা হযরত আন নূরুর রবি’ আলাইহিস সালাম তিনিই মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত ছোহবত মুবারক-এ সম্মানিত তাশরীফ মুবারক নিবেন। সুবহানাল্লাহ! আমি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরিবর্তে আমার মহাসম্মানিত আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত আন নূরুর রবি’ আলাইহিস সালাম উনাকে কুরবানী মুবারক করলাম, উৎসর্গ করলাম। সুবহানাল্লাহ! এর তিন দিন পর ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আন নূরুর রবি’ আলাইহিস সালাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করে মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত ছোহবত মুবারক-এ সম্মানিত তাশরীফ মুবারক নেন। সুবহানাল্লাহ!

এরপর থেকে যখনই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে উনার সামনে দেখতেন উনাকে সম্মানিত বুছা মুবারক দিতেন, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ইল্ম মুবারক-এ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বুক মুবারক-এ) জড়িয়ে নিতেন এবং উনার সামনের সম্মানিত দাঁত মুবারক চুষতেন। সুবহানাল্লাহ! আর ইরশাদ মুবারক করতেন, তিনি সেই সুমহান ব্যক্তিত্ব মুবারক যে, উনার পরিবর্তে আমি আমার মহাসম্মানিত আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত আন নূরুর রবি’ আলাইহিস সালাম উনাকে উৎসর্গ করেছি, কুরবান করেছি।” সুবহানাল্লাহ! (তারীখে বাগদাদ ২/৬০২, তারীখে দিমাশক্ব ৫২/৩২৪, শাওয়াহিদুন নুবুওওয়াহ ইত্যাদি)

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে