সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি ‘আলাল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা আন নূরুর রাবি’য়াহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার হাশরের ময়দানে এবং সম্মানিত পুলসীরাত অতিক্রমকালে সীমাহীন মর্যাদা-মর্তবা মুবারক উনার বহিঃপ্রাকশ


এ সম্পর্কে সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ اَبـِىْ اَيُّوْب الْاَنْصَارِىِّ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ نَادَى مُنَادٍ مّـِنْ بُطْنَانِ الْعَرْشِ يَا اَهْلَ الْـجَمْعِ نَكِّسُوْا رُؤُوْسَكُمْ وغُضُّوْا اَبْصارَكُمْ حَتّى تَـمُرَّ حَضْرَتْ فاطِمَةُ عَلَىْهَا السَّلَامُ بِنْتُ سَيِّدِنِا مُـحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى الصِّرَاطِ فَتَمُرُّ مَعَ سَبْعِيْنَ اَلْفَ جَارِيَةٍ مِّنَ الْحُوْرِ الْعِيْنِ كَمَرِّ الْبَرْقِ الَّامِعِ.
অর্থঃ“হযরত আবূ আইয়ূব আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ক্বিয়ামতের দিবসে একজন নিদা বা আহবানকারী সম্মানিত আরশ মুবারক উনার কেন্দ্রস্থল থেকে এই বলে সম্মানিত নিদা মুবারক করবেন যে, হে আহলে মাহশার! (হাশরবাসী) তোমরা তোমাদের মস্তক ও দৃষ্টি অবনত করে নাও। কারণ এখন যিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার লখতে জিগার, সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি ‘আলাল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা আন নূরুর রাবি’য়াহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি সম্মানিত পুলসীরাত মুবারক অতিক্রম করবেন। অতঃপর সমস্ত হাশরবাসী তারা তাদের মস্তক ও দৃষ্টি অবনত করবে, আর যিনিসাইয়্যিদাতুন নিসায়ি ‘আলাল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি সত্তর হাজার তথা অসংখ্য-অগণিত ডাগর নয়না সম্মানিতা হুর খাদিমা উনাদের বেষ্টনী মুবারক-এ থেকে অতি উজ্জ্বল দীপ্তিমান বিজলীর ন্যায় চোখের পলকে সম্মানিত পুলসীরাত পার হয়ে যাবেন।” সুবহানাল্লাহ! (আছ ছওয়াইকুল মুহরিক্বাহ, ফয়জুল কদীর, কানযুল উম্মাল ১২/১০৫, মুহিব্বে ত্ববারী, আল ফাতহুল কাবীর ১/১৪১, জামি‘উল আহাদীছ লিস সুয়ূত্বী ৪/১৬, জাম‘উল জাওয়ামি’ ১/৩০৩২ ইত্যাদি)
সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عن حَضْرَتْ على عليه السلام قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم تحشر إبنتى حَضْرَتْ فاطِمَةُ عَلَىْهَا السَّلَامُ يوم القيامة وعليها حلة الكرامة قد عجنت بماء الحيوان فتنظر إليها الخلائق فيتعجبون منها ثم تكسى حلة من حلل الجنة على الف حلة مكتوب بخط أخضر أدخلوا ابنة سَيِّدِنِا محمد صلى الله عليه وسلم الجنة على أحسن صورة وأكمل هيبة وأتم كرامة وأوفر حظ فتزف إلى الجنة كالعروس حولها سبعون ألف جارية.
অর্থঃ“সাইয়্যিদুনা হযরত র্কারামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি ‘আলাল আলামীন, উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা আন নূরুর রাবি’য়াহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি ক্বিয়ামতের দিন এভাবে উঠবেন যে, উনার সম্মানিত জিসম মুবারক-এ ইজ্জত-সম্মান মুবারক উনার এমন সম্মানিত চাদর মুবারক থাকবেন, যেই সম্মানিত চাদর মুবারক উনাকে আবে হায়াতের পানি মুবারক দ্বারা ধোয়া হয়েছে। সকল সৃষ্টি তা দেখে বিস্মিত হয়ে যাবে। অতঃপর উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা আন নূরুর রাবি’য়াহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে সম্মানিত জান্নাতী পোশাক মুবারক পরিধান করানো হবে; যার প্রত্যেকটি জোড়া হবে হাজারো জোড়ার সমষ্টি। প্রত্যেকটির উপর সবুজ রেখায় লিখিত থাকবে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিতা আওলাদ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে সর্বোত্তম ছূরত মুবারক, পূর্ণাঙ্গ প্রতাপ এবং মহাসম্মান ও ইজ্জতের সঙ্গে সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ নিয়ে যাও। সুতরাং উনাকে বেমেছালভাবে সুসজ্জিত করে, পূর্ণাঙ্গ প্রতাপ এবং মহাসম্মান ও ইজ্জতের সাথে সত্তর (৭০) হাজার তথা অসংখ্য-অগণিত হুর খাদিমা সমভিব্যহারে চোখের পলকে পুলসীরাত পার করে সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ নিয়ে যাওয়া হবে।” সুবহানাল্লাহ! (যখায়েরুল উক্ববা ফী মানাক্বিবে যবিল কুবরা- ৪৮, মানাক্বিবে আলী র্কারামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম লিইবনে মাগাযালী ১/৪৬৮)

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে