সাইয়্যিদাতুন নিসা ‘আলাল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা, আন নূরুল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত খইরু ওয়া আফদ্বলু বানাতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম


উম্মু আবীহা, আন নূরুল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত খইরু ওয়া আফদ্বলু বানাতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মোট তিন জন মহাসম্মানিত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনারা ছিলেন। উনাদের মধ্যে একজন মহাসম্মানিত আওলাদ আলাইহিস সালাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ অবস্থায় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছিলেন। আর বাকী দুই জন মহাসম্মানিত আওলাদ আলাইহিমাস সালাম উনারা হচ্ছেন, সিবত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত উমামাহ আলাইহাস সালাম তিনি এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আলী ইবনে যুন নূর (আবিল আছ) আলাইহিস সালাম তিনি অর্র্থাৎ উনারা। সুবহানাল্লাহ!

সিবত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত উমামাহ আলাইহাস সালাম:
সিব্ত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত বিনতে যিন নূর আলাইহাস সালাম তিনি অনুষ্ঠানিকভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মি’রাজ শরীফ সংঘটিত হওয়ার পরের দিন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ২৮শে রজবুল হারাম শরীফ ইয়াওমুছ ছুলাছা’ শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! তখন দুনিয়াবী দৃষ্টিতে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বয়স মুবারক ৫০তম বছর মুবারক পার হয়ে ৫১তম বছর মুবারক চলমান। সুবহানাল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সিবতুন-সিবত্বতুন (নাতী-নাতনী) আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে সিবত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত উমামাহ আলাইহাস সালাম তিনিই সর্বপ্রথম দুনিয়ার যমীনে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্রবরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশে কতো বেমেছাল খুশি মুবারক প্রকাশ করেছেন, তা এখান থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায়। সুবহানাল্লাহ! মূলত, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রিয়পাত্র উনাদের মধ্যে সিবত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত উমামাহ আলাইহাস সালাম তিনি অন্যতম। সুবহানাল্লাহ!সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে
عَنْ حَضْرَتْاَبِـىْ قَتَادَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُاَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُـصَـلِّـىْ وَهُوَ حَامِلٌحَضْرَتْ اُمَامَةَ بِنْتَ زَيْنَبَ بِنْتِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاِذَا سَجَدَ وَضَعَهَا وَاِذَا قَامَ حَـمَلَهَا.
অর্থ: “হযরত আবূ ক্বাতাদাহ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মহাসম্মানিতা বানাত আন নূরুল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত খইরু ওয়া আফদ্বলু বানাতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিতা মেয়ে সিবত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত উমামাহ আলাইহাস সালাম উনাকে সম্মানিত কাঁধ মুবারক-এ নিয়ে (অনেক সময়)সম্মানিত নামায মুবারক আদায় করতেন। যখন তিনি সম্মানিত সিজদা মুবারক করতেন, তখন উনাকে পাশে রেখে দিতেন। আবার যখন ক্বিয়াম করতেন (দাঁড়াতেন), তখন পুনরায় উনাকে কোল মুবারক-এ তুলে নিতেন।” সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মুয়াত্তা শরীফ, আবূ দাঊদ শরীফ, নাসায়ী শরীফ, মুসনাদে আহমদ শরীফ ইত্যাদি)
অপর সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ اَبِـىْ قَتَادَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ بَيْنَا نَـحْنُ فِى الْمَسْجِدِ جُلُوْسٌ خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَـحْمِلُ حَضْرَتْ اُمَامَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ بِنْتَ اَبِـى الْعَاصِ بْنِ الرَّبِيْعِ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَاُمُّهَا حَضْرَتْ زَيْنَبُ بِنْتُ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهِىَ صَبِيَّةٌ يَّـحْمِلُهَا عَلـٰى عَاتِقِهٖ فَصَلّٰى رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهِىَ عَلـٰى عَاتِقِهٖ يَضَعُهَا اِذَا رَكَعَ وَيُعِيْدُهَا اِذَا قَامَ حَتّٰى قَضٰى صَلَاتَهٗ يَفْعَلُ ذٰلِكَ بـِهَا.
অর্থ:“হযরত আবূ ক্বাতাদাহ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদে নববী শরীফ-এ উপস্থিত থাকাকালে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সিবত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত উমামাহ বিনতে যুন নূর (আবিল আছ) ইবনে রবী’ আলাইহাস সালাম উনাকে নিয়ে আমাদের নিকট সম্মানিত তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেন, উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান ছিলেন উম্মু আবীহা, আন নূরুল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত খইরু ওয়া আফদ্বলু বানাতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! এ সময় (সিবত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত উমামাহ আলাইহাস সালাম) তিনি ছোট ছিলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে সম্মানিত কাঁধ মুবারক-এ নিয়ে আসেন এবং উনাকে সম্মানিত কাঁধ মুবারক-এ নিয়েই সম্মানিত নামায মুবারক আদায় করেন। তিনি যখন সম্মানিত রুকু মুবারক করতেন, তখন উনাকে পাশে রাখতেন। আর যখন সম্মানিত ক্বিয়াম মুবারক করতেন (দাঁড়াতেন), তখন উনাকে কোল মুবারকে তুলে নিতেন। এভাবেই তিনি উনার সম্মানিত নামায মুবারক শেষ করেন।” সুবহানাল্লাহ! (মুসলিম শরীফ, আবূ দাঊদ শরীফ, নাসাঈ শরীফ, মুসনাদে আহমদ শরীফ, ইবনে হিব্বান, শু‘য়াবুল ঈমান ইত্যাদি)
সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ اُمِّ الْمُؤْمِنِيْنَ حَضْرَتْ عَائِشَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اُهْدِيَتْ لَهٗ هَدِيَّةٌ فِيْهَا قِلَادَةٌ مِّنْ جَزْعٍ فَقَالَ لَاَدْفَعَنَّهَا اِلـٰى اَحَبِّ اَهْلِـىْ اِلَـىَّ فَقَالَتِ النِّـسَاءُ ذَهَبَتْ بـِهَا ابْنَةُ اَبِـىْ قُحَافَةَ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَدَعَا النَّبِـىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَضْرَتْ اُمَامَةَ بِنْتَ زَيْنَبَ عَلَيْهِمَا السَّلَامُ فَعَلَّقَهَا فِـىْ عُنُقِهَا.
অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহসাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ আকীকজাতীয় বিশেষমণি দ্বারা তৈরি একখানা সম্মানিত দামি হার মুবারক হাদিয়াস¦রূপ আসলো। তখন তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, অবশ্য অবশ্যই আমি এই সম্মানিত হার মুবারক আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ উনাদের মধ্যে যিনি আমার নিকট সর্বাধিক প্রিয় উনাকে হাদিয়া মুবারক করবো। সুবহানাল্লাহ! তখন হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা বলাবলি করছিলেন, সম্ভবত এই সম্মানিত হার মুবারক উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহসাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনাকে হাদিয়া করা হবে। অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদাতুন নিসা ‘আলাল আলামীন, উম্মু আবীহা, আন নূরুল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত খইরু ওয়া আফদ্বলু বানাতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিতা মেয়ে সিবত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত উমামাহ আলাইহাস সালাম উনাকে ডেকে উনার সম্মানিত গলা মুবারক-এ এই সম্মানিত হার মুবারকখানা পরিয়ে দিলেন।” সুবহানাল্লাহ! (মুসনাদে আহমদ ৬/১০১, আল ওয়াফী ৩/২৯৬, গয়াতুল মাক্বছাদ ৪/৭, যখায়েরুল ‘উক্ববাহ ১/১৬১, ইছাবাহ ৮/২৫, মুসনাদে আবী ইয়া’লা ৭/৪৪৫ ইত্যাদি )
অন্য বর্ণনায় এসেছে,
عَنْ اُمِّ الْمُؤْمِنِيْنَ حَضْرَتْ عَائِشَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ قَالَتْ اُهْدِىَ لِرَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قِلَادَةٌ مِّنْ جَزْعٍ مُّلَمَّعَةٌ بِالذَّهَبِ وَنِسَاؤُهٗ مُـجْتَمِعَاتٌ فِـىْ بَيْتٍ كُلُّهُنَّ وَحَضْرَتْ اُمَامَةُ بِنْتُ اَبِـى الْعَاصِ بْنِ الرَّبِيْعِ عَلَيْهَا السَّلَامُ جَارِيَةٌ تَلْعَبُ فِـىْ جَانِبِ الْبَيْتِ بِالتُّرَابِ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَيْفَ تَرَيْنَ هٰذِهٖ. فَنَظَرْنَا اِلَيْهَا فَقُلْنَا يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا رَاَيْنَا اَحْسَنَ مِنْ هٰذِهٖ قَطُّ وَلَا اَعْجَبَ. فَقَالَ ارْدُدْنَهَا اِلَـىَّ. فَلَمَّا اَخَذَهَا قَالَ وَاللهِ لَاَضَعَنَّهَا فِـىْ رَقَبَةِ اَحَبِّ اَهْلِ الْبَيْتِ اِلَـىَّ. قَالَتْ حَضْرَتْ عَائِشَةُ عَلَيْهَا السَّلَامُ فَاَظْلَمَتْ عَلَـىَّ الْاَرْضُ بَيْنِـىْ وَبَيْنَهٗ خَشْيَةَ اَنْ يَّضَعَهَا فِـىْ رَقَبَةِ غَيْرِىْ مِنْهُنَّ وَلَا اَرَاهُنَّ اِلَّا اَصَابَهُنَّ مِثْلَ الَّذِىْ اَصَابَنِـىْ وَوَجَـمْنَا جَـمِيْعًا سُكُوْتًا فَاَقْبَلَ بِـهَا حَتّٰى وَضَعَهَا فِـىْ رَقَبَةِ اُمَامَةَ بِنْتِ اَبِـى الْعَاصِ عَلَيْهَا السَّلَامُ فَسُرِّىَ عَنَّا.
অর্থ:“উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ আকীকজাতীয় বিশেষ মণি দ্বারা তৈরি, যা স¦র্ণ মিশ্রিত বা স¦র্ণ দ্বারা আবৃত এরূপ একখানা দামি সম্মানিত হার মুবারক হাদিয়া মুবারক এসেছিলো। তখন হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা সকলেই সম্মানিত হুজরা শরীফ-এ অবস্থান মুবারক করছিলেন। তখন সিবত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত উমামাহ বিনতে যুন নূর ইবনে রবী’ আলাইহাস সালাম উনার অল্প বয়স মুবারক ছিলো। ফলে তিনি সম্মানিত হুজরা শরীফ উনার পার্শ্বে মাটি নিয়ে নাড়াচাড়া করছিলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সবাইকে উদ্দেশ্য করে ইরশাদ মুবারক করলেন, আপনারা এই সম্মানিত হার মুবারক উনাকে কিরূপ দেখছেন? তারপর আমরা সকলেই সম্মানিত হার মুবারক উনার দিকে তাকালাম এবং বললাম, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমরা এই সম্মানিত হার মুবারক উনার মতো এরূপ অবাক করা অধিক সুন্দর হারকখনো দেখিনি। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, আপনারা সম্মানিত হার মুবারকখানা আমার নিকট নিয়ে আসুন। তারপর তিনি সম্মানিত হার মুবারকখানা নিয়ে বললেন, নিশ্চয়ই যিনি আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে আমার নিকট সর্বাধিক প্রিয়, উনার সম্মানিত গলা মুবারক-এ আমি এই সম্মানিত হার মুবারকখানা পরিয়ে দিবো। সুবহানাল্লাহ! উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, অতঃপর আমার উপর যমীন অন্ধকারাচ্ছন্ন হলো, আমার এবং উনার মাঝে, এই চিন্তায় যে, তিনি আমি ব্যতিত অন্য কোনো উম্মুল মু’মিনীন আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত গলা মুবারক-এ এই সম্মানিত হার মুবারকখানা পরিয়ে দেন কিনা। আমি দেখলাম যে, আমার উপর যা আপতিত হয়েছে, অন্য সকল হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের উপরও তা আপতিত হয়েছে। আমরা প্রত্যেকেই পরিপূর্ণরূপে নিশ্চুপ হয়ে গেলাম। অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত হার মুবারকখানা এনে সিবত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত উমামাহ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত গলা মুবারক-এ পরিয়ে দিলেন। সুবহানাল্লাহ! তারপর আমরা প্রত্যেকেই আনন্দিত হলাম, খুশি মুবারক প্রকাশ করলাম।” সুবহানাল্লাহ! (আল মু’জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারনী ২২/৪৪২, মাজমাউয যাওয়াইদ ৯/২৫৪, সিমতুন নুজূম ১/২১৪, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১১/৩২)

সিবত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত উমামাহ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ:
সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূর আলাইহিস সালাম উনার সাথে সাইয়্যিদুনা হযরত যুবাইর ইবনে ‘আওয়াম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিলো। সাইয়্যিদুনা হযরত যুবাইর ইবনে ‘আওয়াম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি ছিলেন সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূর আলাইহিস সালাম উনার মামাতো ভাই। ফলে তিনিমহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পূর্বে সাইয়্যিদুনা হযরত যুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে সাইয়্যিদুনা হযরত উমামাহ আলাইহাস সালাম উনার অভিভাবক মনোনীত করে যান। সুবহানাল্লাহ!
কিতাব-এ বর্ণিত রয়েছে,
وَلَـمَّا كَبُرَتْ حَضْرَتْ اُمَامَةُ عَلَيْهَا السَّلَامُ تَزَوَّجَهَا عَلِىُّ بْنُ اَبِـىْ طَالِبٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ بَعْدَ مَوْتِ فَاطِمَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ وَكَانَتْ حَضْرَتْ فَاطِمَةُ عَلَيْهَا السَّلَامُ وَصَّتْ حَضْرَتْ عَلِيًّا عَلَيْهِ السَّلَامُ اَنْ يَّـتَزَوَّجَهَا فَلَمَّا تُـوُفِّـيَتْ حَضْرَتْ فَاطِمَةُ عَلَيْهَا السَّلَامُ تَزَوَّجَهَا.
অর্থ: “আর যখন সিবত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত উমামাহ আলাইহাস সালাম তিনি বড় হন, তখন সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি উনাকে সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ করেন। কেননা উম্মু আবীহা আন নূরুর রবি‘য়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাকে সম্মানিত ওছীয়ত মুবারক করেছিলেন যে, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ পাওয়ার পর তিনি যেন সিবত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত উমামাহ আলাইহাস সালাম উনাকে সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ করেন। সুবহানাল্লাহ! তাই উম্মু আবীহা আন নূরুর রবি‘য়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার পর সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি সিবত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত উমামাহ আলাইহাস সালাম উনাকে সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ করেন।” সুবহানাল্লাহ! (উসদুল গবাহ ৬/২২)
আর এই সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ উনার বিষয়টি ফায়ছালা করেন সাইয়্যিদুনা হযরত যুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি। সুবহানাল্লাহ!
অপর দিকে সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত বরকতময় শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করার পর সাইয়্যিদুনা হযরত মুগীরা ইবনে নাওফিল রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উমামাহ আলাইহাস সালাম উনাকে সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ করেন। এ সম্পর্কে কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
فَلَمَّا تُوُفِّـىَ حَضْرَتْ عَلِـىٌّ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَقَضَتِ الْعِدَّةَ تَزَوَّجَهَا الْـمُغِيْرَةُ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ فَوَلَدَتْ لَهٗ حَضْرَتْ يَـحْيٰـى عَلَيْهِ السَّلَامُ وَبِهٖ كَانَ يُكَنّٰى فَهَلَكَتْ عِنْدَ الْـمُغِيْرَةِ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ.
অর্থ: “অতঃপর যখন সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করেন এবং সিবত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত উমামাহ আলাইহাস সালাম তিনি সম্মানিত ইদ্দত মুবারক পূর্ণ করেন, তখন হযরত মুগীরা ইবনে নাওফিল রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি সিবত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত উমামাহ আলাইহাস সালাম উনাকে সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ করেন। (কেউ কেউ বলেছেন) হযরত মুগীরা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনারসম্মানিত হুজরা শরীফ মুবারক-এ সিবত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত উমামাহ আলাইহাস সালাম উনার হযরত ইয়াহইয়াহ আলাইহিস সালাম নামে একজন মহাসম্মানিত আওলাদ আলাইহিস সালাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। উনার সম্মানিত নাম মুবারক অনুযায়ী হযরত মুগীরা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি সম্মানিত কুনিয়াত মুবারক গ্রহণ করেছিলেন। (তিনি অল্প বয়স মুবারক-এ মহাসম্মানিতও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন।) অতঃপর সিবত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত উমামাহ আলাইহাস সালাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত মুগীরা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার সম্মানিত হুজরা শরীফ থাকা অবস্থায় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন।” সুবহানাল্লাহ! (উসদুল গবাহ ৬/২২)
আবার কেউ কেউ বলেছেন, সিবত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত উমামাহ আলাইহাস সালাম উনার কোনো সম্মানিত আওলাদ আলাইহিস সালাম সম্মানিত বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেননি।

সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আলী ইবনে যুন নূর আলাইহিস সালাম:
সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আলীইবনে যুন নূর আলাইহিস সালাম তিনি ছিলেন সিবত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত উমামাহ আলাইহাস সালাম উনার ছোট ভাই। তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ হিজরত মুবারক করার ১৩ মাস ১৬ দিন পূর্বে তথা ১ বছর ১ মাস ১৬ দিন পূর্বে ২৬শে মুহররমুল হারাম শরীফ ইয়াওমুল খমীস শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মক্কা শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনে যুন নূর আলাইহিস সালাম তিনি সিবত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত উমামাহ আলাইহাস সালাম উনার ন্যায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল মুহব্বত, আদর, স্নেহ মুবারক লাভ করেছেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি উনার মহাসম্মানিত নানাজান সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত তত্ত্বাবধান মুবারক-এ বড় হন। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনে যুন নূর আলাইহিস সালাম তিনি যখন বণী গদ্বিরাহ গোত্রে দুধ মুবারক পানরত ছিলেন, তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনে যুন নূর আলাইহিস সালাম উনাকে দেখার জন্য সেখানে সম্মানিত তাশরীফ মুবারক নেন এবং উনাকে সম্মানিত কোল মুবারক-এ নিয়ে সম্মানিত বুক মুবারক-এ জড়িয়ে নেন। সুবহানাল্লাহ! তারপর তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন,
مَنْ شَارَكَنِـىْ فِـىْ شَىْءٍ فَاَنَا اَحَقُّ بِهٖ.
অর্থ: “অন্য সবার থেকে সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনে যুন নূর আলাইহিস সালাম উনার উপর আমার অধিকতর হক্ব রয়েছে।” সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে যে,
وَكَانَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَرْدَفَهٗ عَلـٰى رَاحِلَتِهٖ وَفِىْ رِوَايَةٍ اُخْرٰى نَاقَتِهٖ يَوْمَ الْفَتْحِ
অর্থ: “সম্মানিত ও পবিত্র মক্কা শরীফ বিজয়ের দিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনে যুন নূর আলাইহিস সালাম উনাকে উনার সম্মানিত বাহন মুবারক উনার পিছনে, অপর বর্ণনায় রয়েছে উনার উট মুবারক উনার পিছনে আরোহণ মুবারক করিয়েছিলেন।” সুবহানাল্লাহ! (ত্ববারনী, মা’রেফাতুছ ছাহাবাহ, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ, উসদুল গবাহ ইত্যাদি)
অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিতও পবিত্র মক্কা শরীফ বিজয়ের সময় যেই উট মুবারক-এ সম্মানিত আরোহণ মুবারক করে সম্মানিত ও পবিত্র মক্কা শরীফ-এ প্রবেশ করেছেন, সেই একই উট মুবারক-এ সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনে যুন নূর আলাইহিস সালাম তিনিও সম্মানিত অবস্থান মুবারক করছিলেন। সুবহানাল্লাহ! তাহলে এখান থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনে যুন নূর আলাইহিস সালাম উনাকে কতো বেমেছাল মুহব্বত মুবারক করতেন। সুবহানাল্লাহ! তাহলে উনার সম্মানিত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক কতো বেমেছাল সেটা জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসীর চিন্তা ও কল্পনার উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ!
তিনি ১৫ হিজরী সনের ১০ই রজবুল হারাম শরীফ ইয়াওমুল আহাদ শরীফ ইয়ারমূকের জিহাদে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!
কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
وعلى بن أبي العاص قتل يوم اليرموك
অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনে যুন নূর আলাইহিস সালাম তিনি ইয়ারমূকের সম্মানিত জিহাদ মুবারক-এ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করেন।” সুবহানাল্লাহ!
ইয়ারমূক প্রান্তরেই উনার সম্মানিত জানাযা উনার নামায মুবারক পড়া হয় এবং সেখানেই উনার সম্মানিত ও পবিত্র রওযা শরীফ অবস্থিত। সুবহানাল্লাহ! তিনি দুনিয়ার যমীনে ১৫ বছর ৫ মাস ১৪ দিন সম্মানিত অবস্থান মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ!

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে