সাইয়্যিদাতুন নিসা, ফক্বীহাতুন নিসা, রাহনুমায়ে দ্বীন, হাদীয়ে যামান, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মহামূল্যবান নছীহত মুবারক“মহিমান্বিত দশ দিন ও রাত্রি”


ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আদ্বহা দুই ঈদের রাত্রি জাগ্রত থেকে ইবাদত-বন্দেগী, তাসবীহ-তাহলীল, কুরআন শরীফ তিলাওয়াত, দরুদ শরীফ, মীলাদ শরীফ পাঠ ও দোয়া করতে হবে। কেননা সম্মানিত হাদীছ শরীফে বর্ণিত রয়েছে-
اِنَّ الدُّعَاءَ يُسْتَجَابُ فِىْ خَمْسِ لَيَالٍ اَوَّلُ لَيْلَةٍ مِّنْ رَّجَبَ وَ لَيْلَةٍ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ وَ لَيْلَةِ الْقَدْرِ الْمُبَارَكَةِ وَلَيْلَة ِالْعِيْدَيْنِ
অর্থ: “নিশ্চয়ই পাঁচ রাত্রিতে দোয়া নিশ্চিতভাবে কবুল হয়। (১) রজব মাসের প্রথম রাত্রে, (২) শবে বরাতে, (৩) শবে ক্বদরে, (৪) ঈদুল ফিতরের রাত্রে, (৫) ঈদুল আদ্বহার রাত্রে।” (মা ছাবাতা বিসসুন্নাহ)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত আছে,
عَنْ حَضَرَتْ أَبِىْ الدَّرْدَاءِ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَنْ قَامَ لَيْلَتَيْ اَوْ لَيْلَةَ الْعِيْدَيْنِ مُحْتَسِبًا لِلّٰهِ لَمْ يَمُتْ قَلْبُه يَوْمَ تَمُوْتُ الْقُلُوْبُ.
অর্থ: হযরত আবূ দারদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,“যে ব্যক্তি দুই ঈদের রাতে সজাগ থেকে ইবাদত করবে সেই ব্যক্তির অন্তর মারা যাবেনা, যেই দিন সবার অন্তর মারা যাবে অর্থাৎ কিয়ামতের দিন তার অন্তর ইতমিনানে থাকবে।” সুবহানাল্লাহ!
দোয়া সম্পর্কে সম্মানিত হাদিছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضَرَتْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللّٰهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَلُوْا اللّٰهَ مِنْ فَضْلِه فَإِنَّ اللّٰهَ يُحِبُّ أَنْ يُسْأَلَ وَأَفْضَلُ الْعِبَادَةِ انْتِظَارُ الْفَرَجِ
অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে উনার অনুগ্রহ প্রার্থনা কর অর্থাৎ উনার ফদ্বল তালাশ কর। মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে সুওয়াল করাই উনার নিকট প্রিয়, পছন্দনীয়। শ্রেষ্ঠ ইবাদত হচ্ছে বিপদ থেকে মুক্তির অপেক্ষা করা অর্থাৎ ধৈর্য ধারণ করা। (তিরমিযী শরীফ)
অন্যত্র ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللّٰهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ لَمْ يَسْأَلِ اللّٰهَ يَغْضَبْ عَلَيْهِ
অর্থ: হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে চায় না তার প্রতি মহান আল্লাহ পাক তিনি অসন্তুষ্ট হন।” (তিরমিযী শরীফ)
আরো বর্ণিত রয়েছে,
عَنْ سَلْمَان الْفَارِسِى رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ عَنِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ رَبَّكُمْ حَىٌّ كَرِيْمٌ يَسْتَحِىْ مِنْ عَبْدِه إِذَا رَفَعَ يَدَيْهِ إِلَيْهِ أَنْ يَرُدَّهُمَا صَفْرًا.
অর্থ: হযরত সালমান ফারসী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি লজ্জাশীল, দাতা। মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে যখন বান্দা দুই হাত উঠায় তখন তার খালি হাত ফিরিয়ে দিতে তিনি লজ্জাবোধ করেন অর্থাৎ বান্দা মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে যা চাবে, সেটাই তাকে দান করবেন। (আহমদ শরীফ, আবূ দাউদ শরীফ, তিরমিযী শরীফ, ইবনে মাজাহ শরীফ, বাইহাক্বী শরীফ)

(দৃষ্টি আকর্ষণ: মহিমান্বিত ১০ দিন ও রাত্রির ফযীলত মুবারক সম্পর্কে মুহম্মদিয়া গবেষণা থেকে বিশেষ কিতাব মুবারক প্রকাশিত হয়েছে।)

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে